| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন । বাংলাদেশের নেটিজেনরা আফসোস করছেন, কেউ কেউ রাগও করছেন। কেউ বলছেন উগ্রবাদ বেড়েছে বলে তিনি বাংলাদেশে আসেননি। কেউ বলছেন গত পনেরো বছরে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। কেউ বলছেন বর্তমান সরকার ঘুমিয়ে আছে। কেউ বলছেন আগের সরকার দেশ বিক্রি করে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটাই কেউ করছে না। রবিন খুদা কেন বাংলাদেশে আসবেন?
ব্যবসায়ীরা দেশপ্রেম দিয়ে ব্যবসা চালায় না, তারা হিসাব দিয়ে ব্যবসা চালায়। তারা কবিতা পড়ে বিনিয়োগ করে না, তারা এক্সেল শিট দেখে বিনিয়োগ করে। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো লাভ কোথায়। রবিন খুদা যখন ভারতে গেলেন, ভারত তাকে আবেগ বিক্রি করেনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন রবিন খুদাকে সামনে বসিয়ে গ্যারান্টি দিচ্ছিলেন যে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না জমি রেডি আছে এবং বিদ্যুতের অভাব হবে না তখন রবিন ভাই বুঝে গেছেন তার লাভ কোথায়। ভারত তাকে সুবিধা বিক্রি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজি, রাজ্য সরকার রাজি, প্রশাসন রাজি। ব্যবসা করার জন্য যা যা দরকার, সব প্রস্তুত। এখন কল্পনা করুন একই প্রশ্ন নিয়ে তিনি বাংলাদেশের দরজায় কড়া নাড়লেন। আমরা তাকে কী দেখাতাম?
প্রথমেই দেখাতাম বিদ্যুতের অবস্থা, তারপর গ্যাসের অবস্থা, তারপর দেখাতাম অনুমোদনের জন্য কতগুলো অফিস ঘুরতে হয়। এরপর দেখাতাম কিভাবে একটি প্রকল্পের ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ভ্রমণ করতে করতে শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়। তারপর হয়তো তাকে নিয়ে যেতাম কোনো বিনিয়োগ সম্মেলনে, যেখানে পাওয়ারপয়েন্টে দেখানো হতো ২০৩৫ সালের বাংলাদেশ, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ, ২০৫০ সালের বাংলাদেশ।পাওয়ারপয়েন্টে বাংলাদেশের যে সংস্করণ দেখা যায়, সেটাকে যদি বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যেত তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পেছনে ছুটতে হতো না, তারাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত।
আমাদের দেশের বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান যিনি সিঙ্গাপুর ফেরত মস্ত বড় ব্যাংকার এবং চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট তাকে যখন একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী জিজ্ঞেস করলেন যে বাংলাদেশে কেন বিনিয়োগ করবো তিনি উত্তর দিলেন আপনি বিনিয়োগ করলে আমাদের দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে আর ব্যাংকের রিজার্ভ শক্ত হবে। একজন ঝানু ব্যবসায়ীকে এই কথা বলা আর কোনো দাতব্য সংস্থায় ভিক্ষা চাওয়া একই কথা। ব্যবসায়ী জানতে চায় তার নিজের পকেটে কয় টাকা ঢুকবে আর আমাদের আশিক সাহেব তাকে বোঝাচ্ছেন দেশের উপকারের গল্প। এই মানসিকতা নিয়ে এক বিলিয়ন ডলারও বিনিয়োগ আসবে না ।
আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের জোয়ারে ভেসে গেছি অথচ পুরো দেশের ডেটা সেন্টার ক্যাপাসিটি মাত্র ২৩ মেগাওয়াট যা কালিয়াকৈরের এক বিশাল প্রজেক্টে হাজার কোটি টাকা খরচ করে মোটে চার মেগাওয়াট নামানো গেছে। ওদিকে রবিন খুদা শুধু ভারতেই বানাতে যাচ্ছেন পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টার। এই বিশাল বিদ্যুতের জোগান দেওয়ার ক্ষমতা কি আমাদের আছে। গত পনেরো বছর ধরে একশোটা অর্থনৈতিক অঞ্চলের গল্প শোনানো হয়েছে কিন্তু বাস্তবে মাঠ ফাঁকাই পড়ে আছে। আদানিকে মিরসরাইয়ে জমি দেওয়া হলো দশ বছরেও সেখানে একটা খুঁটি গাড়া সম্ভব হয়নি।
Robin Khuda ভারতে বিনিয়োগ করছেন বলে যারা এত শোরগোল করছেন, তারা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন। সৌদি আরব পাকিস্তানে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে, করাচিকে ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইনভিত্তিক আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ এই খবর বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমন কোনো আলোচনায় নেই । পাকিস্তান কিন্তু এই অবস্থানে রাতারাতি পৌঁছায়নি। তারা ক্রিপ্টো কাউন্সিল গঠন করেছে, বিটকয়েন মাইনিং ও এআই ডেটা সেন্টারের জন্য আলাদাভাবে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ রেখেছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ করেছে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে নীতিগত প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলাফল হিসেবে সৌদি আরব নিজে আগ্রহ নিয়ে সেখানে গিয়ে বড় বিনিয়োগ চুক্তি করেছে।
আসলে দোষটা রবিন খুদার নয় দোষটা আমাদের পুরো সিস্টেমের। রাজনৈতিক দলগুলো শুধু স্লোগান দিতে জানে আর আমলারা ফাইল আটকে বসে থাকতে ভালোবাসেন। যখন বিনিয়োগ সামিট করে ৫০টা দেশ থেকে চারশো মানুষকে দাওয়াত খাইয়ে মোটে আড়াইশো মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব আসে তখন বুঝে নিতে হবে ডালমে কুছ কালা হ্যায়। আমাদের বড় সাহেবরা ব্যর্থতার দায় নিতে চান না এবং সমালোচনা করলেই পত্রিকার ওপর দোষ চাপিয়ে দেন। যতদিন আমরা দাতব্য ভিক্ষুকের মতো মানুষের কাছে গিয়ে বলব আমাদের দেশে এসে বিনিয়োগ করে উপকার করে যান ততদিন রবিন খুদারা আমাদের পাশ কাটিয়ে ওই স্প্রেডশিটের লাভ দেখেই অন্য দেশে চলে যাবেন আর আমরা চায়ের দোকানে বসে উগ্রবাদ আর চেতনা ব্যবসার গল্প ফেঁদে ঝগড়া করেই দিন পার করব। 
১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি দেখি অনেক কিছুর সাথে জড়িত ছিলেন । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কালিয়াকৈরের এক বিশাল প্রজেক্টে হাজার কোটি
টাকা খরচ করে মোটে চার মেগাওয়াট নামানো গেছে।
............................................................................
ঐ প্রকল্পে বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে এসেছিলো Mi3 নামের
একটি কোম্পানী , আমি তাদের লোকাল এজেন্ট ছিলাম ।
কিন্ত আমলার লোভী দৃষ্টি প্রকল্পটি হতে দিলোনা ।
মাঝখানে আমার ২/৩ বৎসর জীবন থেকে হারায়ে গেলো ।
এসব কথা মনে পড়লে এখনো কষ্ট পাই, সুতরাং কোন বড় বিনিয়োগকারী
প্রকল্পর দীর্ঘমেয়াদী গ্যারান্টী ও রাষ্ট্রর সরাসরি সহযোগিতা না পেলে
বাংলাদেশে কেউ মরতে আসবেনা ।