| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার দীর্ঘকাল ধরে বহন করে এনেছে মুদ্রিত বই। কাগজে ছাপা অক্ষরের বই একসময় ছিল জ্ঞানের প্রধান বাহন, সংস্কৃতির ধারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অপরিহার্য মাধ্যম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে মানুষ কি এখনও ছাপার বই কিনে পড়বে? নাকি অনলাইন প্রকাশনার বিপুল সম্ভাবনার সামনে মুদ্রিত বই ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে?
অনলাইন জ্ঞানের বিস্তৃত সম্ভাবনা
ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্ঞান প্রকাশের জগতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত একটি লেখা কেবল অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা বহুমাত্রিক তথ্যের এক জীবন্ত ভাণ্ডারে পরিণত হয়। একটি বিষয়ের ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে প্রামাণ্য চিত্র, ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, প্রাসঙ্গিক গবেষণার লিংক, পাদটিকা, ফুটনোট কিংবা রেফারেন্স গ্রন্থের সরাসরি সংযোগ। ফলে পাঠক একই সঙ্গে বহুস্তরীয় জ্ঞান লাভের সুযোগ পান।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আরেকটি বড় সুবিধা হলো লেখক ও পাঠকের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ। পাঠক তাদের মতামত, প্রশ্ন বা সমালোচনা জানাতে পারেন, এবং লেখক তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন। এর ফলে জ্ঞানচর্চা একমুখী না হয়ে সংলাপভিত্তিক হয়ে ওঠে।
তদুপরি অনলাইনে প্রকাশিত বই সহজেই ডাউনলোড করা যায়, প্রয়োজনে অংশবিশেষ কপি করা যায়, এমনকি পাঠকের সুবিধামতো ফন্ট বড় বা ছোট করে পড়া যায়। ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার কারণে বই বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর্কাইভিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করাও সম্ভব।
পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ
মুদ্রিত বই তৈরির সঙ্গে জড়িত কাগজ উৎপাদন, মুদ্রণ এবং পরিবহন সবই প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। বন উজাড়, জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণের প্রশ্ন আজ বিশ্বজুড়ে আলোচিত। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্রকাশনা তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবুও ছাপা বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা
তবে এই বাস্তবতার মাঝেও ছাপার বই পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়নি। বরং মানুষের মনন ও পাঠাভ্যাসের সঙ্গে এর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
প্রথমত, ছাপা বই পড়ার অভিজ্ঞতা মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় নানা ধরনের বিজ্ঞাপন, নোটিফিকেশন বা অন্য লিংকের প্রলোভন পাঠকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। কিন্তু কাগজের বই পাঠককে একাগ্রতার সঙ্গে বিষয়ের গভীরে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ছাপা বই এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল ফরম্যাট প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে, কিন্তু শত শত বছর পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও বই আজও পাঠযোগ্য অবস্থায় টিকে আছে।
তৃতীয়ত, বইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্কও অস্বীকার করা যায় না। একটি বই হাতে নিয়ে পড়ার স্পর্শ, পৃষ্ঠা উল্টানোর অনুভূতি, কিংবা নিজের সংগ্রহে বই সাজিয়ে রাখার আনন্দ এই অভিজ্ঞতাগুলো এখনও অনেক পাঠকের কাছে অমূল্য।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সহবস্থান
