নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি অন্ধ হতে পারি কিন্তু বিবেকহীন নই

রক্তাক্ত দেহ নিয়ে পড়ে থাকবো কিন্তু অন্যায়, অবিচার শাসকের কাছে মাথা নথ করবো না।

আরিফ সিকদার

আত্মসমালোচনায় বিশ্বাসী

আরিফ সিকদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার শৈশবকাল

২৭ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ৯:৪৪

খুব জানতে ইচ্ছা হয়, জম্মলগ্ন থেকে ৩বৎসর পযন্ত আমার কার্যকলাপ কেমন ছিলো। এই বিষয়ে আমার জম্মদাতা, জম্মদাত্রির সরনাপন্ন হয়েছিলাম কিন্তু তারা নিরূত্তর হেসেছিল। শুধু মমতাময়ী মা মিষ্টি ধমকের সুরে বলেছিলো, ছোটবেলায় অনেক যন্ত্রনা দিয়েছিলি এখন আর জ্বালাস নে। যা এইখান থেকে।

অবিশ্বাস আর করুণ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়েছিলাম মায়ের মুখের পানে। গোয়েন্দার মতো জেরা শুরু করলাম। বলেন তো শুনি, আমার অপরাধ কি ছিলো?

মা আদুরে গলায় বললেন, আপনি খুব লক্ষিসোনা টাইপের ছিলেন। খুশি হয়েছেন?

সৌজন্যসুলভ মায়ের দিকে তাকিয়ে মুছকি হাসলাম যার প্রতিত্তুর ’জী' ।

পরক্ষনে ধমক দিয়ে বললেন, হাসবি না। তুই ছিলি আস্ত একটা বদের হাডি। যা পাইতি তা খেয়ে ফেলতি। একবার মুরগির শুকানো গু খেয়ে ফেলেছিলি। মুখ থেকে বের করার ও কোনো উপায় ছিলো না , গু র প্রতি তোর যা মায়া। এরপর ছাগলের হাড্ডি খেয়ে মরতে মরতে বেচে গিয়েছিলি।

মায়ের মুখে বাল্যকালের এডভ্যাঞ্চার শুনে নিজেকে সিন্দাবাদের মতো মনে হল। আসলে বাস্তবে আমি ছিলাম ভ্যাদা টাইপের খাদক পুলা। চোখের সামনে গু-মুত যা পাইতাম খেয়ে ফেলতাম।

চার বছর বয়সের আগের কোনা সৃতি আমার মনে নেই, তবে মায়ের সৃতিতে সব সযত্নে রাখা। মাঝেমধ্যে কৌতুহলি হয়ে জননীর সৃতির শেল্প থেকে দুই-একটা এডভ্যাঞ্চার কাহিনি শুনে মুগ্ধ হয়ে যাই। ইতিমধ্যে রৌহমৌরশক কিছু ঘটনা ও আবিষ্কার করে ফেললাম।

শৈশবে আমি নাকি উড়ালচন্ডি ছিলাম। অনেকটা স্পাইডার ম্যানের মতো। গাছে, বাশেঁ, ছাদে, দরজা, জানালায় যখনি সু্যোগ পাইতাম তখনি ঝুলে থাকতাম তা ও আবার নেংটা। চুলখানির নাম দিয়ে ৬ বৎসরকাল পযন্ত বস্ত্রহীন ছিলাম। যদিও লজ্জাকর তারপরে ও ভাবতে ভালোলাগে, নেংটা হয়ে পেয়ারা গাছে মনের সুখে দুলছি, দক্ষিনের হিমেল হাওয়া লাগছে কোমল দেহে। আহা কি শান্তি! আহা যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই দিনগুলোতে!

তাই তো বারবার সেই গানটা শুনতে ইচ্ছা করে,,,,,,, ঐ আমি নেংটা ছিলাম ভালোই ছিলাম, ভালোই ছিলো শিশু কাল ,,,, ,,,,,,

অনুভুতিবিহীন শৈশবে আমি প্রথমদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করি। আমার স্পষ্ট স্মরনে আছে, সেদিন আকাশ ছিলো মেঘলা । হাতে গোনার মতো গুটি গুটি বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি বাহানা ধরলাম স্কুলে যাবো। নাছোড়বান্দা, উপায় নাই দেখে মা বললেন, নেংটা যাবি নাকি। যা প্যান্ট পরে আয়।

ভাইয়াদের সাথে রওয়ানা দিলাম স্কুলের উদ্দেশ্যে। হাল্কা ধমকা হাওয়া বইতেছিলো। আমি খাতা আর বই দুই হাতে বুকের সাথে জড়াইয়া ধরে রীতিমতো দৌড়াচ্ছিলাম ভাইয়াদের পেছনে পেছনে। বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব বেশি দুরে নয়। তবে আমার মনে হচ্ছিল হাজারো মাইল পাড়ি দিচ্ছি। স্কুলে যাওয়ার সময় বাজার অতিক্রম করতে হয়। আর বাজারের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে বহুল সৃতি বিজড়িত শংখ নদীর মোহনা। নদীর তখন ভরা যৌবন। রাস্তা কানাকানায় পরিপুন্ন জোয়ারের পানিতে। আমি লুলুপ দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছি পানির দিকে। ইস পানিতে যদি একটু লাফালাফি করতে পারতাম।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.