নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলো আধার

এবং আমি

অপূর্ব ইবিহটির্প

খুবই সাধারণ একজন মানুষ।

অপূর্ব ইবিহটির্প › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রথম দেখা এবং ......!

০৫ ই জুন, ২০১৩ ভোর ৫:১৩

-হ্যালো

-শুনছি, বলো।

-তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে পারবা?

-পারবোনা কেন!

-ঠিক আছে, ব্রটিশ কাউন্সিলের সামনে আস।

-আসতেছি, আধা ঘন্টা সময় লাগবে।



আজ তার সাথে আমার প্রথমবারের মত দেখা হবে। একটু এক্সাইটেড, কারণ এতদিন শুধু ফোনে কিংবা ফেসবুকে মেসেজ-এর মাধ্যমে যোগাযোগ হতো। ৭মাস পর তাকে সামনাসামনি দেখবো, যাকে নিয়ে কল্পনায় স্বপ্ন সাজিয়েছি। যায় হোক, ঘন্টাখানিক আগে বাসা থেকে বের হলাম যাতে তার আগে আমি পৌছায়, কিন্ত ভাগ্যের নির্মম(!) পরিহাস সে পৌছানোর ১৬ মিনিট পর আমি পৌছায়ছি। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। প্রথম দিনেই আমি লেইট! অনেক সাহস নিয়ে হাসিমুখে তার সামনে দাড়ালাম। আমি খুবই নার্ভাস।





- কি ব্যাপার এমন লাগছে কেন? [সে প্রশ্ন করলো]

- কয়, আমি ঠিক আছি, অনেক গরম পড়ছে আরা রাস্তায় জ্যাম ছিল।

- ওহ, আচ্ছা।

- কেমন আছ?

- এইতো ভালো, তুমি কেমন আছ?

- আমি ও ভালো আছি। তারপর, কেমন লাগছে?

- অনেক ভালো, ভাবতে পারিনি তোমার সাথে দেখা হবে।

- আমার চোখে কি আছে এমন ভাবে তাকিয়ে আছ!

- তোমার চোখ অনেক সুন্দর, বড় বড়।

- আজাইরা কথা বলোনা, এই জীবনে কখনো কেউ বলেনি। আসলে তোমার চোখে সমস্যা আছে।

- তাই না? হয়তোবা।



কথা বলতে বলতে কখন যে সময় চলে গেল টেরই পেলামনা। ঘড়ি দেখি ৫টা বেজে ৫০ মিনিট, এরই মাঝে ২ ঘন্টা কেটে গেছে। আসলে মানুষের জীবনে সুখের মুহূর্তগুলো খুব দ্রুত কেটে যায়। যদি পারতাম আরো কিছুক্ষণ সময়টাকে ধরে রাখতে! আর যখন কষ্টের ছায়া নেমে আসে আমাদের জীবনে তখন আর সময় কাটতেই চাইনা। যদি পারতাম আমাদের সোনালীময় দিন গুলো সাজিয়ে রাখতে!



আমি বললাম, আমার খুব ক্ষিধে পেয়েছে, চলো কোথাও গিয়ে খেয়ে আসি। একটা ফাস্ট ফুড দোকানে গেলাম আর পিৎজা অর্ডার দিলাম। খাবার আসার আগ পর্যন্ত তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

- এই যে ছেলে, তোমার কি সমস্যা?

- আমার কোন সমস্যা নেই।

- তাহলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছ কেন?

- ঠিক আছে তাকাবোনা।

( আমি দোকানের বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম)

- বাইরে কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছ? কোন মেয়েটাকে পছন্দ করেছ বলো!

- আজব তো, তুমি মানা করেছ তোমার চোখের দিকে তাকাতে আবার বাইরে দিকে তাকালে বলো কোন মেয়ের দিকে তাকাচ্ছি! ঠিক আছে, চোখ বন্ধ করে রাখি।

- না, চোখ বন্ধ করে রাখা লাগবেনা। তুমি জান, তুমি যে একটা পাগল?

- হয়তোবা, বিধাতা তোমাকে এত ভালো, এত সুন্দর বানিয়েছে, পাগল হওয়াটা স্বাভাবিক।

- হয়ছে, আর আজাইরা কথা বলা লাগবেনা। দেখছ, আমি তোমার সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া করি। আমাদের বিয়ে হলে সারাক্ষণ এভাবে ঝগড়া হতে থাকবে।

- (আমি হাসছিলাম) আরে এটাকে কি ঝগড়া বলে এটাতো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

- তোমার সাথে আমি কিন্তু ঝগড়া করবো, ঠিক আছে?

- ঠিক আছে।

- কিন্তু আমাকে বকা দিতে পারবা না।

- ঠিক আছে। তুমি যায় বল না কেন আমি শুনবোনা।

- কেন?

