নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষের জীবন প্রতিদিন তার বেঁচে থাকার লাইসেন্স নবায়ন করে ।প্রকৃতি এটা নিয়ন্ত্রন করে,যেদিন নবায়ন হবেনা,সেদিন মৃত্যু অনিবার্য ।

স্বপ্নের শঙ্খচিল

আমার মনের মাঝে শঙ্খচিল ডানা মেলে প্রতিদিন,ভুলতে পারিনি সেই অভিমান আবার ফিরে আসা তোমার কাছে !

স্বপ্নের শঙ্খচিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে
.........................................................................



সেই জগতে আমার ছিলো আঁকিবুকি চকখড়িতে,
মন ভেসে যেত মেঘের ভেলায় সোনালী সেই দিনগুলিতে।
একটা সকাল, একটা বিকেল গোল্লাছুটের ধুলোবালি,
চিবুড়ি আর লুকোচুরি খেলা, স্মৃতির পাতা নয়কো খালি।

সুনীল আকাশ, কাশফুলেদের শুভ্র হাসির চপল হাওয়া,
শৈশবের সেই চেনা জগৎ, আজকে শুধু থমকে যাওয়া।
যান্ত্রিক এই ধূসর শহরে, ইটের খাঁচায় বন্দী জীবন,
স্মৃতির জানালায় মেঘ জমে আজ, বিষণ্ণতায় আকুল এ মন।

প্রেম-তুলিতে ঝুমকো ফুলের রঙধনু রঙ এঁকে দিলে,
মুগ্ধতারা হারিয়ে যায় যে কোন সুদূরের নীল মিছিলে!
মেঠোপথের চেনা বাঁকে, দূরত্বের মায়ায় ঘেরা,
দাদীর হাতের ভাতের সুবাস, তখন ছিলো সময় সেরা।

কোন বিষাদে আঁকড়ে ধরে, চোখের তারায় বিমর্ষ ক্ষণ,
দীর্ঘশ্বাসের লহর বুকে দমকে ওঠে অনুক্ষণ।
মন হারালে চিরতরেই, ফেরে না আর কোলাহলে,
সূর্যাস্তের শীতল হাওয়া, জুড়ায় পরান অশ্রুজলে।

কুয়াশাঢাকা মাঠে , আমায় পাবেনা খুঁজে কেউ আর,
মনের গহীনে রয়ে যাবে শুধু চকখড়ির সেই জগৎ আমার।


(নোট : অপসরার কবিতার উপলক্ষ্যে উৎসর্গ/ ২৯/৯/২৬ )

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২০

অপ্‌সরা বলেছেন: তোমার কাছে হলাম ঋণী
হলাম অনেক ঋণী
কাব্য লেখো কবি তোমায় চিনি.....
আমার লেখা দুলিয়ে দিলো তোমায়
সেই আবেগে ভাসিয়ে নিলো আমায় .....

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
লুকোচুরি খেলে কেটে যেত বেলা,
কাশফুলের বনে ছিল আনন্দের মেলা।
পেন্সিল রঙে নদী এঁকে যাই আজ,
স্মৃতির পাতায় সাজে রূপালী সে সাজ।

২| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩৭

অপ্‌সরা বলেছেন: স্মৃতির খাতার উড়ো পাতার একটা পাতা ওড়ে
সেই ক্ষনটির জন্য এখন হৃদয় আমার পোড়ে!
চকখড়িতে ফুলের শোভা রঙ পেনসিল নদী
পাল তোলা নাও রঙিন সে ক্ষন ফিরে পেতাম যদি!

জলরঙের ঐ দিনগুলো ফের আরেকটাবার চাই
এদিক সেদিক কোনো দিকেই সে দিনগুলো নাই! :(







সুনীল আকাশ, কাশফুলেদের শুভ্র হাসির চপল হাওয়া,
শৈশবের সেই চেনা জগৎ, আজকে শুধু থমকে যাওয়া।
যান্ত্রিক এই ধূসর শহরে, ইটের খাঁচায় বন্দী জীবন,
স্মৃতির জানালায় মেঘ জমে আজ, বিষণ্ণতায় আকুল এ মন।