বাস্তবতা হলো ডিজিটাল প্রকাশনা ও মুদ্রিত বই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং তারা পরস্পর পরিপূরক। দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি, বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও আন্তঃসংযোগের জন্য অনলাইন মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে গভীর মননশীল পাঠ, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মুদ্রিত বই এখনও অপরিহার্য।
অতএব বলা যায়, প্রযুক্তির যুগে ছাপার বইয়ের গুরুত্ব হয়তো কমেছে, কিন্তু তার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। বরং ভবিষ্যতের জ্ঞানচর্চা সম্ভবত এমন এক ভারসাম্যের দিকে এগোবে, যেখানে ডিজিটাল ও মুদ্রিত উভয় মাধ্যমই নিজ নিজ শক্তি নিয়ে মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।
বইমেলা বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম ও জনপ্রিয় অমর একুশে বই মেলা হতে পারে মুদ্রিত ও ডিজিটাল জ্ঞানের মিলনমঞ্চ
বিশ্বের নানা দেশে বইমেলা জ্ঞানচর্চা ও প্রকাশনা শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের দেশেও অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনে এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই আয়োজন প্রমাণ করে যে মুদ্রিত বইয়ের প্রতি মানুষের আবেগ ও আগ্রহ এখনও গভীরভাবে বিদ্যমান।
তবে এই জনপ্রিয়তাকে কেবল মুদ্রিত বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটাল প্রকাশনার বিকাশের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। বরং বইমেলাকে এমন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা সম্ভব, যেখানে মুদ্রিত ও ডিজিটাল উভয় ধরনের জ্ঞানপ্রকাশ সমানভাবে বিকশিত হবে।
প্রথমত, বইমেলায় প্রকাশকদের স্টলের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মের জন্য বিশেষ বিভাগ রাখা যেতে পারে। সেখানে পাঠকরা একই বইয়ের মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি ই–বুক সংস্করণ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং কিউআর কোড বা অনলাইন লিংকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ডাউনলোড করার সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয়ত, নতুন বই প্রকাশের সময় লেখকরা মুদ্রিত বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ডিজিটাল সংস্করণও প্রকাশ করতে পারেন। এতে বইটি একদিকে যেমন বইমেলায় আগত পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাঠকরাও অনলাইনে সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, বইমেলায় আলোচনা সভা, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা যেতে পারে। সেখানে মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন লাইব্রেরি এবং ই–বুক বিপণনের নতুন পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।
চতুর্থত, বইমেলাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আরও উন্মুক্ত করা যায়। মেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান কিংবা লেখক–পাঠক সংলাপ অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এপার ওপারের কোটিরো বেশি বঙ্গভাষী পাঠকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হতে পারবেন।
