নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শুণ্যতার নিচে পিয়ানো শুনি...

রাজসোহান

প্রিয় অন্ধকার, আমার পুরোনো বন্ধু তুমি...

রাজসোহান › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের কাছে আসেননি, এই মাঝখানের সাত সেকেন্ডে হলঘরে যা নামে, সেইটা কোনো আয়োজক সহ্য করতে পারেন না। ওই সাত সেকেন্ডে মানুষ মোবাইল বের করে। ওই সাত সেকেন্ডে লোকজন উঠে চলে যাওয়ার কথা ভাবে। ওই সাত সেকেন্ডে সবাই টের পায় যে মরা লোকটার জন্য তাদের আসলে কিছু হচ্ছে না।

আমরা ওই সাত সেকেন্ড ভরাট করি।

প্রতিষ্ঠানের নাম হাসেম ট্রেডার্স। মূল ব্যবসা কাফনের কাপড় ও আতরের পাইকারি। শোক বিভাগ খোলা হয়েছে বছর সাতেক আগে, স্যারের নিজের বুদ্ধিতে। স্যার বলেন, বাজারে যেই জিনিসের চাহিদা আছে অথচ সাপ্লাই নাই, সেই জিনিসেই লাভ।

রেট আছে। কুলখানিতে পাঁচশ। মিলাদ মাহফিলে চারশ, কারণ মিলাদে কাঁদা যায় না বেশি, শুধু ছলছল করতে হয়। চল্লিশায় ছয়শ। রাজনৈতিক শোকসভায় বারোশ, সঙ্গে এক প্যাকেট বিরিয়ানি এবং টিভি ক্যামেরা থাকলে আরো তিনশ। ক্যামেরার সামনের সারিতে বসার জন্য আলাদা বোনাস নেই, কিন্তু আছে, সবাই জানে।

আমার নাম নিয়ে কারো কাজ নেই। এই পেশায় নাম লাগে না। স্যার আমাদের ডাকতেন নম্বর দিয়ে। আমি ছিলাম চার নম্বর। আট বছর কাজ করেছি। মোট কত জায়গায় কেঁদেছি হিসাব রাখিনি, তবে খাতায় থাকার কথা। মৃত মানুষের সংখ্যা যদি জানতে চান, স্যারের অফিসের রেজিস্টার দেখতে হবে। ওখানে সব লেখা আছে। তারিখ, ঠিকানা, মৃতের নাম, বয়স, মৃত্যুর কারণ, কতজন লাগবে, কী গ্রেডের কান্না লাগবে, এবং টাকা পাওয়া গেছে কি না।

শেষ ঘরই সবচেয়ে বেশি ফাঁকা থাকতো। মানুষ শোকের টাকা বাকি রাখতে লজ্জা পায় না। বরং একটা সুবিধা আছে, টাকা চাইতে গেলে বলে, ভাই, বাসায় মেহমান, পরে আসেন।

আমি এই কাজে আসি রনি মারা যাওয়ার আট মাস পর।

রনি আমার ছেলে। বয়স হয়েছিলো নয়। ডেঙ্গু। তিন দিন হাসপাতালে ছিলো, প্লেটলেট নামছিলো, তারপর নামা বন্ধ হলো এবং ডাক্তার বললেন এখন ভালোর দিকে, এবং তার ছয় ঘণ্টা পর সে মারা গেলো। ডাক্তারকে দোষ দিই না। ডাক্তার যা জানেন তাই বলেছেন। শরীর ডাক্তারের কথা শোনে না।

জানাজায় লোক হয়েছিলো অনেক। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন, বাড়িওয়ালা, দোকানের লোকজন, রনির স্কুলের দুইজন স্যার।

আমি কাঁদিনি।

এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। প্রথম দিন কেউ কিছু বলেনি, সবাই ভেবেছে শক। তিন দিনের দিন আমার শাশুড়ি আমার স্ত্রীকে বলেছেন, তোর জামাই পাথর। সাত দিনের দিন পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলা আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছেন, ভাবি, উনি কি আগে থেকেই এমন?

