নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কাট ইয়োর বডি এর্কোডিং টু ইয়োর ইমেজ

শরৎ চৌধুরী

তুমি তোমার ইমেজ মতইপ্রোফাইল বানাওকি ব্লগেকি জীবনে

শরৎ চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রাপ্তি ও পিটার প্যানের ছাদে এক বর্ণীল সন্ধ্যা

২৮ শে জুন, ২০০৬ দুপুর ২:৪৪

23শে জুন 23শে জুন 23শে জুন.............
মনে মনে দিনটার জন্য প্রতীায় ছিলাম। ভেতরে ভেতরে একটা দ্রিমিকি দ্রিমিকি গুড় গুড় অপো তৈরী হচ্ছিল। আমার আর কৌশিক ভাইয়ের আলোচনায় অচেতনভাবে ফিরে ফিরে আসছিল 23শে জুনের প্রস্তুতি। প্রাপ্তির ডকুমেন্টরীর কাজটা শেষ করতে পেরে দুজনই কিছুটা স্বস্তিতে ছিলাম এবং অনেকখানি অস্বস্তিতে ছিলাম দিনটা কেন আরো তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসছেনা। অনেকদিন পর নানাবাড়ীতে যাবার উত্তেজনা কাজ করতে শুরু করেছিল। আমরা মহানগরের বাসিন্দা থেকে হয়ে উঠছিলাম অ-নাগরিক দুই উত্তেজিত বালক।

এতগুলো সম্ভাবনাময় দূর্দান্ত মহাবিশ্বকে একসাথে পাবার যে আকাঙ্খা তা কিছুণ পর পর ডুকরে ডুকরে উঠছিল। অবশেষে শুক্রবার বিকেলের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আর সহ্য হচ্ছিল না। অবশেষে যখন রওনা দিয়েই দিয়েছি তখন কালপুুরুষের ফোন, সূর্য তো আর আড্ডার জন্য অপো করবে না সে ইতমধ্যেই মন খারাপ করে অস্ত যেতে শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তখন কয়েক শ মিলিত সূর্যের উত্তেজনা।
বনানীকে কখনোই এতটা দূরের মনে হয়নি যতটা সেদিন মনে হয়েছিল।

অবশেষে পৌছলাম...গেটের দারোয়ান প্রায় কোন প্রশ্ন ছাড়াই বলে দিল ক'তলায় যেতে হবে ...সে ব্যাটাও বেশ বিষ্ময়ে ভাবছিল টপ ফোরে আজ কিসের আয়োজন এত বিচিত্র মানুষজনের আগমনে উদ্দেশ্য কি? আমি মুচকি হাসছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম কিভাবে একটি আমন্ত্রণ আমাদের উত্তেজিত বালক বানিয়ে ছাড়ল। তবে আর যাই হোক একটু সভ্য ভব্য হয়ে তো যাওয়া দরকার.. কিন্তু কিসের সভ্য ভব্য....হৃদয়ের আর আন্তরিকতার খোলা দরজা দিয়ে যখন কালপুরুষের বাসায় ঢুকব ঢুকব করছি তখনই এগিয়ে এলেন আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু আমাদের তরূণ কালপুরুষ, নিজেকে আর একলা মনে হল না মনে হল মেঘ বালক আর বালিকাদের টানে এসে গেছি পিটার প্যানের রাজ্যে। আর মাথায় স্কার্ফ লাগিয়ে আন্দ্রে আগাসি হয়ে ঘরময় ছুটে বেড়াচ্ছে পিটার প্যানদের কনিষ্ঠতম সদস্য প্রাপ্তি। ওকে একবার দেখেই মনে হল মানুষের ভালোবাসার কাছে প্রবল পরাক্রমী ক্যাপ্টেন হুক আর ওকে ছুঁতে পারবেনা।

