নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আঁধার পেরিয়ে এক কণা আলোর খোঁজে

ছন্নছাড়া ছেলেটি

"আমি হয়তো তেমন না যেমনটা তোমরা ভাবো....!! হয়তো আমি তেমন , যাকে তোমরা বুঝতে পারো না....!!" আমার খুব সাধারন থাকার সাধ । অসাধারন হবার মত কোন গুন আমার ভেতর নেই । সমালোচকদের চোখে : আমি একটা 'অ' টাইপ ছেলে । ((অসহ্য, অসভ্য, অসামাজিক, অতিভদ্র, অস্থির, অধৈর্য্য, অনিয়ন্ত্রিত, অনাকাঙ্খিত (তাদের জীবনে), অবিশ্বাসী, অগোছালো, অতিরিক্ত ভাব, অত্যাচারী, অভিশপ্ত + ..... )) মানবিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং অসাম্প্রদায়িক মনোভাব পোষণ করি । বন্ধুদের চোখে : আমি আমি বিনয়ী, ভদ্র, বিশ্বাসী, প্রকৃতিপ্রেমী, আঁতেল, মেধাবী, ফানি, দুর্ভাগা এবং রোমান্টিক :) । মনুষ্যত্বের সংজ্ঞায় নিজেকে মানুষ বলে মনে করি । এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় ।

ছন্নছাড়া ছেলেটি › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বপ্নগুলো রঙহীন

১১ ই জুন, ২০১৩ রাত ২:২০

ধাক্কাটা প্রায় লেগেই গিয়েছিল । শেষ মুহূর্তে সেটা আঁচ করতে পেরে থমকে দাড়িয়ে পরে অনিক । তাকিয়ে দেখে, তরুণী প্রায় মারমুখী ভঙ্গিতে তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।

-- কি ব্যাপার । চোখে দেখেন না ?

-- এক্সট্রিমলী স্যরি । খেয়াল করিনি ।

-- যত্তোসব ।

তরুণী দমকা হাওয়ার মত এক পশলা বাতাস গায়ে লাগিয়ে হনহন করে হেঁটে যায় । এই বয়সী একটু সুন্দরী মেয়েদের এই এক সমস্যা । সবসময় সবকিছূতে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে । অনেক সময় রাগার মত কোন ইস্যু না পেলেও এদের রাগ হয় । কারো ওপর রাগ করতে না পারলে এদের মনোকষ্ট হয় । রাগ করাটা যেন আধুনিক ফ্যাশন হয়ে গেছে ।



তার মাথা ধরে আসে। একটা সিগারেট দরকার। চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় । ইদানিং লেকের ভেতরে সিগারেটের দোকানগুলো চোখে পড়েনা। আগের মত অতোটা নোংরা আবর্জনাও নেই । চারপাশটা বেশ পরিচ্ছন্ন ।

এক ফেরিওয়ালার কাছ থেকে চা আর সিগারেট ধরিয়ে ফাঁকা একটা বেঞ্চ দেখে বসে পরে। অথচ এ সময়টা তার পৃথাকে পড়ানোর কথা । কিছুক্ষণ আগে সে ফোন করে বলে, আজ পড়বে না । মুড নেই । ধনীর অতি আদুরে কন্যার মুড বৈশাখের আকাশের মত । এই রোদ তো এই বৃষ্টি ।

প্রায় শেষ বিকেলের বয়স্ক সূর্য্যটা ক্লান্তিতে মাথা নুইয়ে ফেলেছে । নানা বয়সী মানুষের আনাগোনা শুরু হয়েছে । প্রত্যেকের মুখের গাড় ভাজের আড়ালে কত রকমরে গল্প । তারা এখানে সুখ বিলাতে আসে ।



অনেকদিন বাদে এখানে আসা । শেষবার এসেছিল মিতুর আগ্রহে । ঠিক এ সময়টাতেই । এ রকমই এক বেঞ্চে বসতে গিয়ে মিতু তাকে শাসিয়ে বলেছিল -

► এই, গা ঘেঁষে বসবে না। একহাত দুরে সরে বসো ।

► কেন ? আর কেউ আসার কথা নাকি ?

