| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শেরজা তপন
অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...
লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়। সুখ ও শখ পাশাপশি হাটে, একটা চলে গেলে আরেকটা দিকভ্রান্ত হয়।
লেখালেখি না করলেও মনে মনে গল্প বুনি সারাক্ষন- আমার মত পৃথিবীর তাবৎ মানুষের মনে একগাদা গল্প রয়ে গেছে, সবাই প্রায়শই গল্প বোনে।
ভেবেছিলাম আজকে যা মনে আসবে তাই লিখে যাব-ভুল হোক, মিথ্যে হোক, অসভ্যতা হোক কোন সমস্যা নেই- কিন্তু মগজ সঙ্কেত পাঠাচ্ছে; বড্ডবেশি এলোমেলো লেখা-সশোধন কর।
কি মুশকিল!
***
ব্লগে আমার মেঝ ভাই এর কথা বলিনি কখনো। তার কথা বল্ব বলে কতবার ছোট ছোট কাহিনী লিখে রেখেছি, তারপরেও কেন যেন বলা হয়নি।
এবার একটু বলি; শুরুটা একটু রহস্য করে। সে আমার থেকে বয়সে বড়- পিঠাপিঠি ভাই। আমরা ছোট্রা সবাই তাকে মেঝদা বলে সন্মোধন করি।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা। একদিন মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। বাসায় ঢুকেই মেঝদার সাথে দেখা- খুশীতে সে ঝলমল করছে। আধা গৌড় বর্ণের কপোলজোড়া ডগমগে গোলাপী বর্ণ ধারন করেছে। এত আনন্দের কারন জিজ্ঞের করবার আগেই ভয়ানক আনন্দিত কম্পিত কন্ঠে বলল, তপন জানো গত বিশ বছর ধরে মাকে অনুরোধ করছিলাম, আমার জন্য খাস দিলে একবার দোয়া করতে- মা এতদিন বাদে অবশেষে আজ ফজরের নামাজের শেষে আল্লহর কাছে আর্জি পেশ করেছে; তার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়।
আহ্ এবার আমি নিশ্চিত মায়ের আগে মারা যাচ্ছি!'' আমি তার কনফিডেন্স দেখে হতবাক হয়ে গেলাম
***
মা ইদানিং অসুখ কিংবা ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুলভাল বকে। সেদিন দেখি হাওয়া থকে খাবার খাচ্ছেন। সেই খাবার বেজায় শক্ত বলে অনুযোগও করলেন।
মায়ের বয়স হয়েছে। প্রায় পনের বছর আগে হার্টের অপারেশন হয়েছিল-এখনকার অসুস্থতা খুব সিরিয়াস ধরনের। প্রায়শই জমে মানুষে টানাটানি চলে। যে কোন সময় চরমতম দুঃসংবাদটা পেতে পারি বলে আমরা নিজেদের প্রস্তত রেখেছি।
কিন্তু নির্ভার দুঃশ্চিন্তাহীন একজন মানুষ; দিনরাত বই পড়ছে কিংবা অতি অল্প সময়ের জন্য নজরুল গীতি, রবিন্দসঙ্গীত অথবা ইসলামী গজল গুনগুন করে গাইছে।
পৃথিবীর যাবতীয় টেকনোলজি থেকে সে সযতনে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আগে সে মাঝে মধ্যে টিভি শুনত- গত কয়েক বছর যাবত সেটাকেও আলবিদা জানিয়েছে।
সে নিশ্চিত মায়ের আগে সে মারা যাবে। মায়ের দোয়া কবুল হবেই বলে তার ভয়ঙ্কর এক আত্মবিশ্বাস। আমরা ভীষন শঙ্কিত তাকে নিয়ে- মায়ের আগে তার মৃত্যু হলেই যেন শান্তি, শুধু তার আত্মবিশ্বাস ভঙ্গ না হলেই নয়।
তথাকতিথ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তার জন্ম আর পৃথিবী নামক গ্রহে প্রায় ছয় দশক অতিবাহিত করেছে বটে কিন্তু প্রকৃতি তাকে চরম্ভাবে বঞ্চিত করেছে।
সেদিন সে হাসতে হাসতে বলছে, মা তো বিরাট বিরিক্ত।
-কেন কি হল?
