নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অবুঝ অরন্য

অবুঝ অরন্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

"একটি ফেইক আইডি এবং অতঃপর আমি"

২৫ শে আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৩:২৮

ফেইসবুকের তখন ফ কিংবা ব কিছুই বুঝি না । এলাকার বড়ো ভাই রে দেখি সারা দিন মোবাইল গুতায় । আমার সাথে দেখা হলেই মোবাইল টা সামনে এনে মোবাইলের ভিতরে থাকা সুন্দর সুন্দর ম্যাইয়ার ছবি দেখায় ।

আমি চোখ কচলিয়ে ভাইরে জিগাই,

-এগুলো আপনার মোবাইলে কেমতে আসে ?

বড়ো ভাই পিঠে চাপড় দিয়ে হাসি হাসি মুখে বলে,

-এর নাম ফেইসবুক । তুই খুললে তোর মোবাইলে ও এমন সুন্দর সুন্দর ম্যাইয়ার ছবি আইবো ।



বড়ো ভাইয়ের কথা শুনে মনে হইলো ফেইসবুক আমারো একখান খুব দরকার । কিন্তু লজ্জায় ভাইরে কইতে পারি না ।



শেষে চোখ বন্ধ করে ভাইরে বলেই ফেললুম,

-ভাই আমার মোবাইলেও ফেইসবুক আইন্যা দিবেন ?



বড়ো ভাই এমন ভাবে মাথা ঝাকালো যেনো কাজটা বেশ কঠিন । তিনি আমারে আমতা আমতা করে বললেন,

- অনেক জটিল ব্যাপার । তুমি ছোটো ভাই খুলে তো দিতেই হয় । তয় আমেরিকার অফিসে তোমার নাম কম্পিউটারাইজ, ইন্টারনেট প্রসেসিং, হোম প্রোফাইল ডাউনলোড করাইতে কিছু টাকা পয়সা খরচ হইবো আর কি ।



আমেরিকার অফিসে নাম যাইবো শুনে তো আমার তেতুল তেতুল হওয়া অবস্হা ।

খুশিতে হাবু ডুবু খাইতে খাইতে ভাঙা ভাঙা গলায় ভাইরে কইলাম,

-কতো টাকা লাগবো ভাই?



বড়ো ভাই এমন ভাবে

উপরের দিকে তাকাইলো যেনো মাথার উপরেই আমেরিকার অফিস ।তারপর কিছু ক্ষণ কি জানি ভেবে ভাবুক ভাব নিয়ে বললো,

-সব মিলিয়ে পাচশ টাকার মতো লাগতে পারে ।





টাকা কোনো ব্যাপারই না ভাব নিয়া ভাইরে নিজের মোবাইলে ফেইসবুক আনার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাইয়া বিদায় নিলাম।



পরদিন টাকা সহ বড়ো ভাইয়ের কাছে হাজির ।

বড়ো ভাই প্রথমে নিজের মোবাইলে কি জানি গুতাগুতি করলো ।আমি তাজমহল দেখার মতো মুগ্ধ নয়নে উনার মোবাইল এর স্ক্রিনের দিকে তাকাইয়া আছি ।

এরপর আমার ইন্টার ভিউ নেওয়া শুরু হইয়া গেলো,

নাম কি?

কই থাকি?

কি করি ?

ব্লা ব্লা ব্লা ।



বড়ো ভাই এক হাতে মোবাইল অন্য হাত দিয়ে সিগারেটে টান দিয়ে আমার মোবাইলে ম্যাইয়াদের ফডো দেখাইয়া বললো,

-ফেইসবুক পছন্দ হইসে ?

-জ্বি ভাই ।

-ম্যাইয়া গুলা পছন্দ হইছে??

ভাইয়ের কথায় একটু লজ্জা পাইলুম । মাথা নিচু করে কইলাম,

-জ্বি ভাই ।

-যে ম্যাইয়ারে পছন্দ হইবো এড এ টিপ দিবা ম্যাইয়া তোমার বন্ধু হওয়ার দাওয়াত পাইবো ।

-তাহলে এখন একজনরে দাওয়াত দিয়া দেখি ভাই?

