| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সেজুতি_শিপু
লেখালেখি করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু মাথার ভিতর তাগিদ অনুভব করি। কত কী দেখছি চারপাশে, কত কত অনুভব বুদ্বুদের মত জেগে ওঠে, ইচ্ছে করে রেখে দেই শব্দ মালা গেঁথে। কিন্তু শব্দগুলো ফুল হয়ে ফোটে না। কেন কে জানে?
মানুষ যে সমাজ গড়েছে , যে সভ্যতা নির্মাণ করেছে সেখানে ধর্মের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। মহাবিশ্বের দিকে তাকিয়ে মানুষ যখন আত্মপরিচয় অনুসন্ধাণ করে, জাগতিক অনেক প্রশ্নের জবাব পায় না তখন ধর্ম তাকে পথ দেখায়। মহান সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস তাকে স্বস্তি দেয়, আত্মসমর্পন তাকে মুক্তি ও শক্তি দেয়। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন,
"মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল-মাঝে
আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে, ভ্রমি বিস্ময়ে ॥
তুমি আছ, বিশ্বনাথ, অসীম রহস্যমাঝে
নীরবে একাকী আপন মহিমানিলয়ে ॥" -এই "তুমি" আছো অনুভব মানুষের পাথেয় হয়। অজানা পথে কেউ আমাকে কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছে, হাত ধরে আছে, পথ দেখাচ্ছে, বিপদে রক্ষা করছে , কারো কাছে হাত পেতে চাওয়া যায়- এই বিশ্বাস মানুষকে সাহসী করে । শক্তি যোগায় । এখানেই ধর্মের উন্মেষ ঘটে। আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আত্মমুক্তির পথ খোঁজার পাশাপাশি ধর্ম ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শৃঙ্খলা , ন্যায়, সততা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার কাজটিও করে। খুব লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ধর্ম মানুষকে যে মুক্তির পথ দেখায় তা মূলত: অর্জন করা সম্ভব তখনই যখন সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে যে সমস্ত শৃঙ্খলা, ন্যায় আচরন, ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে সেগুলি যথাযথভাবে পরিপালিত হবে।
বাংলা 'ধর্ম' এসেছে একটি সংস্কৃত শব্দ থেকে, যার মূল অর্থ 'ধারণ করা' (√ধৃ ধাতু থেকে) । সহজ কথায়, যা ধারণ বা বহন করা হয়, অর্থাৎ মানুষের সহজাত গুণ, কর্তব্য, সততা, এবং নৈতিক জীবনযাপনের নিয়মই হলো ধর্ম । প্রতিটি জিনিসের নিজস্ব ধর্ম রয়েছে, যেমন আগুনের ধর্ম- তাপ ও আলো, পানির ধর্ম, বায়ুর ধর্ম। তেমনি জন্মগতভাবে মানুষের ধর্ম -মনুষ্যত্ব। মনুষ্য সমাজের বাইরে যে শিশুটি জন্মের পর কোন ধর্মশিক্ষা পায়নি, কোন গ্রন্থ তার হাতে তুলে দেওয়া হ্য়নি- ধরেন, টারজানের মত জংগলে তার ধর্ম কি হবে? মানুষ হিসেবে -তার কেবলই মনুষ্যত্ব থাকবে । কিন্তু সমাজবদ্ধ জীবনে সে ধর্মকে পায়। এই ধর্ম কেবল বিশ্বাস নয়, বরং মানুষের কল্যাণ ও উন্নত জীবনের পথ । কখনও আবার ধুরন্ধর মানুষদের অস্ত্র ও বটে।
ফলে, চারদিকে ধর্ম নিয়ে চরম উন্মাদনা ও সংঘাত, রেষারেষি আমরা দেখে আসছি অনাদি কাল থেকে। এর মূল কারণ হলো গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ, যা অনেক সময় অজ্ঞতা বা ভুল ব্যাখ্যার কারণে সহনশীলতা হারিয়ে উগ্রতায় রূপ নেয় । নিজের বিশ্বাসকে একমাত্র সত্য মনে করা, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার, এবং ভিন্ন মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