আমার স্ত্রী কিছু বলেনি। সে জানতো। আমি রাতে জেগে থাকতাম, বাথরুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আধা ঘণ্টা, কল ছেড়ে রাখতাম। কিন্তু কান্না আসতো না। ভেতরে এমন শক্ত হয়ে গিয়েছিলো যে ওখানে কোনো জল ছিলো না। মানুষ ভাবে কান্না দুঃখ থেকে আসে। আসে না। কান্না আসে দুঃখের নির্দিষ্ট গভীরতা থেকে। তার চেয়ে বেশি গভীরে গেলে আর ভেজা থাকে না, শুকনো হয়ে যায়।

আট মাস পর বাচ্চু ভাই আমাকে এই কাজের কথা বলে। বাচ্চু ভাই আমাদের গলির চায়ের দোকানে নিয়মিত। সে বললো, আকবর, তুই তো এমনিতেই সারাদিন মরা মানুষের মতো বইসা থাকস, একটু বাইরে গিয়া বইলে টাকা পাবি।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি তো কানতে পারি না।

সে বললো, ওইটা শিখায়া দিবো। ওইটা কোনো ব্যাপারই না।

আমি অনেক পরে বুঝেছি, আমি এই কাজ টাকার জন্য নিইনি। আমি নিয়েছিলাম এই আশায় যে অন্যের মরা মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করতে করতে হয়তো একদিন নিজের মরা মানুষের জন্য কান্না আসবে।

স্ত্রীকে বলিনি আমি কী কাজ করি। সে জানতো আমি একটা ট্রেডার্সে কাজ করি, সাপ্লাইয়ের কাজ, বাইরে বাইরে ঘুরতে হয়। মিথ্যা বলিনি, তবে পুরোটাও বলিনি।

তিন বছরের মাথায় সে জেনে যায়। কীভাবে জেনেছিলো জানি না, সম্ভবত কেউ বলে দিয়েছিলো। সেদিন রাতে ভাত খাওয়ার সময় সে জিজ্ঞেস করলো, তুমি নাকি মানুষের বাড়ি গিয়া কান্দো?

আমি বললাম, হ।

সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, টাকা কেমন?

আমি অবাক হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম রাগ করবে, ঘেন্না করবে, অন্তত জিজ্ঞেস করবে কেন। সে জিজ্ঞেস করলো টাকা কেমন।

পরে বুঝেছি সে আসলে অন্য কিছু জিজ্ঞেস করছিলো। সে জানতে চাইছিলো, তুমি কি ওইখানে গিয়া রনির জন্য কান্দো?

এই প্রশ্ন সে কোনোদিন মুখে করেনি এবং আমি কোনোদিন উত্তর দিইনি। বারো বছর ধরে আমাদের সংসারে এই একটা প্রশ্ন দুইজনের মাঝখানে টেবিলের উপর রাখা আছে, আমরা দুইজন তার দুই পাশে বসে ভাত খাই।

আট বছর লেগেছে। এবং যখন কান্না আসলো, তখন আমার চাকরি চলে গেলো।

প্রশিক্ষণ দিতেন মাস্টার সাহেব। বয়স সত্তরের কাছাকাছি, আগে যাত্রাদলে ছিলেন, বিবেকের পার্ট করতেন। এখন হাসেম ট্রেডার্সের শোক বিভাগে চুক্তিভিত্তিক।

প্রথম দিনই তিনি বলেছিলেন, বাবারা, পেঁয়াজ ভুইলা যাও। পেঁয়াজ হইলো নতুনদের জিনিস। পেঁয়াজে চোখ দিয়া পানি পড়ে, কিন্তু গলা বদলায় না। মানুষ চোখ দেখে না, মানুষ গলা শোনে।

গ্রেড তিনটা।

ক গ্রেড হলো বিলাপ। গলা ছেড়ে, শরীর দুলিয়ে, মাঝে মাঝে মৃতের সঙ্গে সম্পর্কের ডাক দিয়ে। এইটা সবচেয়ে দামি এবং সবচেয়ে ঝুঁকির। ঝুঁকি এই কারণে যে ক গ্রেড শুরু করলে থামা কঠিন, আর নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে গেলে অনুষ্ঠান ভেঙে যায়।

খ গ্রেড ফোঁপানি। এইটাই বেশি চলে। খ গ্রেডে কাঁধ কাঁপে, নাক টানার শব্দ হয়, কিন্তু কথার মাঝখানে ব্যাঘাত ঘটে না। বক্তা বলতে থাকেন, আমরা নিচে ফোঁপাতে থাকি। ভালো জোড়।