প্রেম-তুলিতে ঝুমকো ফুলের রঙধনু রঙ এঁকে দিলে,
মুগ্ধতারা হারিয়ে যায় যে কোন সুদূরের নীল মিছিলে!
মেঠোপথের চেনা বাঁকে, দূরত্বের মায়ায় ঘেরা,
দাদীর হাতের ভাতের সুবাস, তখন ছিলো সময় সেরা।

কোন বিষাদে আঁকড়ে ধরে, চোখের তারায় বিমর্ষ ক্ষণ,
দীর্ঘশ্বাসের লহর বুকে দমকে ওঠে অনুক্ষণ।
মন হারালে চিরতরেই, ফেরে না আর কোলাহলে,
সূর্যাস্তের শীতল হাওয়া, জুড়ায় পরান অশ্রুজলে।

কুয়াশাঢাকা মাঠে , আমায় পাবেনা খুঁজে কেউ আর,
মনের গহীনে রয়ে যাবে শুধু চকখড়ির সেই জগৎ আমার।

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জলরঙের ঐ দিনগুলো ফের আরেকটাবার চাই
এদিক সেদিক কোনো দিকেই সে দিনগুলো নাই!

.............................................................................
টিনের চালে বৃষ্টির নূপুর, বাজায় মধুর চেনা সুর,
স্মৃতির খেয়ায় মন ভেসে যায়, সীমানা পেরিয়ে বহুদূর।
হঠাৎ আসা ওই শ্রাবণ-সন্ধ্যায়, মেঘের আড়ালে আলো হাসে,
চকখড়ির সেই জগৎ আমার, আজও মনের ক্যানভাসে ভাসে।

রিমঝিম সুরে রিনিঝিনি , পায়ে বাজে রূপো নূপুর,
সেই ধ্বনতেে ব্যাকুল সাজি , থমকে যাওয়া মেঘলা দুপুর।
চমকে দেখি বারেবার, বৃষ্টির ছাঁটে নুপুর হাসে,
নির্বাক এক মায়ার জালে, ছুঁয়ে চলছে আমায় পাশে!

নীল খামের সেই চিঠির পাতা, যতনে রাখা স্মৃতির ঘরে,
উড়ো পাতার জলছাপগুলো, আজও আকুল আবেগে পড়ে।
চকখড়িতে আলপনাগুলো, ভিজেছে কেন প্রতি বর্ষায়,
বুকের গহীনের প্রথম সে প্রেম, বেঁচে আছে কিসের আশায়।

পাল তোলা নাও থমকে আছে, ভিজছে সেই চেনা ঘাটে,
আমার এ মন তোমায় খোঁজে, গোধূলির এই মায়া কাটে।
একটুখানি জায়গা রেখো ; ওগো, তোমার ওই মেঘলা দিনে,
কুয়াশাঢাকা বৃষ্টির ক্ষণে , হৃদ-মাজারের আকুল এ মনে ।

৩| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




কবিতাটি পড়তে পড়তে মনে হলো, এটি আসলে হারিয়ে যাওয়া কোনো আকাশের সন্ধান নয়; বরং নিজের ভেতরে
হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটিকে খুঁজে ফেরার এক মায়াময় প্রয়াস। চকখড়ির সেই জগৎ থেকে শুরু করে মেঘের ভেলা,
গোল্লাছুট, লুকোচুরি, কাশফুল, মেঠোপথ আর দাদীর হাতের ভাতের সুবাস সব মিলিয়ে কবিতাটি যেন স্মৃতির একটি
পুরোনো অ্যালবাম ধীরে ধীরে খুলে দেয়।

সুনীল আকাশ, কাশফুলেদের শুভ্র হাসি এই চিত্রকল্পে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে শৈশবের নির্মলতাও একাকার
হয়ে গেছে। তখনকার পৃথিবীটি হয়তো খুব বড় ছিল না, কিন্তু অনুভূতির দিক থেকে ছিল অসীম। একটি সকাল,
একটি বিকেল, মাঠের ধুলো কিংবা লুকোচুরির খেলাই ছিল আনন্দের সম্পূর্ণ সংজ্ঞা। আজকের ইট-কাঠের শহরে
দাঁড়িয়ে সেই সরল সময়ের দিকে ফিরে তাকালে তার মূল্য আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।

