| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১
ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে শ্রমশক্তি, পুঁজি, প্রযুক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারই একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, তৈরি পোশাক শিল্প, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এই অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স।
স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের টেকসই উৎস সৃষ্টি করা। সীমিত শিল্পভিত্তি, অপ্রতুল মূলধন এবং সীমাবদ্ধ কর্মসংস্থানের কারণে ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিবাসন বৃদ্ধি পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভিবাসন দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়।
বর্তমানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক অবদান রাখছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করে না; বরং গ্রামীণ অর্থনীতি, ভোগব্যয়, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বহু পরিবার তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু অর্থনীতির এই সাফল্যের পাশাপাশি কিছু মৌলিক প্রশ্নও ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ নিম্ন বা মধ্যম দক্ষতার শ্রমবাজারে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকেই কঠিন কর্মপরিবেশ, সীমিত শ্রম অধিকার, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার প্রতিবেদন অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। একই সঙ্গে জনপরিসরে এমন ধারণাও প্রচলিত যে কিছু দেশে দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নয়। যদিও এই ধারণা সর্বত্র এবং সব ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য নয়, তথাপি বিষয়টি গবেষণার দাবি রাখে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উর্বর বদ্বীপ অঞ্চল। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীব্যবস্থার পলিমাটিতে গঠিত এই ভূখণ্ড কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। দেশের বহু এলাকায় বছরে দুই বা তিন ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিস্তৃত নদী, খাল, বিল, হাওর, পুকুর এবং জলাশয়, যা মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনের অসাধারণ সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। প্রাণিসম্পদ, হাঁস-মুরগি পালন, দুগ্ধশিল্প, কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগও জাতীয় অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পালন করছে।
এই প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক অর্থনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, যেখানে দেশের বিপুল শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ বিদেশে নিম্ন মজুরির শ্রমবাজারে যাওয়ার পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরেই আধুনিক কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়োজিত হতে পারবে?
এই প্রশ্নের উত্তর সরল নয়। কারণ কৃষি ও রেমিট্যান্স দুটি ভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম। রেমিট্যান্স সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস, অন্যদিকে কৃষি মূলত উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হয় তখনই, যখন উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে রপ্তানি করা যায়। ফলে এই দুটি খাতের তুলনা করতে হলে কর্মসংস্থান,উৎপাদনশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রা, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জলবায়ু ঝুঁকি, অবকাঠামো, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক সময় অতিক্রম করছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালী, ভারত মহাসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন বিশ্ববাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। যেহেতু বাংলাদেশের শ্রমবাজার, জ্বালানি আমদানি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি অংশ এই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনায় শুধু রেমিট্যান্স বৃদ্ধি অথবা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বহুমুখী এবং টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণের প্রশ্নটি সামনে আসে।
এই গবেষণাপত্র সেই বৃহত্তর প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের একটি প্রচেষ্টা। এখানে কৃষিকে রেমিট্যান্সের সরাসরি বিকল্প হিসেবে নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান, মূল্য সংযোজন, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা (Economic Resilience) বৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ রূপান্তরের সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করা হবে।
অতএব, এই গবেষণার মূল লক্ষ্য কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি পরিসংখ্যান, আন্তর্জাতিক গবেষণা, তুলনামূলক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যায়ন করা যে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য কী ধরনের উন্নয়ন কৌশল অধিকতর কার্যকর হতে পারে।
এই গবেষণার প্রতিটি অধ্যায়ে/পর্বে সেই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হবে ;রেমিট্যান্স অর্থনীতি, কৃষির উৎপাদনশীলতা, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা (Feasibility), ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নীতিগত সুপারিশের মাধ্যমে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদদের জন্য একটি তথ্যভিত্তিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করাই এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য।
এই গবেষনায় আপনারা আগ্রহী কীনা জানালে পরবর্তী ২ য় পর্ব যথাসময়ে পাঠের আমন্ত্রন রইল ।
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
যুদ্ধটা সুনির্দিস্ট ঘোষনা দিয়ে হলে হয়ত বোঝাটা এড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃস্টি হতো ।
শুভেচ্ছা রইল
২|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪১
ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি অত্যন্ত গবেষণাধর্মী ও দূরদর্শী ফিজিবিলিলি স্টাডি উপস্থাপন করেছেন। রেমিট্যান্সের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্পভিত্তিক বিকল্প অর্থনীতির রূপরেখা নিয়ে আপনার এই দীর্ঘমেয়াদী বিশ্লেষণটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। অনেক ধন্যবাদ!
