নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পেশা শিক্ষকতা, নেশা সাহিত্য। একজন নিহিলিস্ট।

সুব্রত দত্ত

পরিশ্রমকে সঙ্গী করে কত মানুষ উর্ধ্বে গেলো, আকাশের ঐ তারার দলে/ চিরদিনই অলস আমি, আছি পড়ে অনন্তকাল এই ধরনীর গাছের তলে।

সুব্রত দত্ত › বিস্তারিত পোস্টঃ

পড়লাম হানা ক্যাথেরিন ম্যালেন্স-এর ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৯

বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসটি। সেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৬৫ সালে। তারও তেরো বছর পূর্বে প্রকাশিত হয় এই ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ নামক গ্রন্থটি। একজন অবাঙালি কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত এই বইটিকে অনেকেই প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করেন। কেউ কেউ এটিকে উপন্যাস বলতে আবার নারাজ। তাঁদের অনেকে এটিকে উপন্যাস রচনার প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত করেন। উপন্যাস ভক্ত অনেক সমালোচক টেকচাঁদ ঠাকুর অর্থাৎ প্যারীচাঁদ মিত্র-এর ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটিকেও কেবল প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত করেন। সে অর্থে তো ফুলমণি ও করুণার বিবরণ আরো পেছানো বিবেচিত হবে। আমি আজ এই গ্রন্থটি পাঠ সম্পন্ন করলাম। বই পড়া এখন এক যুদ্ধের ন্যায়। সারাদিনে অন্যান্য কাজকর্মগুলো হোক বা না-হোক, কিছুতেই বই পড়ে ওঠা হয় না। পড়ার অভ্যাসটিই মারা গিয়েছে। মনে পড়ে বছরের শুরুতে আশাপূর্ণা দেবীর ‘সুবর্ণলতা’ উপন্যাসটি অনেক কষ্টে শেষ করেছিলাম কর্মের খাতিরে। অত পৃষ্ঠার বই পড়ে শেষ করতে পারাটা আসলে বিশাল ব্যাপার ছিল আমার জন্য। ২০২০ সালে এবং ২০২১ সালে নিয়ম করে অনেকগুলো বই পড়া হয়েছিল, এর আগে কলেজ জীবনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বদৌলতে কিছু বই পড়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পাঠ্য হিসেবে কিছু বই পড়া হয়েছিল। সবমিলিয়ে তা হাতে গোণাই হবে এবং আহামারি পড়ুয়া হিসেবে আমার পরিচয়ও হবে না। সে যা-হোক এই বইটি সম্পন্ন করে তৃপ্তি বোধ করছি। প্রথমত, দীর্ঘদিন পর কোনো বই পড়ে সম্পন্ন করা হলো এবং দ্বিতীয়ত বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাসটি পড়া হলো। ফুলমণি ও করুণার বিবরণের আগে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নববাবুবিলাস’ নামের একটি বই নাকি প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেটিকেও নাকি অনেকে প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করে। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে সমসাময়িক সবগুলো গ্রন্থ পাঠ সম্পন্ন করে আমি আমার ভাবনা লিপিবদ্ধ করবো। সুতরাং কোনটি প্রথম, কোনটি সার্থক, কোনটি হয়েছে, কোনটি হয়নি- তার আগে সেগুলো পড়ে ওঠাকে কর্তব্য মনে করছি। নিঃসন্দেহে আমার নিজস্ব কিছু মত আছে এবং উপন্যাসের প্রতি প্রবলভাবেই দুর্বল বিধায় আমার সাহিত্য ভাবনার জগতে উপন্যাস অগ্রগণ্য।


ফুলমণি ও করুণার বিবরণ কাহিনি হিসেবে সাদামাটা। হানা যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এটি রচনা করেছিলেন সেটি তিনি তাঁর লেখাতেই সুচারুরূপে ব্যক্ত করেছেন। নিন্দা কিংবা স্তুতি করার জায়গা আসলে নেই। বরং একজন অবাঙালি হিসেবে, আধুনিক গদ্য বিকাশের প্রারম্ভে এমন গ্রন্থ রচনায় সামর্থ্য হওয়াটা আসলে বিস্ময়কর। তিনি সুন্দর বাক্য চয়ন এবং কাহিনির গতিশীলতা বজায় রেখে গ্রন্থটিকে সুখপাঠ্য করে তুলেছেন। এই গ্রন্থের কাহিনি, চরিত্র চিত্রণ ও ঘটনাপ্রবাহ উপন্যাস হিসেবে কতটুকু হয়েছে বা হয়নি সে আলাপ আমি খুব শীঘ্রই অন্যত্র লিখব। আপাতত এইটুকু বলতে চাই গ্রন্থটি অসাধারণ। এটি পাঠ করা বাংলা সাহিত্য অনুরাগীর অবশ্য কর্তব্য।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এইটুকু বলতে চাই গ্রন্থটি অসাধারণ।
এটি পাঠ করা বাংলা সাহিত্য অনুরাগীর অবশ্য কর্তব্য।