ধর্ম নিয়ে মানুষের এত মাতামাতি—এটা নতুন কিছু নয়, বরং মানব ইতিহাসের খুব পুরোনো এবং গভীর একটি প্রবণতা। এর পেছনে কয়েকটা শক্তিশালী কারণ কাজ করে:
১. পরিচয় ও নিরাপত্তা : ধর্ম অনেক মানুষের জন্য শুধু বিশ্বাস নয়, নিজের পরিচয়ের অংশ। “আমি কে?”—এই প্রশ্নের উত্তর তারা ধর্ম থেকে পায়। এতে একটা মানসিক নিরাপত্তা তৈরি হয়।
২. অর্থ ও উদ্দেশ্য খোঁজা: জীবন, মৃত্যু, কষ্ট—এসব কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর ধর্ম দেয়। ফলে মানুষ সেখানে আশ্রয় খোঁজে, বিশেষ করে অনিশ্চয়তার সময়ে।
৩. সামাজিক বন্ধন :ধর্ম মানুষকে একত্র করে—একই রীতি, উৎসব, আচার পালন করতে গিয়ে একটা “আমরা” বোধ তৈরি হয়। এটা যেমন শক্তি, তেমনি কখনও “ওরা” বনাম “আমরা” বিভাজনও তৈরি করে।
৪. আবেগ ও বিশ্বাসের গভীরতা : ধর্ম যুক্তির চেয়ে অনেক সময় আবেগের জায়গায় কাজ করে। তাই কেউ ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে মানুষ সেটা ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নিতে পারে—এখান থেকেই অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া বা “মাতামাতি” দেখা যায়।
৫. রাজনীতি ও ক্ষমতা: অনেক সময় ধর্মকে ব্যবহার করা হয় মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করতে—রাজনীতি, ক্ষমতা বা স্বার্থের জন্য। এতে বিষয়টা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
৬. পরিবর্তনের ভয়: সমাজ দ্রুত বদলালে মানুষ অনেক সময় পুরোনো বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে। ধর্ম তখন এক ধরনের স্থিতিশীলতা দেয়, ফলে সেটাকে নিয়ে বেশি জোড়াজুড়ি দেখা যায়।
তবে একটা স্বস্তির ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সবাই ধর্ম নিয়ে “মাতামাতি” করে না। কারও জন্য এটা খুব ব্যক্তিগত ও শান্ত বিশ্বাস, স্রষ্টার সাথে তার একান্ত সম্পর্ক। আত্মনিবেদন । নীরবে পালন করা ও শান্ত চিত্তে স্রষ্টাকে ধারন অজানা অচেনা জীবন পেরিয়ে যাওয়া।
ধর্মকে শান্তভাবে পালন করা আর সেটাকে মানব শান্তির জন্য ব্যবহার করা—এটিই আসলে জগতে শান্তি বয়ে আনতে পারে। যার শুরুটা ভেতর থেকে করতে হবে, বাইরের তর্ক দিয়ে নয়। আমি মনে করি, জোর করার, চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয় এটি।
কীভাবে শান্তভাবে ধর্ম পালন সমাজ , জাতি, পৃথিবীর মঙ্গল বয়ে আনতে পারে:
১. ব্যক্তিগত চর্চাকে প্রাধান্য দিন : ধর্মকে নিজের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা আর মানসিক শান্তির পথ হিসেবে নিন। অন্যকে প্রমাণ করার বা বোঝানোর চাপ কমান। এতে অহং কমে, শান্তি বাড়ে।
২. ভিন্ন বিশ্বাসকে সম্মান করা :আপনার বিশ্বাস সত্য , কিন্তু একমাত্র সত্য—অন্য সবাই ভ্রান্ত এমন ধারণা থেকেই সংঘাত শুরু হয়। অন্যের পথ আলাদা হতে পারে—এটা মেনে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৩. কেবল আচার নয়, মূল্যবোধে জোর দিন : সহানুভূতি, সততা, ক্ষমা—এই গুণগুলোই প্রায় সব ধর্মের মূল। শুধু রীতি মানলেই নয়, এগুলো জীবনে আনলে ধর্ম শান্তিময় হয়।