- মা'র ধারনা ছিল উনি মারা গেছেন। কিন্তু আজ সকাল থেকে যখন তিনি সজ্ঞানে ফিরে এসেছেন, তখন থেকে অনুভব করছেন যে তিনি বেঁচে আছেন। একবার মরতে নাকি তার অনেক কষ্ট হয়েছে। কেন তিনি ফের জীবিত হলেন এই নিয়ে বিরিক্ত- মরার জন্য ফের কষ্ট করতে হবে, এর কোন মানে হয়!
***
মেঝদা খুব আনন্দিত! এই মহাবিশ্বে তার কোন বন্ধু নেই। তার কোন শৈশব কৈশর কিংবা যৌবনো-কাল ছিল না। সে কোনদিন প্রেম করে নি, তার স্ত্রী সন্তান কেউ নেই।
তার আছে শুধু একজন মা। আমরা আমাদের মা'কে - মায়ের ভালবাসা আদর স্নেহ পুরোপুরি তার জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছি।
প্রায় ছয় দশক সে মায়ের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। তার মা পৃথিবীর সব ভুলত্রুটির উর্ধ্বে যেন একজন মহ-মানবী।
সে প্রায় একাহারী মানুষ- জড়াগ্রস্থ বৃদ্ধা মা কোনরকমে পা টেনে টেনে রান্নাঘরে গিয়ে একটু মাঝের ঝোল কিংবা ডিম ভাজি এনে তার পাতে ঢেলে দিলে সে মহা আনন্দে পৃথিবীর সবচাইতে সুস্বাদু খাবার ভেবে খায়।
*** অসমাপ্ত***
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০
শেরজা তপন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ লেখা পড়ে মন্তব্যের জন্য।
একদম ঠিক বলেছেন। ভাল থাকুন ।
২|
২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৯
শায়মা বলেছেন: মেঝ দা আর মা দীর্ঘজীবি হউন ভাইয়া! ![]()
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১
শেরজা তপন বলেছেন: আন্তরিক ধন্যবাদ আপু। অনেকদিন পরে তো তাই মন্তব্যের উত্তর দিতেও কেম কেমন লাগছে ![]()
অগ্রীম ঈদ মোবারক।
৩|
২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৫
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: আমার পরিচিত একজন আছেন, তার বয়স ৫০’র মতো হবে। বিয়ে-থা করেননি। তার মা যখন জীবিত ছিলেন, বলা যায় আঁচল তলে রেখেছেন। কাজ করতে দেননি কোনো। মা মারা যাওয়ার পর বড় ভাই সহযোগিতা করেছেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর এখন অকূলপাথারে পড়েছেন। আগে যেহেতু কাজকর্ম করেননি, এখন এটাসেটা করে জীবন পার করছেন। ভালো যে নেই সে কথা বলাই বাহুল্য।
আপনার মেঝ দা’র তেমন কিছু হবে না আশা করি। মায়ের অবর্তমানে আপনারা তো আছেনই (মায়ের আগে যদি মৃত্যু না হয়)।
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩
শেরজা তপন বলেছেন: সুস্থ্য-সবল শিক্ষিত ভদ্র স্মার্টনেস সব থাকার পরেও মায়ের অতি আদরের জন্য আমার পরিবারেও এমন কিছু অকর্মণ্য মানুষ আছে।
এরা একসময় এসে ভীষন বিপদে পড়ে।
মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা- ভাল থাকবেন।
৪|
২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২
আহমেদ জী এস বলেছেন: শেরজা তপন,
অনেকদিন পরে মনে হয় আপনাকে দেখছি! আমিও অনেকদিন পর। লেখালিখি বিরক্তকর না লাগলেও ইচ্ছে করেনা, লিখি।
মানুষ গল্প বোনেনা ---- সব মানুষের জীবনটাকেই একেক ধরনের গল্প হিসেবে লিখে রেখেছেন কেউ একজন !!!!!!
শুভেচ্ছান্তে । অগ্রীম ঈদ-উল-আযহা মোবারক।
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯
শেরজা তপন বলেছেন: আপনাকে পেয়ে কুম্ভের মেলায় হারিয়ে যাওয়া জুরুয়া ভাইকে পাওয়ার আনন্দবোধ করছি।
ব্লগের সাথে ডিসকানেক্টেড হয়ে গিয়েছি- আমি ভাবছি সবাই আছে শুধু আমি নেই। আপনিও অনেকদিন পরে আসলেন!