► ফাজলামো করবেনা । গা ঘেঁষে বসতে আমার অস্বস্তি লাগে ।

► বা রে । আমি কি তোমার অপরিচিত কেউ ?

► না । কেউ যদি দেখে ফেলে ।

► হা হা হা ..ঠিকাছে ।



মিতু চলে গেছে আজ প্রায় একমাস হতে চললো । যাবার আগে বলেছে- 'একমাসের মধ্যে কোন চাকরী পেলে জানিও । নাহলে আমি তোমাকে আর আশায় বসিয়ে রাখবো না ।'

সময়টা ফুরিয়ে যাচ্ছে । ফুরোচ্ছে আরো অনেক কিছূই । অনেক যত্নে আগলে রাখা স্বপ্নগুলো, অনাদরে বেড়ে ওঠা ভালোবাসাগুলো, বন্ধু বলে কাছে টেনে নেয়া মানুষগুলো, একটু বিষন্নতায় সঙ্গ দেয়া সুখগুলো .. ধীরে ধীরে সব ফুরিয়ে যাচ্ছে ।



অনিক মাস্টার্স পাশ করেছে দুই বছর হল। চাকরি না পেয়ে টিউশনি করছে। সংসারের হাল ধরেছে। মা অসুস্থ। মুখে বলে ঠিক আছে। কিন্তু তার আঁচলে কাশি চাপা দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা ছেলের চোখে ঠিকই ধরা পড়ে। ছয়মাস আগে ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা মেডিকেল টেস্টগুলো এখনও করানো হয়নি। বোন অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছে। তার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। অনিক জানে এই বাজারে পাত্রকে কিছু কিনে দেয়াতো দূরে থাক, বিয়ের খরচ দেয়ার সামর্থ্যও তাদের নেই। ছোটভাইটা ক্লাস নাইনে উঠেছে। একটা ভাল জ্যামিতি বক্স কিনে দিতে পারছে না তাকে। অনেক কষ্টে বন্ধুদের কাছে কম্পাস ধার করে ম্যাথ হোম ওয়ার্ক করে। অনিকের বাবা রিটায়ার করেছেন পাঁচ বছর আগেই। পেনশনের টাকা শেষ হয়ে আসছে। বাসা থেকে বের হন বাইরে হাঁটাহাঁটির কথা বলে। কিন্তু অনিক তাকে একদিন মৌচাক মার্কেটের উল্টো পাশে একটা টাইপ মেশিনের দোকানে দেখে ফেলেছে। কুঁজো হয়ে টাইপ করছিলেন। চোখে দেখছিলেন না ঠিক মত। বার বার ময়লা হয়ে যাওয়া সাদা রুমাল বের করে চশমা মুছছিলেন। চশমার কি দোষ। খালি চোখেই এখন তার বাম চোখের দিকে তাকালে ছানির অস্তিত্ব বোঝা যায়।



আর অনিক?

৩২ নম্বর লেকের ধারে বসে সিগারেটের সমস্ত ধোঁয়া ফুসফুসে শুষে নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বয়ে চলে এটা ভেবে -- ‘'এ জীবনে একটা চাকরী তার আদৌ কি কখনও হবে ?" অনিকেরা অপেক্ষা করে যায়। তাদের অপেক্ষা শেষ হয়না। —

=====================







|| পুনশ্চ : সব অনিক’দের গল্পটা একই রকম । আমাদের চারপাশে এরকম অজস্র অনিক হাসিমুখে কষ্ট আগলে রেখে ঘুরে বেরায় । এরা কারো কাছে কিছু পায়না । না রাষ্ট্রের কাছে, না সমাজের কাছে, না বুকে সুগন্ধী আতর মাখা রুমাল রাখা বরুনাদের কাছে ||





আআ/AA

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.