| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।
বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে ছিল রাশেদ।
ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শেষ বর্ষের ছাত্র সে। প্রখর প্রথাবিরোধী মেধাবী, তীব্র পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন ও প্রচণ্ড অন্তর্মুখী এক তরুণ। চার মাস আগে বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবানে ঘুরতে এসে এক রিসোর্টের কাছে বিদেশি পর্যটকদের বহুমূল্য আইফোন ও রোলেক্স ঘড়ি চুরির এক রহস্যময় গ্যাংয়ের কোপাকোপির মাঝখানে পড়ে যায় সে। অপরাধীরা দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গলে উধাও হলেও পুলিশ এসে পর্যটকদের থেকে পাওয়া ভুল বিবরণীর ওপর ভিত্তি করে রাশেদকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে আইনি লড়াই করার মতো আর্থিক সমর্থন না থাকায় মিথ্যা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এই দুর্গম পাহাড়ি কারাগারে।
বিচারের ভুল নিয়ে রাশেদ আদালতে বা জেলে চিল-চিৎকার করেনি। কারণ সে জানে, আবেগ দিয়ে অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।
প্রথম তিন সপ্তাহ রাশেদ কাউকে বুঝতে দেয়নি সে কী ভাবছে। সে সেলের কোণে চুপচাপ বসে থাকত। প্রথম এক মাসেই সে জেলের জীবনযাপনের একটা গাণিতিক নকশা তৈরি করে ফেলেছিল।
তার সেলে এসে এক বন্দী একদিন খুব সহানুভূতি দেখাল। লোকটার নাম রতন—গায়ে কয়েদির পোশাক, মুখে করুণা। কিন্তু রাশেদ মাত্র তিন দিনের মাথায় রতনের আচরণ বিশ্লেষণ করে ধরে ফেলেছিল—লোকটি কারা কর্তৃপক্ষের বসানো একজন 'ইনফরম্যান্ট' । কারণ, রতন যখনই কথা বলত, রাশেদের চোখের দিকে তাকাত না, বরং রাশেদের হাতের নখ বা জ্যাকেটের পকেটের দিকে নজর রাখত।
রাশেদ কিন্তু রতনকে এড়িয়ে গেল না। বরং সে রতনকে ব্যবহার করতে শুরু করল। সে ইচ্ছাকৃতভাবে রতনের সামনে বিড়বিড় করত, "আমি রান্নাঘরের ময়লার কন্টেইনারে লুকিয়ে পালাব..."
কারা কর্তৃপক্ষ রাশেদের জন্য একটি ভুল ট্র্যাপ সেট করে রাখল রান্নাঘরের দিকে। কিন্তু রাশেদের আসল চোখ ছিল একেবারে অন্যদিকে।
রাশেদের মাথার ভেতরের তিন হিসাব:
প্রতিদিন সকালে কারারক্ষীদের শিফট পরিবর্তনের ঠিক ১০ মিনিট আগে, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে, মেসের খাবার ভ্যান এসে ব্যাক-ইয়ার্ডে দাঁড়ায়। এই সময় প্রধান দুই সিপাহি চা পানের জন্য ওয়াচ টাওয়ারের নিচে নেমে আসে।
বৃষ্টির দিনে সাঙ্গু নদীর আর্দ্রতার কারণে ব্যাক-ইয়ার্ডের উত্তর পাশের ইলেকট্রিক ফেন্সটির সোর্সে প্রায় ১২ মিনিটের জন্য ভোল্টেজ ডাউন হয়ে যায়। এটি একটি সাধারণ মেকানিক্যাল ত্রুটি, যা কারারক্ষীরা লক্ষ্যই করেনি।
প্রাচীরের উত্তর কোণে মেরামত কাজের জন্য রাখা কন্ডুইট পাইপ ও রেইন ওয়াটার ড্রেন পাইপ দুটো একসাথে যুক্ত হয়ে একটা স্বাভাবিক সিঁড়ির মতো ঢাল তৈরি করেছে। সেখানে দৌড়াতে হয় না, শুধু নিখুঁত ব্যালেন্স রেখে হেঁটে উঠে যাওয়া যায়।
৯ নভেম্বর, ২০২৫। সকাল ৬টা ০৯ মিনিট।