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সুন্দর একটি মুল্যায়নের জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩
রাজীব নুর বলেছেন: হ্যা হ্যা দ্বিতীয় পর্ব লিখে ফেলুন।
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
গবেষনা কর্মটি বর্তমান কিংবা ভবিষ্যত যে কোন সরকারের জন্যই কাজে লাগবে ।
তাই নিরপেক্ষ দৃস্টিকোণ হতে পরিচালিত গবেষনাটি চালিয়ে যাব সামর্থ অনুযায়ি
ইনশাল্লাহ । এখনই পরবর্তী পর্ব প্রকাশ করতে যাচ্ছি ।
শুভেচ্ছা র্ইল ।
৪|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৮
মাথা পাগলা বলেছেন: জনসংখ্যার চাপে সেই উর্বর জমিগুলো আর নেই, থাকার জায়গা বানাতেই ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশের মূল সমস্যা ছিলো জনসংখ্যা। কিন্তু পরে এই বিপুল জনসংখ্যাই রেমিটেন্সের মাধ্যমে দেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে, বাংলাদেশের মতো রেমিটেন্সনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৩০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভাল কথা বলেছেন ।
তাইতো সময় থাকতেই বিকল্প পথের সন্ধান করা উচিত ।
এখনইতো দেশে শুরু হয়েছে হাহাকার আর হতাশা ।
আর হতাশা থেকে কি জন্ম নিবে তা কে বলতে
পারে ।
শুভেচ্ছা রইল ।
৫|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনায় শুধু রেমিট্যান্স বৃদ্ধি অথবা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি
এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ,
বহুমুখী এবং টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণের প্রশ্নটি সামনে আসে।
....................................................................................................................................
অনেক ভালো বিষয়ের অবতারনা করেছেন ।
আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য হলো, নিজ ভূমি ও শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে ।
কৃষি. শ্রমিক ব্যবস্হাপনা ও রেমিট্যান্স ঠিক রাখতে পারলে দেশে সহজে
সমস্যা দেখা দিবেনা ।
আমাদের মেধাবী জনশক্তি ও পরিশ্রমী শ্রমিক ব্যবস্হাপনা এখনও সুন্দর
পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে পারছেনা ।
এর অবশ্যই আধূনিক বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্হা নেয়া উচিৎ ।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৩৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
খাটি কথা বলেছেন -
অবশ্যই আধূনিক বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্হা নেয়া উচিৎ ।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২
বিষাদ সময় বলেছেন: আপনার প্রায় প্রতিটি লেখাই অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং গুরুত্বপুর্ণ। প্রায় সময়ই লেখাগুলো পড়া হয় কিন্তু মনযোগের অভাব এবং সময় স্বল্পতার জন্য মন্তব্য করা হয় না।
আমরা মনে হয় দারিদ্রের দুষ্ট চক্রে পড়ে গেছি। প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা, মাত্রাতিরিক্ত অদক্ষ জনসংখ্যা আমাদের সমস্যাকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া এবং সকল নাগরিক সুবিধা পাওয়ার মতো আমাদের যথেষ্ট ভুমি রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। এ অবস্থায় আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত এবং সমন্মিত গবেষণা। আপনার এ ধরণের উদ্বোগ সে রকমই একটি প্রচেষ্টা। আপনার জন্য শুভকামনা।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার আন্তরিক পাঠ, গভীর অনুধ্যান এবং উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। লেখাগুলো মনোযোগ
দিয়ে পড়েন এটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি; মন্তব্য করতে না পারলেও সেই পাঠের মূল্য কোনো অংশে কমে
না।
দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যার গুণগত মান এবং ভূমির সীমাবদ্ধতা এসব বিষয়ে আপনার
পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। তবে আমি মনে করি, আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে দক্ষ মানবসম্পদ,
সুশাসন, জ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং গবেষণানির্ভর নীতিনির্ধারণ। প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনেক
