নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জানতে ভালবাসি! পড়তে ভালবাসি! লিখতে ভালবাসি!

আবু রাহাদ লিটন

আবু রাহাদ লিটন › বিস্তারিত পোস্টঃ

লজ্জার বিড়ম্বনা

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৫

এখানে আমি ছদ্মনাম ব্যবহার করছি!

রাকিব দশম শ্রেণিতে পড়ে। বিগত কিছুদিন রাকির অসুস্থতার জন্য স্কুলে যেতে পারেনি। এর কদিন পর তার কিছু বন্ধু স্কুল থেকে এসে বলল, রাকিব তুই যদি কালকে থেকে স্কুলে না যাস, জহির স্যার বলেছে তুর নাম কেটে দিবে! কথাটা শুনতেই রাকিব কিছুটা বিচলিত হয়ে তার বন্ধুদেরকে বলল, তোমরা যাও আমি আমার আব্বুকে নিয়ে কালকে থেকে নিয়মিত স্কুলে যাব! যে কথা সেই কাজ পরের দিন সকালে রাকির তার বাবাকে নিয়ে স্কুলে হাজির। রাকির এর সাথে তার বাবা স্কুলে যাওয়াতে, জহির স্যার আর কিছু বললেন না!

মূল গল্প এখান থেকে শুরু

রাকিব যেদিন স্কুলে গেল সেদিন তাদের স্কুল থেকে পিকনিকে যাওয়ার কথা চলছিল। ক্লাসের শুরুতে জহির স্যার এসে বললেন - আগামী মাসে শুরুতে স্কুল থেকে পিকনিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এতেই সব কাজ শেষ নয়। প্রতিটি ক্লাসে গিয়ে যাঁরা পিকনিকে যাবে তাদের কাছ থেকে টাকা তুলতে হবে। জহির স্যার ছাএদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা বল কোন তিনজন কে টাকা তুলতে পাটানো যায়। তখন পাশ থেকে সব ছাএদের মুখে তিন - চারটি নাম নিতে শুনা যায়, অবশ্য তার মধ্যে রাকিব এর নাম ও রয়েছে। রাকিব পড়ালেখাতে পটু না হলেও সে কিন্তু ভাল স্বভাবের ছেলে এটাই সবাই জানে। অবশেষে জহির স্যার বললেন এবার তুরা থাম - আমি বলছি কে কে যাবে। তখন জহির স্যার, তাসনিম, ফয়সাল, এবং সর্বশেষ রাকিব এর নাম সংযোজন করেন। এতে মহা খুশি হন অনন্যা ছাএরা।

এর পরেরদিন সকালে রাকিব, ফয়সাল, ও তাসনিম টাকা তুলতে প্রথমে ৬ষ্ট শ্রেণীতে য়ায়, যাঁরা পিকনিকে যাবে তাদের সবার কাছ থেকে টাকা তুলে নেয়। এবার তাঁরা তিনজন মিলে ৭ম শ্রেণীতে যায়, টাকা তুলার জন্য। তখন হঠাৎ প্রথম বেঞ্চ এ বসা একটি মেয়ের দিকে চোখ পড়ে রাকিব এর। সে মেয়েটিকে দেখার পর রাকিব হা করে তাকিয়ে রইল সেই মেেয়েটির দিকে। কিছুক্ষণ পর ফয়সাল রাকিব কে ডাক দিয়ে বলল, কিরে তুই আমাদের সাথে টাকা তুলতে যাবি না, ঐখানে দাড়িয়ে আছিস কেন? অনেকক্ষণ পর কি জানি ভেবে, ফয়সাল কে রাকিব এর উওর, নারে আমি আর মনে হয় তুদের সাথে টাকা তুলত যেতে পারব না, আমার প্রচন্ড মাথ্য ব্যাথা করছে। এই বলে রাকিব সোজা চলে গেল তার বাসায়...!

অতঃপর...

