নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Mail: [email protected]

অর্ক

Mail: [email protected]

অর্ক › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার দেখা বিএনপি জামাতের দুঃশাসন

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৫



জ্ঞান হবার পর আমার দেখা, আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে খারাপ সময় গিয়েছিলো বিএনপি জামাতের ২০০১ পরবর্তী শাসনকাল। একেবারে নরক গুলজার অভিশপ্ত দুর্বিষহ স্মৃতি। সে সময়ের কথা চিন্তা করলেও শিউরে উঠতে হয়। একেবারে ঘোর অন্ধকার, কালো অধ্যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে। বিন্দু পরিমাণ কোনও উন্নয়ন, উন্নতি নেই। আইনের শাসন নেই। চারিদিকে শুধু অরাজকতা, অপরাধ, অনিয়ম। কি যে দুর্বিষহ অভিশপ্ত সময় গেছে! সেই চারদলীয় জোট সরকারের পলিসিই ছিলো নো ওয়ার্ক, নো হেডেক। একটি দেশের উন্নয়ন করতে শাসককে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, দিনরাত এক করে কাজ করতে হয়। এমনি এমনি সব হয় না। বিএনপি জামাত জোট পুরো সময়কালে দূর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, ডাকাতিতে ব্যাস্ত ছিলো। তারেক জিয়া আসলে কোনও রাজনীতিবিদ না। সে একজন আন্তর্জাতিক মাফিয়া, মহা দূর্নীতিবাজ, মহা ডাকাত। চোর বললেও আসলে তাকে রেড কার্পেট বিছানো লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হবে! সে দেশের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দীর্ঘ বিচারিক প্রকৃয়ায় মাধ্যমে, সমস্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার সাজা হয়েছে। আমেরিকার সুপরিচিত স্বনামধন্য গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্ত করে সিঙ্গাপুরে অবৈধ অর্থ পাচারের দূর্নীতির মামলার রিপোর্ট দিয়েছিলো। সে মামলায় পরবর্তীতে ইউনুসের জঙ্গি সরকার কর্তৃক তারেক জিয়া নির্দোষ সাব্যস্ত হয়। বেকসুর খালাস পায়। মামলা নিস্ক্রিয় হয়। ব্যাপারটা জেনে সে মামলার তদন্তকারী একজন এফবিআই কর্মকর্তা দারুণ বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছিলো। বলেছিলো যে, "এটা কিভাবে সম্ভব! এ মামলায় সে মুক্ত হতে পারে কি করে! আমি নিজে তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছি।" এটা তো তার হাজারটা অপকর্মের নগণ্য অংশ মাত্র। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছিলো এই জঙ্গি নেতা তারেক জিয়াই। পুরো দেশে জঙ্গিদের অবাধ ছেড়ে দিয়েছিলো। সে সময় সারাদেশে এখানেসেখানে বোমা হামলা হতো। চৌষট্টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়েছিলো। রমনা পার্ক মন্দির গির্জা প্যাগোডা সিনেমাহল আদালত প্রাঙ্গন খেলার মাঠ সবখানে বোমা হামলা ডালভাত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। শরিয়া আইন চাই। বেপর্দা নারীর পাছায় দোররা মারা আইন চাই। আমরা হবো তালেবান। বাংলা হবে আফগান। প্রতিদিন খবরের কাগজ ভরে থাকতো সারাদেশে আওয়ামী লীগ বামদলের নেতাকর্মীদের হত্যার খবরে। অবাধ হত্যা হতো। অপরাধীরা জানে, জামাত বিএনপি জোট ক্ষমতায়। পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে না। একটা পশমও বাঁকা হবে না। তুচ্ছ কারণেও বিএনপি জামাতের গুন্ডাপান্ডারা নিয়মিত প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রগ কাটা, হত্যা জখম জারি রেখেছিলো তাদের পুরো সময়কালে। পুলিশ প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যাপারে একেবারেই নিস্ক্রিয় ছিলো। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন সাধরণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। চোখের সামনে অপরাধ দেখতে দেখতে এগুলো আর মানুষকে বিচলিত করতো না। স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে নিতো সবাই। যেমন বলেছি, নরক গুলজার দুঃসহ অভিশপ্ত অন্ধকার সে সময়।

