| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং এটি প্রতিদিনের নির্মম ও পৈশাচিক বাস্তবতা থেকে জন্ম নেওয়া এক গভীর, স্থায়ী সামাজিক আতঙ্ক। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতা খুললেই কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই আমাদের দেখতে হয় খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, শিশু নির্যাতন, গুম, কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ তাণ্ডবের রক্ত হিম করা সংবাদে। এই ধারাবাহিক ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতা দেশের সাধারণ মানুষের মনে এমন এক তীব্র অসহায়ত্বের জন্ম দিয়েছে, যেখানে নাগরিকেরা আর রাষ্ট্রকে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ভাবতে পারছেন না। অতি সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থী, আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকে আরও একবার নির্মমভাবে দেশের মানুষের সামনে উন্মোচিত করেছে। গত ১৯ মে সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে যে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, তা পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার মুখে এক সজোরে চড়। তিনি বলেছেন, "আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে।" একজন বাবার এই হাহাকার ও চরম আস্থাহীনতার বক্তব্য মূলত এই রাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতার এক জীবন্ত ও অকাট্য প্রমাণ। যখন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে অবোধ শিশুদের জীবন নিজের ঘরের ভেতরেও নিরাপদ থাকে না, এবং ভুক্তভোগী পিতা রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার ওপর সমস্ত ভরসা হারিয়ে ফেলেন, তখন বুঝতে হবে শুধু যে দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে তা নয় বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক নৈতিক কাঠামোও বিপজ্জনকভাবে ভেঙে পড়েছে।
একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রথম এবং প্রধান অনস্বীকার্য দায়িত্ব হলো তার প্রতিটি নাগরিকের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সামষ্টিক অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মেগা প্রজেক্টের উন্নয়ন, অবকাঠামো কিংবা ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সহ নানা কার্ড ও রাজনৈতিক সাফল্যের গালভরা গল্প যতই শোনানো হোক না কেন, যদি রাষ্ট্রের মূল উপাদান অর্থাৎ মানুষই নিরাপদ না থাকে, তবে সেই বাহ্যিক উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং তাসের ঘরের মতো ভঙ্গুর প্রমাণিত হতে বাধ্য। কারণ একটি কার্যকর রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি হচ্ছে তার নাগরিকদের আস্থা। আর সেই আস্থা তখনই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়, যখন একজন মা তার সন্তানকে স্কুল, কলেজে স্ত্রী স্বামীকে কর্মক্ষেত্রে পাঠেয়ে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার ন্যূনতম নিশ্চয়তা পান না যখন সন্ধ্যার অন্ধকার নামার পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হতে বুকভাঙ্গা আতঙ্কে ভোগে কিংবা যখন কোনো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার বছরের পর বছর ধরে আইনি মারপ্যাঁচে ঝুলে থাকে। বাংলাদেশ আজ ঠিক সেই ভয়াবহ আস্থাহীনতা এবং এক চরম নৈতিক ক্রান্তিকালের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। রামিসার এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে আমাদের মস্ত বড় ভুল হবে। এটি এমন একটি সমাজ ও শাসনব্যবস্থার প্রতীক, যা আমাদের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার গভীর সংকেত বহন করে। মানব সমাজে অপরাধের অস্তিত্ব চিরন্তন, কিন্তু যখন অপরাধের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে এবং অপরাধীরা আইনের শাসন ও শাস্তির ভয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলে, তখন সেটি সরাসরি রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও प्रशासनिक নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। আজ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি তুলছে, তা হলো অপরাধীরা এতটা দুঃসাহস কোথা থেকে পাচ্ছে? কেন তারা মনে করছে যে এমন নৃশংস ও পাশবিক অপরাধ করেও তারা অনায়াসে পার পেয়ে যেতে পারে? এই প্রশ্নের নির্মোহ উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে কোনো রাখঢাক না করে খোলামেলা আলোচনা করতেই হবে।
