নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিশু মিলন

মিশু মিলন

আমি বর্তমানে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগে লিখি। আমার সকল লেখা আমি এই দুটি ব্লগেই সংরক্ষণ করে রাখতে চাই। এই দুটি ব্লগের বাইরে অনলাইন পোর্টাল, লিটল ম্যাগাজিন এবং অন্য দু-একটি ব্লগে কিছু লেখা প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে কিছু কিছু লেখা আমি আবার সম্পাদনা করেছি। ফলে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগের লেখাই আমার চূড়ান্ত সম্পাদিত লেখা। এই দুটি ব্লগের বাইরে অন্যসব লেখা আমি প্রত্যাহার করছি। মিশু মিলন ঢাকা। ৯ এপ্রিল, ২০১৯।

মিশু মিলন › বিস্তারিত পোস্টঃ

সিনেমায় পুরুষতান্ত্রিক গরল

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪১




সারাদিন বই আর মনিটরে মুখ গুঁজে আছি। তার ওপর বাসায় একা। মন চাচ্ছে নেত্রকোনা গিয়ে সাধু যোসেফের চার্চের পাশে সোমেশ্বরী নদীতে নৌকায় শুয়ে-বসে আকাশ দেখি! ঈদের ভিড়-ভাট্টায় যেতেও পারছি না। অগত্যা এক ঘেয়েমি দূর করতে ভাবলাম একটু প্রেমের গান শুনি। ইউটিউবে ঢুকে স্ত্রল করে নিচে নামতেই পুরোনো হিন্দী গানের ভিডিও দেখে চালালাম। প্রথম গানটাই ১৯৬৫ সালে ভীমসিং পরিচালিত ‘খানদান’ সিনেমার- ‘তুমহি মেরি মন্দির তুমহি মেরি পুজা’। সেই আমলের হিট গান। গানের দৃশ্যে সুনীল দত্ত ও নুতন।

গানের কথায় বরকে দেবতা-টেবতা বলার কথা না হয় বাদ-ই দিলাম। শেষ দৃশ্যটা ভীষণ দৃষ্টিকটু। নুতন দেবতা-দেবতা করতে করতে সুনীল দত্ত’র পা ধরে পায়ে গাল ঠেকালেন! পুরুষতান্ত্রিক জঘন্ন দৃশ্য! অথচ দৃশ্যটা কী সুন্দরই না হতো যদি নুতন সুনীলের বুকে মাথা রাখতেন কিংবা নুতন সুনীলের হাতটা ধরতেন আর সুনীল নুতনকে বুকে টেনে নিতেন! তাহলে দৃশ্যটা পুরোনো, সেকেলে বা পুরুষতান্ত্রিক হতো না। কালোত্তীর্ণ হতো।
পুরোনো দিনের অনেক সুপারহিট, কালজয়ী খ্যাতি পাওয়া সিনেমাতেই এমন পুরুষতান্ত্রিক, বৈষম্যমুলক, পশ্চাৎপদ চিন্তুার দৃষ্টিকটু দৃশ্য আছে। এই যে আমাদের আগের জেনারেশনের অধিকাংশ পুরুষকে আমরা ভীষণরকম পুরুষতান্ত্রিক দেখেছি, তার পিছনে এই ধরনের পুরুষতান্ত্রিক-পশ্চাৎপদ মানসিকতার সিনেমার ভূমিকা আছে। সমাজে এই ধরনের পুরুষতান্ত্রিক গরল ছিল বলেই সিনেমাতে তা উঠে এসেছে, কিন্তু কিছু সিনেমা এই গরলের বিস্তার ঘটিয়েছে। যাদের হিন্দী সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল না, তাদের কাছেও এই পুরুষতান্ত্রিক গরল পৌঁছে যেত অনুকরণপ্রিয় বাংলা সিনেমা এবং যাত্রাপালার মাধ্যমে। কবরী-সাবানাদের দেখেছি ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদতে কাঁদতে স্বামীর পায়ে কপাল ঠুকতে! যাত্রাশিল্পের তখন রমরমা অবস্থা ছিল। যাত্রার পালাকার, নির্দেশক আর শিল্পীরা এইসব সিনেমা দেখতেন। সিনেমা থেকে পুরুষতান্ত্রিক ওই গরল প্রবেশ করত যাত্রায়, আর যাত্রার মাধ্যমে আপামর জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর বিস্তারও ঘটাতো। আমি নিজেও ছেলেবেলায় যাত্রাপালায় নায়িকাকে নায়কের পায়ে মাথা ঠুকতে দেখেছি।

এইসব পুরুষতান্ত্রিক দৃশ্য দেখে স্বামী দেবতাটিও স্ত্রীর কাছে যাত্রার নায়িকার মতো আদর-সোহাগ, সেবা, প্রভুর মতো পূজা আশা করত। না পেলে পেটাত! এখনও গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখতে পাই স্বামী নামক দেবতাটি ভাত খেয়ে থালার ওপর হাত ধোয়, আর বাচ্চারা ওই দেবতাটিকে অনুকরণ করে! দেখি দাঁ-কাঁচি থেকে শুরু করে সবকিছু স্বামী দেবতার হাতে তুলে দিতে হয়!

