| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ কমিটির সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় : ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া নতুন পাঠ্যক্রমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জীবন, কর্ম ও শাহাদাতের গল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের 'আমরা তোমাদের ভুলব না' অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধের পাশে একই কাঠামোতে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে উপস্থাপন করবে এনসিটিবি।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
হাদির বোন মাসুমা হাদি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে কিছু দাবিও জানিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়। তিনি বলেন : "আমার ভাই শাহাদাতের দিন থেকেই গণমাধ্যমের মাধ্যমে দাবি করেছি, সরকার যেন অবশ্যই আমার ভাইয়ের বীরত্বগাথা জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেন। অবশেষে সরকার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ; এটি প্রশংসার দাবিদার। তবে ২০২৮ সাল থেকে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে কেন? আমার প্রশ্ন -২০২৭ সালে হবে না কেন? এবং শুধু পঞ্চম শ্রেণিতে কেন? আমার দাবি, বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই ২০২৭ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব পাঠ্যবইয়ে শহীদ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা জীবনী অন্তর্ভুক্ত করুক।"
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
যারা সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন
ইমরান হাওলাদার সানি লিখেছেন : "আলহামদুলিল্লাহ। যারা শহীদ ওসমান হাদির পোস্ট দেখলে হাহা রিয়্যাক্ট দিত, তারা ভাবো । আগামীতে তোমাদের সন্তানরা শহীদ ওসমান হাদিকে জানবে, বুঝবে। শহীদ ওসমান হাদির মতন হতে চাইবে তারা। আলহামদুলিল্লাহ।"
মুসতোফা সজল লিখেছেন : "আহ!! ওসমান ভাই!! আশা করি যাকে তাকে দিয়ে চ্যাপ্টারটা লেখানো হবে না।"
ফাতিমা তাসনিম জুমা কটাক্ষের সুরে বিরোধীদের উদ্দেশে লিখেছেন : "আওয়ামী ও কালচারাল বটদের বলতে চাই, সব চোখের পানি এখনই নষ্ট করে ফেলো না। বই আসুক আগামী বছরের। আর এর পরের বছর তো পুরো কারিকুলামই নতুন করে আসবে। তখন চক্ষের পানি আর নাকের পানি এক করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত জমিয়ে রাখো।"
যারা প্রশ্ন তুলছেন বা বিরোধিতা করছেন
নায়েম হাসান ফারুক লিখেছেন : "আবু সাঈদ বা অন্য কোনো সম্মুখযোদ্ধা জুলাই শহীদের জীবনী বইয়ে দিলে ঠিক ছিল। তারা নিঃসন্দেহে সাহসী ; পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। হাদি এই ক্যাটাগরিতে পড়েন না। তাঁর মৃত্যু অবশ্যই দুঃখজনক, কিন্তু পাঠ্যবইয়ে স্থান পাওয়ার মতো অবদান আমার চোখে পড়েনি। তবে ইউনূস আমলের জঘন্য আইনশৃঙ্খলার উদাহরণ হিসেবে হাদি হত্যাকাণ্ড ও খুনির পলায়নের ঘটনা রাখা যেতে পারে।"
রাসেল হিমাদ্রির (বিএনপি কর্মী) আরও কড়া ভাষায় লিখেছেন : "জেনুইনলি, ঠান্ডা মাথায় ভাবেন তো হাদি সাহেব পাঠ্যবইয়ে রাখার মতো বীর ছিলেন? জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সামনের সারিতে ছিলেন না। আউট অব নো হোয়্যার সামনে এলেন। ফেসবুক দিয়ে মেইক-শিফট হিরো বানানো হলো। শিক্ষামন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদি-মাতম দেখে তার কাহিনী বইতে ঢোকাচ্ছেন। ওকে ঢোকান, তবে সেখানে কী লিখবেন?"
সুদিপ বিভাস বিভু লিখেছেন : "একটা ছেলে বেঘোরে প্রাণ বিসর্জন দিলো। জুলাই আন্দোলনে সে কোন পর্যায়ের নেতা ছিল তা নিয়ে খোদ জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যেই মতবিভেদ আছে। মিথ নির্মাণ শুরু হলো। ওকে কাল্ট বানানোর বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলো অনেকে। ছেলেটার অবদান কী, কী তার বীরত্ব এই প্রশ্ন করলে তার মুরিদরা একটা লাইনও ঠিকমতো বলতে পারে না।"*
মেহমুদ হাসান লিখেছেন : "ওসমান হাদির একটা ফেক ইমেজ তৈরি করে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। টিভিতে টকশো করা ছাড়া ওসমান হাদির আর কোনো অবদান আমি দেখি না। হাদির এই নকল ইমেজ শেষ পর্যন্ত সরকারকেও কাবু করে ফেলেছে ; তারা প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে হাদির কথিত বীরত্বগাথা ছাপাবে। হায়!"
ওসমান গনি হাদী একজন হতভাগ্য তরুণ। তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক দল, পরিবার সবাই ব্যবসা করেছে। মৃত্যুর পরও সেই ব্যবসা থামেনি। বরং তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তিনি একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ ছিলেন। তাঁকে তৈরি করা হয়েছিল মুলত কোরবানির উদ্দেশ্যে। যারা হাদী হত্যাকাণ্ড থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল, তারা নিশ্চয়ই নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগোবে। তাদের রাজনীতির জন্য আরও অনেক ‘হাদী’ দরকার হবে। সে কারণেই হয়তো প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের সঙ্গে হাদীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বীরত্বগাথা জীবনী কি না
আগামী প্রজন্ম তার মূল্যায়ন করবে !