| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত)
আমি ভালবাসি কবিতা, গান, আবৃত্তি------- আর ঘুরে বেড়ানো।জীবনের স্বপ্নগুলো স্বপ্নেই ভেসে বেড়ায়...বাস্তবে ধরা দেয় না!, তবুও স্বপ্ন দেখি...ঘুম থেকে জেগে উঠি আশায় বুক বাঁধি ...ভুল-ত্রুটি শুধরে নতুনে পথ চলার।
নিশ্চিত হাম ও উপসর্গে শিশু মৃত্যু ১১০০ ছাড়াল--তথ্যসূত্র
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক, কিন্তু কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ। অথচ বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ১,১০০-এ পৌঁছানোর তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতি শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব নয়; বরং দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, টিকা সংগ্রহ ও মজুত, রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালের সক্ষমতা, জনস্বাস্থ্য নজরদারি এবং সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি—সবকিছুকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
১. এত বড় হাম-প্রাদুর্ভাব কীভাবে হলো?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি থেকেই বাংলাদেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৮টি জেলায় সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় এবং তখনই ১৮,২১৯টি সন্দেহজনক ও ২,৮৯৭টি ল্যাব-নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ৯৯৯টি নিশ্চিত ও সন্দেহজনক মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল এবং আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখের অনেক ওপরে চলে যায়।
অর্থাৎ এটি হঠাৎ একদিনে তৈরি হওয়া সংকট নয়। সংক্রমণ বাড়ার আগেই টিকাদানের ঘাটতি ও immunity gap তৈরি হয়েছিল।
২. সরকারের মূল করণীয় কী ছিল?
ক. নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্ন রাখা
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ব্যাপক টিকাদান। তাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব ছিল—
----<নিয়মিত EPI কার্যক্রম অব্যাহত রাখা;
----<কোনো শিশুর টিকা বাদ পড়লে তাকে দ্রুত শনাক্ত করা;
----<দুর্গম ও দরিদ্র এলাকায় বাড়ি-বাড়ি টিকাদান নিশ্চিত করা;
----<টিকার পর্যাপ্ত মজুত রাখা;
----<ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম catch-up vaccination পরিচালনা করা।
কিন্তু ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন টিকাদান অভিযান স্থগিত/বিলম্বিত হওয়ার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর ফলে অনেক শিশু পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই রয়ে যায়।
খ. টিকার মজুত নিশ্চিত করা
জীবনরক্ষাকারী টিকার ক্ষেত্রে “মজুত শেষ হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া” কোনো কার্যকর জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা হতে পারে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ৭ সেপ্টেম্বরের সংসদীয় বক্তব্য অনুযায়ী, টিকা সংগ্রহের প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তে open tender পদ্ধতি গ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক জটিলতার কারণে টিকা সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গুদামে টিকা থাকলেও ঢাকায় অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথাও তিনি জানান এখানে ভবিষ্যতের জন্য বড় শিক্ষা হলো—জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী টিকার procurement system-এ এমন কোনো প্রশাসনিক ঝুঁকি রাখা যাবে না, যার কারণে মাঠপর্যায়ে টিকা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়।
৩. সরকার কী করেছে?
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে—এ বিষয়টিও স্বীকার করা প্রয়োজন।
WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকেই ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখের বেশি শিশুকে লক্ষ্য করে জরুরি MR টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে তা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়।
এপ্রিল থেকে প্রায় ২ কোটি শিশু বিভিন্ন জরুরি ও follow-up কর্মসূচির মাধ্যমে টিকা পেয়েছে বলে সরকারি বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখ থেকে নতুন করে ৩৪ লাখ টিকাবঞ্চিত বা বাদ পড়ে যাওয়া শিশুকে লক্ষ্য করে intensified MR catch-up campaign শুরু হয়েছে, যা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। সরকার আরও জানিয়েছে, জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত রাখা হয়েছে।
৪. তাহলে প্রশ্ন—এত শিশু মারা গেল কেন?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শুধু “অভিভাবকরা শিশুদের টিকা দেননি”—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ করা যায় না। আবার বর্তমান সময়ে পরিচালিত বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচিকে পুরোপুরি অস্বীকার করাও তথ্যসম্মত হবে না। বরং পুরো ঘটনাকে কয়েকটি স্তরে দেখতে হবে।
প্রথমত—টিকাদানের immunity gap
অনেক শিশু সময়মতো টিকা না পাওয়ায় একটি বড় জনগোষ্ঠী হাম সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত—টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহের সমস্যা
সরকারের নিজের বক্তব্যেই টিকা সংগ্রহ ও procurement process-এ বিলম্বের বিষয়টি এসেছে।
তৃতীয়ত—দেরিতে catch-up vaccination
সংক্রমণ ব্যাপক আকার নেওয়ার পর বিশাল সংখ্যক শিশুকে একসঙ্গে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৈরি হওয়া immunity gap দ্রুত পূরণ করা সহজ নয়।
চতুর্থত—হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ
একই সময়ে বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় শিশু চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসার প্রয়োজন আরও বাড়ে।
পঞ্চমত—দ্রুত শনাক্তকরণ ও referral
শিশু গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই যদি স্থানীয় পর্যায়ে রোগ শনাক্ত, Vitamin-A প্রদান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং দ্রুত referral করা যায়, তাহলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
WHO এপ্রিলেই surveillance, laboratory capacity এবং hospital preparedness জোরদারের কথা জানিয়েছিল।
৫. “অবহেলা ও আবেগের পাশাপাশি প্রমাণও প্রয়োজন”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ববর্তী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে চার বছরের বিলম্ব ও অবহেলাকে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, টিকা আমদানিতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং open tender-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে এটি সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ব্যাখ্যা। চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করতে হলে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। সেই তদন্তে অন্তত জানতে হবে—
