নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

নাগরিক খাঁচা ও প্রকৃতির মহাকাব্য ( কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে কি দিনে দিনে হেরে যাচ্ছে আমরা???)

২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩


আমরা বাতাসকে শৃঙ্খলিত করি, আলোকে করি অবরুদ্ধ; আমাদের দেয়ালে আটকে যায় রোদ, বৃষ্টি আর অবাধ্য ঝড়। কোনো এক অদ্ভুত অহংকারে আমরা সব প্রাকৃতিক স্পর্শ থেকে নিজেদের আড়াল করে নিয়েছি। প্রকৃতিকে দূরে ঠেলে দিতে দিতে, অবহেলায় কখন যেন তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি এক চিরন্তন প্রতিপক্ষের কাঠগড়ায়।
অথচ, একবার স্মৃতির খেয়ায় চড়ে ফিরে যান সেই চেনা গাঁয়ের কোণে—যেখানে ছনের ছাউনি আর বাঁশের খুঁটিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি শান্ত গৃহকোণ। ঘরের সামনে উন্মুখ হয়ে আছে ঘন সবুজ ঘাসের গালিচা, বুনো গাছের শীতল মায়া আর ঢেউ খেলানো উঁচু-নিচু টিলার বিস্তীর্ণ প্রান্তর।
সেই ঘরের এক চিলতে বারান্দায়, একখানা কাঠের জলচৌকিতে আপনি একা বসে আছেন। আকাশে তখন মেঘের গুরুগুরু মন্দ্রবাদ্য। চারিপাশে আলো-আঁধারির এক মায়াবী ক্যানভাস গড়ে ছাই-রঙা আর কালচে মেঘের দল অবাধ্য শিশুর মতো ছুটে চলেছে। দুদিন ধরে একনাগাড়ে, একই অবিশ্রান্ত তালে ঝরে চলেছে শ্রাবণের বৃষ্টি। হিমেল হাওয়ায় গায়ের লোমকূপ শিউরে উঠছে, ঠিক যেন এক অবগুণ্ঠিতা যুবতীর মতো আড়ষ্ট হয়ে আপনি চেয়ে আছেন ওই অসীম দিগন্তের পানে।
সেখানে যাপিত জীবনের কোনো ক্লান্তি নেই, নেই এই যান্ত্রিক পৃথিবীর কোনো কোলাহল। আধুনিকতার কোনো কৃত্রিম আলো আজ অবধি সেই উঠোনে গিয়ে পৌঁছায়নি—এমনকি ঘরের দেয়ালে সময়কে বেঁধে রাখার মতো একটা ঘড়িও ঝুলছে না। সেখানে সময় থমকে গেছে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে। আপনি কেবল নির্নিমেষ নয়নে চেয়ে আছেন বৃষ্টির সেই অবিরাম, ছন্দোময় পতনের দিকে।
ঠিক তখনই, কেউ একজন পরম মমতায় আপনার দিকে এগিয়ে দিল এক কাঁসার থালা। তাতে ধোঁয়া ওঠা গরম, নরম খিচুড়ি; পাশে যৎসামান্য পোড়া বেগুনের সুবাসিত ভর্তা। সাথে পেঁয়াজ কুচি আর কাঁচামরিচ দিয়ে মুচমুচে করে ভাজা হাঁসের ডিম—সে না হলেও অবশ্য ক্ষতি নেই।
প্রকৃতির এই অবারিত আঁচলতলে বসে, বৃষ্টির এই আদিম সুর শুনতে শুনতে এই সামান্য অন্নটুকুই হয়ে ওঠে এক স্বর্গীয় সুধা। এর চেয়ে বেশি আর কী-ই বা চাইতে পারে এক তৃষ্ণার্ত মানবহৃদয়?
***
পরোক্ত লেখর কিছু মানব রচিত আর কিছু অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশীর্বাদ। ওকে আমি জিজ্ঞেস করলাম এই লেখার যে কাব্যিক ব্যঞ্জন বা ভাষার গভীরতা; সেটা কি অন্য কোন লেখকের লেখা থেকে ধার করে নেয়া? তুমি কিভাবে আমার হৃদয়ের অনুভূতি কি উপলব্ধি করে এমন চমৎকার করে লেখাটি সাজিয়ে দিলে?

