| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
একটা ১০ বছরের বাচ্চা, যে মাত্র একদিন আগে ফোনে মায়ের কাছে ২৫০ টাকার চকলেট খাওয়ার আবদার করেছিল, সে হুট করে বাথরুমের ভেণ্টলেটরে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে এই গল্প কি বিশ্বাস করা যায়? কিন্তু আমাদের সমাজ, আমাদের আইন আর আমাদের চারপাশের মিডিয়া এখন এই আজগুবি গল্পটাই আমাদের গেলাতে চাচ্ছে। ঢাকার বনশ্রীর ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’র বাথরুমে যখন ১০ বছরের ছোট্ট আবদুল্লাহর লাশটা পাওয়া গেল, তখন থেকেই এক অদ্ভুত নাটক শুরু হয়েছে। অথচ ঠিক একই সময়ে ঢাকা শহরে সমবয়সী আরেকটি শিশু, ৭ বছরের স্কুলপড়ুয়া রামিসা যখন বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়ে মারা গেল, তখন পুরো দেশ ফুঁসে উঠল।
রামিসার জন্য তার সহপাঠী, এলাকাবাসী, টিভি মিডিয়া থেকে শুরু করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো বড় বড় দল রাজপথে নেমে বিচার চাইল। এমনকি মাদ্রাসার বড় বড় হুজুরদেরও দেখা গেল রামিসার ধর্ষকের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিতে। কিন্তু আবদুল্লাহর বেলাতেই কেন যেন পুরো দৃশ্যপট বদলে গেল। তার জন্য কোনো আলেম মুখ খুললেন না, কোনো রাজনৈতিক দল বিবৃতি দিল না, এমনকি যে মাদ্রাসায় সে পড়ত, সেখানকার সহপাঠীরাও একটা মৌন মিছিল করার সাহস পেল না। এই যে ছেলে শিশুদের ওপর হওয়া নির্যাতনকে চেপে যাওয়ার নোংরা মানসিকতা, আর অপরাধী নিজেদের ঘরানার হলে মুখে কুলুপ আঁটার ভণ্ডামি এটাই আবদুল্লাহকে আরেকবার খুন করল।
এই পুরো ঘটনার খলনায়ক ১৯ বছরের একটা ছেলে, নাম শিহাব হোসেন। মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি আর চেনা মাদ্রাসা ছাত্রের লেবাস পরা এই ছেলেটা আসলে একটা আস্ত জানোয়ার। আবদুল্লাহর ঘটনাটাই তার প্রথম কীর্তি নয়, সে ছিল একটা সিরিয়াল পেডোফাইল। এর আগেও সে ওই মাদ্রাসার আরও চার চারটা ছোট বাচ্চাকে একইভাবে বলাৎকার করেছে। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো, আগের কোনো একটা ঘটনার পর তার নামে মামলাও হয়েছিল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সব জানত। কিন্তু নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ‘সম্মান’ বাঁচাতে আর অপরাধ ধামাচাপা দিতে তারা শিহাবকে বের না করে উল্টো মাদ্রাসার ভেতরেই রেখে দিল। আর ম্যানেজমেন্টের এই চরম প্রশ্রয়ের বলি হতে হলো নিষ্পাপ আবদুল্লাহকে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এবং সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ বছরের এই শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে পাশবিকভাবে বলাৎকার করার পর সে যেন মুখ খুলতে না পারে, সেজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধ আড়াল করতে আবদুল্লাহর মৃতদেহটি বাথরুমের ভেতরেই ঝুলিয়ে রাখা হয়, যেন সবাই এটাকে আত্মহত্যা মনে করে। কিন্তু আবদুল্লাহর শরীরের পায়ুপথে সেই পাশবিক নির্যাতনের অস্বাভাবিক ও স্পষ্ট জখমের চিহ্ন এবং বাথরুমের পা রাখার জায়গার পজিশন বলে দেয় তাকে কতটা ট্রমা আর হেল্পলেসনেসের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে এবং তাকে আসলে অন্য কেউ মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে।
আমরা আসলে এমন এক পচে যাওয়া সমাজে বাস করছি যেখানে অপরাধীর শাস্তির দাবি তোলার চেয়ে ভিকটিমের পোশাক বা অন্য কোনো কুযুক্তি খুঁজতে মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু ১০ বছরের এই বাচ্চাটার ক্ষেত্রে তো কোনো অজুহাতই খাটে না। ছেলে হোক বা মেয়ে, আমাদের কোমলমতি শিশুদের আর কোনো আবাসিক মাদ্রাসায় এভাবে চোখের আড়ালে ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়, এবং এই নীরবতা না ভাঙলে আবদুল্লাহদের রক্তের দায় আমাদের সবার ওপরেই বর্তাবে।
https://www.facebook.com/share/v/1DYjVRpW8p/মাদ্রাসায় নিজেদের সাথে হওয়া যৌ*ন নি*র্যা*তনের বর্ণনা দিলেন সেই আব্দুল্লাহর দুই সহপাঠী ।
https://www.facebook.com/share/v/18co4WK3Yf/ অসংখ্যবার ধ*র্ষ*ণের শিকার হয়েছিলেন মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল্লাহ!

২২ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:৩০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাদের প্রতিবাদ আসলে সিলেক্টিভ ধরনের হয়; রামিসার মায়াবী চোখ আমাদের যতটা আকর্ষণ করে, মাদ্রাসা পড়ুয়া আবদুল্লাহর মুখ ততটা আকর্ষণ করে না। কোনো সরকারপ্রধান কিংবা বিরোধী দলের নেতা আবদুল্লাহর পরিবারকে দেখতে যাবেন না। এটাই আমাদের সমাজবিজ্ঞান।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মে, ২০২৬ রাত ২:১৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমরা আসলে পচে যাওয়া সমাজে বাস করছি,
যেখানে অপরাধীর শাস্তির দাবি তোলাটাই বিপদজনক ।
.............................................................................
বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁন্দে,
বিচার স্বাধীন ও শক্তিসালী করার পরিবর্তে
বিচার সচিবালয় বন্ধ করে দেয়া হয় !
তাহলে আমরা কি অসভ্যর দেশে বাস করছিনা ???