| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
মূল্যটা খুব কম দিইনি...
দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়েও বড় দেশ।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা কেউ পদ-পদবীর আশায় জীবন বাজি রাখিনি। গুম, নির্যাতন, মামলা, কারাবরণ, চরিত্রহনন- সবকিছুর ঝুঁকি নিয়েছি শুধু একটি স্বপ্ন নিয়ে- বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, মানুষ যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে।
কিন্তু প্রতিটি সংগ্রামেরই একটি মূল্য থাকে।
২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ জুলাই আন্দোলনের পর সেই মূল্য আমি নিজের জীবনেই পরিশোধ করেছি।
হারিয়েছি রক্তের সম্পর্কের স্বজন।
হারিয়েছি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্ব।
হারিয়েছি পারিবারিক সুহৃদ, আত্মীয়স্বজন, বহু প্রিয় মুখ- যাদের সঙ্গে একটি জীবনের স্মৃতি জড়িয়ে ছিল।
কেউ রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দূরে সরে গেছেন, কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, কেউ এমনভাবে বদলে গেছেন যে চিনতেই কষ্ট হয়।
কষ্ট হয়- অবশ্যই হয়।
কিন্তু বিশ্বাস বিক্রি করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে, আদর্শ আঁকড়ে ধরে একা হয়ে যাওয়া আমার কাছে অনেক বেশি সম্মানের।
আজও আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাস কখনও সাময়িক করতালির বিচার করে না; ইতিহাস বিচার করে সংকটের সময়ে কে সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছিল, আর কে সুবিধার পাশে।
যারা আমাকে ছেড়ে গেছেন, তাদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই। কারণ আমি জানি, সময়ই সবচেয়ে নিরপেক্ষ বিচারক।
আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই-
আমি অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু নিজের বিবেক হারাইনি।
অনেক সম্পর্ক হারিয়েছি, কিন্তু আদর্শের পথ হারাইনি।
আর যদি আবারও সেই সময় ফিরে আসে, দেশের স্বার্থে একই সিদ্ধান্তই নেব- কারণ ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
জীবনের হিসাব যদি করি, তাহলে প্রাপ্তির চেয়ে হারানোর তালিকাই অনেক দীর্ঘ। তবুও আমি নিজেকে পরাজিত মনে করি না। কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কী পেল, ইতিহাস তা মনে রাখে না; ইতিহাস মনে রাখে- কঠিন সময়ে সে কোন পক্ষ বেছে নিয়েছিল। আমি আজও বিশ্বাস করি, আদর্শের পথে হাঁটতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের বেদনা একদিন মুছে যাবে; কিন্তু আদর্শ বিসর্জনের লজ্জা কোনো দিন মুছে যায় না।
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৫
জুল ভার্ন বলেছেন: হ্যা যারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছে তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছি এবং আমিও যাদেরকে ছেড়ে গিয়েছি- তাদের জন্যও আমার কোনো আপসোশ নেই। বিশেষ কারণে জাস্ট রোমন্থন করেছি।
২|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৭
আব্দুল হাদী আল নাফী খান বলেছেন: দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- বৈপ্লবিক কিংবা আদর্শিক পরিবর্তন আনতে চাইলে এই চিন্তা কতটুকু সঠিক, সেটা আলোচনার দাবী রাখে। বিশেষ করে এই সুজলা সুফলা দেশে শস্যের পাশাপাশি দুর্বৃত্তও তো কম জন্মায়নি! সেক্ষেত্রে খুব ভালো সম্ভাবনা থাকে যে, দলে এসব সুসন্তান (!) অনেক থাকবে এবং প্রতিষ্ঠিত দলের উঁচু কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে দুর্বৃত্তই বেশী থাকবে। সেক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া কতটুকু যৌক্তিক? আমি আপাতত কোন দল বিষয়ে স্পেসিফিকলি আলোচনা করতে আগ্রহী নই, তাত্ত্বিক আলোচনার জন্যে এ প্রসঙ্গের অবতারণা আরকি!