**কোন সময়ে টিকার মজুত কমে গিয়েছিল?
**কেন নতুন টিকা সময়মতো সংগ্রহ করা যায়নি?
**কোন কোন টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত বা বিলম্বিত হয়েছিল?
**কত শিশু টিকার আওতার বাইরে ছিল?
**সেই শিশুদের শনাক্ত করার জন্য কী ব্যবস্থা ছিল?
**সংকটের প্রথম দিকে সতর্কবার্তা পাওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা নিতে কোথায় বিলম্ব হয়েছে?
**হাসপাতালে পর্যাপ্ত শিশু চিকিৎসা, অক্সিজেন, ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল কি না?
**প্রতিটি শিশুমৃত্যুর চিকিৎসাগত কারণ কী ছিল?
৬. সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কোথায় হতে পারে?
এই সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—জনস্বাস্থ্যে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু হাম আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। কিন্তু তারও আগে জরুরি ছিল শিশুটিকে টিকার মাধ্যমে হাম থেকে সুরক্ষিত রাখা। অর্থাৎ সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাফল্য শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, তা দিয়ে মাপা উচিত নয়; বরং কতজন শিশু রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সুরক্ষিত হলো—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
৭. এখন সরকারের কী করা উচিত?
১. টিকাদানের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন অডিট: গত কয়েক বছরের EPI কার্যক্রম, টিকা ক্রয়, মজুত, সরবরাহ ও মাঠপর্যায়ের coverage নিয়ে স্বাধীন অডিট করা প্রয়োজন।
২. স্থায়ী vaccine buffer stock: জরুরি টিকার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কয়েক মাসের নিরাপদ মজুত রাখতে হবে, যাতে procurement বা প্রশাসনিক জটিলতায় টিকাদান বন্ধ না হয়।
৩. প্রতিটি বাদ পড়া শিশুকে শনাক্ত করা: জাতীয় পর্যায়ে “zero-dose” ও partially vaccinated শিশুদের তালিকা তৈরি করে বাড়ি-বাড়ি follow-up করতে হবে।
৪. প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ কর্মসূচি: শহরের পাশাপাশি চর, পাহাড়, হাওর, সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বস্তি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৫. শিশু হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো: শুধু টিকা দিলেই হবে না। গুরুতর আক্রান্ত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত pediatric bed, oxygen, medicine, trained staff এবং referral ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. প্রতিটি শিশুমৃত্যুর medical audit: হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে জানতে হবে—শিশুটি কেন মারা গেল, কোথায় চিকিৎসা পেতে দেরি হলো এবং কোন পর্যায়ে প্রতিরোধ সম্ভব ছিল।
৭. তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা: সরকারের উচিত নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা—
==> মোট সন্দেহজনক রোগী;
==> ল্যাব-নিশ্চিত রোগী;
==> নিশ্চিত মৃত্যু;
==> সন্দেহজনক মৃত্যু;
==> হাসপাতাল ভর্তি;
==> সুস্থতার হার;
==> টিকাদানের coverage;
==> কোন জেলায় কত শিশু এখনও টিকার বাইরে।
---এতে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্ক সংকেত।
সরকারের উচিত স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি জনসাধারণের জন্য। কারণ, একটি শিশুকে টিকা দিয়ে বাঁচানো শুধু চিকিৎসা নয়; এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্বগুলোর একটি।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: দায় কার!
চেষ্টা করেছি সমস্যার বিষয়বস্তু তুলে ধরে ~সমস্যার সমাধান কল্পে করণীয় সম্পর্কে! দোষারোপ নয়~চাই প্রতিটি শিশুর নিরোগ ও নিরাপদ জন্ম যেনো সার্থক হয় ~পরিবার ও দেশের জন্য।
বর্তমান সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। কোন সঠিক তথ্য প্রমান নেই-বরং উদাসীনতাই লক্ষনীয়।
২|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমার লেখা "মায়েরা ,আপনার শিশুকে টিকা দিন"
পড়ে আসুন । লেখাটি ষ্টিকি হয়ে ছিলো ।
সেখানে পরিস্কার বলা আছে, কে এজন্য দায়ী
বিচার একদিন হতেই হবে ।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৭
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: কে দায়ী আর কে দায়ী না! সে বিচার এই মুহূর্তে টিকা'র সরবরাহ এবং যথাযথ প্রয়োগ জরুরি! হাসপাতালে স্পেশাল হাম কেয়ার ইউনিট স্হাপন ও জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ করে মৃত্যুহার কমাতে হবে। আর বিচার ডকুমেন্টস সংগ্রহপূর্বক অবশ্যই করতে হবে~তবে তার নিরপেক্ষতার মানদণ্ডের ভিত্তিতেই করতে হবে।
দশে আরেক আতংকের নাম ডেঙ্গু ~এটাও নিরবে মৃত্যুর মিছিল তৈরী করছে! অথচ উদাসীন প্রশাসন ~চলছে তৈলমর্দনের প্রহসন!
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হামের শিশু মারা যাওয়ার পেছনে দায় কার ?