| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের রাজনৈতিক কৌশল, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের এক জটিল প্রতিফলন। চব্বিশের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটে সেই সাথে স্বদলবলে দেশ থেকে পলায় করে। যে রাজনৈতিক দল বা ব্যবস্থার প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হয়েছিলেন, সেই দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নৈতিক ভিত্তি ও রাষ্ট্রের সুরক্ষার নিরিখে তাঁর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকা নিয়ে শুরুতেই বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়জুড়ে তাঁকে স্বপদে বহাল রাখা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই আর খাটে না বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের যে সুর বেজে উঠেছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনীতিতে কোনো সিদ্ধান্তই আকস্মিক নয় বরং তা সুদূরপ্রসারী কৌশলেরই ফল।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, ক্ষমতা ও রাজনীতিতে ব্যক্তির অবস্থান নির্ভর করে তাঁর কার্যকারিতার ওপর। অভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা এড়ানো এবং নতুন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার বৈধতা দেওয়ার প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির পদটির একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যবহারিক মূল্য ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি যখন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নিজেদের ভিত্তি মজবুত করেছে, তখন বিদায়ী ব্যবস্থার স্মারক হিসেবে থাকা এই বিতর্কিত রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা নিঃশেষ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ভাষায়, গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়ায় পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশকে ধাপে ধাপে অপসারণ করা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। যখন কোনো চরিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নিঃশেষিত বা অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন তাঁকে সম্মানজনক বা কৌশলগত বিদায় জানানোই হয় রাজনৈতিক বাস্তবতা।
সংবিধানের বিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতির বিদায় বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয় নয় এটি সরাসরি আইনগত কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আবার ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পদত্যাগের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে সরানোর আরও দুটি সাংবিধানিক পথ রয়েছে একটি সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসন এবং অপরটি ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে অপসারণ। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিশংসন কিংবা অসামর্থ্যের কারণে অপসারণের প্রক্রিয়া দুটি অত্যন্ত জটিল, দীর্ঘমেয়াদী ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। অভিশংসনের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের স্বাক্ষরে নোটিশ নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে আলোচনা এবং পরিশেষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ঠিক একইভাবে চিকিৎসা পর্ষদ গঠন করে অসামর্থ্য প্রমাণের ধাপগুলো পার করেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন বা পদ ছাড়তে পারেন । বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় জটিল সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গিয়ে ক্ষমতাসীন দলগুলো রাষ্ট্রপতির ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করার পথই বেছে নিয়েছে। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের ঘটনা এর বড় উদাহরণ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে না যাওয়ার অভিযোগে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও অভিশংসনের পরোক্ষ হুমকিতে তাঁকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে অভিশংসনের কাঠামোগত পথে না হেঁটে রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তৈরি করার কৌশলটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের এই তোড়জোড় এবং নানা অভিযোগ বা গুঞ্জনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কৌশল কাজ করছে বলে মনে করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একাংশের গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তিনি ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও রাজনীতির ময়দানে এ ধরনের তথ্যের উত্থাপন অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবরের বরাত দিয়ে যেভাবে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে, তা মূলত কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে জনগণের কাছে আইনগত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার সাধারণ রাজনৈতিক প্র্যাকটিস হতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণের আগে ছিলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতি যথেষ্ট অনুগত আর তার এই আনুগত্য ও শেখ হাসিনার দয়াই তিনি রাষ্ট্রপতির মত দেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ও সহযোগিতার মানসিকতা থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে এস আলমের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে লুটপাট, দুর্নীতি দমন কমিশনে থাকাকালীন নানা বিতর্ক, অর্থপাচার এবং