| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফেইসবুকের তখন ফ কিংবা ব কিছুই বুঝি না । এলাকার বড়ো ভাই রে দেখি সারা দিন মোবাইল গুতায় । আমার সাথে দেখা হলেই মোবাইল টা সামনে এনে মোবাইলের ভিতরে থাকা সুন্দর সুন্দর ম্যাইয়ার ছবি দেখায় ।
আমি চোখ কচলিয়ে ভাইরে জিগাই,
-এগুলো আপনার মোবাইলে কেমতে আসে ?
বড়ো ভাই পিঠে চাপড় দিয়ে হাসি হাসি মুখে বলে,
-এর নাম ফেইসবুক । তুই খুললে তোর মোবাইলে ও এমন সুন্দর সুন্দর ম্যাইয়ার ছবি আইবো ।
বড়ো ভাইয়ের কথা শুনে মনে হইলো ফেইসবুক আমারো একখান খুব দরকার । কিন্তু লজ্জায় ভাইরে কইতে পারি না ।
শেষে চোখ বন্ধ করে ভাইরে বলেই ফেললুম,
-ভাই আমার মোবাইলেও ফেইসবুক আইন্যা দিবেন ?
বড়ো ভাই এমন ভাবে মাথা ঝাকালো যেনো কাজটা বেশ কঠিন । তিনি আমারে আমতা আমতা করে বললেন,
- অনেক জটিল ব্যাপার । তুমি ছোটো ভাই খুলে তো দিতেই হয় । তয় আমেরিকার অফিসে তোমার নাম কম্পিউটারাইজ, ইন্টারনেট প্রসেসিং, হোম প্রোফাইল ডাউনলোড করাইতে কিছু টাকা পয়সা খরচ হইবো আর কি ।
আমেরিকার অফিসে নাম যাইবো শুনে তো আমার তেতুল তেতুল হওয়া অবস্হা ।
খুশিতে হাবু ডুবু খাইতে খাইতে ভাঙা ভাঙা গলায় ভাইরে কইলাম,
-কতো টাকা লাগবো ভাই?
বড়ো ভাই এমন ভাবে
উপরের দিকে তাকাইলো যেনো মাথার উপরেই আমেরিকার অফিস ।তারপর কিছু ক্ষণ কি জানি ভেবে ভাবুক ভাব নিয়ে বললো,
-সব মিলিয়ে পাচশ টাকার মতো লাগতে পারে ।
টাকা কোনো ব্যাপারই না ভাব নিয়া ভাইরে নিজের মোবাইলে ফেইসবুক আনার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাইয়া বিদায় নিলাম।
পরদিন টাকা সহ বড়ো ভাইয়ের কাছে হাজির ।
বড়ো ভাই প্রথমে নিজের মোবাইলে কি জানি গুতাগুতি করলো ।আমি তাজমহল দেখার মতো মুগ্ধ নয়নে উনার মোবাইল এর স্ক্রিনের দিকে তাকাইয়া আছি ।
এরপর আমার ইন্টার ভিউ নেওয়া শুরু হইয়া গেলো,
নাম কি?
কই থাকি?
কি করি ?
ব্লা ব্লা ব্লা ।
বড়ো ভাই এক হাতে মোবাইল অন্য হাত দিয়ে সিগারেটে টান দিয়ে আমার মোবাইলে ম্যাইয়াদের ফডো দেখাইয়া বললো,
-ফেইসবুক পছন্দ হইসে ?
-জ্বি ভাই ।
-ম্যাইয়া গুলা পছন্দ হইছে??
ভাইয়ের কথায় একটু লজ্জা পাইলুম । মাথা নিচু করে কইলাম,
-জ্বি ভাই ।
-যে ম্যাইয়ারে পছন্দ হইবো এড এ টিপ দিবা ম্যাইয়া তোমার বন্ধু হওয়ার দাওয়াত পাইবো ।
-তাহলে এখন একজনরে দাওয়াত দিয়া দেখি ভাই?
