| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাত্র কয়েকদিন হলো বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসার দরজা কিছুটা উন্মুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভ্রমণ ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে বাংলাদেশিদের যাতায়াত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর অর্থনৈতিক আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম বঙ্গের কলকাতা শহরের নিউ মার্কেট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট সহ বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা প্রার্থীদের ওপর নির্ভরশীল এলাকাগুলোতে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হাসপাতাল, দোকানপাট সবখানেই ছিল ব্যবসায় তীব্র মন্দা । এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলে কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে আসে। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশি পর্যটকরা ভারতের জন্য শুধু একজন বিদেশি অতিথি নন বরং স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উৎস । ২০২৪ সালে প্রায় সাড়ে সতের লাখ বাংলাদেশী পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছে ২০১৯ সালে এর সংখ্যা ছিল প্রায় পঁচিশ লাখ আশি হাজার জন আর ২০২৩ সালের এর সংখ্যা ছিল একুশ লাখ বিশ হাজার জন। কিন্তু এখানেই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে যেই অতিথির কাছ থেকে রুটি রুজি তথা অর্থনৈতিক সুফল প্রত্যাশা করা হয় সেই অতিথির জীবন ও নিরাপত্তার মূল্য কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখেন ভারতীয় সরকার ও ব্যবসায়ীরা?
" অতিথি দেবো ভব " ভারতীয় সংস্কৃতির বহুল উচ্চারিত এই দর্শন অতিথিকে দেবতার মর্যাদা দেওয়ার কথা বলে। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, আত্মীয়তা, কেনাকাটা কিংবা নিছক ভ্রমণের কারণে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রতি বছর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যান। অথচ সাম্প্রতিক কয়েক বছরের একাধিক ঘটনা সেই আতিথেয়তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলেছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের হোটেল শিখা নামের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয় এবং ছয়জন আহত হন। ভবনটিতে একাধিক হোটেল চলছিল। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। ভবনটি ছিল অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সরু সিঁড়ি, সীমিত বের হওয়ার পথ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভবনটি পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের পঞ্চাশ থেকে ষাট গজের মধ্যে হওয়ায় প্রশ্নটি আরও তীব্র হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরে যদিও হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। প্রথম দিকে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা সাতজনে পৌঁছায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন, তাঁদের শিশু সন্তান স্বর্ণাশীষ এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী ছিলেন। একই পরিবারের চারটি প্রাণ এক রাতের আগুনে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নিছক একটি পরিসংখ্যান নয় এটি একটি পরিবারের সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে দাড়ানোর গল্প।
এই ঘটনায় আগুনের প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। শর্ট সার্কিট বা এসি বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এখনই এটিকে নাশকতা বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলা কোন ভাবেই দায়িত্বশীল কাজ হবে না। তবে তদন্তের ফল যাই হোক, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, অপর্যাপ্ত বহির্গমন ব্যবস্থা বা ভবন পরিচালনায় অবহেলা থাকলে তার দায় কোন ভাবেই প্রশাসন ও হোটেল কতৃপক্ষের এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ বিদেশি নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব স্বাগতিক রাষ্ট্রের প্রশাসনের সেই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও। এই ঘটনাটি ঘটার মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে একটি হোটেলে আগুনে নয়জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে শুধু পশ্চিমবঙ্গে দুই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে এটি হোটেল ও পর্যটন অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট।
ভারতে ভ্রমনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু অগ্নিকাণ্ডে ই কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে কলকাতার নিউ টাউনে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাঁর নিখোঁজ হওয়া, হত্যাকাণ্ড এবং মরদেহ গোপন করার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের তদন্ত সংস্থার সহযোগিতায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