-হুম দিতে পারো । তবে আমারে না জানাইয়া কাউকে দিবা না । আমেরিকা থেকে তোমার ফেইসবুক নষ্ট করে দিবো ।

-জ্বি ভাই ।



রাতে আর ঘুম আসে না । চক্ষে খালি সুন্দর সুন্দর ছবি ভাসে ।

কতো মেয়েরেই পছন্দ হয় তয় ভাইরের অনুমতি ছাড়া বন্ধুর দাওয়াত দিতে ভয় লাগে ।



নীল ড্রেসের মেয়েটারে দেইখ্যা বুকের মাঝে ধাক্কা লাগলো । মেয়ের চোখ গুলান কত্তো সুন্দর ।

ঠিক যেনো হেলেন আফা ।

এই ম্যাইয়ারে দাওয়াত দিতেই হইবেক ।

ভাইয়ের অনুমতি নেওয়া দরকার । কিন্তু এতো রাতে ভাইরে ফোন দিলে ভাই রাগ করবে ।



ঐ কয়েক সপ্তাহে ভাইয়ের অনুমুতি নিয়া কতো মেয়েরই দাওয়াত দিলাম কেউ দাওয়াত রাখে না ।

যা হওয়ার হবে ভাবতে ভাবতে

তাই ভাইয়ের অনুমতি ছাড়াই কাপা কাপা হাতে "ডানাবিহীন নীল পরি" কে বন্ধুর দাওয়াত দিয়েই ফেললুম ।



না এবার কাজ হইছে । চিক্কুর দিয়া উঠে বসলাম । নীল পরি দাওয়াত রক্ষা করছে ।

বড়ো ভাই কইছিল কেউ দাওয়াত রক্ষা করলে কিছু নিয়ম কানুনের ব্যাপার আছে । তারে ধইন্যো বাদ জানাইতে হয় ।

নিয়ম ভাঙ্গা খারাপ জিনিস । তাই মেয়ের ওয়ালে গিয়া ধইন্যো বাদ লিখে আসলাম ।



আমি খুশিতে আবারো নড়ে চড়ে বসলাম । মেয়ে আমারে Wc লিখছে ।

Wc কি তা আমার মোটা মাথায ঢুকে না । বড়ো ভাইরে বললে হয়তো জানা যাবে ।

কিন্তু বড়ো ভাইরে জানানো যাবে না ব্যাপার টা । উনার অনুমতির অনুভুতিতে আঘাক লাগতে পারে ।



অনেক দিন কেটে গেলো । নীল পরির সাথে সম্পর্ক ভালো । আমরা সারা দিন রাত মেসেজ মেসেজ খেলা করি । বড়ো ভাইয়ের অজান্তেই গভীর প্রেম চলতে থাকে ওর সাথে ।

নীল পরি আমারে মিসকল মারে । আমি ফোন দেই । নীল পরি কিছুক্ষণ নীরব থেকে ফোন কেটে দেয় ।

আমার বুকের চারপাশ চিনচিনে ব্যাথা করে । নীল পরির কন্ঠ শুনতে মুন্চায় ।কিন্তু নীল পরি কিছুতেই কথা বলে না ।



নীল পরির মন ভালো নেই । কারণ ওর এক হাজার টাকার খুবইই দরকার ।

নীল পরির মন খারাপ মানে আমার মন খারাপ । এদিক ওদিক আর কিছু না ভেবেই আমি ওকে টাকা পাঠিয়ে দেই ।



নীল পরি সেদিন অনেক খুশি । আমাকে খুশিতে ভালবাসার ইমো দেয় । আমি ইমোর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি । অদ্ভূত সুখের ব্যাথা আসে মনে ।



মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না নীল পরি নামটা কেনো আজ কালো হয়ে আছে । কালো দুঃখের প্রতীক । নীল পরি কি আবার কষ্ট পেয়েছে ভাবতে ভাবতে ওকে মেসেজ দিতে যাই ।

কিন্তু মেসেজ যায় না । লাল লাল কি জানি ভাসে । খুব অসহায় লাগে । মোবাইলে ওর নামটার উপর নিজের অজান্তেই এক ফোটা চোখের পানি পড়ে যায় ।





বড়ো ভাইয়ের পাশাপাশি দাড়িয়ে আছি । বড়ো ভাই অপরাধীর চোখে আমার দিকে তাকালেন ।

আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আমেরিকার অফিস দেখার চেষ্টা করছি ।

বড়ো ভাই আমার কাধে হাত রেখে বললেন,

কষ্ট পেয়ে লাভ নেই । তোকে ব্লক মারছে । কারণ ঐটা ফেইক আইডি ।

আমি হা করে বড়ো ভাইয়ের দিকে তাকায় । বড়ো ভাইয়ের চোখে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ । আমি সেই আনন্দের উত্‍স খুজার চেষ্টা করি । কিন্তু আমি পারছি না । আমার মাথায় ফেইক নামক নিষ্টুর শব্দটা ঝিঝি পোকার মতো ভয়ানক শব্দ করে যাচ্ছে ।।।



(এটা নিছক একটা গল্প । কারো সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ি নহে । নিজের দায় নিজেই নিতে হবে)





#অবুঝ_অরণ্য







মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.