নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

,লেখাপড়া করি। লেখাপড়া বলতে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার কথা বুঝাচ্ছি না,নিজেকে পড়ি। নিজেকে জানার চেষ্টা করি। আমার মধ্যে আমাকে খুঁজি।

হিমুয়ান

আমি মানুষ।

হিমুয়ান › বিস্তারিত পোস্টঃ

লিবারেল ম্যাম আর আর আরজুর যুক্তি

২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:২০

গ্রীষ্মের প্রখর রোদ,থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরপাক খাচ্ছে।এই ভরদুপুরে Human Psychology ক্লাস।
তারউপর ইলেক্ট্রিসিটি একটু আগে চলে গেছে।গরমের মধ্যে মনে হচ্ছে শরীরের মাংস সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ক্লাসে ম্যাম ঢুকলেন।
কাঠফাটা রোদে ফ্যান-এসি বন্ধ,ক্লাসরুমটা বিভীষিকাময়।
অসহ্যকর গরমে ম্যাম ক্লাসে এসেই ঘোষণা দিলেন,“আজকে আর তোমাদের ক্লাস নেবোনা,এটেন্ডেন্স নিয়েই ছুটি দিয়ে দেব।”

ক্লাসে তখন হাততালির রোল বেজে উঠলো।

রোল কল শুরু,রোল কলের এক পর্যায়ে একটা মেয়েকে ম্যাম দাঁড় করালেন।
মেয়েটির পরনে ছিল কালো বোরকা,মুখে নেকাব।

ম্যাম তাচ্ছিল্ল্য করে বললেন,“আপনার কি ঠান্ডা লাগছে? এই গরমের মধ্যে আপাদমস্থক ঢেকে রাখছেন!আপনাদের মুসলমানদের এই একটাই সমস্যা, You guys don’t try to understand the situation,where to wear and when to wear which kinds of clothes.”

মেয়েটি নির্বাক দৃষ্টিতে মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে।

ম্যাম আবারো বলা শুরু করলেন, “যথটা না আমার এই বদ্ধ ক্লাস রুমে এসে গরম লাগছে,তারচেয়েও বেশি গরম লাগছে আপনাকে দেখে।অবাক লাগে যখন দেখি এদেশের গার্মেন্টসের মেয়েরা রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে বোরকা পরে আর আমার ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েগুলোও হেটে যাচ্ছে বোরকা পরে।২১ শতকে এসেও ঐ মধ্যযুগীয় সংস্কৃ্তি চর্চা। কই? ছেলেদেরকে তো আর বলা হয়নি যে বোরকা পরো,কেবল মেয়েদেরই বলা হল কেন?”

ক্লাসে তখন পিনপথন নিরবতা,মনে হচ্ছেনা কেউ ম্যামের প্রশ্নের এই উত্তরটা দেবে।

তখন আরজু দাঁড়িয়ে বলা শুরু করলো, “আচ্ছা ম্যাম,মনে করুন এই প্রচন্ড রোদের মধ্যে আপনি শাহবাগ যাবেন আর আপনার গাড়িও নষ্ট হয়ে গেলো। আপনি কিভাবে শাহবাগ যাবেন?”

ম্যাম বললেন, “আমি একটা রিক্সা নিয়ে তখন যাবো।এই রোদের মধ্যে কি হেঁটে যাবো?”

আরজু বললো, “ঠিকক ম্যাম,এই রোদের মধ্যে আপনি রিক্সা নিয়েই যাবেন।আচ্ছা, যে রোদের মধ্যে আপনার হেঁটে যেতে কষ্ট হয় সে রোদের মধ্যে কিভাবে একজন রিক্সাচালক রিক্সা চালিয়ে আপনাকে নিবেন? উনার কি কষ্ট হবেনা?”

ম্যাম বললেন, “রিক্সাচালক রিক্সা চালাবেন বিনিময়ে আমি চালককে টাকা দেবো,টাকা হাতে পাওয়ার পর এই গরমের কষ্ট চালক ভুলে যাবে।তাছাড়া গরমের মধ্যে রিক্সা চালানোর জন্য তাকে আমি আরো ৫ টাকা বেশি দেবো।”

আরজু তখন বললো, “ঠিক বলেছেন ম্যাম।কিছু পাওয়ার আনন্দের কাছে কষ্টটা তুচ্ছ।ঠিক তেমনিভাবে একজন মুসলমান,যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে,জান্নাত লাভের আশায় দুনিয়ার সাময়িক কষ্টও তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়।”

ম্যাম তখন বললেন,“তাই বলে এই গরমের মধ্যে এই পোশাক!!!”

আরজু যুক্তি দেখালো, “আচ্ছা ম্যাম,আপনাকে দুটো অপশন দেয়া হলোঃ

১.আজকে দুই ঘন্টা আপনাকে ফ্যান-এসি ছাড়া থাকতে হবে,বিনিময়ে কালকের পুরোদিন একটা এসি রুমে থাকতে পারবেন।

২.আজকের দুইঘন্টা আপনি একটা ফ্যানের নিচে থাকতে পারবেন,বিনিময়ে কালকের পুরোদিন আপনাকে সাহারা মরুভূমিতে খালি পায়ে হাঁটতে হবে।

আপনি কোন অপশনটা বেঁছে নিবেন”
ম্যাম বললেন, “অব্যশ্যই ১ নাম্বার অপশন, আগামীকালের সুখের বিনিময়ে আজকের কষ্ট।”

আরজু তখন বললো “মুসলমানরা আগামীর জন্য আজকে কষ্ট করলে তাহলে দোষ কোথায়?”

ম্যাম তখন বললেন, “সবই বুঝলাম,তাহলে বোরকা কেনো শুধু মেয়েদের জন্য;ছেলেদের জন্য নয় কেনো?”

আরজু হেঁসে বললো, “কয়েকদিন আগে আপনি বলেছিলেন,রাত্রে ঘুমানোর সময় আপনার হালকা ঠান্ডা লাগে অথচ আপনার হাজবেন্ড ফ্যান চালান,তা নিয়ে আপনারা ঝগড়া করেন।

আর আপনি নিশ্চয় জানেন যে, ছেলেদের/পুরুষের তুলনায় মেয়েদের/মহিলাদের ‘গরম’ কম লাগে এবং গরম সহ্য ক্ষমতা মেয়েদের অনেক বেশি।তাছাড়া এই গরমের মধ্যেও মেয়েরা চুলোয় রান্না করতে পারে,ছেলেরা ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে বাবু্র্চিগিরি করে।
সুতরাং,আপাদমস্থক ঢেকে রাখলে খুব বেশি যে গরম লাগে তা কিন্ত ঠিক নয়”

ম্যাম আর আরজুর কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বললেন, “আপনারা খাতা কলম বের করেন,আজকে পড়াবো।এটা গ্রীষ্মকাল,গরম থাকবেই।আগামীকাল হয়তোবা আরো বেশিও থাকতে!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.