গল্প বোনাটাকে আমি বলতে চেয়েছি, কোন একটা দেখা শোনা বা জানা ঘটনাকে নিজের মত শৈল্পিকতার সাথে সাজানো বোঝাতে চেয়েছি। যা হোক আপনারটাও শতভাগ ঠিক।
আপনাকে ঈদের শুভেচ্ছা- ভাল থাকবেন ভাই, পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন।
৫|
২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
মেহবুবা বলেছেন: শিরোনাম দেখে শ্রীকান্ত উপন্যাসের মেঝদার কথা মনে এল। পড়তে গিয়ে কঠিন বাস্তবের ছবি।কল্যাণ হোক আপনার মায়ের এবং মেঝদার।
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৪
শেরজা তপন বলেছেন: আপনি পুরনো (বেবি বুমার' জেনারেশন) দিনের মানুষ যে, তাই আপনার ভাবনায় আমাদের সেই প্রতিথযশা লেখকদের ভাবনার প্রতিচ্ছিবি মেলে।
ভাল থাকবেন আপু- আপনার সার্বঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।
৬|
২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৮
করুণাধারা বলেছেন: ভালোই লিখেছেন কিন্তু! বেশ ছবির মতো আপনার মা এবং মেজদাকে দেখতে পেলাম।
মা এবং আপনার মেজদা, দু'জনকেই আল্লাহ ভালো রাখুন। আপনিও ভালো থাকুন। মাঝে মাঝে এসে আমাদের সাথে কিছুক্ষণ কাটিয়ে যাবেন।
(ছোটভাইকে নিয়ে পোস্ট লিখেছিলেন, মনে আছে।)
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০০
শেরজা তপন বলেছেন: হ্যাঁ আপু আমি একবার আমার ছোট ভাইকে নিয়ে পোষ্ট দিয়েছিলাম। একবার নয় অবশ্য দু'বার। ওকে নিয়ে আর আমার মেঝদা ও চোট কাকাকে নিয়ে বেশ বড় ক্যানভাসে লেখার ইচ্ছে ছিল।
আপনাকে পেয়ে বেশ ভাল লাগছে- কতদিন ব্লগে বিশাল কলেবরে মন্তব্য আর প্রতিমন্তব্য হয় না।
আপনি ভাল থাকবেন- ব্লগে আসা হয় না বলে কারো লেখাও পড়া হয় না। ধীরে ধীরে নিয়মিত হবার চেষ্টায় আছি।
অগ্রীম ঈদ মোবারক।
৭|
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭
নূর আলম হিরণ বলেছেন: আপনার মা ও মেঝো ভাইয়ের জন্য ভালোবাসা রইল।
২৫ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০৩
শেরজা তপন বলেছেন: আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ সুপ্রিয় হিরন ভাই।
ভাল থাকবেন- ঈদ মোবারক( অগ্রীম)
৮|
২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০
মিরোরডডল বলেছেন:
কেমন আছে শেরজা?
মা এখন কেমন আছে?
শেরজার মেঝ'দার মতো এই ব্লগে দুজন ব্লগার আছে, মা অন্তপ্রাণ।
নিজের কেউ নেই একমাত্র মা ছাড়া। মা কে ঘিরেই তাদের বেঁচে থাকা।
আছে কিছু মানুষ এরকম।
ভালো থাকবে শেরজা।
মা এবং মেঝ'দার আরও জীবনের গল্প নিয়ে লিখবে।
সবার জন্য শুভকামনা।
৯|
২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪
রাজীব নুর বলেছেন: অনেকদিন পর এলেন!!!
আমি আমার ভাইদের মধ্যে মেঝ।
১০|
২৬ শে মে, ২০২৬ ভোর ৫:০০
ঢাকার লোক বলেছেন: আপনার মা এবং মেজ ভাই উভয়কে আল্লাহ সুস্থ্য রাখুন, দীর্ঘ জীবন দান করুন!
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মা পৃথিবীর সব ভুলত্রুটির উর্ধ্বে যেন একজন মহ-মানবী।
.....................................................................................
বাস্তবে ও তাই,
সন্তানের কাছে মা শব্দের পর
আর কিছু মধুর হতে পারেনা ।