| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লোন রাফা
আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।
দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....
দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?
দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ ভারতের দখলে চলে গেল", "ভারতীয় আধিপত্যবাদ" - তারাই আবার অসম বাণিজ্য চুক্তির সময় মুখে কুলুপ আঁটে।
প্রশ্নটা সোজা:
ভারতীয় আধিপত্যের গল্প বিক্রি করা সহজ, কারণ ওটা আবেগের ব্যবসা। কিন্তু যখন নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে, দেশের লাভজনক বন্দর, টার্মিনাল, করিডোর তুলে দেওয়া হয় বিদেশি কোম্পানির হাতে, যখন অসম চুক্তির আড়ালে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে আনুগত্য কেনা হয় - তখন আপনাদের দেশপ্রেম কোথায় থাকে?
আধিপত্য যদি খারাপ হয়, তবে সব আধিপত্যই খারাপ।
শুধু ভারতীয় আধিপত্য নিয়ে চিৎকার করবেন, আর আমেরিকা বা অন্য কোনো শক্তির কাছে বন্দর বেচে দেওয়াকে "উন্নয়ন" আর "বিদেশি বিনিয়োগ" বলে চালিয়ে দেবেন - এই দ্বিচারিতা জনগণ বোঝে।
স্বাধীনতা মানে কারো আধিপত্য না মানা। ভারতেরও না, অন্য কারোও না। অসম চুক্তি আর গোপনে বন্দর বেচে দেওয়াটাও আধিপত্যবাদেরই আরেক রূপ। ওটা দেশপ্রেম নয়, ওটা আনুগত্যের দলিল।
দেয়ালের ছবি না, চুক্তির পাতা পড়ুন। আসল আধিপত্য ওখানেই লেখা থাকে।
আধিপত্য নিয়ে সিলেক্টিভ দেশপ্রেম কেন? প্রতিটি পয়েন্ট খোলাসা করা দরকার
দেয়ালের ছবি আর ভারতীয় আধিপত্যের জিকির:
একটা গ্রাফিতি, একটা পোস্টার, একটা সিনেমা দেখলেই একদল লোকের "ভারতীয় আধিপত্য" জেগে ওঠে। এটা সহজ রাজনীতি। আবেগ উস্কে দাও, ভিউ কামাও। কারণ ভারত-বিরোধিতা এই দেশে সবচেয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা। কিন্তু এই আধিপত্যের আলাপটা তারা কখনো তথ্য দিয়ে করে না, করে শুধু ছবি দিয়ে।
অসম বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে আনুগত্য:
আসল আধিপত্য লুকিয়ে থাকে চুক্তির ধারায়।
যখন ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের নামে একতরফা সুবিধা দেওয়া হয়,
যখন দেশের বাজারে বিদেশি পণ্য ডাম্পিং হয় আর আমাদের রপ্তানি আটকে থাকে,
যখন ঋণের নামে এমন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয় যাতে দেশের নীতি-নির্ধারণই বিদেশিদের হাতে চলে যায়,
তখন সেটা কি আধিপত্য নয়? তখন কেন সবাই চুপ? কারণ ওই চুক্তির পেছনে "বিনিয়োগ" আর "উন্নয়ন সহযোগী"র তকমা লাগানো থাকে।
লাভজনক বন্দর যখন নিয়মের বাইরে বিদেশের হাতে:
এটা সবচেয়ে ভয়ংকর পয়েন্ট।
চট্টগ্রাম, মংলা, মাতারবাড়ির মতো স্পর্শকাতর ও লাভজনক বন্দর এবং টার্মিনাল যখন উন্মুক্ত টেন্ডার, সংসদীয় বিতর্ক, জন-শুনানি ছাড়া, নিয়ম ভেঙে ৩০-৫০ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন সেটা শুধু ব্যবসা থাকে না, সেটা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হয়ে যায়।
বন্দর মানে দেশের ফুসফুস। ফুসফুস অন্যের হাতে দিয়ে আপনি স্বাধীন থাকবেন কীভাবে? দেয়ালের ছবিতে দেশ যায় না, দেশ যায় বন্দর গেলে।
এই নিশ্চুপ থাকার কারণ কী? - দ্বিচারিতা:
কারণটা পরিষ্কার। ভারতের বিরোধিতা করলে দেশপ্রেমিক সাজা যায়, কোনো খরচ নেই। কিন্তু আমেরিকা, ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শক্তির অন্যায় চুক্তির বিরোধিতা করলে "বিনিয়োগ চলে যাবে", "নিষেধাজ্ঞা আসবে" - এই ভয়। তাই এক আধিপত্য নিয়ে চিৎকার, আরেক আধিপত্যের সামনে মাথা নত। এটা দেশপ্রেম নয়, এটা সুবিধাবাদ। এটা আনুগত্যের রাজনীতি।
আমার অবস্থান স্পষ্ট:
আমি কোনো আধিপত্যই মানি না। ভারতীয় আধিপত্যও মানি না, মার্কিন বা অন্য কোনো দেশের কর্পোরেট আধিপত্যও মানি না।
রিকন্সিলিয়েশনের নামে যেমন ইন্ডেমনিটি মানি না, তেমনি উন্নয়নের নামে দেশ বিক্রিও মানি না।
দাবি:
ক. সকল অসম বাণিজ্য ও বন্দর সংক্রান্ত চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
খ. জাতীয় স্বার্থ জড়িত যেকোনো চুক্তি সংসদে বিতর্ক ছাড়া করা যাবে না।
গ. স্বাধীনতা বিরোধী এবং দেশের সম্পদ বিদেশের হাতে তুলে দেওয়ার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
দেয়ালের ছবি মুছে যায়, কিন্তু চুক্তির দলিল ৫০ বছর দেশকে বেঁধে রাখে।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৭
রোবোট বলেছেন: গরম ভাতে বিলাই বেজার
সত্য কথায় টিজে বেজার