নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি সে জন, গলির নোংরা কুকুরটি যার চেয়ে ভালো।

আল আমিন সেতু

দু দন্ড শান্তির খোঁজে / বনলতার পিছে পিছে

আল আমিন সেতু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারতবর্ষে হজের ইতিহাস

২১ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:০০


সাহাবাদের হাত ধরে যখন ইসলামের শান্তির বাণী এ ভারতবর্ষে আগমন করে এবং ওলী – আওলিয়াদের সুমহান ত্যাগ ও তাবলীগের দ্বারা এই উর্বর মাটিতে শান্তির শাশ্বত পয়গাম ছড়িয়ে পড়ে ; তখন দলে দলে শান্তি পিপাসু লোকেরা ইসলামের ‘শারাবান তাহুরা’ –র সুধা পান করে পরিতৃপ্ত হতে থাকে । ভারতবর্ষে হজের সিলসিলা সেই তখন থেকে শুরু হয়।
এরপর সুলতানি শাসন ও মুঘল শাসন ক্রমধারায় ভারতবর্ষ শাসন করে। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে যখন ইংরেজরা এদেশে ব্যবসার তুলাদণ্ড নিয়ে এসে কিছুকালের মধ্যেই অত্যন্ত ধূর্ততা ও চাতুরতার সহিত সেটাকে রাজদণ্ডে রুপান্তরিত করে ; তখন মুসলমানদের উপর রাজ্যের নির্যাতন ও নিপীড়নের খড়্গ নেমে আসে। ইংরেজরা মুসলমানদেরকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কোণঠাসা করে ফেলে । এমনকি ইসলামের দুর্গ মাদ্রাসাগুলোর সরকারী ওয়াকফকৃত জমিগুলোকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে এবং লাখ লাখ মাদ্রাসাকে জবরদখল করত অশ্বশালায় রুপান্তরিত করে ।
যার অবশ্যম্ভাবী ফলস্বরূপ ধর্মীয় ক্ষেত্রে চরম শূন্যতা ও যোগ্য লোকের ঘাটতি দেখা দেয়। সে যুগে ইসলামের অন্যান্য আচার – অনুষ্ঠানাদি দুর্বল হবার পাশাপাশি হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন ও শি’আর ও উলামায়ে কেরামের ফিকহী ওযরের ভিত্তিতে একেবারে পরিত্যক্ত বা চরম ঔদাসীন্যের শিকার হয়। কিছু সংখ্যক উলামা তো ভারতবর্ষ এর লোকদের উপর থেকে হজের ফরজিয়াত রহিত হয়ে গেছে বলে ফতওয়া দেয় ! রাস্তা বিপদসংকুল বা জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এই ঠুনকো অজুহাতে হজকে যেন প্রায় বিস্মৃত করে দেয় ভারতবাসী ।
এহেন সময় আমীরুল মুমিনীন সাইয়েদ আহমদ শহীদ রহ ঃ যুগপৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি দেশের সর্বত্র হজের তাবলীগ করে চিঠি প্রেরণ করেন। পাশাপাশি ওয়াজ – নসীহত করতে থাকেন। শুধু এতেই তিনি ক্ষান্ত হন নি । নিজেদের শক্তি – সামর্থ্য আর পাথেয় – সম্বলের অপ্রতুলতার চিন্তা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করে স্বদেশ রায়বেরেলি থেকে কলিকাতা অভিমুখে রওয়ানা করেন। ১২৩৮ হিজরীর সফর মাসে কলিকাতা নৌ বন্দর থেকে পরিবার – পরিজন ও সাথীসংগীসহকারে ৭৭৫ জন এর বিশাল কাফেলা নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে রওয়ানা হন । শাবান মাসে তাদের জাহাজ জেদ্দা বন্দরে নোঙ্গর করে। দু বছর অবস্থান ও দুবার হজব্রত পালনান্তে ১২৪০ হিজরীর পহেলা রামাদান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আল্লাহর রহমতে এখন জাহাযে সফরের যামানা শেষ হয়ে গেছে। এখন উড়োজাহাযের কল্যাণে স্বল্প সময়ে হজব্রত পালন সম্ভব হয়েছে। এখন ভারত উপমহাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখো লাখো আল্লাহর মকবুল বান্দাগণ কাবাঘরের উদ্দেশ্যে সফর করছে। এই নূরানী পবিত্র কাফেলায় শরীক হচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকেও কবুল করুন। আমীন।

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক , লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক । ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক।

-মুহাম্মদ আল–আমীন
লিখার সময় – ১৫/০৯/২০১৫ ইং

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.