গ গ্রেড হলো শুধু চোখ। চশমা খুলে মোছা, রুমাল বের করা, গলা খাঁকারি। মিলাদে, বড় অফিসের শোকসভায়, বিদেশি অতিথি থাকলে এইটা।

মাস্টার সাহেবের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিলো সম্পর্কের। তিনি বলতেন, তুমি খালি কানলে হবে না, তুমি কে হও সেইটা বুঝাইতে হবে। ভাতিজা হইলে এক রকম কান্দা, পাড়ার ছোট ভাই হইলে আরেক রকম। ভাতিজার কান্দায় আফসোস থাকে, ছোট ভাইয়ের কান্দায় থাকে ভক্তি।

আমরা মহড়া দিতাম গুদামঘরে। কাফনের কাপড়ের বান্ডিলের মধ্যে বসে। ছয়জন। মাস্টার সাহেব হাত তুলতেন, আমরা শুরু করতাম। হাত নামালে থামতাম।

আরেকটা নিয়ম ছিলো নাম নিয়ে। মৃত মানুষের নাম ভুল বলা যাবে না, এবং এর চেয়েও বড় কথা, নাম বেশি বলা যাবে না। মাস্টার সাহেব বলতেন, নাম হইলো নুন। ঠিক পরিমাণে দিলে সব খাবার খোলে, বেশি দিলে সব নষ্ট।

একবার নতুন এক ছেলে গুলিয়ে ফেলেছিলো। মৃত ব্যক্তির নাম আবদুল হাই, সে সারা অনুষ্ঠানে বলে গেলো আবদুল হক। শেষে মৃতের ভাগনে এসে জিজ্ঞেস করলো, ভাই আপনে কার কুলখানিতে আসছেন? ছেলেটাকে ওইদিনই বাদ দেয়া হয়।

স্যার তার সম্পর্কে একটা কথা বলেছিলেন যেটা আমার মনে আছে। বলেছিলেন, বেতন কাটলে বুঝতো, কিন্তু নাম ভুল করলে বুঝানো যায় না। যে মানুষের নাম মনে রাখতে পারে না, সে যতই ভালো কান্দুক, তার ভিতরে কিছু নাই।

একদিন মহড়ার মাঝখানে ছোট মিয়া হেসে ফেলেছিলো। মাস্টার সাহেব তাকে বের করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হাসি নিজের মতো আসে, এইটা এই বিভাগে চলবো না।

দলে আমরা ছিলাম নয়জন। ছয়জন পুরুষ, তিনজন নারী। নারী শাখা আলাদা, তাদের দায়িত্বে খালেদা বুবু। তাদের রেট বেশি, কারণ মেয়েদের কান্না ছাড়া কোনো শোকসভা জমে না, এবং পুরুষের কান্না কেউ মনে রাখে না।

খালেদা বুবুর বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। তিনি এই লাইনের সবচেয়ে পুরানো লোক, স্যারের চেয়েও পুরানো। আগে গ্রামে গ্রামে যেতেন, মড়াকান্না গাইতেন, তখন এইটা বিনা পয়সার কাজ ছিলো, লোকে চাল দিতো, কাপড় দিতো। তিনি বলেন, শহরে আইসা দেখি এইখানে সবকিছুর দাম আছে, দুঃখেরও।

তার একটা নিয়ম ছিলো যেটা স্যার কোনোদিন বদলাতে পারেননি। তিনি বাচ্চার জানাজায় যেতেন না। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতেন, ওই কান্দা আমার নিজের সাথে মিশা যায়, তখন আর হিসাব থাকে না।

স্যার একবার জোর করেছিলেন। বড় পার্টি, ভালো টাকা। খালেদা বুবু বলেছিলেন, ভাই, আমি যামু, কিন্তু আমার কান্দার গ্যারান্টি নাই। স্যার তখন পিছিয়ে গিয়েছিলেন। গ্যারান্টি ছাড়া স্যার পাঠান না।

দলের ভেতরে রাজনীতিও ছিলো। সামনের সারিতে কে বসবে এইটা নিয়ে বাচ্চু ভাই আর ছোট মিয়ার তিন বছরের ঝগড়া। সামনের সারি মানে ক্যামেরা, ক্যামেরা মানে বোনাস, বোনাস মানে পরের মাসের বাড়িভাড়া। একবার ছোট মিয়া অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও কাজে এসেছিলো শুধু সিট যেন খালি না যায়।