সারা রাত ধরে অঝোর ধারায় পাহাড়ি বৃষ্টি নেমেছে। কুয়াশায় ঢেকে গেছে জেলের চারপাশ।
কারারক্ষী এসে সেলের তালা খুলল। প্রতিদিনের মতো রাশেদ ধীরপায়ে করিডোরে বের হলো। তার গায়ে কয়েদিদের সাধারণ হাফ হাতা শার্ট, কিন্তু ভেতরে সে গুটিয়ে রেখেছিল কারখানার সেলাই সেকশন থেকে চুরি করা কয়েকটি সুতির ক্যানভাস কাপড়ের টুকরো—যা সে নিজের তালুতে শক্ত গ্রিপ তৈরি করতে পেঁচিয়ে নিয়েছে।
৬টা ১০ মিনিট। ব্যাক-ইয়ার্ডে খাবারের ট্রাক এসে থামল। ড্রাইভার ও সিপাহিরা চা খেতে নিচে নামল।
ওয়াচ টাওয়ারের পাহারাদার ঠিক তখনই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে টাওয়ারের শেডের ভেতর ঢুকে পড়েছে।
টাইমার শুরু: ০.০০ সেকেন্ড।
রাশেদ কোনো সুপারহিউম্যানের মতো দৌড় দিল না। সে অত্যন্ত স্বাভাবিক পদক্ষেপে, একজন ঝাড়ুদারের মতো কুঁজো হয়ে ময়লার কন্টেইনারের আড়ালে আড়ালে এগোতে লাগল। কারণ দ্রুত দৌড় বা তাড়াহুড়োই পাহারাদারের চোখে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
৬টা ১১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। সে প্রাচীরের উত্তর কোণের ড্রেনেজ কন্ডুইট পাইপের গোড়ায় পৌঁছাল।
রাশেদ ভেজা পাইপে হাত দিল। ক্যানভাস কাপড়ের ঘর্ষণে হাত পিছলে গেল না। মাত্র ১০ সেকেন্ডে সে কোনো অতিরিক্ত শারীরিক কসরত ছাড়া, শুধু দেহের ভরকে সঠিকভাবে লিভারের মতো ব্যবহার করে ১৫ ফুট উঁচুতে কার্নিশে উঠে গেল।
ওপরে ধারালো কাঁটাতার। কিন্তু ঠিক সেখানে কাঠের একটি চাটাই কারখানার লোকেরা আগের দিন রেখে গিয়েছিল। রাশেদ চাটাইটি কাঁটাতারের ওপর ফেলে নিজের ভর ছড়িয়ে দিল—যাতে কাঁটাতারের ব্লেড শরীরে না ফোটে।
একটি নিয়ন্ত্রিত লাফ!
ছপাৎ!
সে গিয়ে পড়ল প্রাচীরের ওপাশের কাদা ও লতাগুল্মের ঝোপে। পড়ে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে হালকা আঘাত পেল সে, কিন্তু ব্যথার প্রতিক্রিয়াকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলল।
পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নামতেই ওয়াচ টাওয়ারে সাইরেন গর্জে উঠল!
প্যাঁ-প্যাঁ-প্যাঁ!
"কয়েদি পালিয়েছে! ৩ নম্বর ব্লকের কয়েদি পালিয়েছে!"
পুলিশ আর কুকুরগুলো সাধারণ বুদ্ধিতে ভাববে রাশেদ পাহাড়ি পথ ধরে হাইওয়ের দিকে যাবে। কিন্তু রাশেদ ইকোনমিক্সের স্টুডেন্ট—সে জানত, পুলিশ সবসময় 'প্যারাটো প্রিন্সিপাল' বা সবচেয়ে সম্ভাব্য পথগুলো আগে ব্লক করে।
তাই রাশেদ সোজা নিচে নেমে কাদাটে ঝিরিপথে ঢুকল। নদীর ঠান্ডা পানিতে নেমে সে সাঁতার কাটল না; সে ভাসমান একটি পাহাড়ি মেহগনি কাঠের গুঁড়ি ধরে নিঃশব্দে পানির নিচে শরীর ডুবিয়ে স্রোতের অনুকূলে ভেসে গেল। ট্র্যাকিং ডগগুলো নদীর পাড়ে এসে কেবল তার গন্ধের খেই হারিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে লাগল।
জেলখানা থেকে পালানোর পর রাশেদ ফেস ট্রান্সফরমেশন বা নকল দাড়ি-গোঁফ লাগানোর মতো কোনো ফিল্মী নাটকে গেল না। সে জানত, পুলিশ কখনোই শুধু 'মুখ' দেখে মানুষ ধরে না; তারা খোঁজে—মানুষের অভ্যাসের প্যাটার্ন ।
