নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

ক্লোন রাফা

আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

ক্লোন রাফা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ নালিশ পার্টি কখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল না॥

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫০



বিএনপি প্রকৃতপক্ষে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না। মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আদর্শিক অবস্থান এবং মিত্রতা প্রমাণ করে যে তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার পরিপন্থী একটি শক্তি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা। বিএনপি এই চেতনাকে কেবল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ১৯৭৫-এর পর জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে, পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতিকে পুনর্বাসন করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া এবং তাদের সাথে জোট করা - এগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।

এই চেতনার আড়ালেই জামায়াত আজও পাকিস্তানপন্থী অপরাজনীতি করে চলেছে। ১৯৭১ সালে যারা গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, সেই জামায়াত কখনোই বাংলাদেশকে মন থেকে মেনে নেয়নি। তারা মুখে বাংলাদেশের রাজনীতি করলেও অন্তরে পাকিস্তানের আদর্শ লালন করে। ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো, তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিএনপি এই জামায়াতকেই বারবার আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। ক্ষমতায় থাকতে তাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, ক্ষমতার বাইরে তাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। এর মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে ভোটের স্বার্থে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির সাথেও আপস করতে প্রস্তুত। এটাই তাদের অপরাজনীতি।

সুতরাং, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার দাবি বিএনপির মুখে শোভা পায় না। জামায়াতের পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে টিকিয়ে রেখে বিএনপি আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকেই দুর্বল করছে।

জেনারেল জিয়ার ৩টা মন্ত্রিসভা ছিলো:

Zia I - ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ (সামরিক)
মার্শাল ল' জারির পর নিজেই প্রেসিডেন্ট।

Zia II - ২৯ জুন ১৯৭৮ (অস্থায়ী)
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর।

Zia III - ১৫ এপ্রিল ১৯৭৯ (নির্বাচিত)
১৯৭৯ এর সংসদ নির্বাচনের পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা।

মূল ব্যক্তিরা কারা ছিলেন?

এই তালিকাটা উইকিপিডিয়ার Ziaur Rahman ministry থেকে পাওয়া:

প্রধানমন্ত্রী: শাহ আজিজুর রহমান (১৯৭৯-১৯৮১) - ১৯৭১ এ পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে গিয়েছিলেন।
সিনিয়র মন্ত্রী (অঘোষিত প্রধানমন্ত্রী): মশিউর রহমান যাদু মিয়া (১৯৭৮-১৯৭৯, অফিসে মৃত্যু)
উপ-প্রধানমন্ত্রী: জামাল উদ্দিন আহমেদ, এস এ বারী
পররাষ্ট্র: মুহাম্মদ শামসুল হক (১৯৭৮-৮১)
স্বরাষ্ট্র: আবু সালেহ মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান
অর্থ: জিয়া নিজে (১৯৭৮-৭৯), পরে মির্জা নুরুল হুদা, পরে সাইফুর রহমান
তথ্য: হাবিব উল্লাহ খান, শামসুল হুদা চৌধুরী

জিয়ার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিলো — ইনক্লুসিভ মডেল:

মুক্তিযোদ্ধা: আকবর হোসেন বীর প্রতীক, আব্দুল হালিম চৌধুরী, জাফর ইমাম বীর বিক্রম, নুরুল হক
টেকনোক্র্যাট: ড. এম সাইফুর রহমান, মির্জা নুরুল হুদা
বিতর্কিত ব্যক্তি: শাহ আজিজুর রহমান, আবদুর রহমান বিশ্বাস, আব্দুল আলিম — যারা ১৯৭১ এ শান্তি কমিটিতে ছিলেন। জিয়া ইচ্ছা করেই "জাতীয় ঐক্য" এর জন্য তাদের নিয়েছিলেন, যা পরে অনেক সমালোচিত হয়।

উইকিলিকস কী বলে?

উইকিলিকসে জেনারেল জিয়া (১৯৭৭-৮১) এর মন্ত্রিসভা নিয়ে সরাসরি কোনো কেবল নেই — কারণ Cablegate এর বেশিরভাগ কেবল ২০০০ সালের পরের।

উইকিলিকসে যা আছে তা হলো খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভা (২০০১-২০০৬) নিয়ে, যেটা জিয়ার মডেলকেই ফলো করতো।

যেমন ২০০৫ সালের একটি কেবলে (05DHAKA2243_a) US Ambassador লিখেছেন:

> Finance Minister Saifur Rahman dominates economic matters... broadly respected for competence... but does nothing to control his son...

আরেকটি কেবলে খালেদা জিয়ার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ২০০৫ সালে US Ambassador কে বলেন, খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হলো তার দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলে তারেক রহমানকে রক্ষা করা।

অর্থাৎ উইকিলিকস সরাসরি জেনারেল জিয়ার মন্ত্রিসভা নিয়ে কিছু ফাঁস করেনি, কিন্তু পরবর্তী BNP সরকারে জিয়ার আমলের লোকজন (সাইফুর রহমান, মশিউর রহমানদের উত্তরসূরি) কীভাবে কাজ করতেন সেটা নিয়ে বিস্তারিত আছে।


আপনারা এখন সমিকরনটা মিলিয়ে দেখুন । অবশ্যই ঘুটা দিয়ে তৈরি করা দলের দালাল’রা এই প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন ।ধন্যবাদ ॥

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ॥

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হয় তাহলে বাকশালকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন ?

২| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪২

মাথা পাগলা বলেছেন: বিএনপি বরাবরই পাকিস্তানপন্থী ঘেঁষা। তাদের কাজ হচ্ছে রাজাকার পুনর্বাসন করা।

যুদ্ধের পর ভয়াবহ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশ ও অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের জন্য বাকশালের প্রয়োজন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি শুধু গণতন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শোষণমুক্ত সমাজ ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকেও ধারণ করে, তাহলে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাকশালের প্রয়োজন ছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.