আমি এসব ঝগড়ায় থাকতাম না। সামনের সারি আমার জিনিস না, আমার কাজ ছিলো অন্য। প্রত্যেকের আলাদা বিশেষত্ব ছিলো।

বাচ্চু ভাইয়ের বিশেষত্ব ছিলো "আহারে" বলা। ঠিক জায়গায়, ঠিক টানে। সে সারা অনুষ্ঠানে হয়তো চোদ্দবার "আহারে" বলতো এবং প্রতিবার হলঘরের অন্তত বিশজন মানুষের গলা ভারী হয়ে যেতো। স্যার তাকে আলাদা ভালোবাসতেন।

ছোট মিয়ার কাজ ছিলো মাটিতে বসে পড়া। মাঝপথে, হঠাৎ, দুই হাতে মাথা চেপে। এইটা ক্যামেরায় ভালো আসে।

আমার বিশেষত্ব ছিলো একটাই, আমি থামতে পারতাম। শুনতে ছোট মনে হয়, কিন্তু এই পেশায় থামতে পারাই আসল দক্ষতা। মিলাদের পর যখন হুজুর মোনাজাত ধরেন, তখন সব কান্না বন্ধ হতে হবে। এক সেকেন্ডে। যে থামতে পারে না, তাকে দুই বছরের বেশি রাখা হয় না।

স্যার একবার নতুন এক ছেলেকে বলেছিলেন, শোনো বাবা, আমরা কান্দাওয়ালা না। আমরা হইলাম সাউন্ড সিস্টেম। মাইক যেমন কথা বলে না, বাজায়, আমরাও তেমন কান্দি না, বাজাই।

কথাটা আমার মনে আছে কারণ ওইদিন আমি বাড়ি ফিরে অনেকক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

আমাদের তদারকি ব্যবস্থাও ছিলো। প্রতি বড় অনুষ্ঠানে একজন যেতেন খাতা নিয়ে, পেছনের সারিতে বসতেন, সাধারণ মানুষের মতো। তিনি লিখতেন কে কখন শুরু করলো, কতক্ষণ চললো, কেউ বেশি করে ফেললো কি না। মাস শেষে সেই খাতা দেখে বেতন ঠিক হতো।

খাতার নাম ছিলো "মান নিয়ন্ত্রণ রেজিস্টার"। খাতার লেখাগুলো এখনো মনে আছে কিছু কিছু। "০৭ নং, শুরু ৪ঃ১২, স্বর মাঝারি, তবে নাক টানার শব্দ অতিরিক্ত।" "০২ নং, বক্তার কথার উপর পড়িয়া গিয়াছে, সতর্ক করা হইল।" "০৪ নং, নির্ভুল।"

চার নম্বর আমি। আট বছরে আমার পাশে সবচেয়ে বেশি যে শব্দ লেখা হয়েছে সেটা নির্ভুল। মাঝে মাঝে ভাবি, একটা মানুষের সারা জীবনের কাজের হিসাব যদি এক শব্দে লিখতে হয় এবং সেই শব্দ হয় নির্ভুল, তাহলে সেই মানুষ আসলে কী বানিয়ে গেলো।

সবচেয়ে বড় কাজ ছিলো এক প্রয়াত সংসদ সদস্যের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। মিলনায়তন ভাড়া করা হয়েছিলো। চেয়ার সাড়ে চারশ। মঞ্চে ব্যানার, ব্যানারে মৃত মানুষের ছবি, ছবির নিচে লেখা "আপনি আমাদের হৃদয়ে চিরঞ্জীব"। তিনটা ক্যামেরা। আমাদের ডাকা হয়েছিলো এগারোজন, অর্থাৎ বাইরে থেকে দুইজন ভাড়া করতে হয়েছিলো।

আয়োজক ছিলেন মৃত ব্যক্তির ছোট ভাই। তিনি নিজেও এখন রাজনীতি করেন এবং আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চান। তিনি স্যারকে যে ব্রিফিং দিয়েছিলেন, সেটা আমি শুনেছি, কারণ আমি তখন পাশের ঘরে চা খাচ্ছিলাম।

দেখেন হাসেম ভাই, বেশি হইলে কিন্তু সমস্যা।

কেন ভাই?

বেশি হইলে মানুষ ভাববো আমরা এখনো দুর্বল। শোক থাকবে, কিন্তু শোকের সাথে শক্তি থাকতে হবে। বুঝছেন?

