| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমার একটি অভিজ্ঞতা বলছি। বেশ ক'বছর আগে ইরানি ফুটবল দল বাংলাদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছিলো। খেলেছিলো বাংলাদেশের সাথে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হয়েছিলো খেলা। সরাসরি দেখেছিলাম। সে এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা। ইরানের বেশিরভাগ খেলোয়াড় ছিলো অসভ্য। মাঠের মধ্যেই বাংলাদেশেী খেলোয়াড়দের সাথে দুর্ব্যবহার করতো। বারবার ফাউল করতো। শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করতো থেকেথেকে। বাংলাদেশী খেলোয়াড়রা হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়ালে, ওরা অনেকসময় হ্যান্ডশ্যাক না করে দাঁতমুখ খিঁচিয়ে চলে যেতো। খুবই বাজে অপেশাদার আচরণ। আর সে কি অহংকার একেকজনের। বাংলাদেশকে ওরা কি চোখে দেখে, ইরানি খেলোয়াড়দের আচরণ দেখেই পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলাম। বাংলাদেশীদের ওরা তাদের মতো মানুষই মনে করে না! ভদ্র, সভ্য সমাজে বাস করার উপযোগী ছিলো না ইরানের সেই ফুটবলাররা। এটা আমার চোখে দেখা ঘটনা। একইভাবে আরও বহু দেশের খেলাও তো দেখেছি গ্যালারিতে বসে, টিভিতে, কিন্তু ইরানিদের মতো মাঠে এমন অসভ্য আক্রমণাত্মক ব্যবহার করতে দেখিনি অন্য কোনও দেশের খেলোয়াড়দের। আরেকবার কাবাডি ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল খেলছিলো ইরান ও ভারত। আয়োজক ভারত। খেলায় পিছিয়ে পড়েছিলো ইরান। নিশ্চিত জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো ভারত। পরিষ্কার মনে আছে। সে খেলায় রেফারির দায়িত্বে ছিলো থাইল্যান্ডের এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক। খেলার শেষ দিকে এসে বিস্ময়ের সাথে দেখলাম যে, ইরানের কোচ সামান্য কিছু নিয়ে মেজাজ হারিয়ে রেফারিকে একেবারে শারীরিকভাবে ধাক্কা দিয়ে বসলো। জঘন্য ব্যাপার। সবাই অবাক। সবাই স্তব্ধ। কিছুসময় খেলা বন্ধ ছিলো পর্যন্ত! একটি আন্তর্জাতিক খেলায় কোনও দেশের কোচের এ ধরণের খারাপ আচরণ অকল্পনীয়। দারুণ বিস্মিত হয়েছিলাম। খেলোয়াড়রা অনেকসময় মেজাজ হারিয়ে উল্টাপাল্টা ব্যবহার করে বসে বটে, কিন্তু তাই বলে কোচ! সে আসরে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে হেরেছিলো ভারতের কাছে। না, এ দাবি করছি না যে, সব ইরানিই এরকম। মোটেও তা না। আমার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রেসলিং কোচ ছিলো ইরানি। শাহিন নাম তার। অত্যান্ত ভালো মানুষ। খেলোয়াড়দের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। স্নেহ করতো আমাকে। যাই হোক শেষ করে আনছি। দীর্ঘ মোল্লাতন্ত্রের শাসনে আজ এক অসভ্য বর্বর জাতিতে পরিণত হয়েছে ইরান। সেখানকার সমাজব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে গেছে। শিক্ষার মান নিম্নমুখী। মানবিক মূল্যবোধের চর্চা শূন্যের কোঠায়। আইনের শাসন নেই। দূর্নীতি অনিয়ম বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত। আর এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী মোল্লাতন্ত্র। সেখানকার সমাজব্যবস্থা মোল্লাদের লম্বা শাসনে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ইরান বিশ্বের জন্য আজ এক বিপদের নাম। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ইরান। তাদের সম্পদ দিয়ে সমস্ত ইরানিদের জন্য সুখী সমৃদ্ধ জীবন অনায়াসে করা যেতো। সেটা না করে আট দশটা জঙ্গি সংগঠন পেলেপুষে মধ্যপ্রাচ্যকে অশান্ত করে রেখেছে ইরান। বিরাট অর্থ ব্যায় করছে তারা এসবের পিছে। অথচ ইরান নিজে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশ নয়। এই রাষ্ট্র আজ বিশ্বের বুকে বিষফোড়া। হামাস হুতি হিজবুল্লা আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে দীর্ঘসময় ধরে ফান্ড করে আসছে। শুধু ইসরায়েইলই নয়, আশেপাশের অন্যান্য দেশগুলোও তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মূল হোতা ইরানই। এদের ধ্বংস করা না গেলে, এরাই একদিন পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিবে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে আমি সর্বাত্মকভাবে ইসরায়েলের সাথে আছি। তারা তাদের অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে। আমি বিশ্বসভ্যতা, মানবিক মূল্যবোধ, মানবতার পক্ষে আছি। বিশ্বশান্তির জন্য ইরানের নিরস্ত্র হওয়া খুবই জরুরি। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। ইরানের শান্তিকামী সুস্থ স্বাভাবিক বাকি মানুষদের জন্যে ভরপুর শুভকামনা। তাদের সামনে আজ সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেলো। ব্যাপারটা মোটেও সহজ নয় যদিও। তবুও সুদিনের প্রত্যাশা। শান্তির প্রত্যাশা। জয় হোক মানবতার। জয় হোক মুক্তচিন্তা, শুভবুদ্ধির।
(চলবে)
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:১২
অর্ক বলেছেন: জ্যাকস্মিথ ভাই আমি নিরাপত্তাহীনতা, জীবনাশঙ্কায় আছি। অনেকদিন থেকে ইউটিউবে চ্যানেল খুলে কথা বলার ইচ্ছা দমন করে রেখেছি। এটা করলে আর বাঁচবো না। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন লোকদের সাথে মিশি। ওরাই মহানন্দে মব করে হত্যা করবে আমাকে। এটাই এ বাঙ্গুলয়ান্ডের বাস্তবতা। আমি ইন্টারন্যাশনাল লাইট হেভিওয়েট রেসলার। মব অস্ত্র খুব ভয় পাই ভাই। হে হে হে। কথা বলতে হবে ভাই আমাদের। তবেই পরিবর্তন হবে। আমার লেখা পড়ে অনেকেই ভিন্ন চোখে ব্যাপারটা চিন্তার অবকাশ পাবে। আফসোস যে, ব্লগ এখন একেবারে মৃতপ্রায়।
ধন্যবাদ। শুভকামনা থাকলো।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: যেখানে বিশ্বের সকল শান্তিপ্রীয় মানুষই ইরানের বিপক্ষে (আয়োডিনের অভাব এবং পুষ্টিহীনতায় ভুগা কিছু বাঙাল জনগোষ্ঠী ছাড়া) সেখানে আপনি কেন ইরানের বিপক্ষে তা নিয়ে এত কৈফত দেয়ার কারণ কি? ইরানকে সাপোর্ট করার কারণে চরমপন্ধীদের কাছ থেকে কোন হুমকি পেয়েছেন?