এই স্বামী নামক দেবতাটিকে আপনি কখনও মশারি টাঙাতে দেখবেন না, বিছানা গোছাতে দেখবেন না, বাথরুম পরিস্কার করতে দেখবেন না। তৃষ্ণার জলটুকুও এদের হাতে তুলে দিতে হয়। গ্রাম-শহর সর্বত্র প্রায় একই অবস্থা। বরং যে পুরুষেরা বউয়ের কথা শোনে, মশারি টাঙায় তাদেরকে কটুক্তি করতে শুনেছি শিক্ষিত-সংস্কৃতজনদের!

ধুর, আমি ১৯৬৫ সালের ভীমসিংয়ের কথা কী বলছি, আজকের দিনের কয়জন চলচ্চিত্র পরিচালক আধুনিক-মুক্তবুদ্ধির হতে পেরেছে! আজও দেখলাম একজন নাট্যকর্মী-চলচ্চিত্র পরিচালক কোরানে আত্মসমর্পণ করেছেন!

ঢাকা
১৯ মার্চ, ২০২৬

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, আমারা পুরুষ, আমরা রাজা, আমরা খাজনা নেব।

২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪০

মিশু মিলন বলেছেন: হা হা হা । ধন্যবাদ।

২| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: সাধারণত স্ত্রীজাতি কাঁচা আম, ঝাল লঙ্কা এবং কড়া স্বামীই ভালোবাসে। যে দুর্ভাগ্য পুরুষ নিজের স্ত্রীর ভালোবাসা হইতে বঞ্চিত সে - যে কুশ্রী অথবা নির্ধন তাহা নহে; সে নিতান্ত নিরীহ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৩৯

মিশু মিলন বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

শেরজা তপন বলেছেন: যে গানটার কথা বলেছেন, সেই গানের যেই লিরিক্স তাতে আপনি ওইরকম দৃশ্য আশা করলেন কেমনে!!
তুমি আমার মন্দির, তুমি আমার পুজা- তুমিই দেবতা যে। এর উপরে এই গানের লিরিক্স ছেলেরাই লিখেছে, ছেলেরাই সুর দিয়েছে, মিউজিক কম্পোজিশন থেকে কোরিওগ্রাফি হয়ে চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে সবকিছুতেই পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য। নায়িকা এখানে একটা পাপেট মাত্র- আর এই সিনেমা দেখে নারীরাই বেশী ভোঁস ভোঁস করে কেদেছে-আমি নিশ্চিত।
আচ্ছা ভাই বলেন তো, এ পৃথিবীর কয়জন নারী জানে যে নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন কোন দল, বিশ্বের সেরা নারী ফুটবল খেলোয়ার এখন কে? কিন্তু পুরুষদের ব্যাপারে প্রায় সবাই কম বেশী কিছু জানে। কয়জন নারী -নারীদের ক্রিকেট্ট ফুটবল ক্রিকেট দেখতে যায়? এদের প্রচার প্রচারনা কোচিং থেকে অনুপ্রেরনা- সবক্ষেত্রেই পুরুষদের সবচেয়ে বেশী অবদান।
নারীরাই নারীদের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা। মেয়েদের কি শুধু পুরুষরাই তাদের গরজে তুলে ধরবে, তারা না চাইলেও স্পেস দিবে?
* তবে একটা কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, এ দেশের ৯০ ভাগ পুরুষ তাদের বউদের ডরায়। ওইসব সিনেমা গান এদের সংসার জীবনে খুব বেশী প্রভাব ফেলতে পারেনি।

২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১২

মিশু মিলন বলেছেন: নারীরাই নারীদের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা। একমত।

তবে একটা কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, এ দেশের ৯০ ভাগ পুরুষ তাদের বউদের ডরায়।
কিছু পুরুষ নিশ্চয় বউকে ডরায়, কিছু বউ স্বামীকে মানসিক নিপীড়ন করে সত্য, এমনকি শারীরিক নিপীড়নও। তবে অধিকাংশ পুরুষ এখনও বউয়ের ওপর দাপট দেখায়। মানসিক এবং শারীরিক নিপীড়ন করে। অল্পকিছু শিক্ষিত স্বনির্ভির নারীর জীবন, আর সমাজের আপামর নারীর জীবনচিত্র এক নয়।

ধন্যবাদ।

৪| ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।

২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২০

মিশু মিলন বলেছেন: আবারও ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.