বাংলাদেশের এই বিচারহীনতার অন্ধকার চিত্রটি নতুন নয়, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা। বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সময়কালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তন এবং আমজনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। নতুন রাজনৈতিক জমানায় সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার আশা করলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও হতাশাজনক চিত্র প্রদর্শন করছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে রাজনৈতিক সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই কয়েক মাসেই সারাদেশে বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেবল রাজনৈতিক কোন্দল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েক জন সাধারণ মানুষ। একই সাথে গণপিটুনির নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং থানাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর দায়িত্বশীলতার কিছুটা অভাবের কারনে অপরাধীদের মনোবল বহুগুণ বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার পল্লবী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর সহ দেশের অন্যান্য প্রধান শহর যেমন চট্টগ্রাম ও খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব এবং মাদক সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের ভেতরের সেই অপরাধমূলক কাঠামো এবং আইনকে তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতিতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
রামিসার মতো এমন কিছু লোমহর্ষক এবং বুক কাঁপানো ঘটনার উদাহরণ আমাদের দেশের ইতিহাসে বারবার ফিরে এসেছে, যা আজ আমাদের বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই, তবে দেখতে পাব সিলেটে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনের কথা, যার ওপর চালানো পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও চিত্র পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ভুলে যাইনি খুলনার ১২ বছরের শিশু রাকিবের কথা, যাকে মলদ্বারে হাওয়া ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে রাজধানী ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা কিংবা নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ড ছিল একেকটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষত। অতি সম্প্রতি এবং সমসাময়িক সময়েও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রামিসার মতোই অসংখ্য অবোধ শিশু ও নারী নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। কোনো শিশুকে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হচ্ছে, আবার কোনো শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে নির্মমভাবে কেটে টুকরো টুকরো করে বস্তাবন্দি করা হচ্ছে। এই প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের মনে রাষ্ট্র বা আইনের কোনো ভয় অবশিষ্ট নেই। পল্লবীর শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা যখন বলেন যে ১৫ দিন পর আরেকটি নতুন ঘটনা ঘটবে এবং মানুষ এই ঘটনা ভুলে যাবে, তখন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি কিংবা সাগরের মা মাহফুজা খাতুনের বছরের পর বছর ধরে করা বিচারের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনিই আমাদের কানে বাজে। এই লোমহর্ষক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়, বরং এগুলো হলো আমাদের রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার মন্থর গতি এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দায়মুক্তির এক একটি কুৎসিত স্মারক।
বাংলাদেশে বিগত বহু বছর ধরেই একটি চরম হতাশাজনক প্রশাসনিক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যেকোনো বড় বা আলোড়ন সৃষ্টিকারী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তড়িঘড়ি করে কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলদের গৎবাঁধা ও আশ্বাসের বক্তব্য আসে, তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং কয়েকদিন ধরে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সময়ের আবর্তনে খুব দ্রুতই সবকিছু স্তিমিত হয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। এই যে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তা অপরাধীদের জন্য এক ধরনের নীরব রাষ্ট্রীয় উৎসাহ ও সবুজ সংকেত হিসেবে কাজ করে। অপরাধী চক্র খুব ভালো করেই জানে যে, রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক লেনদেন কিংবা প্রশাসনিক ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে শেষ পর্যন্ত মূল দায় থেকে নিজেদের আড়াল করা বা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এখানে কোনোভাবেই রাষ্ট্র কিংবা ক্ষমতাসীন সরকারের দায় এড়ানোর বা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চাবিকাঠি ও আইনি কর্তৃত্ব যাদের হাতে থাকে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত দায়ভারও সাংবিধানিকভাবে তাদের ওপরই বর্তায়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা যেমন সরকারের