| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
-হ্যালো, কেমন আছেন?
-হুম, ভালো?
-আপনি কি জানেন কিছু ক্ষণ পর আমি স্যুইসাইড করতে যাচ্ছি?
-না তো । তবে খুব ভালো একটা সিদ্ধান্থ । সুপার লাইক দিলাম।তো এই মহতী কাজ টা কখন করছেন??
অবাক হয়নি এই ভাব নিয়ে মেসেজটা দিলেও মনে মনে খুব অবাক হলাম । কিছুক্ষণ মেসেজ টার দিকে আছি । খুব অদ্ভূত লাগছে ব্যাপার টা । একটা অচেনা অজানা মেয়ে তার দ্বিতীয় মেসেজেই এই টাইপ লিখতে পারে তা নিজের চোখকেই বিশ্বাস করাতে পারছি না ।
আমাকে বিব্রতিকর অবস্হায় ফেলার জন্য কেউ আমার সাথে মজা করছে না তো?
পৈশাচিক আনন্দের জন্য কেউ আমাকে বোকা বানাতে চাইছে না তো?
এসব ভাবতে ভাবতে আবার ওর মেসেজের দিকে নজর দিলাম,
-বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই তো?
তবে আপনার বিশ্বাসের উপর আমার কিছু যায় আসে না । কিছুক্ষণ পর মারা যাবো এই কথাটা কাউকে খুব বলতে ইচ্ছা করছিল । আর মরার আগের ইচ্ছা বুঝতেই পারছেন সেটা কতো ভয়াবহ । পরিচিত কাউকে তো বলা যাবে না । তাই এই ভার্চুয়াল জগতে অপরিচিত কাউকেই বেচে নিলাম । আর ভাগ্য ক্রমে সেই অপরিচিত মানুষ টা আপনি হয়ে গেলেন ।
সব কিছুই যেনো গোলক ধাধাময় ।
বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝখানে একটা জায়গা আছে যেখানে নিজেকে খুব অস্বস্তি আর অসহায় লাগে । আমরা ও তাই লাগছে ।তবে মেয়েটার কথা গুলো কে পাত্তা না দিয়ে এবারো ফানি টাইপ রিপ্লে দিলাম,
-নিজেকে খুব ভাগ্যবান পুরুষ লাগছে । আজকাল দেখি মেয়েদের ও নজরে আসা শুরু করে দিয়েছি । মেসেজের যদি কোনো শেয়ার করার অপশণ থাকতো তবে আমি আপনার মেসেজ টার টানা বিশবার শেয়ার দিতাম ।"
হঠাত্ ভাবনায় পড়ে গেলাম । শেয়ার দেওয়ার জন্য বিশ সংখ্যা টাই বেচে নিলাম কেনো?
হয়তো আমার মস্তিষ্ক ভেবে নিয়েছিল মেয়েটা মরার জন্য হয়তো বিষই খাবে ।তাই মেসেজ টাইপে বিশ চলে এসেছে ।
তবে ঘুমের ট্যাবলেট ও খেতে পারে কারণ আজ কাল এটাই বেশি চলছে ।
-খুব মজা পাচ্ছেন, তাই না? একটা অসহায় মেয়ের সাথে এমন করতে কতই না আনন্দ । আসলে পৃথিবীটাই তো নিষ্টুর । আর আপনি হবেন না কেনো?? তবে জেনে রাখুন আমি আজ আসলেই মারা যাবো যদি আমার সাথে বিশেষ কিছুটা ঘটে যায় ।
এবার মেয়েটার কথা গুলোকে আর অবিশ্বাস করে থাকতে পারছি না । কিছু কিছু মুহুর্তে কিছু কিছু ব্যাপার খুব বিশ্বাস করতে হয় । হয়তো প্রকৃতিই বিশ্বাস করাতে বাধ্য করে । তাতে প্রতারিত হলেও ক্ষতি নেই ।
মেয়েটিকে কাঁপা কাঁপা হাতে রিপ্লে দিলাম,
-"বিশেষ কি ব্যাপার ঘটে গেলে??
-আজ আমার একটা বিশেষ পরিক্ষার রেজাল্ট । জানি ফেইল করবো । আর ফেইল করলে আমার বেঁচে থাকার সব গুলো পথ বন্ধ হয়ে যাবে । বেচে থাকার সবটুকু আগ্রহ হারিয়ে ফেলবো ।
- কিন্তু এটা ঠিক না ।আপনি কি জানেন আত্মহত্যা মহাপাপ । জঘন্য একটা কাজ ।
-হুম আমি জানি ।তবে এটা ছাড়া আমার কিছু করার নেই । কিছুক্ষণের মাঝেই হয়তো রেজাল্ট দিয়ে দিবে।
এবার আমি ওকে এই জঘন্য কাজটা না করার জন্য সাধ্য মতো বুঝাতে লাগলাম ।
কিছু কিছু অসহ্য সময় আছে যখন মস্তিষ্ক অনেক কিছু বুঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে । আমি বুঝতে পারছি এই মেয়েটাও আমার কথা গুলো বুঝার ক্ষমতা টুকু হারিয়ে ফেলেছে । তারপর ও আমি বুঝিয়ে যাচ্ছি ।
আমার মাথাটা যেনো ঘুরছে । তাই মাথার উপর ঘুরতে থাকা সিলিং ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে জোড়ে একটা দীঘশ্বাস ছাড়লাম । সিলিং ফ্যান. সাথে মেয়েটির মরে যাওয়ার চিন্তা আসতেই ভয়ে আমার চোখ দুটো এমনি এমনি বন্ধ হয়ে এলো ।
মেয়েটি এই রকম কোনো ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে ঝুলে পড়বে না তো ?