এইভাবে বইমেলা কেবল ছাপা বই বিক্রির একটি অনুষ্ঠান হয়ে না থেকে, জ্ঞান ও প্রকাশনার এক সমন্বিত উৎসবে পরিণত হতে পারে। যেখানে মুদ্রিত বই তার ঐতিহ্য ও গভীর পাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে টিকে থাকবে, আর ডিজিটাল প্রকাশনা জ্ঞানের দ্রুত বিস্তার ও বহুমাত্রিক উপস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অতএব বলা যায়, ভবিষ্যতের প্রকাশনা জগতে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার পথই অধিক কার্যকর। বইমেলার মতো বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন যদি এই সমন্বয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, তবে মুদ্রিত ও ডিজিটাল উভয় ধারাই একসঙ্গে বিকশিত হয়ে জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ঠিকই বলেছেন , বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিশ্বসাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই
বড় হয়ে উঠছে,এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। অনেকেই আজ জ্ঞান অর্জনের নির্ভরযোগ্য উৎসের বদলে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমের অগভীর বা কখনও ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। ফলে গভীর পাঠ, বিশ্লেষণী চিন্তা ও
সমৃদ্ধ সাহিত্যচর্চার সুযোগ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মনে হয়, হয়তো এক সময় মুদ্রিত বই পড়া একটি বিলাসী অভ্যাসে পরিণত হবে যা
ভাবতেই মন খারাপ লাগে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে বই ও জ্ঞানচর্চার শক্তি কখনও হারিয়ে যায় না,
শুধু তার মাধ্যম বদলায়।
তাই বইমেলা এবং বইকেন্দ্রিক উদ্যোগগুলোর এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল বই, অডিওবুক এবং অনলাইন পাঠ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে আবার
বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। যদি সৃজনশীলভাবে এই উদ্যোগগুলো নেওয়া যায়, তবে
নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার আনন্দ, গভীর চিন্তা এবং সত্যিকারের জ্ঞানচর্চার পথে অনুপ্রাণিত করা অবশ্যই
সম্ভব।
কারণ শেষ পর্যন্ত, মাধ্যম বদলাতে পারে কিন্তু জ্ঞান, সাহিত্য এবং বইয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কখনও
নিঃশেষ হয়ে যায় না।
সহমত পোষনের জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল ।
২|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৬
রাজীব নুর বলেছেন: বইয়ের পাঠক একদম কমে গেছে। আসলেই অনেক কমে গেছে।
মানুষ ব্যস্ত ফেসবুক, ইউটিউব আর টিকটক নিয়ে।
৩|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৪
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ছাপার বই বনাম পিডিএফ - বিতর্কে আমার কিছু চিন্তা যুক্ত করছি।
শ্রদ্ধেয় ব্লগার, খেয়াল করে দেখবেন, আপনি লেখক শব্দটি ব্যবহার করছেন। লেখক পরিচয়টি আদতে একটা বিস্তীর্ণ পরিসরের গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগে সমসাময়িক ইস্যুর ওপর নিয়মিত ৩০০ - ৪০০ শব্দে মতামত দিয়ে যিনি হাজার দশেক ফলোয়ার জুটিয়ে নিয়েছেন, তিনিও যেমন লেখক, তেমনি যারা জার্নালে ভারী গবেষণা প্রবন্ধ লিখছেন, তারাও লেখক, যারা পত্রপত্রিকায় কলাম লিখছেন, তারাও লেখক, তেমনি যিনি ১০০০ - ১৫০০ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস লিখছেন, তিনিও লেখক। অনলাইনে সবচে বেশী বেকায়দায় পড়ি সম্ভবত আমরা যারা কথাসাহিত্যের চর্চা করি। উপন্যাস বাদ দিয়ে যদি সিরিয়াস গল্পও বিবেচনা করি, কমলকুমার মজুমদার, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কিংবা দেবেশ রায়ের গল্প - ছাপার পৃষ্ঠায় দাগিয়ে অনেক সময় নিয়ে একটু একটু করে প্রখর মনোযোগ সহকারে পড়েও অনেক সময় অর্থ উদ্ধার করতে গিয়ে আমাদের গলদঘর্ম হতে হয়। সেখানে যদি ইলিয়াসের খোয়াবনামা উপন্যাসটি অনলাইনে পড়া লাগতো, তবে মনে হয় না এই উপন্যাস আমার কখনো পড়া শেষ হত। মনোযোগ ধরে রাখতে পারতাম না।