একক এখতিয়ার, তেমনি যেকোনো ব্যর্থতার জবাবদিহিতার দায়ও তাদের স্কন্ধেই অর্পিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য এবং আচরণে সেই কাঙ্ক্ষিত দায়বোধ বা অনুশোচনা খুব কমই পরিলক্ষিত হয়েছে। কোথাও কোনো নৃশংস হত্যাকাণ্ড বা পাশবিক ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সমাধান, কার্যকর নিরাপত্তা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের দৃশ্যমান নিশ্চয়তা আশা করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মূল সংকট সমাধান না করে বিষয়টিকে কাদা ছোড়াছুড়ি ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দিচ্ছেন, দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন, কিংবা মূল সংকট থেকে জনদৃষ্টি সরিয়ে অন্য কোনো লঘু ইস্যুতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, যখন কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনগণ সর্বোচ্চ মনোযোগ ও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করে। কিন্তু বাস্তবে প্রায়ই দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজেদের মূল আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের চেয়ে সস্তা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া, মিডিয়ায় মুখ দেখানো বা অন্য বিভাগের বিষয়ে অনধিকার মন্তব্য করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ মানুষ তখন মনে করতে বাধ্য হয় যে, রাষ্ট্রযন্ত্র নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইমেজ রক্ষা এবং ক্ষমতা সুসংহত করতেই বেশি ব্যস্ত। আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবক্ষয়ের পেছনে শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা বা রাজনৈতিক প্রভাবই নয়, বরং গভীর সামাজিক ও মানসিক অবক্ষয়ও একটি অন্যতম বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। আমাদের সমাজে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এখন ক্রমেই এক স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যায় ঘৃণা, পারস্পরিক বিদ্বেষ, অশ্লীলতা এবং উগ্র সহিংসতার অবাধ চর্চা। পরিবারগুলোতে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিনোদনের বড় অংশজুড়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল কনটেন্টে সহিংসতার এক ধরনের আধুনিক গৌরবায়ন চলছে। ফলশ্রুতিতে, এক ধরনের আত্মকেন্দ্রিক ও নির্মম নিষ্ঠুরতা আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত্বে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এটি যেকোনো আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার জন্য এক ভয়াবহ বিপদ সংকেত। তবে এ কথাও সত্য যে, সামাজিক অবক্ষয় বা ক্রাইসিস পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি বিদ্যমান। কিন্তু রাষ্ট্র যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও কার্যকর হয়, তবে যেকোনো অপরাধকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেও বহু সামাজিক সংকট রয়েছে, কিন্তু সেখানে আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থা এতটাই দৃঢ় ও আপসহীন যে, অপরাধীরা অপরাধ করার আগে শতবার চিন্তা করে এবং রাষ্ট্রের শাস্তির বিধানকে মনে-প্রাণে ভয় পায়। বাংলাদেশে আজ সেই ভয়ের সংস্কৃতিটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ এ দেশের মানুষ প্রতিনিয়ত দেখছে যে, প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক আশ্রয়পুষ্ট অপরাধীরা প্রায়শই আইনের দীর্ঘ হাতকে ফাঁকি দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিচার পেতে পেতে পুরো একটি প্রজন্ম পার হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে তাদের আস্থা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলছে। সবচেয়ে ভয়ংকর এবং লজ্জাজনক বিষয় হলো, আমাদের সমাজে আজ শিশু ও নারীরাই সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত ও অনিরাপদ। যে সমাজে নিষ্পাপ শিশুরা নিরাপদ নয়, সেই সমাজকে কোনো যুক্তিতেই একটি সুস্থ বা সভ্য সমাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায় না। একটি শিশু শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সন্তান বা সদস্য নয়; সে মূলত একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। রামিসার মতো ফুলের মতো পবিত্র শিশুদের ওপর যখন এই ধরনের পাশবিক নৃশংসতা চালানো হয়, তখন বুঝতে হবে সেটি আসলে আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের ওপরই কুঠারাঘাত। এটি শুধু তার পিতা-মাতার বা একটি পরিবারের বুকফাটা কান্না নয়, এটি গোটা রাষ্ট্রের এবং সামগ্রিক সমাজের যৌথ ব্যর্থতার এক কালো দলিল। কারণ আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ তৈরি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি, যেখানে একটি শিশু নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে এবং হাসিমুখে বেড়ে উঠতে পারে। এই ভয়াবহ ও দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী উত্তরণের জন্য এখন আর কোনো ফাঁকা বা আবেগপ্রবণ রাজনৈতিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন অবিলম্বে বাস্তবমুখী ও কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রথমত, আমাদের দেশের সমগ্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাব ও লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত করতে হবে। পুলিশ ও তদন্ত সংস্থাগুলো যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে না পারে, তবে অপরাধের লাগাম টানা কোনোদিনই সম্ভব হবে না। দ্বিতীয়ত, দেশের সামগ্রিক বিচার প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্ত করে দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা এবং তদারকি বহুগুণ বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, কিশোর অপরাধ, গ্যাং কালচার ও সামাজিক সহিংসতা কঠোরভাবে মোকাবিলায় কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সনাতন মানসিকতাতেও খোলনলচে পরিবর্তন আনা জরুরি। যেকোনো জাতীয় সংকটে কেবল বিরোধী দল বা সমালোচকদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কিংবা চেনা রাজনৈতিক ব্লেম-গেম খেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দিন এখন শেষ। দেশের সাধারণ জনগণ এখন কোনো আশ্বাসের বাণী শুনতে চায় না, তারা চায় বাস্তব ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা। তারা চায় রাতে নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে, সন্তান যেন স্কুলে গিয়ে অক্ষত ও নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরে আসে, রাস্তায় বের হলে যেন কাউকে হঠাৎ নিখোঁজ বা গুম হতে না হয় কিংবা কাউকে যেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়। এই মৌলিক ও সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি নাগরিকের আইনগত অধিকার।
এ ক্ষেত্রে দেশের সুশীল সমাজ, নাগরিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীসহ সবারই এক বিশাল সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। কারণ একটি সমাজ তখনই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে, যখন ভালো মানুষেরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করে দেয় এবং নীরবতা পালন করে। রামিসার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড যদি কেবল সংবাদমাধ্যমের কয়েকদিনের আবেগ ও হেডলাইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে হারিয়ে যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই বাংলায় আরও হাজারো রামিসার মর্মান্তিক পরিণতি আমাদের দেখতে হবে। তাই এখনই সময় সমাজজুড়ে এক তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইস্পাতকঠিন জনমত সৃষ্টি করা, প্রশাসনের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাবদিহিতা দাবি করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দল-মত নির্বিশেষে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। প্রয়োজনে দেশের জনগণকে রাজপথেও নামতে হবে—তবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মনে রাখতে হবে যে, সেটি যেন হয় কেবলই ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তার দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ, অহিংস গণআন্দোলন। কারণ ইতিহাসের পাতা সাক্ষী দেয়, প্রবল জনচাপ ও গণদাবি ছাড়া অনেক সময়ই অনড় রাষ্ট্রীয় কাঠামো সহজে নড়েচড়ে বসে না বা সংস্কারে উদ্যোগী হয় না। যখন সাধারণ মানুষ সুসংগঠিতভাবে নিজেদের বেঁচে থাকার অধিকার দাবি করে, তখন যেকোনো সরকারই বাধ্য হয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। তবে অত্যন্ত সাবধানে খেয়াল রাখতে হবে, এই আন্দোলন যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বা নোংরা রাজনীতির দাবার ঘুঁটিতে পরিণত না হয়; বরং এটি যেন সাধারণ মানুষের বাঁচা-মরার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সম্পূর্ণ মানবিক ও নাগরিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
