নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জুলাই অভ্যুত্থান ফিরে দেখা: কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন

১৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২২


জুলাই ২০২৪ এর আন্দোলন ও তার পরবর্তী রাজনীতিকে ঘিরে বাংলাদেশে দুটি পরস্পরবিরোধী বয়ান দাঁড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে শেখ হাসিনার অনুগত সমর্থকেরা মনে করে জুলাই ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ছিল না, এটি আসলে জামাত ও ইসলামপন্থিদের ষড়যন্ত্র, যাতে আমেরিকা ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখিত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জন নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা, এমনকি লাইভ স্ট্রিমে দেখানো হত্যাকাণ্ডও তারা স্বীকার করে না, বরং এই হত্যাকাণ্ডের দায় জামাতের ওপর চাপায়।

দ্বিতীয় বয়ানের উৎস মূলত জামাত ও তার সমমনা দলগুলোর। জামাত রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মুসলিম পরিচয়কে ব্যবহার করে, আর তাদের প্রচারণার প্রধান অস্ত্র পরিকল্পিত ভাবে ছড়ানো ঘৃণা, মিথ্যাচার, গুজব ও বিভাজন। তাদের ঘৃণা ও মিথ্যাচার দুই ধারায় পরিচালিত হয় - একটি নিয়মিত, যেটা অবিরাম চলতে থাকে; অন্যটি নির্বাচনকেন্দ্রিক বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে।

মুসলমানদের ভারত ও হিন্দুবিদ্বেষী পক্ষপাত ও পূর্বধারণাকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে প্রকৃতিগতভাবেই বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়মিত প্রচারণার অংশ। প্রপাগান্ডা তৈরি করে আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতের বিরুদ্ধে এমনভাবে ঘৃণা উৎপাদন করা হয়, যাতে মনে হবে ভারতের একমাত্র লক্ষ্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে বাংলাদেশকে শোষণ, দখল ও লুণ্ঠন করা।

জামাতের নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের পরকালীন মুক্তি, বেহেশত লাভ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক সমর্থনে পরিণত করা হয়। "জামাতকে ভোট দিয়ে বেহেশতের পথ সুগম করুন" - এ ধরনের একটি ধর্মীয় হুজুগ তৈরি করার জন্য মোল্লা বা আলেমদের দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়।

জামাত শুধু আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে আক্রমণ করে ক্ষান্ত হয় না; তারা বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারণাকেও অবমাননা করে।

হাসিনার শক্তি ছিল ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতা থেকে জন্ম নেওয়া দম্ভ, যা জনমানুষের প্রতি তার তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেত। জামাত মানুষের হীনমন্যতা ও গ্লানিকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম পরিচয়ের শ্রেষ্ঠত্ব ও ভারতবিদ্বেষের মাধ্যমে তাদের মধ্যে এমন একটি কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্বের বোধ তৈরি করে, যেখানে তারা নিজেদের ঐশ্বরিকভাবে মনোনীত ও শক্তিমান মনে করতে শুরু করে।

এই শ্রেষ্ঠত্বের বোধ তাদের "গজওয়াতুল হিন্দ" এর ধারণায় বিশ্বাসী করে তোলে এবং ভারত জয়ের কাল্পনিক স্বপ্ন দেখায়। একই সঙ্গে তারা নিজেদের উগ্র ইসলামপন্থি পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলে। ফলে তারা তাদের ভাষাগত, আঞ্চলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অন্যান্য বহুস্তরীয় পরিচয় ভুলে গিয়ে, কেবলমাত্র ধর্মীয় পরিচয়কেই প্রধান করে তোলে।

ইতিহাসে বাঙালি মুসলমানের পরিচয় আর কখনোই এত একমাত্রিক ছিল না। এটি এতদিন একই সঙ্গে বাঙালি, মুসলমান, বাংলাদেশি এবং একটি বহুত্ববাদী সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করে এসেছে। বহুমাত্রিক পরিচয়কে সংকুচিত করে মানুষকে কেবল উগ্র ইসলামপন্থি পরিচয়ের মধ্যে ঠেলে দেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতন।

হাসিনার শাসনামলের কথা মনে করতে গেলে দুটি জিনিসের কথা মনে পড়ে - একটি কালো মাইক্রোবাস আর তার সাথে থাকা সাদা পোশাকের পুলিশ। সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে কোনো পোস্ট দিলেই নজরদারি শুরু হতো। কালো মাইক্রোবাস আপনাকে অনুসরণ করত। একদিন সেই মাইক্রোবাস থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ নেমে এসে আপনার পথ রোধ করে দাঁড়াত। তারপর যাত্রাপথে, কর্মক্ষেত্রে কিংবা বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই আপনাকে তুলে নিয়ে যেত।