-হুম দিতে পারো । তবে আমারে না জানাইয়া কাউকে দিবা না । আমেরিকা থেকে তোমার ফেইসবুক নষ্ট করে দিবো ।
-জ্বি ভাই ।
রাতে আর ঘুম আসে না । চক্ষে খালি সুন্দর সুন্দর ছবি ভাসে ।
কতো মেয়েরেই পছন্দ হয় তয় ভাইরের অনুমতি ছাড়া বন্ধুর দাওয়াত দিতে ভয় লাগে ।
নীল ড্রেসের মেয়েটারে দেইখ্যা বুকের মাঝে ধাক্কা লাগলো । মেয়ের চোখ গুলান কত্তো সুন্দর ।
ঠিক যেনো হেলেন আফা ।
এই ম্যাইয়ারে দাওয়াত দিতেই হইবেক ।
ভাইয়ের অনুমতি নেওয়া দরকার । কিন্তু এতো রাতে ভাইরে ফোন দিলে ভাই রাগ করবে ।
ঐ কয়েক সপ্তাহে ভাইয়ের অনুমুতি নিয়া কতো মেয়েরই দাওয়াত দিলাম কেউ দাওয়াত রাখে না ।
যা হওয়ার হবে ভাবতে ভাবতে
তাই ভাইয়ের অনুমতি ছাড়াই কাপা কাপা হাতে "ডানাবিহীন নীল পরি" কে বন্ধুর দাওয়াত দিয়েই ফেললুম ।
না এবার কাজ হইছে । চিক্কুর দিয়া উঠে বসলাম । নীল পরি দাওয়াত রক্ষা করছে ।
বড়ো ভাই কইছিল কেউ দাওয়াত রক্ষা করলে কিছু নিয়ম কানুনের ব্যাপার আছে । তারে ধইন্যো বাদ জানাইতে হয় ।
নিয়ম ভাঙ্গা খারাপ জিনিস । তাই মেয়ের ওয়ালে গিয়া ধইন্যো বাদ লিখে আসলাম ।
আমি খুশিতে আবারো নড়ে চড়ে বসলাম । মেয়ে আমারে Wc লিখছে ।
Wc কি তা আমার মোটা মাথায ঢুকে না । বড়ো ভাইরে বললে হয়তো জানা যাবে ।
কিন্তু বড়ো ভাইরে জানানো যাবে না ব্যাপার টা । উনার অনুমতির অনুভুতিতে আঘাক লাগতে পারে ।
অনেক দিন কেটে গেলো । নীল পরির সাথে সম্পর্ক ভালো । আমরা সারা দিন রাত মেসেজ মেসেজ খেলা করি । বড়ো ভাইয়ের অজান্তেই গভীর প্রেম চলতে থাকে ওর সাথে ।
নীল পরি আমারে মিসকল মারে । আমি ফোন দেই । নীল পরি কিছুক্ষণ নীরব থেকে ফোন কেটে দেয় ।
আমার বুকের চারপাশ চিনচিনে ব্যাথা করে । নীল পরির কন্ঠ শুনতে মুন্চায় ।কিন্তু নীল পরি কিছুতেই কথা বলে না ।
নীল পরির মন ভালো নেই । কারণ ওর এক হাজার টাকার খুবইই দরকার ।
নীল পরির মন খারাপ মানে আমার মন খারাপ । এদিক ওদিক আর কিছু না ভেবেই আমি ওকে টাকা পাঠিয়ে দেই ।
নীল পরি সেদিন অনেক খুশি । আমাকে খুশিতে ভালবাসার ইমো দেয় । আমি ইমোর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি । অদ্ভূত সুখের ব্যাথা আসে মনে ।
মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না নীল পরি নামটা কেনো আজ কালো হয়ে আছে । কালো দুঃখের প্রতীক । নীল পরি কি আবার কষ্ট পেয়েছে ভাবতে ভাবতে ওকে মেসেজ দিতে যাই ।
কিন্তু মেসেজ যায় না । লাল লাল কি জানি ভাসে । খুব অসহায় লাগে । মোবাইলে ওর নামটার উপর নিজের অজান্তেই এক ফোটা চোখের পানি পড়ে যায় ।
বড়ো ভাইয়ের পাশাপাশি দাড়িয়ে আছি । বড়ো ভাই অপরাধীর চোখে আমার দিকে তাকালেন ।
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আমেরিকার অফিস দেখার চেষ্টা করছি ।
বড়ো ভাই আমার কাধে হাত রেখে বললেন,
কষ্ট পেয়ে লাভ নেই । তোকে ব্লক মারছে । কারণ ঐটা ফেইক আইডি ।
আমি হা করে বড়ো ভাইয়ের দিকে তাকায় । বড়ো ভাইয়ের চোখে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ । আমি সেই আনন্দের উত্স খুজার চেষ্টা করি । কিন্তু আমি পারছি না । আমার মাথায় ফেইক নামক নিষ্টুর শব্দটা ঝিঝি পোকার মতো ভয়ানক শব্দ করে যাচ্ছে ।।।
(এটা নিছক একটা গল্প । কারো সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ি নহে । নিজের দায় নিজেই নিতে হবে)
#অবুঝ_অরণ্য
©somewhere in net ltd.