বাংলাদেশ এমন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হওয়ার কথা ছিল, যেখানে প্রতিটি শিশুর অনাবিল হাসি নিরাপদ থাকবে, যেখানে মানুষ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদাও অক্ষুণ্ন পাবে। কিন্তু আজ যদি স্বাধীন দেশে মানুষকে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনজনদের হত্যার খবর শুনে আতঙ্কিত হতে হয়, যদি পরিবারগুলো সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সারাক্ষণ এক অজানা ভীতি ও আশঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করে, তবে আমাদের চোখধাঁধানো জিডিপি আর উন্নয়নের বড় বড় চটকদার গল্পের ভেতর এক গভীর ও অন্তহীন নৈতিক শূন্যতাই কেবল দৃশ্যমান হয়। একটি রাষ্ট্র কখনোই শুধু রাস্তাঘাট, মেগা সেতু কিংবা বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সফল বা উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে না; রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে সফল ও কল্যাণকামী হয়, যখন তার অবহেলিত ও সাধারণ নাগরিকেরাও রাষ্ট্রের ভেতর নিজেদের পূর্ণ নিরাপদ বোধ করে। আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রয়োজন শাসকগোষ্ঠীর এক কঠিন ও নির্মোহ আত্মসমালোচনা। সরকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করতে হবে যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি কোনো বিরোধী দলের সাজানো প্রচারণা বা অপপ্রচার নয়; এটি এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের যাপিত জীবনের এক নির্মম ও রূঢ় বাস্তব অভিজ্ঞতা। এই বাস্তবতাকে যদি ক্ষমতার দম্ভে অস্বীকার বা কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, তবে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে এবং এক সময় তা পুরো সমাজকে গ্রাস করবে। একজন দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল কাজই হলো জনগণের মনের এই ভয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, তাদের তীব্র নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানানো এবং তা দূরীকরণে কালবিলম্ব না করে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া।
আমরা চাই না পল্লবীর শিশু রামিসার এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল সরকারি নথির আরেকটি প্রাণহীন পরিসংখ্যান বা সংখ্যার তালিকায় পরিণত হয়ে ফাইলবন্দি হয়ে থাকুক। তার এই অকাল ও নির্মম চলে যাওয়া আমাদের ঘুমন্ত সামাজিক বিবেককে যেন সজোরে নাড়া দেয়, আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করুক এবং আমাদের স্থবির সমাজকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে একযোগে জাগিয়ে তুলুক। কারণ আজ যদি আমরা রামিসার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তবে আগামীকাল হয়তো আমাদের নিজেদের কোনো সন্তান বা অন্য কেউ এই পাশবিকতার শিকার হবে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ভয়াবহ ও অন্ধকার বাস্তবতা থেকে দেশকে বের করে আনতে হলে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে এখনই আপসহীন ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রকে তার কাজের মাধ্যমে অপরাধী চক্রকে এই স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিতে হবে যে বাংলাদেশ কোনো অপরাধী, ধর্ষক বা খুনিদের অভয়ারণ্য নয় এবং কখনো হবেও না। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের মূল্য অপরিসীম এবং প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অঙ্গীকার। আর সেই পবিত্র অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে কোনো প্রকার রাজনৈতিক অজুহাত ছাড়া, কোনো বিলম্ব না করে এবং জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে।
২|
২১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩
নতুন বলেছেন: আমাদের সমাজের মানুষের মনের অবস্থা খুবই খারাপ দিকে যাচ্ছে।
গত আমলীগ সরকারের আমলে মানুষকে গুম করা, আন্দোলনের সময় গুলি করে হাজারও মানুষ হত্যা করা, পুলিশকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা, রাসুলের নামে বাজে কথা বলেছে বলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা, কবর থেকে মৃত মানুষ তুলে আগুন দেওয়া...ভাত খায়িয়ে আবার পিটিয়ে মারে ফেলা... .
এগুলি আমাদের চার পাশের মানুষগুলিই করেছে। এগুলি সমাজের বিভিন্ন সমস্যার বহিপ্রকাশ মাত্র। সমাজের মানুষের মন এবং মননে অনেক ঘাড়তি আছে, মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে কিন্তু জ্ঞানী হচ্ছেনা।
এগুলি রাস্ট শুধুই ভয় দেখিয়ে সোজা করতে পারবেনা। মানুষের মাঝে ভালো এবং মন্দ বোঝার এবং মন্দকাজ না করার মতন বোধ সম্ভবত আমাদের অনেকের মাঝেই কমে গেছে।
এই সংকট থেকে বের হতে অনেক দিন সময় লাগবে। ![]()
৩|
২১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯
নাহল তরকারি বলেছেন: আমি যদি মেধাবী হতাম, স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ চলে যেতাম। ও বিদেশের সিটেজেনশিপ নিতাম।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রথম এবং প্রধান অনস্বীকার্য দায়িত্ব হলো
তার প্রতিটি নাগরিকের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
...........................................................................................
আমরা সভ্য রাষ্ট্রর মধ্যে পড়িনা,
কিছু দিনের মধ্যে আমেরিকার ৫২তম অঙ্গরাষ্ট্র
হবার খায়েশ মনে পোষন করি ।
বিচার বিভাগ সৎ ও স্বাধীন করার কথা থাকলেও
বর্তমানে ষড়যন্ত্র চলছে ।