গুম হয়ে যাওয়া মানুষটির পরিবার থানা, র‍্যাব অফিস ও গোয়েন্দা দপ্তরে খুঁজেও তাঁর কোনো হদিস পেত না। একজন জলজ্যান্ত মানুষ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবী থেকে অদৃশ্য হয়ে যেত। হাসিনা তাঁর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য জনগণের টাকায় এমন এক পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যারা হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। এই বাহিনী শুধু জনবিচ্ছিন্নই ছিল না, তাদের জনগণের প্রতিপক্ষ শক্তিতে পরিণত করা হয়েছিল।

এই নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নির্ভর করে হাসিনা মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন; আইনের শাসন ও আইনি সুরক্ষা বিলুপ্ত করেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছিলেন।

জনগণের ভোটাধিকারকে হাসিনা ও তার মন্ত্রীরা প্রকাশ্যেই উপহাস করতেন। হাসিনার মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সগর্বে ঘোষণা করেছিলেন, শেখ হাসিনা সবার সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করেছেন। তার ভাষায়, "প্রথমে দিল্লিতে বাজিমাত, তারপর নিউইয়র্কে বাজিমাত। কোথায় স্যাংশন, কোথায় ভিসানীতি? তলে তলে আপস হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ স্যাংশন আর ভিসানীতির তোয়াক্কা করে না।" তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছিলেন, "আমি ভারতে গিয়ে বলে এসেছি, হাসিনা সরকারকে যেন ক্ষমতায় রাখে।"

এই দমন-পীড়নের বিপরীতে ছিল আরেকটি ভয়। হাসিনার পতনের পর ক্ষমতার শূন্যস্থান যদি আরও ভয়ংকর কোনো শক্তি দখল করে নেয়? রাজাকার ও জঙ্গিদের উত্থান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার আশঙ্কা - হাসিনা এই ভয়গুলোকে পুঁজি করে নিজের ক্ষমতা আরও সংহত করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত সেই ভয়ের মূল্য দিতে হলো চরমভাবে। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে হাসিনার ঔদ্ধত্য, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা এবং পুলিশের বলপ্রয়োগ ও হত্যাকাণ্ড দেশের পরিস্থিতিকে বিস্ফোরণমুখী করে তুলল। ছাত্র আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ রইল না, তা রূপ নিল সরকারবিরোধী আন্দোলনে। মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও জমে থাকা অসন্তোষ হাসিনার পতন ডেকে আনল।

রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুতে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ল। একজন সামরিক অফিসার স্বয়ংক্রিয় বন্দুক থেকে মিছিলে সমানে গুলি ছুড়লেন। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছেলেদের ধরে ধরে হত্যা করল। তারপর লাশ নিয়ে এসে ড্রেনে ফেলে দিল। আমরা সেই দৃশ্য দেখলাম। কার্নিশ ধরে ঝুলতে থাকা একটা ছেলেকে পুলিশ গুলি করল কাছে থেকে। বারান্দায় খেলতে থাকা একটি ছোট্ট মেয়ে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে অকালে ঝরে গেল। রাস্তায় পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ ছাত্রদের লাশ রিকশাওয়ালারা সরিয়ে নিলেন। একজন কিশোরের অর্ধনগ্ন লাশ টেনে নামানো হলো পুলিশের সাঁজোয়া কর্মী পরিবাহকের ঢাকনা খুলে। রিকশাভ্যানে করে লাশের স্তূপ বহন করার ছবি দেখলাম আমরা সবাই।

এসব দৃশ্য মানুষকে ভয় দেখানোর বদলে উল্টো তাদের ভয় ভেঙে দিল। একজন পুলিশ সদস্য হাসিনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন: "গুলি করলে শুধু একজনই মরে স্যার, সে শুধু যায়, আর বাকিরা কেউ যায় না।" মানুষ জেগে উঠল। এমন এক গণজোয়ার সৃষ্টি হলো, যাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামল। সেই গণজোয়ার প্রতিহত করার ক্ষমতা হাসিনার ছিল না।

কিন্তু আমরা যে ভয় থেকে মুক্তি চেয়েছিলাম, সেই ভয়কে সরাতে গিয়ে অন্য এক ভয়ের দরজা খুলে দিলাম। আর এটাই ছিল জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর। একটি স্বৈরশাসনকে সরিয়ে আমরা এমন কিছু শক্তিকে মুক্ত করে দিলাম, যাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে উঠল।