এরপর আর কিভাবে স্থির থাকি একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। ধানসিড়ি আর আবু সালেহর পেছনে লুকোচুরি করছে প্রাপ্তি আর আমরা লুকোচুরি বাদ দিয়ে শুরু করলাম ধুম আড্ডা। প্রথমে ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানে। আমাদের সেনাপতির বেলি রোড থেকে আনা যে পিয়াজুরা মন খারাপ করে ঠান্ডা হতে শুরু করেছিল সেগুলি এবার প্রাণ পাওয়া শুরু করল আর তখনই তারা বোকামী করে ফেলল। দেখতে দেখতে সবশেষ। সুনীল সমুদ্র মোবাইলে বাংলা লেখা নিয়ে যা বলছিলেন বলছিলেন তা মুড়ির সাথে চিবিয়ে খাওয়া শেষ, ধানসিঁড়ি মাত্র বইয়ে পড়া আর নেটে পড়ার নিয়ে কথা শুরু করছিলেন সেটিও বেগুনী ভাজার সাথে সাথে হজম, কৌশিক ভাই এমনিতে বেশি খান না তবে সেদিন মুখে মুড়ি আর চপের সাথে সাথে অনেক কথাই খেয়ে ফেললেন তা বোঝা গেল। এদিকে পিটারপ্যান আমাকে বলছেন কিভাবে তিনি সম্ভাব্য একটা যুদ্ধকে এড়িয়ে গেলেন.....আসল ঘটনা হল যে আমি তাকে বলেছিলাম মোরগ পোলাও খাব এজন্য তিনি বাজারে বেছে বেছে সব মোরগই এনেছেন কোন মুরগী আনেন নি পাছে আমি এটা নিয়ে কোন.....হে.হে.হে....তবে আস্ত মেয়ের জন্য আমার একটু দু:খই হল একটা আস্ত মোরগ (সময় কিন্তু তিন মাস না হলে ......দিমু না)

এদিকে সারিয়া আপুর একটু কষ্ট হয়েছে সামনে মজার খাবার আর সেই সাথে একটার পর একটা ফোন
কোনটা যে আগে ধরবেন সেটাই বুঝতে পারছিলেন না। আবু সালেহ আর ঝড়ো হাওয়াতো অন্ধকারে একটু হাতসাফ করবেন বলে ভাবছিলেন কিন্তু একি দুর্দৈব কথার মোড় গিয়ে পড়ল তাদের ঘারে। কিন্তু পিটার প্যান যে শক্তিবলে এত আয়োজন করেছেন তার কথা কিন্তু বলা হয়নি তিনি চুপিসারে এসে এসে আমাদের খাবার আর পানির যোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন।

এমন সময় হাসান ভাইয়ের ফোন । আমি তো কোন কথা শুরু করতে দেবার আগেই জেরা...লেখা বন্ধ করা নিয়ে যাই হোক অবশেষে স্রোত থামল, জানালেন একটু পরে আবার ফোন করবেন। আর তখনই মনে পরে গেল একটু পরে বলছি আর কামুউজার কথা। আতাউর ভাই মনোযোগ দিয়ে সব শুনছিলেন ..হঠাৎ ধানসিঁড়ি একেবারে বুকের সবটা উজার করে দিয়ে আতাউরকে বললেন আড্ডায় যোগ দিন আর দূরে থাকা কেন। এদিকে প্রাপ্তির আম্মু এবং কৌশিক ভাবি তো তখনই জম্পেস সম্পর্ক তৈরী করে ফেলেছেন। এমন সময় নতুন সদস্য আরাফাতের.....আগমন
আর বরাবরের মতই আমি আর ঝড়ো মুচকি হাসলাম.....পাওয়া গেছে....এইবার বলেন কে কোনটা....
সমস্ত ছাদ জুড়ে শুধু পিটার প্যানদের উড়োউড়ি.....চলবে....

