| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তাসমিমা ইসলাম প্রতিভা
আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি নিজেকে!
এই যে হিমু ভাইয়া,
তোমার বিরুদ্ধে আমার অনেক অভিযোগ আছে। প্রথমে বলো, তুমি কি মাদকদ্রব্য? যদি না-ই হও, তবে কেন আমি নেশায় পড়েছি তোমার!! মনের ভিতর আষ্টেপৃষ্ঠে আছো তুমি। এইতো কিছুদিন আগে তোমার দেখা পেলাম। কিছুতেই ভুলতে পাচ্ছি না। তুমি কি জানো? আমারও হিমু হতে ইচ্ছা করে। মেয়ে হিমু! আমি হিমু হতে চাই শুনে তুমি হাসছো? নাকি অবাক হয়েছো? তোমাকে ভেড়কে দিতে পেরেছি কিনা, খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। হিমু খুলে বসলে, মেয়েরা নিশ্চিত রুপা হতে চায়। কিন্তু আমি রুপা না হয়ে হিমু হতে চেয়েছি তাতে কি তুমি অবাক হয়েছো? মনে তো হয়না! কেন জানো? তুমি যে খুব ভালো অনুমান করতে পারো। তোমার sixsense-এর সাথে ভবিষ্যৎ বলার প্রবণতাও বেশ প্রখর। তাই হয়তো আগেই বুঝে গেছো। আমি হিমু হতে চাই শুনে, তুমি ভরকে না গিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করবে, "আরেহ ধুর মেয়েরা আবার হিমু হয় নাকি? তুমি কি পারবে হলুদ পাঞ্জাবী পরতে? বিরক্ত হয়ে মুখন তুমি কড়া সুরে বলবে মনে করিয়ে দেবে অজানা বিপদের কথা। বিজ্ঞ ভাব বজায় রেখে প্রশ্ন তুলবে, " পাঞ্জাবী পড়লেও, পারবে এই তোমার ত্বকের নরম পা-কে পিচ ঢালা রাস্তায় নামিয়ে যন্ত্রনা সহ্য করতে? খালি পায়ে হাঁটা কিছু যে সে কম্ম নয়! আর সমাজে বাস করা সুন্দর চেহারার আবরণে ঢেকে রাখা কুৎসিত মানুষগুলো? পারবে তাদের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে?" আমি মাথা নিচু করে চুপ করে থাকব। উত্তর দেওয়ার মতো কিছুই থাকবেনা আমার কাছে। এরপর আমার মুখাবয়ব দেখে তাচ্ছিল্যের সাথে তুমি বলবে, " উহু! পারবেনা তুমি। এটা তোমার মতো মেয়েদের কাজ নয়। চাইলেই যে কেট হিমু হতে পারেনা পাগলি! হিমু হওয়া অতো সহজ কাজ নয়। হিমুর মতো মহাপুরুষ হতে হলে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা করতে হয়। যা তোমার দ্বারা সম্ভব নয়। তোমার নাম 'প্রতিভা শুনে ভেবেছিলাম তুমি খুব বুদ্ধিমতী। তুমি তো দেখছি একদম বোকা পাগলি একটা মেয়ে।
আমি জানি তুমি এভাবেই এইসব বলেই আমার স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার করে দেবে। তাই তো নিজেকে শক্ত করে নিয়েছি। হতে চাইনা আমি সত্যিকারের হিমু। কিন্তু মনের আকাশে ও ঘুড়ি যে আমার নিজের ইচ্ছেতেই উড়বে।নিজেকে হিমুর মতো সাজাই। সেখানে থাকেনা কোনো যন্ত্রনা, থাকেনা কোনো দুষ্টু হায়েনা। আমি যে স্বাধীন চিরস্বাধীন। আরো অনেক কিছু বলার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু দেখো, চিঠি বড়ো হয়ে গেলে তো তুমি আবার পড়বেনা। আমি জানি তো, তোমার যা স্বভাব। হয়তো দেখা যাবে নিজে না পড়ে বাদলের হাতে তুলে দেবে। এই চিঠিটা না পড়লে কিন্তু ভীষণ রাগ করব। রুপা তোমাকে ছাড় দিলেও, আমি কিন্তু ছাড়বো না, মাথায় রেখ। সুদে-আসলে এর শোধ তুলব। যাইহোক, কেমন চলছে দিনকাল? হাঁটাহাঁটি পুরোদমে চলছে তো? নাকি এখন বয়সের ভারে তুমি ঘরে বসে থাকো? খুব জানতে ইচ্ছে করে, সত্যিই কি তুমি রুপাকে বিয়ে করতে চাওনা?
চাওনা তার ভালোবাসা গ্রহণ করতে, ইচ্ছে করেনা তোমার বাবার আদেশ ভেঙে ফেলতে? একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন যাপন করতে মন চায়না? কেন এমন হল তোমার! আমার ভীষণ খারাপ লাগে তোমার কথা ভেবে। তবে যাই বলো স্বান্তনা একটাই একটাই তুমি আছো বলেই হাসতে পারি, ভড়কে দিতে পারি, কষ্ট
অনুভব করতে পারি। তাই তুমি যেমন আছো, তেমনই থাকো তো! অনেক শুকবক করলাম যেটা আমি always করেই থাকি। তাহলে হিমু ভাইয়া এবারের মতো ক্ষ্যান্ত দিচ্ছি। ভালো থেকো তুমি।আর শোনো,নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকো সারাজীবন এই কামনা।আর আমরা সবাই আছি তো তোমার পাশে।অনেক ভালোবাসি তোমায়।
ইতি
হতে চাওয়া না হওয়া হিমু
©somewhere in net ltd.