আমরা দেখলাম, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। বলা হল, এগুলো সংখ্যালঘুদের বাড়ি নয়, আওয়ামী লীগের লোকজনের বাড়ি। তাদের কাউকে কাউকে হত্যা করা হল। একজন রাজাকারের ছেলে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। মানুষ ভেবেছিল, তিনি আইনের শাসন, গুম ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু না, তাঁর বক্তব্যে আক্রমণের লক্ষ্য হল মুক্তিযুদ্ধ। তিনি শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দাবি জানালেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেসব পেজ ও প্ল্যাটফর্ম ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভেদ ভুলে এতদিন সবার অংশগ্রহণে সক্রিয় ছিল, সেগুলো হঠাৎ করেই উগ্র ইসলামপন্থিদের মতাদর্শ প্রচারের জায়গায় পরিণত হল। জনমানুষের শক্তিকে ব্যবহার করে হাসিনার পতন ঘটার পরপরই নিজেদের প্রকাশ্যে নিয়ে এল লুকিয়ে থাকা "গুপ্ত" কলাকুশলীরা। রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিল ইসলামপন্থী শক্তিগুলো।

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পরে বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হল। বলা হল, এসব ঘটনার পেছনে হাসিনার উস্কানি ছিল। যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে, তা অল্প সময়ের মধ্যে মোড় নিল জামাতের রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে।

উগ্রপন্থী রাজনীতির উত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া, সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা ও প্রান্তিকীকরণ - সব মিলিয়ে আমরা এমন এক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে গেলাম, যে রাষ্ট্র কেবল নামেই গণতান্ত্রিক, কিন্তু চরিত্রে প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মতান্ত্রিক এবং অপ ও অগণতান্ত্রিক। বাংলাদেশ তার বহুত্ববাদী পরিচয় হারিয়ে একটি উগ্রপন্থী রাষ্ট্রের পথে এগিয়ে যেতে শুরু করল।

জুলাই আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন দ্রুতই দুঃস্বপ্নে পরিণত হল। স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির দরজা খুলতে গিয়ে আমরা এমন এক প্যান্ডোরার বাক্স খুলে ফেললাম, যেখান থেকে আরও ভয়ংকর অপশক্তি ও বিপদের পথ তৈরি হল। উগ্র মতাদর্শ মানুষের বহুমাত্রিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং চিন্তার ক্ষমতাকে গ্রাস করে। স্বৈরশক্তির পতন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার জায়গায় উন্মুক্ত, সহনশীল ও বহুত্ববাদী সমাজ গড়ে ওঠে, যেখানে মানুষ তার সকল পরিচয়, বৈচিত্র ও সম্ভাবনা নিয়ে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র বলে, অথচ নিজেরাই ষড়যন্ত্র করে তিনটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করেছে। অন্যদিকে জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনাকেই মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে দেখে। আবার আওয়ামী লীগও জামায়াতের যেকোনো আন্দোলনকে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে মনে করে। আমার মতে, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বাধীনভাবে ক্ষমতার পালাবদল হবে না। প্রতিবারই জুলাইয়ের মতো কোনো না কোনো ঘটনা ঘটবে। অর্থাৎ সামনে আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতের সংঘর্ষগুলো ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনার মতো হবে না; বরং জুলাই আন্দোলনের মতো হবে।

বিএনপি-জামায়াতও সহজে ক্ষমতা ছাড়বে না। তারা আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটবে। এই সংকট থেকে বের হওয়ার একটি উপায় ছিল এবার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপি-জামায়াতকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের জন্যই ভারী হয়ে যেতে পারে।

রাজাকারের বাচ্চারা যেভাবে আস্ফালন করছে, তাতে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যে তারা ভবিষ্যতে কী করতে পারে। অথচ সাধারণ মানুষ শুধু চেয়েছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে যাক। কারণ তারা এমনভাবে মাফিয়াতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল, যা আর সহনীয় ছিল না। B:-/

২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: বিএনপি তাদের রাজনীতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তন আনতে পারবে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক স্বার্থে তারা কিছুটা হলেও ইসলামপন্থী রাজনীতি করবে। আর এই ইসলামপন্থী রাজনীতিটাই পরাশক্তির অ্যাসেট। তারা এটাই চায়। বাংলাদেশ যত বেশি জঙ্গিবাদী হবে এবং এখানে জামায়াতের মতো মতাদর্শ যত বেশি জনপ্রিয় হবে, এ দেশের মানুষকে শোষণ করা তাদের জন্য ততই সুবিধাজনক হবে।

২| ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

নিমো বলেছেন: Good Luck, Have Fun, Don't Die

২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: ঠিকাছে! :) স্যার কি রাগ করলেন?