দেশ পরিকল্পিত উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে; আমাদের ক্ষেত্রেও সেই
সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
আমার লেখাগুলোর উদ্দেশ্যও মূলত সমস্যার গভীরে পৌঁছে যুক্তিনির্ভর আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়ে
ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করা। আপনার মতো সচেতন পাঠকের মূল্যবান মতামত সেই প্রচেষ্টাকে আরও অর্থবহ করে
তোলে।
রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা ।
৭|
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: গবেষণার শুভসূচনায় শুভকামনা রেখে গেলাম। + +
সামনে খারাপ দিন আসছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে। তাই সময় নষ্ট না করে এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে হবে। কৃৃষিপণ্য উৎপাদন ও রফতানীর উপর জোর দিতে হবে। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি উৎপাদনযোগ্য ভূমিকে কৃৃষি চাষাবাদের অধীনে আনতে হবে। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোকে অথর্ব, আমলা মনোভাবসম্পন্ন অনুৎসাহী লোকজনদেরকে সরিয়ে যোগ্য জনবল নিয়োগের দ্বারা গতিশীল করতে হবে। কৃৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে সমবায়ভিত্তিক শ্রম ও মুনাফা বণ্টনের পদ্ধতি চালু করতে হবে।
১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:২৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
+ + শুভকামনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ।
আপনার মুল্যবান মন্তব্যের সঙ্গে একমত এটি এখন আর কেবল অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা নয়, বরং ভবিষ্যৎ
রাষ্ট্রচিন্তার এক কঠিন পরীক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে জ্বালানি, খাদ্য, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাসী আয়ের ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বিপদ দরজায় কড়া নাড়া পর্যন্ত
অপেক্ষা করার সময় নেই; সংকট আসার আগেই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।
বিশেষ করে কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা-কবচ
হিসেবে দেখতে হবে। দেশের এক ইঞ্চি উর্বর জমিও যেন অনাবাদী না থাকে এই লক্ষ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকারে
আনতে হবে। উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাননিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণের
সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলে কৃষিপণ্যকে রপ্তানির শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করা জরুরি।
আর এ ক্ষেত্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতানুগতিক আমলাতান্ত্রিক জড়তা থেকে বের করে
দক্ষ, উদ্ভাবনী ও ফলাফলমুখী জনবলের হাতে দিতে হবে। কৃষককে বিচ্ছিন্ন উৎপাদক হিসেবে নয়, সমবায়ের
শক্তিতে সংগঠিত করে উৎপাদন, বিপণন ও মুনাফা বণ্টনের ন্যায্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
কারণ সংকট কখনো শুধু বিপদের নাম নয় সঠিক নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পরিকল্পনা থাকলে সংকটই হয়ে উঠতে
পারে আত্মনির্ভরতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়; দেরি করলে ভবিষ্যৎ আমাদের
জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে দেবে।
শুভেচ্ছা রইল
৮|
২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আয় কমে গেলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর দারুণ প্রভাব ফেলবে।
এই যুদ্ধের সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সম্পৃক্ততা নিয়ে লেখার চিন্তা অবশ্যই খুবই ফলপ্রসূ আইডিয়া।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাদের সরকার মহাশয়দের মূল ধারণা হলো ডলার খরচ করে আমদানিনির্ভর থাকা। এখন সারসহ কৃষিখাতের প্রয়োজনীয় অনেক কিছু সৌদি আরব থেকে আমদানি করতে হয়, আর এর মূল্য পরিশোধ করা হতো আইএফটিসির (IFTC) মাধ্যমে। কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের সেচ ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা এমন একটি যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝা বহন করছি, যা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।