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ৯:০৬

সারিয়া তাসনিম বলেছেন: আমি কিন্তু সত্য সত্যই সেদিন পিয়াজু-বেগুনী খাইতে পারি নাই । এতগুলি ফোন রিসিভ কইরা আইসা দেখি খাওয়া দাওয়া শেষ , চা পর্ব চলতেছে । মনডা খারাপ কইরা তাই পানি খাইলাম , ছবিতেই প্রমাণ

২| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ৯:০৬

অতিথি বলেছেন: একটা আইডিয়া আসছে....ঐ আড্ডায় পাগলা হাওয়া থাকলে কি বলত তা নিয়া মন্তব্য করেন তো..?(মনে করেন তারে আমরা খেলায় নিলামই)

৩| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ৯:০৬

পথিক!!!!!!! বলেছেন: আমি এরপর মিস করতে চাইনা
কিন্তু পথ যে টেনে ধরে

৪| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ৯:০৬

সারিয়া তাসনিম বলেছেন: পাগলা থাকলে কইতো , শরৎ কেন দুই গ্লাস বোরহানী খাইলো ??
শরতের পেট থেইকা এক গ্লাস বোরহানী ফেরত আনার ' দাবী ' জানাই

৫| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ১০:০৬

কালপুরুষ বলেছেন: শরৎ, সারিয়া,
আবার হবে নাকি? আস শুক্রবারে। কৌশিকের সাথে কথা হইছে। ইমন থাকবো। খারাপ জমবো না। রাইতে ডাইল ভাত।

৬| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ১০:০৬

কালপুরুষ বলেছেন: পাগলা হালায় কইতো, "এই বোরহানীর দই যোগান দিতে কত গরুর যে কষ্ট হইছে আল্লাই জানে। ওগো লইয়া একটা পোষ্ট দেয়া দরকার। ধইনা পাতাগুলা জুতা দিয়া ছেঁচতে কত শোল খুইলা গেছে কে জানে। কাঁচামরিচ গুলা কি পা.. দিয়া ডলছে নাকি হেইডা তো দেখি নাই"।

৭| ২৮ শে জুন, ২০০৬ রাত ১০:০৬

অতিথি বলেছেন: হা হা হা ব্যাপক তো...কালপুরুষ দা চেইত্তা গেলেন নাকি? ......

আবার যাওয়া? লোভ বাড়িয়ে দিচ্ছেন কিন্তু।

৮| ২৯ শে জুন, ২০০৬ রাত ১২:০৬

রাগ ইমন বলেছেন: শরৎ,
তোমার জন্য 6 লাইনের একটা কবিতা লিখেছিলাম। আমার দেশী হয়ে যতটা অ ব হেলা তুমি... ছি: ..... অথচ প্রথম চু... থুককু সম্ভাষন টা তোমাকেই করেছিলাম!

কালপুরুষ,
কালকে পর্যন্ত পুরুষ থাকেন। শুক্রবারে চন্ডাল হবেন। শরৎ কে আমরা খেলায় নিব না। তার জন্য আমি বোরহানী চুরির ইতিহাস, চোখে চোখে ফিসফাস, নাকের নিচের দীর্ঘশ্বাস ........কিছুই বললাম না ঠাস। আর সে কিনা...........

৯| ২৯ শে জুন, ২০০৬ রাত ১২:০৬

অতিথি বলেছেন: জটিল বর্ণীল!

১০| ২৯ শে জুন, ২০০৬ ভোর ৬:০৬

অতিথি বলেছেন: আজ খেলা ভাঙ্গার খেলা.....সে আমার মনে নাই মনে নাই.........মনে রবে কিনা রবে আমারে.......

১১| ৩০ শে জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬

সারিয়া তাসনিম বলেছেন: আইতাছি !!!!!!!!!!!!

১২| ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫১

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার! + +

১৩| ১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২১

সুনীল সমুদ্র বলেছেন: সেই স্মৃতিময় আড্ডার দিনটি এখনো মনের গভীরে জীবন্ত হয়ে আছে !
কোথায় হারিয়ে গেল সেই সব দিন !
হারিয়ে গেলেন, সেই আড্ডার আয়োজক মানুষটিও !
চলে গেলেন সামহোয়্যার ইন ব্লগের প্রথম জীবনের এক বিপুল স্মৃতিময় 'কালপুরুষ'। আমাদের প্রিয় কালপুরুষ দা। ..... ভালো থাকুন ওপারে। অনন্ত সময়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.