বলতে চাইছি, বিশুদ্ধ কথাসাহিত্যের চর্চা আমরা যারা করি, আমার ব্যক্তিগত অভিমত, আমাদের জন্য আসলে ঠিক অনলাইন/ পিডিএফ/ সফটকপির জগতটা না।
আমি এও বিশ্বাস করি, যে ক্লাসিক লিটারেচার সৃষ্টির স্বপ্ন নিয়ে কথাসাহিত্যের চর্চা শুরু করেছিলাম, সেটাও সফটকপিতে সম্ভব নয়।
আমাদের প্রকাশকেরা কখনোই প্রকাশনার ডিটেলস আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন না। লেখার সফট কপি ছড়িয়ে গেলে সেটার করাপ্টেড ভার্শন বের করা আরও সহজ হবে বলে মনে হয়। বাংলাদেশ অতটা প্রযুক্তিগতভাবে অ্যাডভান্সড নয়, আর হলেও সেটা নেগেটিভ ভাবেই। আই মিন, লেখকের উপকারে আসবে না ই বুক। যদি আসে, সেটা প্রকাশকের। আমার দুজন প্রকাশক তাদের প্রকাশনায় আমার প্রকাশিত সমস্ত বই আমার অনুমতি না নিয়েই ই বুক করে ফেলেছেন। সেগুলোর যে হার্ড কপি তাদের প্রকাশনায় আছে, সেগুল বিক্রি শেষ হলে আমি চেষ্টা করতাম আরও ভাল প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পুনঃ প্রকাশের। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই ই- বুক বের করে ফেলায় সেটা আর সম্ভব হবে না। ছাপার বইই নিয়ম মেনে প্রকাশ করা হয় না এদেশে, ই - বুকে লেখকদের সাড়ে সর্বনাশ।
শেষ কথা হল, মানুষের যে পার্সোনাল প্লেজার রিডিং এর অভ্যাস, ঘরের এক কোনে একটা কোজি অ্যাটমস্ফেয়ারে একটা বই নিয়ে বসে বসে পড়া - এই অভ্যাসের বয়স খুব বেশী দিন নয়। ইংল্যান্ডে প্রথম প্রিন্টিং প্রেস আসে ১৪৭৬ সালে। গনহারে বই ছাপা হওয়া, মানুষের বাসায় বাসায় বই থাকা, পড়া এগুলোর বয়স হয়তো ৪০০ বছর, সর্বোচ্চ, যেখানে মানুষের ইতিহাস লাখো বছরের। লাখো বছরের ইতিহাসে মাত্র ৪০০ বছর আগে যে বিনোদন ও তথ্যের আকর (তথা ছাপার হরফে বই) ছিল না, সেটা আর ৪০০ বছর পরে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যেতে পারে, আমার মতো ছাপার বইয়ের ভক্তেরা যতই কান্নাকাটি করুক না কেন। আগে যেমন মহাকাব্য লেখা হত, এখন হয় না, ঠিক সেভাবেই হয়তো আজ হতে ৫০ বা ১০০ বছর পর মানুষ আর উপন্যাসও পড়বে না।
কিন্তু উপন্যাস লিখে একটা জীবন কাটিয়ে দেবো বলে আমরা যারা পন করেছি, জানি না আমাদের জন্য সামনের দিনগুলোতে কি অপেক্ষা করছে।
৪|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: মনোযোগ দিয়ে চমৎকার লেখাটা পাঠ করলাম,
আসলে ছাপার বই এখন তেমন পড়া হয়না,তারপরও ছাপার বইয়ের অপরিসীম। ছাপার বই পাঠকের হৃদয়ে দ্রুত পৌছায়,এবং বেশি মনে থাকে,চোখের জন্যও ভালো।কিন্তু বর্তমানে ভর্চুয়াল, অনলাইন,মাল্টিমিডিয়াতেই মানুষ বেশি সময় ব্যায় করে।এজন্য ছাপার বই পড়ার সময় এখন অনেক কমে গিয়েছে।
বর্তমান শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ার পেছনেও এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক,ই-বুক,ফেসবুক,টিউটিউব অনেকটা দায়ী,এগুলো মানুষের মনকে একমুখী রাখেনা,বিভিনমূখী করে ফেলে।যেকারনে মূল সাবজেক্ট অধরাই থেকে যায়।শিক্ষার্থী এবং পাঠকেরা কম্পিউটার মোবাইলের স্কিন থেকে চোখ সরিয়ে ছাপা বইয়ে দিকে যদি অধিক চোখ রাখে,তাহলে বেশি লাভ হবে বলে আমি মনে করি।কিন্তু এমনটা আমি নিজেও পারব বলে মনে হয়না ![]()
৫|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
১। বর্তমান প্রজন্ম কেনো বই পড়ছে না? বর্তমান প্রজন্ম বই না পড়ার কারণ কি?
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২৭
নতুন বলেছেন: বর্তমানের প্রজন্ম বিশ্বসাহিত্যের জ্ঞান ছাড়াই বড় হচ্ছে। বেশিরভাগই সোসাল মিডিয়ার ভুল তথ্য জেনে বড় হচ্ছে।
প্রিন্টেট বই ভবিষ্যতে একটা বিলাশি অভ্যাস হিসেবে দেখা যাবে সম্ভবত।
বই মেলাকে সময়ের সাথে তালমালিয়ে ডিজিটাল বই এবং বই পড়ে জ্ঞানচর্চায় মানুষকে উদ্ভধ্য করতে চেস্টা চালিয়ে যেতে হবে।