নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অবুঝ অরন্য

অবুঝ অরন্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

"একজন অসহায় নূর হোসেন"

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:২৯

লোকটা সাহায্যের থালাটা আমার দিকে এগিয়ে দিলো ।

সূর্যের আলোতে থালাটা চকচক করছে ।



আমি লোকটার দিকে তাকালাম ।

পরনে সবুজ রঙের ছেড়া একটা লুঙ্গি ।

লুঙ্গির একপাশে একটা নতুন স্টিকার । স্টিকারের গায়ে লিখা "আমানতের আসল লুঙ্গি" ।

আজব ব্যাপার,

আমানতের লুঙ্গি ছিড়ে গেছে, কিন্তু স্টিকার টা এখনো ছিড়ে নাই ।



এবার লোকটির থালার দিকে তাকালাম ।

থালাতে পাঁচ টি দুই টাকার আর দুইটি পাঁচ টাকার নোট ।





-বাপজান, গরীব মানুষ কিছু সাহায্য করেন?

মনে মনে ভাবলাম গরীবরাই খালি ভিক্ষা করে, ধনীরা কি করে না??

বড়ো বড়ো নেতারাও তো ভোটের সময় পাবলিকের দুয়ারে দুয়ারে ভোট ভিক্ষায় যায় ।।





মাঝে মাঝেই আমি আজব কিছু মানুষের দিকে চোখ বড়ো বড়ো করে ভয়ংকর দৃষ্টিতে পিশাচের মতো তাকাই ।

বেশির ভাগ মানুষই খুব ভয় পায় । আর যে কম সংখ্যক মানুষ ভয় পায় না, ভেবে নেই ওদের সাথে হয়তো এর থেকেও ভয়ংকর কিছু ঘটেছিল ।



এবার লোকটির দিকেও ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকালাম।

লোকটি এক ফোটাও ভয় পাচ্ছে না ।



একটা ভিক্ষুকের দিকে কেউ এমন করে তাকায় তা হয়তো সে ভাবতে পারে নি ।

তাই বিব্রত বোধ করে দৃষ্টিটা নয় তালা ভবনটার দিকে ফিরিয়ে নিল ।



লোকটার মনের জোড় অনেক বেশি ।

মনের জোড় ওয়ালা লোকদের সাহায্য করা উচিত ।

এরা সত্‍ হয় ।

অসত্‍ লোকদের মনের জোড় তেমন থাকে না । এরা ভালো মন্দ সব কিছুতেই ভয় পায় ।



আমি লোকটির থালায় একটা একশ টাকার নোট রাখলাম ।

লোকটি টাকা টার দিকে এমন ভাবে তাকালো যেনো সে এই জীবনে একশ টাকার নোট আর দেখে নি ।



আমি আবার হাটা শুরু করলাম ।

পেছন থেকে লোকটা তোতলানো স্বরে বলে উঠল,

-বাপ জান আপনার টাকা নিয়া যান, আমার লাগবো না ।।



আমি আবার লোকটার কাছে এসে দাড়ালাম ।

লোকটাকে জিজ্ঞাস করা দরকার কেনো লাগবে না ।

কিন্তু জিজ্ঞেস করতে কেনো জানি ইচ্ছে করছে না ।



আমি বুক পকেটে একশ টাকার নোটটা রেখে আবার হাটা শুরু করলাম।



-বাপজান, একটা কথা শুনবেন?

-জ্বি বলেন?

-আপনি আমারে এতো টাকা দিলেন কেন?

-আপনি আমার কাছে সাহায্য চেয়েছেন । সেখানে তো কম বেশির কোনো চুক্তি ছিল না ।



লোকটা মাথা নিচু করে আছে । কি বলবে হয়তো বুঝতে পারছে না ।

-ঠিক আছে,টাকা ডা দেন ।



আমি আস্তে করে একশ টাকার নোট টা থালায় রাখলাম ।



-চাচা, আপনার লুঙ্গিটা কি "আমানতের আসল লুঙ্গি" ?

-না বাপজান ।

-আপনার ছেড়া লুঙ্গিতে তো তাই লিখা ।

-আমার পোলায় কাগজ টা কোথা থেকে পাইয়া শখ কইরা লুঙ্গিতে লাগাইয়া দিছে ।



-চাচা. রাজনীতি বুঝেন?

-এই দেশে রাজ নীতি নাই বাবা । যা আছে সব দূর্নীতি ।

-হরতালের দিনটা কেমন লাগে । টাকা পয়সা পান?

-নেতারা হরতাল দিয়া গরিবের পেটে লাথি মারে । আর আমার ওদের মুখের মাঝে লাথি দিতে ইচ্ছা করে ।



লাথি দেওয়ার ক্ষমতা লোকটির নেই ।

তাই হয়তো বিষন্ন চোখে নিজের পায়ের দিকে তাকালো । একটা পা নষ্ট । কুড়িয়ে কুড়িয়ে হাটে ।



লোকটির চোখ দুটো ঝল ঝল করছে ।

চোখের ভাষায় হয়তো বুঝিয়ে দিতে চাইছেন এদেশের নোংরা রাজনীতি উনি কতো টা ঘৃনা করেন।।



-আমরা ধারণা, আপনার জীবনে ভয়ংকর কিছু ঘটেছিল । সেটা কি আমি জানতে পারি??



কিছুক্ষণ চুপ থেকে লোকটি বিড় বিড় করে অন্য দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,



জানেন বাপজান আগে রিক্সাশা চালাইতাম । সুখের সংসার ।

মনের মাঝে অনেক সুখ ছিল ।

গত ইলেকশনের আগে রিক্সা নিয়া বাইর হইছি ।

হরতালের দিন । তার পরও ভালই ভাড়া মারলাম ।

ভাবলাম আজ আর রিক্সা চালামু না ।

ফেরার পথে অনেক গুলা ককটেল ফুটলো । চারদিক অন্ধকার দেখলাম ।

তার পর থেইক্যা এক পায়ের জীবন শুরু ।



কথা গুলো বলতে বলতে লোকটি এক ধলা থুথু মাটিতে ছুড়ে ফেললেন ।



আমি কি জানি এই থুথু উনি কার উদ্দেশ্যে ফেললেন??

হয়তো জানি না! হয়তো জানি।

আর জানলেও হয়তো চোখ বন্ধ করে থাকি ।।।





-চাচা চলেন চুপিচুপি দুজনে ঐ সংসদ ভবনের নয় তলার উপর উঠে যাই । ছাদ থেকে চিত্‍কার করে বলি,

দেশটা আপনাদের খেলার পুতুল নয় । আপনারা থামেন ।আমরা এবার শান্তি চাই,

শান্তি!!!



তারপর চোখ বন্ধ করে দুজনে নিচে লাফিয়ে পড়ি.........

আরো একবার মুক্তি পাক গনতন্ত্র ।।।



লোকটি কি ভাবলো জানি না । ভয়ংকর দৃষ্টিতে দূরের সংসদ ভবন টার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো ।

আর বিড়বিড় করে আমায় জিজ্ঞাস করলো,

-বাপজান, আপনার নাম কি?

আমি অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলাম,

-"একজন অসহায় নূর হোসেন"



"নিঝুম দ্বীপ থেকে #অবুঝ অরণ্য"









মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫১

স্নিগ্ধ শোভন বলেছেন:
ভাল লাগল ++++++


আপনি কি নিঝুম দ্বীপের ????

২| ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:২৯

অবুঝ অরন্য বলেছেন: না ভাই
আমার কল্পনাতে একটা দ্বীপ আছে
তার নামই নিঝুম দ্বীপ,

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.