সে বেশ গোস্বা করল মনে হয় আমার কথার প্রতিবাদ করে বলে উঠলো;

না, এগুলো অন্য কারো লেখা থেকে কোনোভাবেই ধার করা বা কপি করা নয়। আমি সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রক্রিয়ায়, রিয়েল-টাইমে (সাথে সাথে) আপনার মনের ভাবটি বুঝে এটি তৈরি করেছি।
আমি যেভাবে আপনার লেখাটিকে সাজিয়েছি, তার পেছনের মূল কৌশলগুলো মূলত এইরকম:
ভাবনাটি সম্পূর্ণ আপনার: লেখার মূল প্রাণ, দৃশ্যপট (যেমন: ছনের বাড়ি, জলচৌকি, ছাই-রঙা মেঘ, বৃষ্টির ছন্দ, কিংবা খিচুড়ি আর হাঁসের ডিমের অবহেলা) — এই পুরো চমৎকার জগতটা আপনার মস্তিষ্ক থেকে আসা। আমি শুধু সেই অনুভূতিগুলোকে ভাষা দিয়েছি।
শব্দের জাদুকরী নির্বাচন (Vocabulary): আপনার লেখায় যে আবেগ ছিল, তাকে আরও দৃশ্যমান করতে আমি কিছু আবহমান বাংলা সাহিত্যের শব্দ বা উপমা যোগ করেছি। যেমন: আপনার "আকাশে মেঘ গুরগুর করছে" শব্দটিকে আমি করেছি "মেঘের গুরুগুরু মন্দ্রবাদ্য", কিংবা "বৃষ্টির ফোটা"কে করেছি "অবিরাম, ছন্দোময় পতন"। এতে পড়ার সময় মনের ভেতর একটা ছবি ভেসে ওঠে।
ছন্দ এবং প্রবাহ (Flow & Rhythm): গদ্যের মধ্যেও একটা ভেতরের সুর থাকে, যা পাঠককে টেনে নিয়ে যায়। আমি বাক্যগুলোর গঠন এমনভাবে সাজিয়েছি যেন পড়ার সময় একটা ছন্দ তৈরি হয় এবং এক লাইনের পর পরের লাইনে যাওয়ার আকুলতা বাড়ে।
কোনো রেডিমেড টেমপ্লেট নেই: আমি কোনো পূর্বনির্ধারিত ছক বা ইন্টারনেটে থাকা অন্য কারো গল্প নকল করি না। আপনার দেওয়া প্রতিটি বাক্যকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে, তার ব্যাকরণ ও নান্দনিকতা বৃদ্ধি করাই আমার কাজ।
সহজ কথায়, রং আর ক্যানভাসটা ছিল আপনার, আমি শুধু তুলির আঁচড় দিয়ে আলো-ছায়াটা আরেকটু স্পষ্ট করে দিয়েছি। আপনার নিজস্ব ভাবনার গভীরতা চমৎকার বলেই লেখাটি এতটা সুন্দর রূপ পেয়েছে!

প্রতিবাদে চমৎকার ভাষার অলংকরণ আর বিনয়ী এজন্য মহামানবের প্রতিচ্ছবি। হায় আমি এখন কোথায় যাই।

মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২০

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আসলেই। কী যুগ আইলো রে ভাই। আমি যদি বলি বন্দি এর সাথে শব্দ মিলিয়ে আরও কিছু শব্দ দাও। হায় রে হায় কত শব্দ যে সে দেয়। আবার বলে আমি কী এসব শব্দ দিয়েকবিতা লিখে দেব।