বুঝছি ভাই। মিডিয়াম কান্দা।

আর একটা কথা। ভাইজানের নাম যতবার আসবে, ততবার না। কয়েকবার বাদ দিবেন। নাইলে কেমন সাজানো লাগে।

জি ভাই, এইটা আমরা জানি। শতকরা সত্তর ভাগে দেই।

এইটা আসল কথা। শতকরা সত্তর ভাগ। স্যারের আবিষ্কার। মৃতের নাম যতবার উচ্চারিত হয়, তার সত্তর ভাগে কান্না, ত্রিশ ভাগে চুপ। একশ ভাগে দিলে ধরা পড়ে যায়। মানুষ সাজানো জিনিস ধরতে পারে যখন সেটা নিখুঁত হয়। মানুষ আসল ভাবে সেই জিনিসকে যেটার মধ্যে সামান্য ফাঁক আছে।

অনুষ্ঠান ভালো হয়েছিলো। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় সারির এক ভদ্রলোক, যিনি আমাদের কেউ না, সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলেছিলেন। বাচ্চু ভাই পরে বলেছিলো, দেখলি তো, আমাগো কাজ ঠিকমতো হইলে ফ্রি জিনিসও পাওয়া যায়। টাকা পুরোটা পাওয়া গিয়েছিলো। এইটা বিরল।
যেদিন সব শেষ হলো, সেদিনের কাজ ছিলো ছোট।

মিরপুরের দিকে, ছয়তলা বাড়ির নিচতলার গ্যারেজে। গ্যারেজ পরিষ্কার করে চাটাই পাতা হয়েছে। মৃত মানুষ এক বাচ্চা। বয়স নয়। কুলখানি।

স্যার আমাদের তিনজনকে পাঠিয়েছিলেন। রেট পাঁচশ করে, বাচ্চা বলে আয়োজকরা দরাদরি করেছিলেন, শেষে চারশ পঞ্চাশে রফা।

আমি যাওয়ার সময় জানতাম না বয়স কত। রেজিস্টারে লেখা থাকে, আমি সেদিন দেখিনি। দেখলে হয়তো যেতাম না। অথবা যেতাম, কারণ আট বছরে আমার এমন অনেক কাজ হয়েছে, বাচ্চার কুলখানি নতুন কিছু না।

গিয়ে বসলাম। চাটাইয়ের ডান দিকে, দেয়ালের কাছে। হুজুর এলেন। সুরা পড়া শুরু হলো। আমি অভ্যাসমতো মৃতের সম্পর্ক ঠিক করে নিলাম, পাড়ার চাচা, খ গ্রেড।

তারপর চোখ গেলো সামনের দিকে। দেয়ালে ঠেস দিয়ে একটা বাঁধানো ছবি রাখা। বাচ্চার। স্কুলের ইউনিফর্মে, চুল আঁচড়ানো, স্টুডিওতে তোলা, পেছনে নীল পর্দা। ছবির পাশে একজোড়া জুতা।

কালো, ফিতাওয়ালা, স্কুলের জুতা। কেউ ওগুলো পালিশ করেছে। সদ্য। কালি এখনো চকচক করছে, এমনকি জুতার তলার কিনারায় যেখানে কালি লাগানোর কথা না, সেখানেও লাগানো।

আমি ওই পালিশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কে করেছে এই কাজ। বাচ্চা মারা গেছে সাতত্রিশ দিন আগে। এই সাতত্রিশ দিনের কোনো এক সকালে বা রাতে এই বাড়ির কেউ একজন ব্রাশ আর কালির কৌটা নিয়ে বসেছে এবং একটা মরা ছেলের জুতা পালিশ করেছে, ভালো করে, দুইবার, এমনকি এমন জায়গায় যেখানে কেউ তাকাবে না।

তারপর ভেতর থেকে কিছু একটা ছুটে গেলো। আমি বলতে পারবো না কীভাবে হলো। আট বছরে আমি এত রকম কান্না বানিয়েছি যে আমার ধারণা ছিলো আমি কান্নার কলকব্জা চিনি। চিনতাম না। যে কান্না এলো সেটা আমার শেখা কোনো জিনিসের সঙ্গে মেলে না। প্রথমে গলা বন্ধ হয়ে গেলো, তারপর বুকের ভেতর টান লাগলো যেন কেউ ভেতর থেকে চামড়া ছিঁড়ছে, তারপর শব্দ বেরোলো।