৪. আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্য: ধর্ম নিয়ে আলোচনা হলে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য রাখা জরুরি। সব কথার জবাব দিতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
৫. জ্ঞানভিত্তিক চর্চা: নিজের ধর্ম সম্পর্কে গভীরভাবে জানুন। অনেক ভুল বোঝাবুঝি বা চরমপন্থা আসে অজ্ঞতা থেকে।
মানব শান্তির জন্য ধর্মকে সার্বজনীনভাবে ব্যবহার করা যায়
১. “মানুষ আগে”—এই নীতি: ধর্ম যদি মানুষকে ছোট করে, বিভাজন তৈরি করে—তাহলে সেটা তার মূল উদ্দেশ্য হারায়। মানুষের মর্যাদা আগে রাখতে হবে।
২. সেবামূলক কাজকে গুরুত্ব দিন: গরিবকে সাহায্য করা, অসুস্থের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষায় সহায়তা করা—এই কাজগুলোই ধর্মকে বাস্তব শান্তিতে রূপ দেয়।
৩. সংলাপ ও বোঝাপড়া বাড়ানো: ভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করলে ভুল ধারণা কমে। শত্রুতা কমে যায় পরিচয়ের মাধ্যমে।
৪. ঘৃণার বদলে সহানুভূতি শেখানো: ধর্মীয় শিক্ষা যদি ভালোবাসা ও ক্ষমা শেখায়, তাহলে সমাজে সহিংসতা কমে।
৫. নেতাদের দায়িত্ব: ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা যদি শান্তির বার্তা দেন, তাহলে অনুসারীরাও সেই পথেই হাঁটে।
আজকাল অনেকে ধর্মমুক্ত পৃথিবীর ধারণাকে প্রচার করতে চায় । যেন ধর্মেই সকল নেতিবাচকতার বীজ । ব্যপারটা তো তা নয় । স্বার্থান্বেষী , ক্ষমতালিপ্সু, লোভী মানুষেরা যে কোন কিছুকে হাতিয়ার বানাতে পারে। তাদের হাতে কোন কিছুই নিরাপদ নয়। কাজেই, ধর্ম সমস্যা নয়—সমস্যা হয় যখন মানুষ মর্ম উপলব্ধি করে “আত্মশুদ্ধির পথ” না খুঁজে ধর্মকে “অস্ত্র” বানায়।
-------------------------------------
২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮
সেজুতি_শিপু বলেছেন: নিশ্চয়ই। কেউ চর্চা করতে চাইলেও তো কোন সমস্যা নেই- ধর্মের অনেক পজেটিভ দিক রয়েছে। মানুষের আরও অনেক চর্চা ও অনুসন্ধানের জগতের মত এটিও একটি জগত- যেখানে অনাদিকাল থেকে অনেক কাজ হয়েছে। আত্মিক শান্তির জন্যে মানুষ কত কী করে। বাড়াবাড়ি, মারামারি, হিংসা- বিভেদ না করলেই হোলো।
২|
২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭
নতুন বলেছেন: যেন ধর্মেই সকল নেতিবাচকতার বীজ । ব্যপারটা তো তা নয় । স্বার্থান্বেষী , ক্ষমতালিপ্সু, লোভী মানুষেরা যে কোন কিছুকে হাতিয়ার বানাতে পারে। তাদের হাতে কোন কিছুই নিরাপদ নয়। কাজেই, ধর্ম সমস্যা নয়—সমস্যা হয় যখন মানুষ মর্ম উপলব্ধি করে “আত্মশুদ্ধির পথ” না খুঁজে ধর্মকে “অস্ত্র” বানায়।
অবশ্যই ধর্ম সমস্যার মুল কারন না। এটা মানুষ নিয়ন্ত্রনের অন্যতম একটা টুলস।
রাজনিতিকদের হাতে এটা ইস্কাপনের টেক্কার মতন ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কার্যকর।
আশা করিছিলাম দেশে ইন্টারনেটের কল্যানে মানুষের মাঝে বিজ্ঞান, দর্শনের আলো ছড়াবে। ধমান্ধতা কমে আসবে।
এখন দেখি মানুষ ইন্টানেটের কল্যানে পীর হত্যার জন্য জনগনকে মোটিভেট করে ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫২
রাজীব নুর বলেছেন: বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ধর্ম বাদ দিয়ে সুন্দর জীবনযাপন করছে।