আনার একজন সাধারণ পর্যটক ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। তাই তাঁর হত্যাকাণ্ডকে পর্যটক নিরাপত্তার পরিসংখ্যানে সরাসরি যোগ করা ঠিক হবে না। কিন্তু একজন বিদেশি নাগরিক ভারতের মাটিতে এমন পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া যে সাধারণ বাংলাদেশিদের মনেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশি পর্যটকদের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা ও কম নয় । ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বরে কাশ্মীরের শ্রীনগরের ডাল লেকে হাউসবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অনিন্দ্য কৌশল, ইমন দাশগুপ্ত এবং মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন চৌধুরী নামের তিন বাংলাদেশি পর্যটক নিহত হন। ২০২২ সালে গোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি পর্যটক নিহত হন। ২০১৯ সালে ডুয়ার্সে বন্য হাতির আক্রমণে বাংলাদেশি পর্যটক সাইমুন কানকের মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালে ৬ এপ্রিল পুরীর পথে বাংলাদেশি পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ননিবালা নাথ নামের একজন নারী পর্যটক নিহত এবং অনেকে আহত হন। এসব ঘটনা এক ধরনের সাধারণ বাস্তবতা সামনে আনে বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবেই, কিন্তু ঝুঁকি কমানোর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয় নয় কি? তবে এখানে বস্তুনিষ্ঠতার স্বার্থে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ভারতে বাংলাদেশি নাগরিকের প্রতিটি মৃত্যু বা দুর্ঘটনাকে বাংলাদেশবিদ্বেষ বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন নয়। দুর্ঘটনা, অপরাধ, প্রশাসনিক অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃত অবহেলা এই চারটি বিষয়কে আলাদা করে দেখতে হবে। প্রমাণ ছাড়া কোনো অগ্নিকাণ্ডকে নাশকতা বলা যেমন ভুল, তেমনি নিরাপত্তা বিধি না মেনে বিদেশি অতিথিদের আবাসনের অনুমতি দেওয়াও গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা। বাংলাদেশি নারী পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রশ্নও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসত শহরের একটি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। ২০১৯ সালে ভারতে বেড়াতে গিয়ে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে গণধর্ষণের শিকার হন এক বাংলাদেশী নারী পর্যটক। ২০২১ সালে বেঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি নারী ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তার ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নারীদের সম্ভ্রম ও নিরাপদ নয়।
সীমান্ত ও যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে সন্দেহ, অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ, দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা অপমানজনক আচরণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে। আবার বিভিন্ন সময়ে ভারতের কিছু অঞ্চলের হোটেল মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের কক্ষ না দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে। এসব সিদ্ধান্ত যদি কেবল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়, তাহলে তার অভিঘাত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে। একজন রোগী, শিক্ষার্থী কিংবা পর্যটক কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না; তাঁকে রাজনৈতিক বিরোধের দায় বহন করানো ন্যায়সংগত নয়। খেলার মাঠের ঘটনাও একই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি করে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ২০২৬ সালের আইপিএল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এ ধরনের ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও কারণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ বিদ্বেষের ফল বলা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি একটি দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে অগ্রাহ্য করাও ঠিক নয়। মূল প্রশ্নটি তাই অন্য জায়গায়। বাংলাদেশি পর্যটক কেন নিজেকে নিরাপদ মনে করবেন না? একজন ইউরোপীয় বা আমেরিকান পর্যটক কোনো শহরে গেলে তাঁর নিরাপত্তাকে যেমন রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়, বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁর পাসপোর্টের রং, ভাষা বা জাতীয়তা অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার মানদণ্ডে বৈষম্যের কারণ হয় দাঁড়ায়।