রাশেদ ভালো করেই জানত, সে একজন আইটি ও ইকোনমিক্স জানা লোক। সে যদি চট্টগ্রাম বা ঢাকার মতো বড় শহরের কোনো মেসে গিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর কাজ শুরু করে, পুলিশ তাকে কিছুদিনের মধ্যে ট্র্যাক করে ফেলবে।
তাই সে চলে গেল চট্টগ্রাম নগরের ঘনবসতিপূর্ণ লালখান বাজার এলাকায়। কিন্তু কোনো আইটি কাজ নয়—সে কাজ নিল এক বিশালাকার হোলসেল সবজি আড়তের নৈশকালীন হিসাবরক্ষক হিসেবে। সেখানে সব কেনাবেচা হতো সম্পূর্ণ নগদে, কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ব্যাংক ট্রান্সফার ছাড়া।
নাম বদলে রাখল 'আরিফ'।
সে ৯ মাস ধরে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলল:
১. সে কোনো দিন রাতে চার ঘণ্টার বেশি ঘুমাত না।
২. সে নিজের পরিবার বা পুরোনো বন্ধুদের কোনো মোবাইল সিম তো দূরের কথা, কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলেও সার্চ পর্যন্ত দেয়নি।
৩. সে পুলিশ ও ডিবি টিমের 'সার্চ রুটিন' পেপারে অ্যানালাইসিস করত। প্রতিদিন পত্রিকার অপরাধ পাতা পড়ে সে হিসাব করত খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম পুলিশ কত দিন পর পর তার এলাকায় তল্লাশি জোরদার করে।
কিন্তু রাশেদের এই গাণিতিক ক্যালকুলেশনে একটি মারাত্মক অনিশ্চয়তা ঢুকে পড়েছিল।
কোতোয়ালি থানার একজন নতুন তরুণ সাব-ইন্সপেক্টর ফরহাদ, যে নিজে গণিতের ছাত্র ছিল, সে রাশেদের এই মনস্তত্ত্ব বুঝতে শুরু করেছিল। ফরহাদ বুঝতে পেরেছিল—রাশেদ অন্য সাধারণ আসামিদের মতো কোনো আত্মআত্মীয়ের বাড়ি বা হোটেলে নেই। সে নিশ্চয়ই এমন কোথাও আছে যেখানে দৈনন্দিন নগদ টাকার লেনদেন বেশি এবং ভিড় বেশি।
ফরহাদ চট্টগ্রাম শহরের আড়তগুলোর ক্যাশ খাতার হাতের লেখা অ্যানালাইসিস করা শুরু করল।
২০২৬ সালের আগস্ট মাস। আজ ১৮ আগস্ট, ২০২৬। রাশেদ পালিয়ে যাওয়ার ঠিক ৯ মাস ৯ দিন পর।
লালখান বাজারের সবজি আড়তের মাসিক হিসাবের খাতায় রাশেদের স্বকীয় গাণিতিক সর্টিংয়ের ধরণ দেখে ফেলে সাব-ইন্সপেক্টর ফরহাদ। সে বুঝে যায়—এই নিখুঁত হিসাব কোনো সাধারণ আড়তের কর্মচারীর পক্ষে লেখা সম্ভব নয়। এটি কোনো দক্ষ অর্থনীতি বা গণিতের প্রখর মস্তিষ্কের কাজ!
১৮ আগস্ট, ২০২৬। রাত ১০টা।
লালখান বাজারের একটি মেসের ছোট্ট স্যাঁতসেঁতে ঘরে বসে একটি পুরোনো ডায়েরিতে কিছু গাণিতিক নোট লিখছিল রাশেদ। প্রদীপের আলোয় তার মুখ গম্ভীর।
হঠাৎ ঘরের জানালার বাইরের উঠোনে সামান্য বুটের শব্দ হলো।
সাধারণ মানুষ ভাবত সেটা বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ। কিন্তু রাশেদ সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারল—বাহিরে অন্তত আট জোড়া ভারী বুট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলছে।
সে টেবিল থেকে ডায়েরিটি বন্ধ করল না, ল্যাপটপ বন্ধ করার চেষ্টা করল না। সে খুব ধীরগতিতে চেয়ারে ফিরে বসল।
মচ!
কাঠের দরজার সিটকিনি ভেঙে এক লহমায় ভেতরে আছড়ে পড়ল খাগড়াছড়ি সদর থানা ও চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার যৌথ কমব্যাট টিম!
"হ্যান্ডস আপ! নড়বি তো গুলি করব!"
