নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন জেনারেল ব্লগারের নিজের সম্পর্কে বলার কিছু থাকে না ।

আবদুর রব শরীফ

যদি তোর লেখা পড়ে কেউ না হাসে তবে একলা হাসো রে!

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কাঁদো বাংলাদেশ কাঁদো

১৪ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৩৯

১৯৬৪ সাল, পূর্ব পাকিস্তানে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় বঙ্গবন্ধুর নিজ বাসায় আশ্রয় নেওয়া সংখ্যা লঘুদের নিয়ে চলছিলো আনন্দ ফূর্তি খাওয়া দাওয়া আর মিলন মেলা ৷ এমন নেতা একজন ই ৷
.
শেখ মুজিব নিজে জিপ নিয়ে গিয়ে হিন্দু পরিবারদের উদ্ধার করে নিজ বাসার মেহমান করে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির নজির স্থাপন করেছিলেন তার ই জন্মশতবার্ষিকীতে একজন চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক নরেন্দ্র মোদীকে প্রধান অতিথি করে নিয়ে আসার কথা ছিলো ৷ ভাগ্যিস করোনা বাঁচিয়েছে আমাদের ৷
.
সুতরাং তার মৃত্যুবার্ষিকীতে নতুন করে তেমন কিছু বলার নেই ৷ শুধু বলবো, কোথাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নামক কিছুর দেখা মিললে জীবন ধন্য হতো ৷ এখন কেবলি যা বের হয় তা দীর্ঘশ্বাস ৷
.
বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল আদর্শ যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতাবাদ সেখানে আমি জানিনা কোন যুক্তিতে এমন সিন্ধান্তগুলো নেয় তার হাতে গড়া দল ৷
.
২০০২ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের সময় দাঙ্গার কারণে রাজ্যের ভেতর ও বাইরে থেকে মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার দাবী স্বয়ং ভারতেই উঠেছিলো!
.
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী স্বয়ং দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে আজকের ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে গুজরাটের সমস্ত্য নাগরিকদের সমান চোখে দেখার অনুরোধ এবং তার পদত্যাগের দাবীও করেছিলেন,
.
আবারো প্রশ্ন রেখে গেলাম, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে আপনি কিভাবে শেখ মুজিবের মূলগত আদর্শের একজন বিপরীত মানুষকে তার ই জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধান চেয়ারে বাসাতে চেয়েছিলেন ৷
.
২০১১ সালে এই মোদী আবার মুসলিমদের চোখে ভালো সাজার জন্য গুজরাটের শান্তি, সমৃদ্ধি ও একতার প্রতীকি স্বরূপ টানা একের পর এক উপবাস অনশন শুরু করেছিলেন,
.
তাতে খুশি হয়ে এক মুসলিম ধর্মীয় প্রচারক সৈয়দ ইমাম শাহী সায়েদ তাকে টুপি উপহার দিতে গেলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন ৷
.
সাময়িক খোলস পাল্টালেও অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা বীজ তা বিংশ শতাব্দির আগে থেকে রয়ে গেছে,
.
তেমনি এখনো মুখে মধু অন্তরে বিষ নিয়ে অনেকেই মুজিব কোট পরে ঘুরছে প্রতিনিয়ত ৷
.
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সুযোগ বুঝে আবার যেভাবে খোলস থেকে বের হয়েছিলেন মোদী সরকার ! একের পর এক দাঙ্গায় জ্বলছে ভারত! আরো বিস্তার ঘটেছে সাম্প্রদায়িকতার!
.
এরি মাঝে তরতর করে এগিয়ে এসেছিলো বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ,
.
আর ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা হারানোর ভয়ে, সাম্প্রদায়িকতার আদর্শে উজ্জীবিত এমন নেতার পক্ষে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন কালো কোট পরা কিছু ভদ্রলোক ৷ তারা আবারো বলবে, শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে ৷
.
ইতিহাস কথা বলে, একদিন কথা বলবে,
.
মোদীর জায়গায় বঙ্গবন্ধু থাকলে, তিনি দিল্লীর মুসলিম পরিবারদের বাসায় নিয়ে গিয়ে ঘরোয়া পিকনিকের আয়োজন করে দেখিয়ে দিতেন কিভাবে দাঙ্গা মোকাবেল করতে হয়
.
এখন তো আলু চাষ থেকে শুরু করে পুকুর খনন প্রায় সব কাজ শিখতে সরকারি কর্মকর্তারা বাহিরে যাচ্ছেন এমন খবর ছাপা হয়,
.
এমন কি হতে পারতো না, বঙ্গবন্ধুর দল থেকে অসম্প্রদায়িকতা শেখার জন্য তার জন্মশতবার্ষিকীতে মোদীকে ভারত থেকে সরকারি খরচে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো ৷ অনেক কিছু হয়নি ৷ তবুও প্রতিবছর আসের গুরুর মৃত্যু দিবস ৷ কাঁদে বাংলাদেশ কাঁদে ৷ আমরা চেয়ে থাকি ৷ থাকবো ৷

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:২২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

কেঁদেছি অনেক পয়তাল্লিশ বছর ধরে
আর আমি কাঁদবোনা। শোককে আমি
শক্তিতে পরিনত করে ঘুরে দাড়াতে চা্ই।
সাহস দাও আর আমাকে কাঁদতে বলোনা।

২| ১৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: বাঙ্গালীদের তো সারা বছরই কাঁদতে হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.