শব্দ সুন্দর ছিলো না। আমাদের পেশায় কান্নার সুর থাকে। এইটার কোনো সুর ছিলো না। এইটা ছিলো প্রাণীর শব্দ। সমস্যা কান্না না। সমস্যা হলো আমি থামতে পারলাম না।

হুজুর সুরা শেষ করে মোনাজাত ধরলেন। মোনাজাতের সময় সব কান্না বন্ধ। এই পেশার এক নম্বর নিয়ম এবং আমি নিজে নতুনদের এই নিয়ম শিখিয়েছি। আমি থামলাম না।

ছোট মিয়া আমার হাঁটুতে চাপ দিলো। বাচ্চু ভাই পেছন থেকে কনুই দিয়ে গুঁতা দিলো। আমি টের পেয়েছি, কিন্তু ব্যাপারটা তখন আর আমার হাতে নেই।

মোনাজাত থেমে গেলো। মানুষ ঘুরে তাকালো।

তারপর যেটা হলো সেটা সবচেয়ে খারাপ। মৃত বাচ্চার মা ভেতরের ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। মহিলা এতদিন কাঁদেননি বলে শুনেছিলাম, পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বেরিয়ে এসে গ্যারেজের দরজায় দাঁড়ালেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

আমি তখনো কাঁদছি। তিনি এগিয়ে এলেন। আমার সামনে বসে পড়লেন। আমার হাত ধরলেন।

জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কে হন?

আমি জবাব দিতে পারিনি। আমার প্রশিক্ষণে এই প্রশ্নের জবাব আছে, ছয় রকমের জবাব আছে, আমি একটাও ব্যবহার করতে পারলাম না।

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার ছেলেরে চিনতেন?

তখন আমি মাথা নেড়ে না বললাম।

মহিলা আমার হাত ছেড়ে দিলেন। উঠে দাঁড়ালেন। ভেতরে চলে গেলেন। এবং তার পরপরই বাড়ির লোকজন আমাদের তিনজনকে বাইরে বের করে দিলো, চারশ পঞ্চাশ টাকা করে ধরিয়ে দিয়ে, কেউ কোনো খারাপ কথা বললো না, বরং একজন দুঃখিতও বললো।

রাস্তায় বাচ্চু ভাই সিগারেট ধরিয়ে বললো, আকবর, তুই কি বাচ্চারে চিনতি?

আমি বললাম, না।

তাইলে?

আমি জবাব দিইনি। কারণ জবাব বললে বাচ্চু ভাই বিশ্বাস করতো না। জবাব হলো, আমি কারো জন্য কাঁদিনি। আট বছর ধরে জমা কান্না একটা পালিশ করা জুতা দেখে বেরিয়ে গেছে। এইটুকুই।

সেদিন রাতে বাসায় ফিরে আমি খেয়ে নিলাম, শুয়ে পড়লাম, এবং ঘুমিয়ে গেলাম। আট বছরের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো ঘুম।

চিঠি এসেছিলো চার দিন পর। হাসেম ট্রেডার্সের প্যাডে, নিচে স্যারের সই ও সিল।

"বরাবর, জনাব আকবর আলী, ক্রন্দনকারী, ক্রমিক নং ০৪, শোক বিভাগ।

বিষয়: কারণ দর্শানো নোটিশ।

আপনার অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, গত ১৯ তারিখ মিরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক কুলখানি অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে আপনার বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত অভিযোগসমূহ উত্থাপিত হইয়াছে।

এক। নির্ধারিত মানমাত্রা লঙ্ঘন করিয়া অনুমোদিত সীমার অধিক উচ্চস্বরে ক্রন্দন।

দুই। মোনাজাত চলাকালীন ক্রন্দন অব্যাহত রাখা, যাহা প্রতিষ্ঠানের এক নম্বর পরিচালনা নীতির সুস্পষ্ট পরিপন্থী।

তিন। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সহিত অননুমোদিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন।

চার। উক্ত পরিবারের নিকট নিজ পরিচয় প্রদানে ব্যর্থ হইয়া প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।

পাঁচ। সর্বোপরি, পেশাগত ক্রন্দনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও অনিয়ন্ত্রিত ক্রন্দন প্রদর্শন, যাহা এই প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও চরিত্রের সহিত সাংঘর্ষিক।

উক্ত বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হইল। অন্যথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।"