সামনে ৯ মিমি গ্লক পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু এবং তরুণ এসআই ফরহাদ।
রাশেদ পালিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যর্থ চেষ্টা করল না। সে হাতকড়া পরার জন্য শান্তভাবে দুটি হাত সামনে বাড়িয়ে দিল। তার চেহারায় কোনো ভয়ের ছাপ নেই—বরং এক পরম তৃপ্তির প্রশান্তি।
ওসি কিসলু সামনে এগিয়ে এসে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। স্টিলের হাতকড়াটা রাশেদের কব্জিতে আঁটসাঁট হয়ে বসল।
"অবশেষে, রাশেদ," ওসি ক্লান্ত গলায় বললেন। "৯ মাস ১১ দিন ধরে তুই খাগড়াছড়ি আর চট্টগ্রাম পুলিশকে নাচালি। কিন্তু তুই ভুলে গিয়েছিলি—আইনের হাত অনেক লম্বা। জেলের দেয়াল টপকে পালিয়েও লাভ হলো না, আবার সেখানেই ফিরতে হচ্ছে।"
রাশেদ হাসল। একটি ধীর, রহস্যময় ও তীক্ষ্ণ হাসি।
সে তরুণ এসআই ফরহাদের দিকে তাকাল। "আপনি আড়তের ক্যাশ খাতার ম্যাথমেটিক্যাল ফিল্টারিং দেখে আমাকে ট্রেস করেছেন, তাই তো অফিসার?"
এসআই ফরহাদ একটু অবাক হয়ে মাথা নাড়ল। "হ্যাঁ। তোমার প্যাটার্নই তোমাকে ধরিয়ে দিল, রাশেদ।"
"ভুল বললেন স্যার," রাশেদ হাতকড়া পরা হাত দুটো সামান্য তুলে বলল। "প্যাটার্ন আপনাকে আমাকে ধরতে সাহায্য করেনি। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে গত সপ্তাহে খাতার প্যাটার্নটা ওইভাবে রেখেছিলাম—যাতে আপনারা আমাকে লালখান বাজার থেকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।"
ওসি কায় কিসলু ভ্রু কুঁচকালেন। "মানে? তুই নাটক করছিস?"
"একদমই না স্যার," রাশেদ শান্ত গলায় বলল। "গত ৯ মাসে আমি বাইরে থেকে শুধু আত্মগোপন করে থাকি নি। আমি আমার বিরুদ্ধে থাকা চুরির সেই মিথ্যা কেসের অরিজিনাল অফশোর নেটওয়ার্ক, হোটেল কটেজের মালিক এবং বান্দরবান পুলিশের দুই দুর্নীতিবাজ অফিসারের অবৈধ লেনদেনের সমস্ত তথ্য প্রমাণ জোগাড় করেছি। কিন্তু আমি যদি নিজে থেকে ট্রায়াল কোর্টে সারেন্ডার করতাম, তবে আপনারা সেই নথি ফাঁস হতে দিতেন না। তাই আমার দরকার ছিল—সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলা এই হাই-প্রোফাইল জয়েন্ট অ্যারেস্ট মিডিয়া অ্যাটেনশন!"
রাশেদ টেবিলের ওপর রাখা বন্ধ এনভেলপটার দিকে ইশারা করল।
"ওই খামে থাকা সমস্ত ডকুমেন্টস এইমাত্র ই-মেইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হাইকোর্টের বেঞ্চে চলে গেছে। আর আমি জানি, আজ রাতে আমাকে গ্রেপ্তার না দেখালে আপনারা আমার কেস ফাইল রি-ওপেন করতে বাধ্য হতেন না। আজ আপনারা আমাকে গ্রেপ্তার করেননি, স্যার... আমি আপনাদের ব্যবহার করে আদালতে পৌঁছানোর রাস্তা পরিষ্কার করলাম।"
সারা ঘরে এক হাড়হিম করা নীরবতা নেমে এলো।
ওসি কিসলু আর এসআই ফরহাদ স্তব্ধ হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকালেন। তাদের হাতের পিস্তলগুলো যেন এক মুহূর্তে ভারী হয়ে গেল।
রাশেদকে যখন বৃষ্টিভেজা রাতে কোতোয়ালি পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, চট্টগ্রাম শহরের লাল-নীল আলো তখন তার চশমার কাচে প্রতিফলিত হচ্ছিল। হাতকড়া পরা সত্ত্বেও তিতুমীরের মাস্টার্সের এই তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন যুবকের মুখে তখন শোভা পাচ্ছিল এক মাস্টার-মাইন্ডের বিজয়ের হাসি।
কারাগারের দেয়াল হয়তো সে আবার দেখবে, কিন্তু এবার সে ভেতরে যাচ্ছে বন্দি হিসেবে নয়—পুরো দূষিত বিচার ব্যবস্থাকে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য!
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৯
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: সময় করে গল্পটি পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
২|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভালো লিখেছেন
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: সময় করে গল্পটি পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
৩|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭
গেঁয়ো ভূত বলেছেন: বেশ!
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯
সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: ভালো লাগলো।