নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে? একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ বা স্থগিত করার উদ্যোগ সেই প্রশ্নকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।

আইনের কথা বললে, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন—বিশেষ করে ১৮ নম্বর ধারা- সরকারকে এমন ক্ষমতা দেয়, যেখানে “সন্তুষ্ট” হলেই কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যায়। কাগজে-কলমে এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার একটি প্রয়োজনীয় হাতিয়ার। কিন্তু বাস্তবে এই “সন্তুষ্টি” শব্দটাই হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, সন্তুষ্টির মানদণ্ড কী- তা স্পষ্ট নয়, আর সেখানেই তৈরি হয় ব্যাখ্যার সুযোগ।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। যদি কোথাও সহিংসতা, সন্ত্রাস বা সংগঠিত বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের কর্তব্য। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন আইন রয়েছে, এবং সেগুলো কখনো কখনো কার্যকরও হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি তখনই জটিল হয়ে ওঠে, যখন এই আইন একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।


কারণ, একটি রাজনৈতিক দল কেবল একটি সংগঠন নয়- এটি লাখো মানুষের মত, বিশ্বাস ও অংশগ্রহণের প্রতিফলন। তাই এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন নির্ভুল প্রমাণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্ত। এসবের অভাব হলে সিদ্ধান্ত যতই আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকুক, তা জনমনে সন্দেহের জন্ম দেয়।

এখানেই মূল সংকট- আইন ও ন্যায়ের মাঝের সূক্ষ্ম ব্যবধান।
আইন প্রয়োগ করা সহজ; কিন্তু ন্যায় নিশ্চিত করা কঠিন।

যখন কোনো সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্বচ্ছতা কমে যায়, তখন মানুষ প্রশ্ন তোলে- এটি কি সত্যিই নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ, নাকি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নতুন রূপ? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দিতে হয়।

ইতিহাস বলে, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন যত বাড়ে, ততই তার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য জরুরি- যেখানে আইন থাকবে, কিন্তু তার প্রয়োগ হবে জবাবদিহির মধ্যে। বিচারিক পর্যালোচনা, স্বাধীন তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি- এই তিনটি স্তম্ভ ছাড়া কোনো কঠোর আইনই শেষ পর্যন্ত আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে সামনে তিনটি পথ খোলা থাকে।
প্রথমত, আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা- যা অপব্যবহারের আশঙ্কা কমাতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান কাঠামো রেখে দেওয়া- যা প্রশাসনিকভাবে সুবিধাজনক হলেও জনআস্থার সংকট বাড়াতে পারে।
তৃতীয়ত, এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ- সংস্কার।

সংস্কারের অর্থ শুধু আইনের ভাষা বদল নয়; বরং তার প্রয়োগের পদ্ধতিকে স্বচ্ছ করা। প্রমাণের মানদণ্ড নির্ধারণ, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা টানা, দ্রুত বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা- এসবই হতে পারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান।

সবশেষে ফিরে আসি মূল প্রশ্নে-
এটি কি আইন প্রয়োগ, নাকি অপব্যবহার?

এর উত্তর একদিনে মিলবে না। সময়ই বলবে, এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের উদাহরণ হয়ে থাকবে, নাকি ক্ষমতার বিতর্কিত প্রয়োগ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা নেবে।

তবে একটি কথা নিশ্চিত-
আইনের শক্তি তার কঠোরতায় নয়, তার ন্যায্যতায়।
আর সেই ন্যায্যতাই শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নির্ধারণ করে।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে,
....................................................................
না! এদেশে আইন স্বাভাবিক গতিতে চলছেনা
এর মূল কারন হলো , আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো
সততার সহিত কাজ করতে দৃঢতা দেখাচ্ছেনা ।
ইন্ট্রীম সরকার তার নিজ চাহিদা মতো অধ্যাদেশ জারি করেছিলো
টিকে থাকার জন্য ।
আর বর্তমান নূতন সরকার বেছে বেছে তার পক্ষর আইনগুলোর বৈধতা
দিতে তৎপর হয়েছে ।
...........................................................................................
ফলে আমরা আবারও হতাশগ্রস্হ হলাম, প্রতারিত হতে যাচ্ছি ।

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৮

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করাও ঠিক না।

২| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

আহা রুবন বলেছেন: যেমন খুশি তেমনে করে দেশ চালাক। কিছু দিন পর আবার মানুষ জীবন দেবে-- লাথি খেয়ে বিদায় নেবে। আবার আরেক দানব আসবে। এভাবেই চলতে থাকবে!

৩| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:২৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সব দোষ শেখ হাসিনার ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.