আমার নাম আমি এই চিঠিতেই প্রথম ছাপার অক্ষরে দেখলাম। আট বছর ধরে সবাই আমাকে চার নম্বর ডেকেছে। আমি জবাব লিখলাম। হাতে, খাতার কাগজে।

"জনাব, আমার বিরুদ্ধে আনীত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে চারটি আমি স্বীকার করিতেছি। এক, দুই, তিন ও চার নম্বর সত্য।

পাঁচ নম্বর অভিযোগ সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, ওই দিন আমি ব্যক্তিগত কারণে কাঁদি নাই। আমি কাহারো জন্য কাঁদি নাই। আমার নিজের সন্তান আট বছর আগে মারা গিয়াছে এবং তাহার জন্যও আমি ওই দিন কাঁদি নাই।

আমার ধারণা, ওই দিন যাহা ঘটিয়াছে তাহার জন্য কোনো কারণ ছিল না। এমনি আসিয়াছে। কারণ ছাড়া যাহা আসে তাহার উপর কর্মচারীর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

অতএব, বিনীত নিবেদন এই যে, উক্ত অভিযোগ পেশাগত অসদাচরণ হিসাবে গণ্য না করিয়া অনিবার্য কারণ হিসাবে বিবেচনা করিবেন।"

আমি জানতাম এই জবাবে কাজ হবে না। তবু লিখেছিলাম, কারণ আট বছরে ওইটাই ছিলো একমাত্র লেখা যেটা আমি নিজের কথা লিখেছি।

শুনানি হলো গুদামঘরে। স্যার, মাস্টার সাহেব, আর হিসাবরক্ষক ফরিদ ভাই। স্যার আমার জবাবের কাগজ দুইবার পড়লেন। তারপর চশমা খুলে বললেন, আকবর, তুমি আট বছরের পুরানা লোক। আমি তোমারে ভালোবাসি। কিন্তু একটা কথা কও, তুমি কি বুঝো তুমি কী করছো?

জি স্যার। নিয়ম ভাঙছি।

না। তুমি নিয়ম ভাঙো নাই। নিয়ম ভাঙা মাফ করা যায়। তুমি জিনিসটা নষ্ট করছো।

কোন জিনিস স্যার?

স্যার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে যা বললেন, সেইটা আমি এখনো ভুলি নাই।

শোনো। আমরা যেই কান্দা বেচি, ওইটার একটা সীমানা আছে। মানুষ শোকসভায় আইসা একটু কষ্ট পাইতে চায়, বেশি না, একটু। যতটুকু পাইলে চোখ ভিজে কিন্তু জামা ভিজে না। আমাদের কাজ ওই মাপ ধইরা রাখা। তুমি ওই দিন মাপ ছাইড়া দিছো।

স্যার, আমি তো ইচ্ছা কইরা...

ইচ্ছার কথা কে জিগাইলো? শোনো, তুমি যখন সত্যিকারের কানলা, তখন হলঘরের চল্লিশটা মানুষ কী করলো? তারা মরা পোলার কথা ভুইলা নিজের নিজের মরা মানুষের কথা মনে করলো। ওই মহিলা তোমার হাত ধইরা জিগাইলো তুমি কে হও। কেন জিগাইলো? কারণ তোমার কান্দা শুইনা তার মনে হইছে তুমি কেউ একজন হও।

এইটা কি খারাপ স্যার?

এইটাই সবচেয়ে খারাপ। কাস্টমারের ঘরে তুমি ঢুইকা পড়ছো। আমাদের বাইরে থাকতে হয়। বাইরে থাইকা শব্দ দিতে হয়। ভিতরে ঢুকলে আর সাপ্লায়ার থাকা যায় না।

মাস্টার সাহেব এতক্ষণ চুপ ছিলেন। তিনি বললেন, বাবা, আসল কান্দা অপেশাদার। আসল কান্দা থামে না, সময় মানে না, আর সবচেয়ে বড় কথা, আসল কান্দা কারো কামে আসে না।

সিদ্ধান্ত হলো চাকরিচ্যুতি। এক মাসের বেতন দেয়া হলো, বকেয়া তিনটা কাজের টাকা দেয়া হলো, এবং গুদাম থেকে বের হওয়ার সময় ফরিদ ভাই আমার হাতে এক প্যাকেট আতর ধরিয়ে দিলেন, বিদায়ী উপহার।