দেশে বিদ্যুৎ ছিলো না। এই রাজধানী ঢাকাতেই এক ঘন্টা বিদ্যুৎ তো পরের ঘন্টা লোডশেডিং। দেশের সবখানেই চব্বিশ ঘন্টা জেনারেটরের ঘটরমটর শব্দ শোনা যেতো। লোডশেডিংয়ের দেশ। মে জুনের ভ্যাপসা গরমেও প্রতিদিন মাঝরাতে লোডশেডিং। লোকজন খোলা মাঠে, গাছের নিচে, বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিতো। বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা করতো। আমি সে সময় দেশের রাজধানী ঢাকা শহরের বিদ্যুতের কথা বলছি। সারাদেশের পরিস্থিতি কি ছিলো, সহজেই অনুমেয়। মনে পড়ছে মাগরিবের নামাজের পর ভরা মিলাদ মাহফিলে লোডশেডিং। আয়োজক স্থানীয় এক ঠিকাদার, ব্যবসায়ী তখন বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে জানিয়েছিলো যে, আমাদের বাড়িতে মিলাদ চলছে, দেখেন কিছু করা যায় কিনা। পরে বিদ্যুৎ এসেছিলো। উফফ, কি যে দুর্দশা সারা দেশে। বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। চব্বিশ ঘন্টা যখনতখন বিদ্যুতের সুইচ অফ করে লোডশেডিং। প্রোডাকশন বন্ধ। কলকারখানা অচল। উন্নয়ন বন্ধ। চারিদিকে শুধু দারিদ্রতা, অভাব।

(চলবে)

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৪

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: এখন কী করতে হবে?

২| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যেভাবে বিএনপির হাতে আপা দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন তাতে কারোই ভালো করার কথা না । এবারো বিএনপি টাইম বোমার উপর বসে পাওয়ারে আসছে । যেসব খুন খারাবির কথা বলছেন সেটা আপার আমলেও হয়েছে । আসল ঘটনা হলো শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে যখন পাওয়ারে আসেন তখন world এর একটা পজেটিভ change এসেছিলো আর বিএনপি এবার যখন পাওয়ারে আসছে আবার world এর সিচুয়েশন খারাপ।

শেখ হাসিনার আমেল রমনা বটমুলে বোমা হামলা হয়েছে । তখনও বিএনপি পাওয়ারে আসেনি। বিএনপি জামাত থেকে দুরে সরে থাকতে পারলে মোটামুটি দেশ চালিয়ে নিতে পারবে ।

৩| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪২

আদিত্য ০১ বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যেভাবে বিএনপির হাতে আপা দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন তাতে কারোই ভালো করার কথা না । এবারো বিএনপি টাইম বোমার উপর বসে পাওয়ারে আসছে ।
রমনা বটমুলে বোমা হামলা হইছে ২০০১ এ তাইলে সেটার অভিযোগ পত্র কেন ২০০৮ দেওয়া লাগলো। ২০০১-২০০৬ এ কি বিএনপি তাইলে নাটক দেখছিলো?

২০০১-২০০৬ আপনি বাচ্চা ছিলেন, আপনি কি জানেন। ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা কার আমলে বোমা হামলা হইছিলো। মিয়া বিএনপিরে চাটবেন ভালো কথা। একটু দোষ ত্রুটি নিয়া চাইটেন

৪| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮

রাসেল বলেছেন: যদি আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিএনপি তে ভোট দিয়ে থাকে, তবে-

৫| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আদিত্য ০১@ বিএনপির উচিত জামায়াত থেকে দুরে থাকা ; তাহলে দেশ মোটামুটি চালিয়ে নিতে পারবে । আগের ঘটনার রিপিট হওয়ার চানস কম । এবার আগের মতো কিছু ঘটলে বসেরা চুপ করে বসে থাকবে না । ৯১ সালের মতো চালাবে বলে ধারণা ।


৬| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪

আদিত্য ০১ বলেছেন: @সৈয়দ কুতুব, আপনি বিএনপি ঘরনার লোক, বিএনপির দোষ ত্রুটি আপনার চোখে পড়বে না। তা জানি। লোক দেখানো বিএনপি সমালোচনা করেন যাতে সবাই ভাবে কুতুব সাহেব নিরপেক্ষ লোক

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.