| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
আমি দীর্ঘদিন ধরে ভাবছিলাম, এই দেশে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কোনো রাজনৈতিক দল আছে কিনা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর, অনেক গভীর চিন্তার পর, আমি অবশেষে উত্তর পেয়েছি। সেই দল হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এবং আমি এটা বলছি সম্পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে কারণ এমন একটি দল পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা এত সুনিপুণভাবে, এত দক্ষতায়, এত নিখুঁত অভিনয়ে দেশপ্রেম পরিবেশন করতে পারে।
১৯৭১ সাল থেকেই শুরু করা যাক। যখন এই দেশের মানুষ খালি হাতে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা কিনছিল, জামায়াত তখন ঘরে বসে ছিল না — না, মোটেই না। তারা সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিল। অবশ্য কোন মাঠে ছিল, কোন পক্ষে ছিল সেটা বলতে একটু সংকোচ লাগছে। তবে এটুকু বলা যায়, তারা যা করেছিল তা এতটাই অনন্য দেশপ্রেম ছিল যে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও সেই অধ্যায়ের কথা উঠলে তারা বিষয়টাকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দ্রুত এড়িয়ে যান। সত্যিকারের দেশপ্রেমিকরাই কেবল নিজেদের ইতিহাস এভাবে হাসিমুখে অস্বীকার করতে পারেন।
কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে চলবে না, বর্তমানে আসা যাক। জানুয়ারি ২০২৬ সালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি Ambassador Jamieson Greer-এর দলের সাথে টেলিকনফারেন্সে বসলেন। এটি অত্যন্ত দেশপ্রেমিক একটি কাজ ছিল সন্দেহ নেই। সেই বৈঠকে তিনি গভীর দেশপ্রেম থেকেই বললেন, নির্বাচনে জিতলে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করবেন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করবেন। এটা দেশপ্রেম ছাড়া আর কী হতে পারে? দেশকে ভালোবাসলেই তো মানুষ বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে বসে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়, নির্বাচনের আগেই।
এরপর ঘটনা একটু জটিল হয়ে গেল। মার্কিন আদালত সেই চুক্তির আইনি ভিত্তি দুর্বল করে দিল। দেশে জনমত চুক্তির বিরুদ্ধে গেল। মানুষ বলতে লাগল চুক্তিটি একতরফা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আর ঠিক তখনই জামায়াত আমিরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা প্রকৃত দেশপ্রেমিকটি জেগে উঠলেন। মার্চ ২০২৬-এ তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখলেন : অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সাথে কোনো আলোচনাই করেনি, তিনি কিছুই জানতেন না। এই ধরনের স্মৃতিশক্তি একমাত্র সত্যিকারের দেশপ্রেমিকদেরই থাকে ; জানুয়ারিতে যা বললেন, মার্চে তার কিছুই মনে নেই।
পল কাপুর ঢাকায় এলেন। জামায়াত নেতাদের সাথে বৈঠক হলো। আর বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই শফিকুর রহমান না জানার ঘোষণা দিলেন। এই টাইমিংটা একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবুন। মার্কিন প্রতিনিধি এসে সরাসরি কথা বললেন, আর তার ঠিক পরেই হঠাৎ দেশপ্রেমের জোয়ার এলো। এটা কাকতালীয় নয় বরং এটা হলো সেই গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যা কেবল সত্যিকারের দেশপ্রেমিকরাই রাখতে পারেন। কী দেখলেন সেই বৈঠকে, কী শুনলেন, কী বোঝালেন -সেটা আমরা জানি না। তবে বৈঠকের আগে এবং পরের শফিকুর রহমান যেন দুটো আলাদা মানুষ।
অনেকে বলেন, জামায়াত সুবিধামতো অবস্থান বদলায়। আমি এই কথায় একমত নই। বরং আমি বলব, জামায়াত সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়। যখন ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তখন মার্কিন চুক্তি ছিল সুযোগ। যখন ক্ষমতার রাস্তা অন্ধকার হয়ে গেল, তখন সেই একই চুক্তি হয়ে গেল আমাদের না জানিয়ে করা একটা ষড়যন্ত্র। এই বিকাশের ক্ষমতা কি সবার আছে ? নেই। এটা কেবল বাংলাদেশের একমাত্র দেশপ্রেমিক দলের আছে। আর এই দলই বলে আমরা ইসলামিক আদর্শের রাজনীতি করি।
তারেক রহমানও সেই জানুয়ারির টেলিকনফারেন্সে ছিলেন। বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই মার্কিনদের সাথে কথা বললেন, দুই দলই সম্মতি দিলেন। তারপর যখন হিসাব পাল্টে গেল, দুই দলই ভিন্ন সুর ধরলেন। কিন্তু জামায়াতের সুরটা একটু বেশি চড়া, কারণ তারা শুধু চুপ থাকেননি সক্রিয়ভাবে না-জানার পতাকা উড়িয়েছেন। বিএনপি অন্তত নীরবে থেকেছে। জামায়াত সরব হয়ে মিথ্যা বলেছে। এই বাড়তি সাহসটুকুই তাদের একমাত্র দেশপ্রেমিক দল করে তোলে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক সমস্যা আছে, অনেক দলের অনেক দোষ আছে। কিন্তু জামায়াত সেই বিরল দল যারা পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি কাজ অত্যন্ত ধারাবাহিকভাবে করে আসছে -নিজেদের স্বার্থে যা দরকার তাই করা, এবং সেটাকে ধর্ম অথবা দেশপ্রেমের মোড়কে পরিবেশন করা। ১৯৭১-এ করেছে, ২০২৬-এও করছে। এই ধারাবাহিকতাই তাদের একমাত্র করে তোলে - অন্তত নিজেদের চোখে। আর নিজের চোখে নিজেকে মহান ভাবার মতো দেশপ্রেম এই দুনিয়ায় আর কোথায় পাবেন, বলুন?
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ![]()
২|
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১
কিরকুট বলেছেন: মুরগী প্রেমে শিয়াল ব্যাকুল
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাকে যদি নির্বাচিত করেন তবে আমি আগামীকাল থেকেই ভেজিটেরিয়ান হয়ে যাবো।
৩|
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
অতীত দিনের গীতি আরো গীতিময়
হয়ে থাকুক তাদের পথ পরিক্রমায়,
সে গীতগুলি যখন একসাথে হবে
গীত, তখন কান পেতে শুনার জন্য
থাকবে কী তারা তা শুনার মত!!!
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: একদিন যখন সব গীত একসাথে বাজবে , সেই মহামিলনের দিন কি কান পেতে শুনার সাহস থাকবে তাদের?
৪|
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫২
রাজীব নুর বলেছেন: শিরোনাম এবং পোষ্টে মাইনাস। ব্যস।
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: (শিরোনামের মাইনাস) ইনটু (পোষ্টের মাইনাস) = plus ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের আগে ইতিহাস জানতে হবে।