নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অবুঝ অরন্য

অবুঝ অরন্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

কুসুম-কুমারি

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৩:১৪

-আপনার নাম টা কি জানা যাবে?



-কুসুম ।



-কু সু-ম কুমারী.



-কুসুম কুমারী নয়, কুসুম চারুলতা ।



- অদ্ভূত নাম । যাই হোক আপনার ফোন নাম্বার টা কি দিবেন, মিস চারুলতা?:P



-আপনার সাহস তো কম নয় মিস্টার,

শুনুন আমি অপরিচিত কাউকে নিজের ফোন নাম্বার দেই না ।



-তাহলে পরিচিত হয়েই দেন,

শুরুতে কি নাম বলবো?



-বেয়াদব ।



- বেয়াদব কেন হবে? আমার নাম জামাল । বাবা মা রেখেছিল জামিল ।শুরুতে ঠিক ঠাকই চলছিল । তবে ক্লাস নাইনে রেজিস্ট্রেশন করার সময় কেরানী মশাই ভুল কর জামিলের "মিল" টাকে "মাল" করে ফেলেছে ।

আমি কাঁপা কাঁপা পায়ে কেরানী মশাইয়ের কাছে গেলাম ।

উনি নাম দেখে অট্টহাসি দিয়ে বললেন.

-যা ভাগ এখন আর "মাল কেটে মিল" করা সম্ভব নয় ।

সেই থেকেই জামিল ছেলেটা জামাল হয়ে গেছে ।



জা-জা-জা মাল বলেই খিঁল খিঁল হেসে উঠল কুসুম কুমারি ।



আমার একটা জন্ম রোগ আছে ।

কাউকে হাসতে দেখলে আমার তার চেয়েও দ্বিগুন পরিমান বেশি হাসি পায় ।

তাই কুসুম কুমারির সাথে এখন পাল্লা দিয়ে আমিও হেসে যাচ্ছি ।



কুসুম কুমারী হয়তো জানে না এটা আমার জন্ম রোগ ।

তাই তার সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে দেখে অনেকটা অপমান বোধ করল ।

মুখ ভার করে আমার দিকে রাগ রাগ চোখে তাকিয়ে মুখে ভেংচি কাটার কয়েকটা ইমু দিল ।



- আপনাকে একটা গোপন কথা বলি?



-আপনার গোপন কথা শোনার ইচ্ছে আমার নেই,



-ঠিক আছে তাহলে বলবো না ।



-ঠিক আছে তাহলে বলেন?



- আমি আগেই জানতাম ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের কৌতুহলী কোষের পরিমান অনেক বেশি। এরা মুখে যতই বলুক শোনবে না, মনে মনে ঠিকই গভীর আগ্রহ নিয়ে শুনতে চায় ।



-ভূমিকা রেখে যদি বলার ইচ্ছে থাকে তাহলে বলুন?



-বলবো?



-হুম বলেন?



-আপনার চশমা ওয়ালা বড়ো বোনের সাথে আমার চশমা ছাড়া বড়ো ভাইয়ের বিশেষ একটা ইয়ে আছে, জানেন সেটা?



-বিশেষ ইয়ে মানে?



-ইয়ে মানে ইটিশ পিটিশ. ইটিশ পিটিশ মানে গিট্টু,. গিট্টু মানে বাধন. আর বাধন মানে.....



-আর বাধন মানে??



- ভালবাসা ভালবাসা ।



-আপনার ন্যাকামি দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে । ইচ্ছে করছে ঘুষি মেরে আপনার আর আপনার ভাইয়ের তোতা নাক ভোতা করে দিতে,



- নাক ভোতা করতে চান!! সম্পর্কে আমি আপনার কি হই জানেন?



-জানার কোনো প্রয়োজন মনে করছি না.



-আপনার বোন তো আমাকে অলরেডি দেবর বলে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে.