কবিতার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর একটি আমার কাছে “দাদীর হাতের ভাতের সুবাস” কারণ গন্ধের সঙ্গে
স্মৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। অনেক বছর পরেও কোনো পরিচিত সুবাস হঠাৎ মানুষকে বহু দূরের কোনো দুপুরে,
কোনো উঠোনে, কোনো প্রিয় মানুষের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এখানে সেই একটি চিত্রকল্পই যেন গোটা
শৈশবের আবেগকে ধারণ করেছে।

যান্ত্রিক এই ধূসর শহরে, ইটের খাঁচায় বন্দী জীবন এই অংশে বর্তমানের সঙ্গে অতীতের বৈপরীত্যটি বেশ স্পষ্ট হয়ে
উঠেছে। তবে কবিতাটি শুধু শহুরে জীবনের অভিযোগ হয়ে থাকেনি; বরং হারানো সময়কে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে
বর্তমানের শূন্যতাটাকেও অনুভব করিয়েছে। সময় ফিরে আসে না, মানুষও আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে না
তবু স্মৃতির নিজস্ব এক ক্ষমতা আছে; সে আমাদের অন্তত কিছুক্ষণের জন্য সেই হারানো জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

শেষের দুটি পংক্তি তাই বিশেষভাবে মনে দাগ কাটে

কুয়াশাঢাকা মাঠে, আমায় পাবেনা খুঁজে কেউ আর,
মনের গহীনে রয়ে যাবে শুধু চকখড়ির সেই জগৎ আমার।

এখানে কুয়াশাঢাকা মাঠ” শুধু একটি দৃশ্য নয়, আমার কাছে এটি সময়েরও একটি প্রতীক। বাস্তবের সেই মাঠ হয়তো
আর আগের মতো নেই, শৈশবের মানুষগুলোও হয়তো দূরে সরে গেছে; কিন্তু মনের ভেতরে যে জগৎ একবার তৈরি
হয়েছে, তার অস্তিত্ব অন্যরকম। সেখানে বয়স বাড়ে না, সময় থেমে থাকে, আর মানুষ নিজের হারানো শৈশবের কাছে
বারবার ফিরে যেতে পারে।

কবিতাটির ভাষা সহজ, কিন্তু আবেগের স্তর বেশ গভীর। কোথাও অতিরিক্ত জটিল শব্দের আশ্রয় না নিয়ে পরিচিত
দৃশ্য ও স্মৃতির উপকরণ দিয়ে যে নস্টালজিক আবহ তৈরি করা হয়েছে, সেটিই কবিতাটির বড় শক্তি। াআমরা
পাঠক হিসাবে নিজের শৈশবের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারি বলেই কবিতাটি ব্যক্তিগত স্মৃতির সীমা ছাড়িয়ে সার্ব
জনীন হয়ে ওঠে।

আর অপসরার কবিতার উপলক্ষ্যে উৎসর্গ এই নোটটিও কবিতাটিকে একটি আলাদা আবেগের মাত্রা দিয়েছে।
কারণ একটি কবিতা যখন অন্য একটি কবিতা বা কবির অনুভূতির প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয়, তখন সেখানে শুধু
কবির নিজের স্মৃতি থাকে না; থাকে অন্য একটি সৃষ্টির সঙ্গে সৃষ্টিশীল সংলাপও।

সবশেষে বলব, এই কবিতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো তার বিষাদ নয়, বরং বিষাদের মধ্যেও সৌন্দর্য খুঁজে
পাওয়ার ক্ষমতা। শৈশব ফিরে আসবে না এই সত্যটি বিষণ্ণ; কিন্তু সেই শৈশবকে শব্দ, স্মৃতি ও চিত্রকল্পের
মাধ্যমে আবার জীবন্ত করে তোলাও এক ধরনের ফিরে পাওয়া।

হারানো আকাশ তাই সত্যিই পুরোপুরি হারায়নি।
তার কিছুটা রয়ে গেছে কাশফুলের শুভ্রতায়, দাদীর হাতের ভাতের সুবাসে, মেঠোপথের ধুলোয় আর সবচেয়ে
বেশি, কবির মনের সেই ছোট্ট চকখড়ির জগতে।

কবিতাটি পড়ে নিজের হারিয়ে যাওয়া কোনো একটি বিকেলকে মনে পড়ে যাওয়াই বোধহয় এর সবচেয়ে সুন্দর সার্থকতা।

শশুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.