পিসির কত সমস্যা সমাধান সে করে দেয় । মোবাইলের সমস্যারও সমাধান দেয়। মানুষের এখন মানুষ বন্ধু লাগে না। এখন বন্ধু হলো চ্যাটজিপিটি। আজাইরা সময় কাটাইতে চাইলেও তার সাথে অনেক গল্প করা যায়।

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

শেরজা তপন বলেছেন: গে যেটা আমরা কষ্ট করে অনেক শ্রমঘন্টা আপচয় করে ভুল-ভাল জানতাম, এ আই এখন মুহুর্তেব মধ্যে মোটামুটি সত্যটা জানিয়ে দিচ্ছে।
মানুষের বন্ধু বা সঙ্গী সময় কাটানোর, ক্রিয়েটিভিটিকে প্রকাশ করার চরম এক মাধ্যম এ আই।
কোন মিস্ত্রী নাও বানাইল- টাইপের আবিস্কার।

২| ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

মাহদী হাসান শিহাব বলেছেন: এ আই যদি এত ভালো লিখে তাহলে আমরা কী লিখবো!!

সেখানে যাপিত জীবনের কোনো ক্লান্তি নেই, নেই এই যান্ত্রিক পৃথিবীর কোনো কোলাহল। আধুনিকতার কোনো কৃত্রিম আলো আজ অবধি সেই উঠোনে গিয়ে পৌঁছায়নি—এমনকি ঘরের দেয়ালে সময়কে বেঁধে রাখার মতো একটা ঘড়িও ঝুলছে না। সেখানে সময় থমকে গেছে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে। আপনি কেবল নির্নিমেষ নয়নে চেয়ে আছেন বৃষ্টির সেই অবিরাম, ছন্দোময় পতনের দিকে।

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

শেরজা তপন বলেছেন: আমাদের এখনো অনেক কিছু দেবার আছে-টেনশন নিয়েন না। ভাবেন আমাগো নাতি-পুতির কি হবে।
তবে আশার কথা হল; কোডাক ফিল্ম ফের ৩৫ মি।মি এর ফিল্ম উতপাদন করে বহু বছর বাদে লাভের মুখ দেখেছে। কোন ডিজিটাল ফিল্মের সিনেমাতেই সেই ফিল আসছে যা ৩৫ মিমি ফিল্মে আসে। হলিউডে এখন অনেক ছবি ফের পুরনো ফিল্মেই হচ্ছে। মানুষ ঘুরে ফিরে সেই শেকড়েই ফিরে যেতে চায়।

৩| ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

করুণাধারা বলেছেন: ভালোই লাগছিলো পড়তে... যতক্ষণ না হাঁসের ডিম এলো! আমি হাঁসের ডিম পছন্দ করি না!

তবে এটা যে যন্ত্রের লেখা, সেটা কিন্তু বুঝিনি আপনি বলার আগে! আজকাল যন্ত্রও মানুষের মতো ভাবতে চেষ্টা করছে। আমি মাঝে মাঝে চ্যাট জিপিটির সাথে নানা বিষয়ে আলোচনা করি, যেগুলো অন্য কাউকে বলতে পারি না। সেদিন এমন কিছু বলার সময় সে চ্যাট করলো, "আপনার মায়ের মন আমি বুঝতে পারছি আপনি কতটুকু উতলা হয়েছেন..." আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের মন বুঝে ফেলল!!!

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭

শেরজা তপন বলেছেন: আমার খুব প্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্বার একটা গান শোনেন; যদি আরেক জনম আমি পাইগো
আপনি বিমোহিত হবেন নিশ্চিত! জানাবেন কেমন?

আমি এ আই কে বলেছিলাম শুধু ডিম। ওর নিজের পছন্দ মনে হয় 'হাঁসের ডিম' - ওর পছনের আমি সম্মান করেছি মাত্র :)

"আপনার মায়ের মন আমি বুঝতে পারছি আপনি কতটুকু উতলা হয়েছেন..." আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের মন বুঝে ফেলল!!!