এখানে ভারতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব কম নয় । বিদেশে যাওয়া নাগরিককে শুধু ইমিগ্রেশনের সীল দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। কলকাতা, দিল্লি, আগরতলা ও গুয়াহাটির বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ২৪ ঘণ্টার কার্যকর জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিপদে পড়লে একজন পর্যটক যেন স্থানীয় পুলিশ, হাসপাতাল ও বাংলাদেশি মিশনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার। বাংলাদেশের উচিত ভারত সফরকারীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরি করা। কোন এলাকায় অনুমোদিত হোটেল, কোন হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ রয়েছে, জরুরি অবস্থায় কোন নম্বরে ফোন করতে হবে, কোথায় অভিযোগ করতে হবে এসব তথ্য সহজে পাওয়া গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ভারত যেই বাংলাদেশী পর্যটকদের ক্ষেত্রে উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার দেখাচ্ছে তা কোন ভাবেই একটি পর্যটক বান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়। বাংলাদেশি পর্যটক বেশি অবস্থান করেন এমন এলাকায় হোটেল ও গেস্টহাউসের নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অ্যালার্ম, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রশিক্ষণ এসবকে কাগুজে লাইসেন্সের বিষয় না বানিয়ে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। কলকাতার সাম্প্রতিক ঘটনায় রাজ্য সরকার যে নিরাপত্তা অডিটের নির্দেশ দিয়েছে, তা যেন কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থাকে।
দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রার্থীদের নিরাপত্তাকে নিয়মিত এজেন্ডায় আনাও জরুরি। বিদেশি নাগরিকের ওপর হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, হামলা কিংবা গুরুতর অবহেলার ঘটনা ঘটলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে জানানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকা উচিত। দ্রুত বিচার সব ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা এবং কনস্যুলার যোগাযোগ নিশ্চিত করা অবশ্যই সম্ভব।
সবচেয়ে বড় কথা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শুধু রাষ্ট্রীয় কূটনীতি দিয়ে বিচার করা যাবে না। মানুষে মানুষে যোগাযোগই এই সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। বাংলাদেশি পর্যটক কলকাতার দোকানে কেনাকাটা করেন, হোটেলে থাকেন, রেস্তোরাঁয় খাবার খান, হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, পরিবহন ব্যবহার করেন অর্থাৎ দুই দেশের অর্থনীতির মধ্যকার বাস্তব সেতুটি সাধারণ মানুষই নির্মাণ করেন। তাই বাংলাদেশি নাগরিক কে একদিকে অতিথি এবং অন্যদিকে কেবল টাকার উৎস হিসেবে দেখা যাবে না। অর্থনৈতিক লাভের সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বও সমানভাবে বহন করতে হবে। অতিথির পকেটের টাকা যদি মূল্যবান হয়, তাহলে তাঁর জীবন তার চেয়ে অসীম বেশি মূল্যবান ভারত- বাংলাদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি মানুষের অভিজ্ঞতার ওপর। একজন বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরলে দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হয় আর তিনি যদি হোটেলের আগুনে পুড়ে, অপরাধীর হাতে খুন হয়ে, ধর্ষণ বা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে আতঙ্ক নিয়ে দেশে ফেরেন, তবে সেই ক্ষত শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না তা মানুষের মনে রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। অতিথিকে স্বাগত জানানোর উৎসব করা সহজ। মিষ্টিমুখ করানোও সহজ। ব্যবসা যখন মন্দা যায়, তখন অতিথিকে ফিরে আসার আহ্বান জানানোও সহজ। কিন্তু সেই অতিথির জীবন রক্ষার জন্য নিরাপদ হোটেল, কার্যকর আইন, দ্রুত পুলিশি সহায়তা এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাই প্রকৃত আতিথেয়তার পরীক্ষা। সুতরাং এখন প্রশ্নটি কেবল কতজন বাংলাদেশি ভারতে গিয়ে মারা গেলেন তা নয়। প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে আর একজন বাংলাদেশিকে ও যেন অবহেলা, অপরাধ কিংবা অপ্রতুল নিরাপত্তার কারণে প্রাণ হারাতে না হয়, তার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? কারণ " অতিথি দেবো ভব " যদি সত্যিই ভারতীয় আতিথেয়তার নীতি হয়, তাহলে সেই অতিথির জাতীয়তা দেখে নয়, মানুষ হিসেবে তাঁর জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার প্রথম শর্ত। অতিথি যদি সত্যিই " ভগবান " হন, তবে সেই অতিথির জীবনের মূল্য এত সস্তা হবে কেন?
২|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১০
মাথা পাগলা বলেছেন: জাহেদ কিছুদিন আগে ভারতের এয়ারপোর্টে হেনস্তা হয়ে দেশে ফিরেছেন। সরকার কোন প্রতিবাদ জানাচ্ছে না। সরকারের গাফিলতির জন্য সংসদ ঘেরাও দ্যান।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮
নিমো বলেছেন: নিজ দেশের নাগরিকের জীবন কেন সস্তা? আগে সেটা ঠিক করুন। তারপর না হয় এসব গরুর রচনা লিখবেন।