আতর এখনো আছে। খোলা হয়নি। এরপর আমি অনেক কিছু করেছি। একটা কুরিয়ার অফিসে ছয় মাস, তারপর এক আত্মীয়ের দোকানে, এখন একটা মেসের ম্যানেজারি করি। সহজ কাজ, বাজার করা আর ভাড়া তোলা।

মাঝে মাঝে বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়। শোক বিভাগ এখনো চলছে, বরং আগের চেয়ে ভালো চলছে, স্যার নাকি এখন অনলাইনেও অর্ডার নেন। বাচ্চু ভাই বলে, তুই ফিরা আয়, স্যার নিবো, স্যারের রাগ নাই।

আমি যাই না। কারণ একটা সমস্যা আছে যেটা আমি বাচ্চু ভাইকে বলিনি। ওই দিনের পর আমি আর কাঁদতে পারি না। বানানোও না, আসলও না।

প্রথম কয়েক মাস আমি চেষ্টা করেছি। রাতে বাথরুমে গিয়ে কল ছেড়ে দাঁড়িয়েছি, ঠিক আট বছর আগের মতো। মাস্টার সাহেবের শেখানো সবকিছু ধরে ধরে করেছি। সম্পর্ক ঠিক করা, গলা নামানো, শ্বাস ছোট করা। কিছু আসেনি।

একদিন পেঁয়াজও কেটেছিলাম। চোখ জ্বললো, জল পড়লো, নাক দিয়ে জল এলো। শব্দ এলো না। তখন বুঝলাম মাস্টার সাহেব ঠিকই বলতেন। মানুষ চোখ দেখে না। এমনকি নিজের বেলায়ও না।

আমার ধারণা, কান্না মানুষের ভেতর একবারই জমা হয়। কেউ সেটা খরচ করে সময়মতো, ধীরে ধীরে, বছরের পর বছর ধরে অল্প অল্প করে। আমি জমিয়ে রেখেছিলাম। তারপর একদিন পুরোটা একসঙ্গে ঢেলে দিয়ে এসেছি এমন এক বাচ্চার জন্য যার নাম পর্যন্ত আমি জানি না, এবং তার বিনিময়ে চারশ পঞ্চাশ টাকা নিয়ে এসেছি।

গত বছর আমার শাশুড়ি মারা গেলেন। ঘরভর্তি মানুষ, সবাই কাঁদছে, আমার স্ত্রী মেঝেতে পড়ে আছে, আর আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি শুকনো চোখে, ঠিক আট বছর আগের মতো। পাশের ফ্ল্যাটের সেই ভদ্রমহিলা আবার তাকিয়েছিলেন। এতদিনে তার সন্দেহ প্রমাণ হয়েছে।

গত শুক্রবার আমি রনির কবরে গিয়েছিলাম। অনেকদিন পর। জায়গা চিনতে অসুবিধা হয়নি, পাশের কবরে মেহেদি গাছ আছে।

আমি বসলাম। বসে থাকলাম অনেকক্ষণ। কিছু হলো না। ফেরার পথে গোরস্থানের গেটের বাইরে কুলখানির আয়োজন চলছিলো। সামিয়ানা, চেয়ার, মাইক। আমি দাঁড়িয়ে দেখলাম। ভেতরে চারজন লোক বসে আছে সামনের সারিতে, তাদের মধ্যে দুইজনকে আমি চিনি।

শব্দ শুরু হলো ঠিক সময়ে। উঠলো, নামলো, থামলো।

চমৎকার কাজ। কোথাও এতটুকু ফাঁক নেই।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসাধারণ

২| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর লেখা।

৩| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কান্নার আবার রকম ফের ???
দুনিয়াটা আজব কারখানা !!!

৪| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪৬

সামিয়া বলেছেন: এই কনসেপ্টে একটা বলিউড মুভি দেখেছিলাম অনেক পুরোনো মুভি, প্রধান ক্যারেক্টার এক নারীকে, যাকে টাকা দিয়ে কারও মৃত্যুর সময় কাঁদার জন্য ভাড়া করা হয়। রাজস্থানের কিছু অঞ্চলে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। বিশেষ করে উচ্চবর্ণ বা অভিজাত পরিবারের কোনো পুরুষ মারা গেলে পরিবারের নারীরা সামাজিক রীতিনীতির কারণে প্রকাশ্যে কান্না বা শোক প্রকাশ করতে পারতেন না। তাই বাইরে থেকে পেশাদার শোক প্রকাশকারী নারী আনা হতো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.