| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আনন্দক্ষন
মানুষ হয়ে জন্মে যখন ফেলেছি, তাই নিরুপায় হয়ে মৃত্যুকে বরন করতেই হবে। পৃথিবীতে এসেছিলাম একা, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে চলতে হয় একা, মরতেও হবে একা। তাই তো নিজের খুশি মতো বাচবার চেষ্টা করে চলেছি, আনন্দের সাথে। জন্ম নেবার সময় মাকে কষ্ট দিয়ে ছিলাম আর কিছু অক্ষমতার জন্য চলার পথে ইচ্ছে না থাকা সত্বেও কষ্ট দিয়েছি ভালোলাগা মানুষগুলোকে। তাই হয়তো পৃথিবীটা ছাড়বার সময় এদেরকেই আবার কষ্ট দিতে হবে ! তাই তো কেবল ভালোলাগার- ভালোবাসার এই মানুষগুলোকে গুরুত্ব দেই। সমাজ নামক জঞ্জালটাকে এড়িয়ে চলি আর প্রতিটা নিঃশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই সৃষ্টিকর্তাকে।
"ভালোবাসি" কথাটা বলতে পারেনি এমন অনেক স্বীকারোক্তি, অনেক উদাহারন দেবার মতো মানুষ আমাদের যেমন চোখের সামনে অহরহ। কেন যেন মনে হয় আরো অনেক শব্দই আছে- যেগুলো অব্যক্ত থেকে যায়, তারচেয়েও অজানা থেকে যায় স্বীকার করার কথাও। আর মজার ব্যপারটা হলো, নিজের পরিবারের, আপন মানুষদেরকে না বলা কথার পরিমানটাই বোধ করি সবচেয়ে বেশি। অনেক সরল অভিযোগ-অনুযোগের মতো হাজারো সন্তুষ্টি, প্রাপ্তির আনন্দ ভাগাভাগীও যেন করা হয়ে ওঠে না, কেবল অদৃশ্য দেয়ালে ঘেরা এই সংকোচের ঘরে বসবাস করার জন্য। নতুবা নিজের অনুভুতির অপমান হবার ভয়ে। কখোনোবা আমরা আপন মানুষগুলোকে এতোটাই অবহেলা নতুবা গুরুত্ব দেই - যে তার মনের কথাটার অর্থ হয়ে দাড়ায় ভিন্ন। যেমন আজ আমি বলতে পারছিনা- "ধন্যবাদ", আমারই পরিবারের একজন সদস্যকে। তাই সাহায্য নিলাম যান্ত্রিক চিঠির।
ভাবী,
তোমাকে ধন্যবাদ। দেড় বছর আগে, ঠিক এমনই একদিনে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়েও পারিনি। হয়তো অন্য অর্থ দাড়াবে, নতুবা তোমার চোখে হাসির খোড়াক হবো, অথবা আবার কোন নতুন সমস্যা। এসব কারন আসলে আমাকে থামায়নি, আমি সত্যিই গুরুত্ব দেইনা এসবের। তবে "আমার অনুভূতির ভূল ব্যাখ্যা" অথবা "আমার আপন ভাবনার অপমান" কেন জানি সহ্য করাটা কষ্টকর হয়ে ওঠে- তাই তোমাকে সরাসরি বলতে পারলামনা। ভেবনা এটা তোমার দোষ- এটা কেবল আমার হীনমন্যতার ফল।
তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য, তাদের মনের আশা পূরণ করার জন্য। পৃথিবীতে আমাদের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মকে আনবার জন্য। দেড় বছর আগে এমন পুতুলের মতো ভাতিজী দেবার জন্য, আর আজ আমার মায়ের কোলে আরেকটি দেবশিশু তুলে দেবার জন্য। আমি জানি না, কিভাবে তোমাদের শুকরিয়া আদায় করবো। ভাইয়া আর তুমি যে আনন্দ আব্বু-আম্মুকে দিয়েছো তার কোন তুলনা হয়না। তোমাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।
আমি জানি, কোন এক অজানা কারনে তুমি আমাকে অপচ্ছন্দ করো। কারনটা জানলে শোধরাবার চেষ্টা করতাম। তবে নিজের কোন চেষ্টা কোনদিন ছিলনা তোমার বিরাগভাজন হবার- এমন কি তুমিও আমার খুব যে অপচ্ছন্দের তাও না। তোমার ব্যাপারে আমি সব সময় সচেতনভাবে নিরপেক্ষ থাকবার চেষ্টা করেছি- ভালোবাসতে না পারলেও অপচ্ছন্দ করিনি একটি মুহূর্তের জন্যও।