সে মেয়েটিকে অনুসরণ করতে থাকে সবসময়। রাকিব যখন প্রতিদিন স্কুলে যেত, তখন সে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় সে মেয়েটা যে লাইনে দাড়াত টিক সেই সোজা সোজা রাকিব ও একই ভাবে প্রতিদিন দাড়াত। এভাবে সে প্রতিদিন মেয়েটিকে বিভিন্নভাবে তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ করার চেষ্টা করত। অবশ্য তাতে কোন লাভ হয়নি। সেই দুংখে হতাশ হয়ে যখন রাকিব মুখ ভার করে রইল, ঠিক সেই সময় ফয়সাল এসে হাজির। রাকির কে উদ্দেশ্য করে ফয়সাল বলে উটল, কিরে তুর এই অবস্থা কেন? কি হয়েছে তুর?
ঐ য়ে তুকে বলেছিলাম না মেয়েটির কথা, হ্যাঁ বলেছিস ত কি হয়েছে? সেই মেয়েটিকে অনেকভাবে বুঝাবার চেষ্টা করেছি যে, আমি তাঁকে ভালবাসি, কিন্তু কিছুতুই কিছু হচ্ছে না। রাকির এর এই কথা শুনার পর ফয়সাল এর মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। আচ্ছা রাকির তুই না বলেছিস, তুর একটা ছোট বোন পড়ে ক্লাস ৭ এ। হ্যাঁ বলেছি, তুই এক কাজ কর, যেহেতু তুর ছোট বোনের সাথে মেয়েটি একই ক্লাসে পড়ে। তুই তোর ছোট বোনকেে দিয়েই মেয়েটিকে, তুর ভালবাসার একটা বাতা পাটিয়ে দে। রাকির তার সেই ছোট বোনকে অনেক বুঝািয়ে রাজি করাল, যেন সে তার ভালবাসার কথাটা ঐ মেয়েটাকে বলে। এর পরেরদিন রাকিব এর ছোট বোন সেই মেয়েটিকে রাকির এর ভালবাসার কথা জানাই। কিন্তু প্রায় ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও মেয়েটির কাছ থেকে কোন উওর পেল না রাকিব।

কোন উওর না পেলেও রাকিব কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। সে প্রতিদিন মেয়েটির বাড়ির সামনে গিয়ে বসে থাকত। এভাবে প্রায় ৪ মাস মত কেটে যায়!...

অবশেষে!...

কোন এক বিকালে রাকিব যাচ্ছিলো বাজারে। সে সময় হঠাৎ প্রচন্ড বেগে বৃষ্টি শুরু হল, পাশে একটা ছোট ঘর ছিল রাকিব সেখানে গিয়ে দাড়াল। টিক সেই সময় একটি মেয়ে এই তীব্র বৃষ্টির মধ্যে এসে দাড়াল রাকিব এর পাশে। মেয়েটি আর কেউ নয়, যে মেয়েটিকে রাকিব খুব ভালোবাসে সে মেয়েটিই। রাকিব লজ্জায় লাল, ছোটবেলা থেকেই রাকিব এর লজ্জার মাএাটা একটু বেশিই। সেই মেয়েটিকে একলা, এভাবে পাশে পেয়ে কোথায় ভালবাসি বলবে তা নয়। সে লজ্জায় যেন তার মাথাটাই উপরের দিকে তুলতে পারছে না। সে লজ্জা শব্দটাই তার জিবনের জন্য কাল হয়ে দাড়াল। সেদিন এত সুন্দর সুযোগ পেয়েও রাকিব, তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় শুধুমাএ তার লজ্জার বিড়ম্বনার কারণে।

কিছুদিন আগে সেই মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল। রাকিব কিন্তু এখনো ভালবাসে যায় সে মেয়েটিকে নিরবে। এভাবেই সত্যিকার ভালবাসা বেঁচে থাকে চিরদিন।

রাকির এই মেয়েটার সাথে সম্পকে জড়িয়ে ছিল ২০১১ সালে। আর বর্তমান সাল ২০১৮ এখনও তার প্রথম এবং শেষ প্রেম সেই মেয়েটিই। অথছ বর্তমানে মেয়ে কিংবা ছেলেদের প্রেমের অবস্থা, আরে ভাই একটা গেছে তাতে কি হয়েছে...আরেকটার সাথে লাইন মারবি...!

এই সমস্ত কারণে প্রেম সব্দটাই এখন অনেকের কাছে জোকস এ পরিণত হয়েছে!...

বি:-দ্র:- ২য় বারের মত লিখছি, ভূল হলে মার্জনা করবেন।

লেখক:- আবু রাহাদ

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.