- আমি কানে তুলা দিয়ে রাখবো।

- যাও তোমার সাথে কোন কথা নাই।



দোকান থেকে বের হয়ে দেখি সন্ধ্যা ৭টা। সে বলল, আমাকে যেতে হবে, অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি বললাম-ঠিক আছে, তোমাকে তোমাদের এলাকার পর্যন্ত দিয়ে আসি। এই বলে একটা সি এন জি ঠিক করলাম। মনটা হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেল। আজকের দিনটা এত তাড়াতাড়ি কিভাবে যে চলে গেল! জানিনা আর কখন দেখা হবে। অন্য দিন রাস্তা ট্রাফিক জ্যাম থাকে কিন্তু আজ মনে হয় পুরা রাস্তায় ফাকা। খুব তাড়াতাড়ি পৌছে গেলাম। সি এন জি থেকে নামার সময় সে আমাকে একটা জিনিস উপহার দিল যেটা তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। তাকে বাই বলতে গিয়ে নিজের অজান্তে চোখের পানি আসতে লাগলো। কিন্তু তাকে বুঝতে দিইনি আমি। আমি চাইনি আমার কষ্ট দেখে সে ও কষ্ট পাক। আমি জানি তার ও খুব খারাপ লাগছে তারপর ও সে আমাকে হাসিমুখে বিধায় জানালো। আমাদের কষ্ট আমরা নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি। সি এন জি থেকে নেমে বাসার দিকে হেটে যাচ্ছিল কিন্তু বারবার পেছনে দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। আমিও সি এন জি'র ভিতরে বসে চেয়ে রইলাম তার দিকে। হাজারো কষ্ট বুকে চেপে রেখে একে অপরকে হাসিমুখে বিধায় জানালাম,হয়ত এরই নাম ভালোবাসা।



সেই দিনের সেই সব কথা আমার কানে আজো ভেসে আসে। তোমার কি মনে আছে? যেতে যেতে তুমি আবার ফোনে আমার সাথে কথা বলছিলে, আমি নিজেকে অনেক সামলিয়ে নিয়েছিলাম, যাতে আমার বোবা কান্না তুমি বঝতে না পার। পৃথিবীতে বিধায় শব্দতা অনেক নিষ্ঠুর, অনেক নির্মম। অনেক মিস্ করছি তোমায়। আমি জানি, আমার এই লেখা সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দেবে। তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য না, আমি নিজেক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য লিখেছি। কিছুটা সময় হলেও তো তুমি আমার সাথে ছিলে!হ্যালো

-শুনছি, বলো।

-তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে পারবা?

-পারবোনা কেন!

-ঠিক আছে, ব্রটিশ কাউন্সিলের সামনে আস।

-আসতেছি, আধা ঘন্টা সময় লাগবে।



আজ তার সাথে আমার প্রথমবারের মত দেখা হবে। একটু এক্সাইটেড, কারণ এতদিন শুধু ফোনে কিংবা ফেসবুকে মেসেজ-এর মাধ্যমে যোগাযোগ হতো। ৭মাস পর তাকে সামনাসামনি দেখবো, যাকে নিয়ে কল্পনায় স্বপ্ন সাজিয়েছি। যায় হোক, ঘন্টাখানিক আগে বাসা থেকে বের হলাম যাতে তার আগে আমি পৌছায়, কিন্ত ভাগ্যের নির্মম(!) পরিহাস সে পৌছানোর ১৬ মিনিট পর আমি পৌছায়ছি। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। প্রথম দিনেই আমি লেইট! অনেক সাহস নিয়ে হাসিমুখে তার সামনে দাড়ালাম। আমি খুবই নার্ভাস।





- কি ব্যাপার এমন লাগছে কেন? [সে প্রশ্ন করলো]

- কয়, আমি ঠিক আছি, অনেক গরম পড়ছে আরা রাস্তায় জ্যাম ছিল।

- ওহ, আচ্ছা।

- কেমন আছ?

- এইতো ভালো, তুমি কেমন আছ?

- আমি ও ভালো আছি। তারপর, কেমন লাগছে?

- অনেক ভালো, ভাবতে পারিনি তোমার সাথে দেখা হবে।

- আমার চোখে কি আছে এমন ভাবে তাকিয়ে আছ!

- তোমার চোখ অনেক সুন্দর, বড় বড়।

- আজাইরা কথা বলোনা, এই জীবনে কখনো কেউ বলেনি। আসলে তোমার চোখে সমস্যা আছে।

- তাই না? হয়তোবা।



কথা বলতে বলতে কখন যে সময় চলে গেল টেরই পেলামনা। ঘড়ি দেখি ৫টা বেজে ৫০ মিনিট, এরই মাঝে ২ ঘন্টা কেটে গেছে। আসলে মানুষের জীবনে সুখের মুহূর্তগুলো খুব দ্রুত কেটে যায়। যদি পারতাম আরো কিছুক্ষণ সময়টাকে ধরে রাখতে! আর যখন কষ্টের ছায়া নেমে আসে আমাদের জীবনে তখন আর সময় কাটতেই চাইনা। যদি পারতাম আমাদের সোনালীময় দিন গুলো সাজিয়ে রাখতে!