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৮
জুল ভার্ন বলেছেন: আপনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি মৌলিক বিতর্ককে সামনে আনে। কোনো রাজনৈতিক দলে "দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই নীতির উদ্দেশ্য মূলত সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, সিদ্ধান্ত কখনো ভুল হতে পারে না বা তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা, সমালোচনা বা মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে না।
একটি সুস্থ রাজনৈতিক দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে মুক্ত আলোচনা, ভিন্নমত প্রকাশ এবং যুক্তির লড়াই থাকা উচিত। কিন্তু সিদ্ধান্ত একবার গৃহীত হলে, সাংগঠনিক স্বার্থে সেটি মেনে চলাই দলীয় শৃঙ্খলার অংশ। অন্যথায় কোনো সংগঠনই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না।
তবে আপনার আশঙ্কাটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি কোনো দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা সুবিধাবাদী লোকের আধিপত্য তৈরি হয়, তাহলে শুধু "দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত" বললে সমস্যা সমাধান হবে না। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে- স্বচ্ছ নেতৃত্ব নির্বাচন, জবাবদিহিতা, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি।
তাই মূল প্রশ্নটি আসলে "দলের সিদ্ধান্ত মানবো কি না" নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কতটা গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক- সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী সংগঠনে শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র- দুটোই পাশাপাশি থাকতে হয়। একটিকে বিসর্জন দিয়ে অন্যটি টেকসই হয় না।
আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৩|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:১৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আদর্শ বিসর্জনের লজ্জা কোনো দিন মুছে যায় না।
...............................................................................
বর্তমান রাজনীতি তে আদর্শ ধুয়ে মুছে গেছে,
মব কালচারই বর্তমানে আদর্শ রাজনীতি ।
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০২
জুল ভার্ন বলেছেন: যেকোনো রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর সমাজ রাজনীতিতে একটা র্যাডিক্যাল চেঞ্জ আসে। কখনও সেই চেঞ্জ ভালো হয়, কখনও মন্দ। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা মন্দটা পেয়েছি। বিশেষ ভাবে উচ্ছন্নে যাওয়া তরুণ প্রজন্ম!
৪|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এখনো কিছুই হারান নি ।
এখনো একটি বিশ্বাস আকরে পড়ে আছেন।
কালের পরিক্রমায় যদি কখনো বুঝতে পারবেন
যে বিশ্বাস নিয়ে আত্মত্যাগ করেছিলেন
বা এখনো করে চলছেন সে বিশ্বাসটুকুর
পুরাটাই ছিল ভুল, সেদিনের হারানোটাই
হয়তবা হবে চরমতম হারানোর মাসুল।
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪৫
জুল ভার্ন বলেছেন: হয়তো আপনার কথার মধ্যে জীবনের এক নির্মম সত্য লুকিয়ে আছে। বিশ্বাস ভেঙে গেলে তার চেয়ে বড় ক্ষতি আর হয় না। কিন্তু মানুষ যদি প্রতিদানের আশায় নয়, বিবেকের তাড়নায় কোনো আদর্শকে ধারণ করে, তাহলে তার আত্মত্যাগ কখনো পুরোপুরি বৃথা যায় না।
আমি মানুষকে নয়, নীতিকে বিশ্বাস করার চেষ্টা করি। মানুষ ভুল করতে পারে, নেতৃত্ব ব্যর্থ হতে পারে, সংগঠন পথ হারাতে পারে। কিন্তু অন্যায়কে অন্যায় বলা, স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা- এসব বিশ্বাসকে আমি ভুল বলতে পারি না।
যদি কোনো দিন বুঝি আমার বিশ্বাসের ভিত্তিই ভুল ছিল, সেদিন সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাব আমি নিজেই। কিন্তু সেই দিন আসার আগ পর্যন্ত সন্দেহ নয়, বিবেক আর সত্যের কাছেই নিজেকে দায়বদ্ধ রাখতে চাই।
৫|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: বিজয়ী সবসময় বিজয়ী থাকে না সেও কখনো কখনো হেরে যায়...
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪৬
জুল ভার্ন বলেছেন: জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হারানো নয়; ভুলকে সত্য জেনে সারাজীবন আঁকড়ে থাকা। তাই আমি মানুষকে অন্ধভাবে নয়, নীতি ও বিবেককে অনুসরণ করার চেষ্টা করি। যদি কোনো দিন সত্যিই বুঝি আমার বিশ্বাস ভুল ছিল, সেদিন স্বীকার করার সাহসও রাখব। কিন্তু সন্দেহের ভয়ে বিশ্বাস ত্যাগ করাও আমার কাছে কাপুরুষতা।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩২
শেরজা তপন বলেছেন: যারা আপনার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে বা দূরে সরে গেছে তাদের মানসিকতা ও আদর্শের জায়গাটা আপনারও অনুধাবন করার দরকার আছে।
তারাও নিশ্চয়ই ভাবে যে তারা ঠিক।