বিদেশে সম্পদ ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক ময়দানে তাও তাঁর অবস্থানকে অত্যন্ত ভঙ্গুর করে তুলেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংবিধান প্রদত্ত যে আইনগত সুরক্ষা থাকে, তা মূলত পদকেন্দ্রিক। কোনো কারণে এই ক্ষমতার বলয় থেকে বিচ্যুত হলে কিংবা রাজনৈতিক সরকারের সরাসরি অনাগ্রহের পাত্রে পরিণত হলে সেই সুরক্ষা দ্রুত বিলীন হয়ে যায়। তাই সচেতন মহলের ধারণায় মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হতে পারত বিদেশে অবস্থানকালেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠানো। কিন্তু পদ ধরে রাখার ইচ্ছা এবং রাজনৈতিক সমীকরণের হিসাব মেলাতে গিয়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সম্মানজনক বিদায়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই কেন রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করা হলো? কেন এত মাস সময় নেওয়া হলো? এর জবাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা একটি প্রচলিত কৌশলগত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। যেকোনো নতুন বা পুনর্গঠিত সরকার ক্ষমতায় এসেই সব পুরোনো কাঠামো একসঙ্গে ভাঙতে চায় না। প্রথমে আইনগত ও প্রশাসনিক অবস্থান শক্ত করা হয়, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিরোধী পক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির পদটি সংবিধান অনুযায়ী খুবই সীমিত ক্ষমতার যেখানে প্রতিটি কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে পরিচালিত হয়। ফলে এই চেয়ারে কে বসে আছেন, তা সাধারণ পরিস্থিতিতে সরকারের দৈনন্দিন পরিচালনায় খুব বড় বাঁধা সৃষ্টি করে না। বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা মূলত সঠিক সময় ও অনুকূল রাজনৈতিক আবহের জন্য অপেক্ষা করছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর এই বিলম্বিত পদক্ষেপ তাই কোনো দ্বিধা নয়, বরং ধাপে ধাপে লক্ষ্য অর্জনের কৌশল। বর্তমানে দেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হলেও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির পদ এবং তাঁর ক্ষমতার ওপর নতুন করে আলোকপাত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে প্রণীত জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যেমন সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া এবং অভিশংসন প্রক্রিয়া কঠিন করা সে বিষয়গুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এসব প্রস্তাবের অনেকটিতেই প্রধান দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে, তবুও রাষ্ট্রপতির পদের গুরুত্ব ভবিষ্যতে কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা চলমান। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্য ও ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনস্বীকার্য। সরকার সমর্থিত লিখিত ভাষা পাঠ করলেও সংসদে দেওয়া রাষ্ট্রপতির বক্তব্য জাতীয় কার্যবিবরণীতে স্থায়ী নথি হিসেবে থেকে যায়, যা ভবিষ্যৎ ইতিহাসের অংশ হয়। ফলে এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে কাকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসানো হচ্ছে, তা সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের বার্তা স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন এবং সংসদ বিলুপ্ত বা কার্যকর যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, পরবর্তী সংসদ ও নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থা বজায় থাকে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতির জায়গায় নতুন কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে দলীয় ও অদলীয় বেশ কিছু নাম উচ্চারিত হচ্ছে। বিএনপির বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি বা আমলাতন্ত্রের অভিজ্ঞদের নামও গুঞ্জনে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের পর একটি স্থিতিশীল ও আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি করতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বই বেশি উপযুক্ত। কোনো অরাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক ব্যক্তিকে এই শীর্ষ পদে আসীন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সরকারের জন্য সুবিধাজনক নাও হতে পারে। এই মুহূর্তে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দেশে ফেরা এটিই ইঙ্গিত করে যে, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি আপাতত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে হয়তো সংসদীয় প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবল একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঘটনা নয়, বরং এটি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও ক্ষমতার নতুন বিন্যাসেরই অংশ। নৈতিকতা রাষ্ট্রের সুরক্ষার তাগিদ এবং পরিবর্তিত জন আকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতি রেখেই এই বিদায়ের সূচনা। রাজনীতি যে আবেগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় চলে না, বরং তা চলে অত্যন্ত রূঢ় বাস্তবতাবাদী ও বস্তুনিষ্ঠ হিসেব-নিকেশে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিদায়ঘণ্টা সেটিই প্রমান করে। সাংবিধানিক জটিলতা এড়িয়ে এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপ্রধানের পদায়ন নিশ্চিত করাই এখন দেশের পরবর্তী গণতান্ত্রিক যাত্রার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আলাপ শেখ হাসিনার সাথে হয় নাই,
সুতরাং গুজবে কান দেবেন না ।
এটা জানা ছিল এই সরকার প্রধান ৬ মাসের বেশী থাকবে না ।