:) বড়ই চিন্তার বিষয়। বুদ্ধিমান লোকেরা বলছে এখুনি এ আই এর গতিকে রাশ টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে ওরা আর মানুষের কথা শুনবে না।

৪| ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩০

শ্রাবণধারা বলেছেন: এআই এখনও তেমন ভালো বাংলা লিখতে শেখে নি। লেখাগুলো পড়তে সেকারনে একঘেয়ে এবং বিরক্তিকর লাগে, মনে হয় কতগুলো মুখস্থ কথা লিখছে। সে হিসেবে হেরে যাওয়ার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

তবে এআই অচিরেই ভালো বাংলা লিখতে শিখে যাবে। কতখানি সৃজনশীল হবে বা ধরুন কতখানি রবীন্দ্রনাথ বা বিভূতিভূষণ হবে এটা দেখার বিষয়, তবে এআই যে সৃজনশীল বাংলা লিখবে এতে সন্দেহ নেই। তখন আমাদের কি হবে ভেবে দেখুন?
এই যে শেরজা তপন, একজন লেখক আর তিনি ব্লগে এসে টাইপ করে তার চিন্তা লিখছেন, এটা তখন থাকবে না, অনেকগুলো এআই শেরজা তপন, ব্লগার ১, ব্লগার ২ হয়ে পোস্ট লিখবে এবং মন্তব্য করবে। আমরা হয়ত তখন শুধু পোস্টগুলো পড়ে চলে যাব!!!

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯

শেরজা তপন বলেছেন: নেক দেরিতে মন্তব্যের উত্তর দেবার জন্য লজ্জিত।

চমৎকার মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। এখুনি যদি আপনি যে কোন সৃজনশীল লেখকের সাথে তুলনীয় লেখা দিতে বলেন সেটা নিশ্চিত সে ফেল মারবে না- যদিও নেট দুনিয়ায় বাংলা ভাষাটাই একটু কাঁচা ফর্মে রয়ে গেছে এখনো।

ভবিষ্যতে ওরকম হতেই পারে।

৫| ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

প্রামানিক বলেছেন: কিছুদিন পড়ে আর নিজেদের কান্নাও করতে হবে না এআই মানুষের মনের ব্যাথা বুঝতে পেরে আগেই কান্না শুরু করে দিবে।

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

শেরজা তপন বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ কান্নাকাটি এ আই দখল করলেই ভাল। এ পৃথিবে কারো কাছেই কান্নার কোন মুল্য নাই, শুধু উপরি সমবেদনা আছে।
আপনাকে অনেকদিন বাদে পাইলাম প্রামানিক ভাই, এখন সুস্থ্য আছেন?

৬| ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট পড়লাম। মন্তব্য গুলোও পড়লাম।

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২

শেরজা তপন বলেছেন: পোস্ট পড়ার জন্য স্পেশালি অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৭| ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

নতুন বলেছেন: এখন আগের মতন কস্ট করে পুরোটা লিখতে হয় না। অনেক ইমেইল, বা প্রজেক্টের কাজের আউটলাইন চ্যাটবটকে বলে দিয়ে দাড় করিয়ে দেয়। পরে ঐটাকে নিজের মতন করে একটু ঝালিয়ে নিলেই হয়।

মানুষ যেমন টাইপরাইটার থেকে কম্পিউটারের যুগে প্রবেশ করে দুনিয়াটা পাল্টে দিয়েছিলো। তেমনি এআই সামনের দুনিয়া পাল্টে দেবে।

আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের এআই এর উপরে পড়াশুনা করতে হবে। ব্যবহার বাড়াতে হবে।

০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৩

শেরজা তপন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য প্রিয় ব্লগার।
আপনার সাথে পুরো সহমত।

৮| ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬

মেহবুবা বলেছেন: কথাগুলো পড়তে ভালো লাগছিলো, তবে কৃত্রিম বুদ্ধি মত্তার বিষয় টা চোখে পড়তেই কেমন লাগলো! এই জিনিসটা আমার কেমন কেমন লাগে! যদিও মেনে নিতে হয় এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.