আমি আর ভাবতে পারছি না । চোখ বন্ধ করেই কিছুক্ষণ বসে রইলাম ।
মেয়েটার প্রোফাইল টা ভালো করে দেখে যাচ্ছি । কিন্তু সব কিছুই হাইড । তাই ব্যাপার টা জানানোর মতো কিছুই ফেললাম না। ফেবুতে দেওয়া মেয়েটার পিক গুলো দেখে মনো হলো খুব নিষ্পাপ মিষ্টি একটা মেয়ে । এই মেয়ের মাথায় মরে যাওয়ার পোকা টা ঢুকল কি করে কিছুতেই হিসেব মেলাতে পারছি না ।
মেয়েটার জন্য খুবই মায়া হচ্ছে ।
অনেকক্ষণ পর মেয়েটার আবার একটা মেসেজ এলো,
-ফেইল ।।
-এই মেয়ে একদম কাঁদবে না । আমি নিজে এসএসসি পরিক্ষায় তিনবারে পাশ করেছিলাম । আর তোমার তো এ রকম কোনো পরিক্ষাও না ।
-আর কতোক্ষণই বা বাঁচবো । এখন কি আর কাদার সময় আছে?
আর আমার আজকের রেজাল্ট টা তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।
একটা মেয়ে কিছুক্ষণ পর মারা যাবে । আর আমি এটা জানি কিন্তু কাউকে জানতে পারছি না অসহায়ত্বে নিজেরই মরে যেতে ইচ্ছে করছে ।।
আমি ওকে খুব উত্তেজিত হয়ে বললাম,
-প্লিজ আপনার ফ্যামিলির কারো নাম্বার টা দেন?
আমি কথা বলবো ।
মেয়েটি আমার প্রশ্ন টাকে পাত্তা না দিয়ে ওর কথা গুলোই লিখে যাচ্ছে,
-জানেন নিজেকে খুব একা লাগছে ।
এই পৃথিবীর মানুষ গুলোর এতো সময় কই আমাকে সময় দেওয়ার ?
জানেন, আমি এখন কাঁদছি । আর কাঁদতে কাঁদতে হাসছি । আমি খুব আবেগি একটা মেয়ে । মারা যাওয়ার আগে খুব ইচ্ছে করছে বৃষ্টিতে ভিঁজতে । জানি না ইচ্ছে না পূর্ণ হবে কিনা ?
একটা অচেনা মেয়ে, যাকে আমি কাল পযর্ন্ত চিনতাম না তার জন্য এতো মায়া কেনো হচ্ছে বুঝতে পারছি না ।
চোখ বন্ধ করতেই একটা অচেনা অসহায় নিষ্পাপ মুখ চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে ।
আমি বুঝতে পারছি মেয়েটাকে স্বপ্ন দেখানোর মতো মানুষের বড্ডো অভাব । ওকে অনেকটা সময় দেওয়ার মতো মানুষ হয়তো খুব একটা নেই ।
তাই ওকে গম্ভীর ভাবে বললাম,
-একটা অপরিচিত মানুষ আপনার কাছে অনুরোধ করবে, রাখবেন? আমি আজ সারা রাত আপনার চ্যাট করবো । আপনার মারা যাওয়ার চিন্তা আজকের জন্য বাদ দিতে হবে ।
অনেকটা বিরতির পর একটা মেসেজ আসল,
-ঠিক আছে । আজ সারা রাত আপনার সাথে চ্যাট করবো । কেনো জানি খুব ইচ্ছে করছে কারো সাথে সারা রাত একটানা কথা বলতে ।।
অনেক ক্ষণ ওর মেসেজ টার দিকে হা করে তাকিয়ে আছি,
আর মনে মনে ভাবছি আমি কি পারবো আজ রাতের মাঝে ওকে হাজারো স্বপ্ন দেখাতে? ওর মারা যাওয়ার পোকা টাকে অনেক টা আশা ভালবাসা দিয়ে পুড়িয়ে মারতে?
আমি কি ওকে বুঝাতে পারবো চোখ মেলে দেখো,
পৃথিবীটা কতো সুন্দর আর পবিত্র । আর চোখ বন্ধ করে দেখো, চারদিক কতো টা ভয়ার্ত অন্ধকার আর অসহ্যকর বিশ্রী ।।।।
"নিঝুম দ্বীপ থেকে অবুঝ অরণ্য"
©somewhere in net ltd.