........................................................................
সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি দেশের জনগণের মাঝে বন্ধন
তৈরী করে । কিন্ত বর্তমানে একদল হায়েনা দেশ চষে বেড়াচ্ছে ।
পালা গান,গ্রাম্য নাটক,কবিয়াল আসর বা নারী জাগরণের ক্ষেত্রে কোন
কিছুই করতে দিতে চাচ্ছেনা ।
সঠিক সময়ে প্রতিবাদী না হলে , আপনার ভাবনাকে ফ্রেম বন্দী করে রাখতে হবে ।

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৫

সুব্রত দত্ত বলেছেন: সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিজস্ব একটি প্রতিবাদী স্বর আছে। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:২৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ধন্যবাদ।
আপনার পোস্ট থেকে বইটি সম্পর্কে জানলাম। নেটে ই-বুক ভার্সনও পেলাম। সাথে আরো কিছু তথ্যও পেলাম।
''এই উপন্যাসের পরিচিতিতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১লা ডিসেম্বর় ১৯৫৭ তে লিখছেন- 'এক দিকে বঙ্কিমচন্দ্র (১৮৩৮-১৮৮৪) ও অন্য দিকে মধুসদন (১৮২৪-১৮৭৩)। প্রস্তুতির যুগের শেষ ভাগে যাঁহারা বাঙ্গালা ভাষায় গদ্য সাহিত্যের সাধনা করিতেছিলেন তাঁহাদের মধ্যে কতকগুলি কৃতি সাধক নিঃসন্দেহ ভাবে অখ্যাত ও অজ্ঞাত লুপ্ত-নাম রহিয়া গিয়াছে। ইহাদের মধ্যে “ফুলমণি ও করুণার বিবরণ” রচয়িত্রী শ্রীমতী হানা ক্যাথেরীন ম্যলেন্স-এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযােগ্য।
১৮৫২ সালে কলিকাতার খ্রীষ্টান ট্র্যাক্ট অ্যাণ্ড বুক সােসাইটি কর্তৃক 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' প্রকাশিত হইয়াছিল। এই ধরণের বই বাঙ্গালায় প্রথম। ইহার পূর্বে বাঙ্গালীর সমাজ লইয়া ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ দুই চারিজন লেখক কিছু, কিছু, লিখিয়াছিলেন। কিন্তু এভাবে বাঙ্গালা দেশের বিশেষ কোন অংশে একটি নবগঠিত বিশিষ্ট সমাজের জীবন ও চিন্তা অবলম্বন করিয়া বই লিখিবার প্রয়াস দেখা যায় নাই। বইখানির ভাষা ভালই বলিতে হইবে। সাধু,ভাষার ছাঁচে ঢালা ইহার আধার একশ’ বছর পূর্বেকার বাঙ্গালা।
(যেমন, কলিকাতার বাঙ্গালায় 'আসিল' অর্থে 'এল' — লেখিকা সাধুভাষানুমোদিত রূপ দিয়াছেন 'আইল'; —তিনি কোথাও 'আসিল' রূপ ব্যবহার করেন নাই, কারণ ইহা কলিকাতার কথ্য ভাষায় অজ্ঞাত ছিল)।”…….

আপনার রিভিঊ -র অপেক্ষায় রইলাম।

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮

সুব্রত দত্ত বলেছেন: আপনার আগ্রহ জাগাতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। সাহিত্যের ছাত্র ও শিক্ষক হওয়ার সুবাদে প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ পড়া রয়েছে। পড়া হয়নি ভবাণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা কমলালয়’, ‘নববাবুবিলাস’, ‘নববিবিবিলাস’ প্রমুখসহ কালীপ্রসন্ন সিংহ-এর ‘হুতোম পেঁচার নকশা’। এগুলোর পড়ার তাগিদে আজ রকমার.কম-এ বইগুলো খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। এগুলো সংগ্রহ করে পড়ে উঠতে পারলে ইচ্ছা আছে বাংলা ‍উপন্যাসের প্রথম দিককার ইতিহাস নিয়ে টুকটাক লেখার।
‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ বইটি পড়বেন। ভালো লাগবে। আপনার মন্তব্যও আশা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.