৩| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৮

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকে আলাদাভাবে দেখার অবকাশ নেই। এরা মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আর বাকি থাকলো রাজাকারের দল, এদের থেকে কোন প্রকার প্রত্যাশা করাটাই অন্যায় এবং মুর্খতা। সুতরাং জুলাইয়ের মাধ্যমে যে স্বপ্ন সাধারন অনেকে দেখেছিলেন সেটা আদতে অধরাই রয়ে গেছে। সহসাই এর পরিবর্তনও হচ্ছে না।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, ধন্যবাদ। দুটি দলই তাদের জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি, দুর্নীতি, শাসন-শোষণ এর কারণে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে এই কাজগুলো তারা ভিন্ন বয়ান ও মতাদর্শ ব্যবহার করে করে থাকে।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ, নারী স্বাধীনতা ও বাঙালি সংস্কৃতির মতো ইতিবাচক ও প্রগতিশীল ধারণাগুলোকে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা সংহত করেছে, কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি করেছে এবং লুটপাট চালিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি-জামাত মানুষের আদিম ভয়, আতঙ্ক ও আত্মরক্ষার প্রবৃত্তি ও ধর্মীয় কুসংস্কার কাজে লাগিয়ে উগ্র ইসলামপন্থী মনোভাবের দিকে মানুষকে ঠেলে দিয়েছে। এই উগ্রতা শেষ পর্যন্ত মানুষকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। আর এটাকেই পরাশক্তি এবং মিলিটারি ইণ্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স ব্যবহার করে।

৪| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আওয়ামীলীগ আমলে যা হয়েছে তা যেমন মেনে নেয়া যায় না, আবার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে এটাও মেনে নিতে পারছি না।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, বাস্তবে এটাই হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, মোটামুটি সবাই তার মস্তিষ্কের ডান বা বাম দিকে অবস্থানের কারণে (!) কেবল একটি দিকই দেখতে পাচ্ছে। :)

সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, মনে হচ্ছে আমরা এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আটকে থাকব। সামনে আর এগোতে পারব না। আর এটা হলে উগ্রপন্থীরাই লাভবান হবে।

৫| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: জুলাই মানেই প্রতারনা।
এরা প্রতারনা করেছে, দেশ ও মানুষের সাথে।
জামাত শিবির এরা দেশের শত্রু।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: লেখা না পড়েই ? :)

৬| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০১

নিমো বলেছেন: লেখক বলেছেন: ঠিকাছে! :) স্যার কি রাগ করলেন
না হুজুর! যা লিখেছি এটা গত বছর দেখা একটা দারুণ চলচ্চিত্রের নাম। এখন দেখব project hail mary যদিও বইটা চলচ্চিত্রের চেয়ে বেশি ভালো।

২১ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:০২

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার মুভি দেখা আনন্দময় হোক।

আপনার এই বইটা সম্পর্কে গুগল করে বইয়ের ঘটনা পড়ে মনে হল, এটা সেই লেখকের বই কিনা যেটা ইলন মাস্ককে খুব প্রভাবিত করেছিল। পরে দেখলাম না, ইলন মাস্কের সেই লেখক আরেকজন।

৭| ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১৬

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমি এতদিনে যা বুঝতে পারলাম তা হলো- এই দেশের এক বিরাট সংখক জনোগোষ্ঠী মৌলাবাদীতে আসক্ত, এত বিরাট সংখক জনোগোষ্ঠীকে পাশ কাটিয়ে বা কোনঠাসা করে এই দেশে কোন রাজনৈতিক দলের টিকে থাকা সম্ভব নয় তাই বাধ্য হয়েই তাদের সাথে সমঝোতা করে চলতে হবে। প্রগতিশীল আর প্রতিক্রিয়াশীল দুই জনগোষ্ঠীর মাঝের দ্বন্দ চিরকালই থাকবে।

২১ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:০৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, আপনার সাথে এবিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। তবে এদের জায়গা ৫% এর চেয়ে বেশি হওয়ার অর্থ কোথাও একটা বড় ভুল হয়ে গেছে।

সেই জায়গাটাকে "০" হয়ত করা যাবে না, কিন্তু সেটা ৫% এর নীচে নামিয়ে আনা যাবে। নিদেন পক্ষে চেষ্টা করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.