অতএব সম্পর্ক সুত্র বলে আপনি আমার বিয়াইন ।



-উয়াক. ছোটলোকের মতো কি সব নোংরা শব্দ বলছেন ।



-বিয়াইন মানে হচ্ছে যাদের সম্পর্কের আইন হবে "বি_পজিটিভ",

তবে আপনি বিপদ জনক মেয়ে হলে আইনটা "বি_নেগেটিভ" ও হতে পারে ।



কুসুম কুমারী আবারো সুনামি টাইপে রেগে যাচ্ছে । রাগের প্রতিষেধক হচ্ছে প্রশংসা করা ।

রেগে যাওয়া কারো সামনে তার গভীর প্রশংসা করলে অসীম ভোল্টের রাগও শূণ্যের কোটায় চলে আসে ।

তার মাথায় তখন প্রশংসার মাছি ভনভন করে ঘুরতে থাকে ।

রাগ প্রশংসার মাছি দ্বারা সহজেই বিচ্যুত হয় ।





-আপনার নাকের কাছে যে দুইটা কালো তিল আছে লক্ষ্য করেছেন?

যাদের নাকের কাছে একজোড়া তিল থাকে তারা অনেক ভাল মনের মানুষ হয়।



-পাম মারছেন আমাকে? মিস্টার জা-জা-জা মাল ।



-কি আজব পাম মারবো কেনো?

আপনি হাসলে আপনার গালে অসম্ভব সুন্দর একটা টোল পড়ে ।

যে কেউ যেকোনো সময় আপনার টোল পড়া গালের প্রেমে পড়ে যেতে পারে ।



কুসুম কুমারী কিছু না বলে চুপ করে দাড়িয়ে কি জানি ভাবছে ।

সে হয়তো নিজের টোল পড়া গালটা চোখের আয়নাতে ভাসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে ।



-এভাবে অন্য মনস্ক হয়ে কি ভাবছেন?



-সেটা কি আপনাকে বলতে হবে?



- আমার আই কিউ বলে আপনি নিশ্চয় মনে মনে একজোড়া তিল আর টোল পড়া গালের সত্যতা যাচাই করছিলেন ।



-হুম, আপনার আই কিউ ভালো ।



- এতোক্ষণে বুঝলেন, যাই হোক আই কিউ ভালো ওয়ালা ছেলে টাকে এবার ফোন নাম্বার টা দিয়ে দেন?



-আমি তো আমার বোনের মতো গাধা নই যে ফোনে সারাক্ষণ আপনার সাথে ইটিশ পিটিশ করবো ।



-সারাক্ষণ করার দরকার নেই কিছুক্ষণ করলেই চলবে ।



-ঠিক আছে আপনার মোবাইল টা আমাকে দিন ।



আমি আনন্দে লাফাতে লাফাতে মোবাইল টা কুসুম কুমারীর দিকে বাড়িয়ে দিলাম ।

কুসুম কুমারী মোবাইল নিয়ে একটানা অনেক গুলা বাটন টিপে গেলো ।



তারপর মোবাইল টা আমার দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো,



-আপনার আই কিউ ভালো তাই শেষ ছয়টা সংখ্যা দিলাম । কোড নাম্বার টুকু যদি নিজ দায়িত্বে বের করে নিতে পারেন তাহলে.....



-তাহলে?



-তাহলে কিছুক্ষণ না সারাক্ষণই আপনার সাথে ফিসফিস করে ইটিশ পিটিশ করবো ।



আমি বর্ষাকালের আকাশের মতো মুখ কালো করে বললাম,

-এটাও কি সম্ভব?



কুসুম কুমারী যুদ্ধ জয়ী বীরের মতো হাসি দিয়ে উত্তর দিল.

-অসম্ভব কে সম্ভব করার নামই তো ইটিশ পিটিশ. গিট্টু., বাধন অথবা ভালবাসা. জা-জা-জা মাল ভাই!!



আমিও মনে মনে স্কুল জীবনের সেই কেরানী মশাই মতো অট্টহাসি দিয়ে ভাবতে লাগলাম,

-মেডিকেলে পড়ুয়া মেয়ে গুলা এতো বোকা হয় কেনো??



কুসুম কুমারী নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিলা ।

আমি তো তোমার নাম্বার টা তোমার গাধা বোনের কাছ থেকে তোমাকে দেখার প্রথম দিনেই নিয়ে ফেলেছিলাম ।



"নিঝুম দ্বীপ থেকে #অবুঝ অরণ্য"

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৫:২০

মামুন রশিদ বলেছেন: বেশ বেশ! মজা পেয়েছি ;)

২| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:২০

আজ আমি কোথাও যাবো না বলেছেন: হি হি হি :D

৩| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৫:৪১

অবুঝ অরন্য বলেছেন: ধন্যবাদ:P

৪| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২২

ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন: :D :D :D :D

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.