আমি বললাম, আমার খুব ক্ষিধে পেয়েছে, চলো কোথাও গিয়ে খেয়ে আসি। একটা ফাস্ট ফুড দোকানে গেলাম আর পিৎজা অর্ডার দিলাম। খাবার আসার আগ পর্যন্ত তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

- এই যে ছেলে, তোমার কি সমস্যা?

- আমার কোন সমস্যা নেই।

- তাহলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছ কেন?

- ঠিক আছে তাকাবোনা।

( আমি দোকানের বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম)

- বাইরে কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছ? কোন মেয়েটাকে পছন্দ করেছ বলো!

- আজব তো, তুমি মানা করেছ তোমার চোখের দিকে তাকাতে আবার বাইরে দিকে তাকালে বলো কোন মেয়ের দিকে তাকাচ্ছি! ঠিক আছে, চোখ বন্ধ করে রাখি।

- না, চোখ বন্ধ করে রাখা লাগবেনা। তুমি জান, তুমি যে একটা পাগল?

- হয়তোবা, বিধাতা তোমাকে এত ভালো, এত সুন্দর বানিয়েছে, পাগল হওয়াটা স্বাভাবিক।

- হয়ছে, আর আজাইরা কথা বলা লাগবেনা। দেখছ, আমি তোমার সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া করি। আমাদের বিয়ে হলে সারাক্ষণ এভাবে ঝগড়া হতে থাকবে।

- (আমি হাসছিলাম) আরে এটাকে কি ঝগড়া বলে এটাতো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

- তোমার সাথে আমি কিন্তু ঝগড়া করবো, ঠিক আছে?

- ঠিক আছে।

- কিন্তু আমাকে বকা দিতে পারবা না।

- ঠিক আছে। তুমি যায় বল না কেন আমি শুনবোনা।

- কেন?

- আমি কানে তুলা দিয়ে রাখবো।

- যাও তোমার সাথে কোন কথা নাই।



দোকান থেকে বের হয়ে দেখি সন্ধ্যা ৭টা। সে বলল, আমাকে যেতে হবে, অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি বললাম-ঠিক আছে, তোমাকে তোমাদের এলাকার পর্যন্ত দিয়ে আসি। এই বলে একটা সি এন জি ঠিক করলাম। মনটা হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেল। আজকের দিনটা এত তাড়াতাড়ি কিভাবে যে চলে গেল! জানিনা আর কখন দেখা হবে। অন্য দিন রাস্তা ট্রাফিক জ্যাম থাকে কিন্তু আজ মনে হয় পুরা রাস্তায় ফাকা। খুব তাড়াতাড়ি পৌছে গেলাম। সি এন জি থেকে নামার সময় সে আমাকে একটা জিনিস উপহার দিল যেটা তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। তাকে বাই বলতে গিয়ে নিজের অজান্তে চোখের পানি আসতে লাগলো। কিন্তু তাকে বুঝতে দিইনি আমি। আমি চাইনি আমার কষ্ট দেখে সে ও কষ্ট পাক। আমি জানি তার ও খুব খারাপ লাগছে তারপর ও সে আমাকে হাসিমুখে বিদায় জানালো। আমাদের কষ্ট আমরা নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি। সি এন জি থেকে নেমে বাসার দিকে হেটে যাচ্ছিল কিন্তু বারবার পেছনে দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। আমিও সি এন জি'র ভিতরে বসে চেয়ে রইলাম তার দিকে। হাজারো কষ্ট বুকে চেপে রেখে একে অপরকে হাসিমুখে বিধায় জানালাম,হয়ত এরই নাম ভালোবাসা।



সেই দিনের সেই সব কথা আমার কানে আজো ভেসে আসে। তোমার কি মনে আছে? যেতে যেতে তুমি আবার ফোনে আমার সাথে কথা বলছিলে, আমি নিজেকে অনেক সামলিয়ে নিয়েছিলাম, যাতে আমার বোবা কান্না তুমি বঝতে না পার। পৃথিবীতে বিধায় শব্দতা অনেক নিষ্ঠুর, অনেক নির্মম। অনেক মিস্ করছি তোমায়। আমি জানি, আমার এই লেখা সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দেবে। তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য না, আমি নিজেক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য লিখেছি। কিছুটা সময় হলেও তো তুমি আমার সাথে ছিলে!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.