সেসব কথা থাক। আজ কেবল তোমার দিন। এক সন্তানের মায়ের, এবার আরেকবারের মতো মা হবার দিন। প্রত্যাশা করবো, তুমি তোমার দুই সন্তানকেই সমান সম্মান দেবে, দেবে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা। আমার ভাতিজা-ভাতিজী যেন পায়- আত্নতৃপ্তি, সেই আনন্দ যা আমরা আমাদের বাবা-মায়েদের কাছ থেকে পেয়েছি, সেই সব কিছুও যা আমরা পাইনি।
হ্যা, আমার আম্মু-আব্বু তোমার কাছে কতটা সম্মানের তা আমার জানা নাই। আমার বাবা-মা আমার কাছে আদর্শ , তারা শ্বশুর-শ্বাশুরি হিসেবে তোমার দৃষ্টিতে কেমন ভাবে এসেছে তা আমার জানা নাই। তবে এতোটুকু বলতে পারি- মানুষ হিসেবেও তারা অনেক উচু দরের। তুমিও সেটা জান এবং বোঝ বলেই আমার বিশ্বাস। তারপরও আমি মানি, আমরা অনেক মানুষকেই আপন করে নিতে পারিনা, কোন এক অজানা কারনে। এটা মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা। কিন্তু এতটুকু জেনে রেখ- তুমি খুব সৌভাগ্যবতী। তেমনি আমাদেরও ভাগ্য সুপ্রসন্ন- পরিবারের একজন হিসেবে তোমার মতো একজনকে পেয়ে। প্রত্যাশা থাকবে, আমার বাবা-মাকে সন্তুষ্ট করবার চেষ্টা তোমার সারা জীবন থাবে, যেমনভাবে আমার মা তার শ্বশুর-শ্বাশুরিকে সন্তুষ্ট করেছেন আমৃত্যু।
ভালো থেকো, বিধাতা তোমাদেরকে তার সন্তুষ্টির ছায়ায় আশ্রয় দিক। আমার ধন্যবাদ হয়তো বলা হলোনা, তুমি হয়তো বুঝলেওনা - জানলেও না। কিন্তু যার জানার, সেই উপরওয়ালা জানে- তাই তিনি তোমাকে প্রতিদান দিক সেই প্রত্যাশা আর প্রার্থনা রইলো।
আনন্দ
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৭:২০
আনন্দক্ষন বলেছেন: আমাদের এই দক্ষিনএশীয়দের একটা সমস্যা হচ্ছে- তারা সব সময় নিজের সাপেক্ষে পরিপার্শিক বিষয়কে চিন্তা করে, অন্যের দৃষ্টি দিয়ে পৃথিবী দেখবার যে গুনটা পশ্চিমাদের আছে, তা অর্জন করা হয়ে ওঠেনি আমাদের।
বিশেষ করে আপন মানুষকে অনেক কথা বলা যায়না, কেননা তারা আমাদের অনুভূতি গুলোকে বোঝার চাইতে, আমাদের বক্তব্যকে -আমাদের পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান দিয়ে বিচার করে।
ভাবী, যদি না ও জানে আমার এই কৃতজ্ঞতার কথা, তাতে কিছু যায় আসে না, সৃষ্টিকর্তা কেবল তাকে আমার অনুভূতি উপল্বদ্ধি করার ক্ষমতা দিক।
আপনার কথা মনে , থাকবে- যদি কোনদিন দেখি, ভাবী আমার ধন্যবাদের মর্মার্থ বুঝতে পারবে, তবে সেদিনই বলে দেব।
২|
০২ রা ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ২:১৪
রবিউল ৮১ বলেছেন: আমার কোন ভাবী নাই এখনো,জানি না কপালে কেমন ভাবী আসে তবে এইরাম ভাবী থাকলে আমিও এই রকম লিখবার পারতাম
০২ রা ডিসেম্বর, ২০১২ ভোর ৪:০১
আনন্দক্ষন বলেছেন: আমার ভাবী মানেই দেশের, দশের ভাবী। মনে কইরা লেখা শুরু করে দেন।
তবে এটা সত্য ভাতিজা-ভাতিজীর আগমন সত্যিই অন্যরকম আনন্দের। হয়তো আমরা ফুপুর কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু পেয়েছি বলেই, এরকম অনুভূতি কাজ করে।
ধন্যবাদ, আমার ভাবীর প্রসংশা করার জন্য।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৫:১১
মেহবুবা বলেছেন: আপনার ভাবী এই পোষ্ট পড়বে কিনা জানি না , একদিন ঠিক জানতে পারবে তার জন্য আপনার এই "ধন্যবাদ" । ভাল হয় সামনা সামনি প্রকাশ করলে ; অনেক কথাই আমরা বড় অসময়ে বলি । তাই দেরী না করে বলে দিন ।