| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাত বেশি হয়নি সাড়ে সাতটা বাজে, রফিক সাহেব আজ সারাদিন বাইরে যায়নি,সকাল থেকে বিছানায় পড়ে আছেন তার ছোট মেয়ে লীনা সকালে বাইরে বেরিয়েছে এখনো ফেরেনি দুশ্চিন্তা হচ্ছে।।
কত উদ্ভট চিন্তা যে মাথায় ঘুরে...
বেশি চিন্তা করলে উনার মাথার পেছনে কেযেন হাতুড়ি পেটা করে,
ছাদে চলে এলেন পায়চারি করছিলেন,,উহু ভাল লাগছেনা!
মেয়ের মোবাইলে বারবার ফোন দিয়েও শুনতে পাচ্ছেন দুঃখিত....
--
রাত সাড়ে আটটা দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে গেল,মিসেস রফিকবাসায় নেই তাই চিন্তাটা একারই করতে হচ্ছে,,
একটু একটু পর পর বড় মেয়ে লুবনা আর ছোট ছেলে রাফিদের চেঁচামেচি উনার মেজাজ আরো বিগড়ে দিচ্ছিল!!!
--
তিনি ছাদ থেকে নিচে নেমে এলেন,গায়ে একটাশার্ট চাপিয়ে সোজা বাইরে চলে এলেন,
অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটছেন তিনি,
হঠাত্ চিন্তার মোর ঘুরে গেল শৈশবে ফিরেগেলেন তিনি,
মতিন আর রফিক সাহেব ছোটবেলায় আত্নার বন্ধু হয়েছিলেন,তাদের মা কে সাক্ষী রেখে বন্ধু পাতিয়েছিলেন,আজ তার মা ও নেই বন্ধুও নেই!!
চোখের কোনে মাত্র একফোঁটা শিশির জমলো....
হঠাত্ ইন্জিনের শব্দ চোখের ভেতর লালের মাঝে যেন বিদ্যুত্ চমকে গেল......
এক সপ্তাহ পর,
-
রফিক সাহেব ল্যাব এইড এ ভর্তি, ইনটেন্সিভ কেয়ার থেকে দুই দিন আগে ছুটি পেয়েছেন,
চোখ মেলেই দেখলেন বড়মেয়ে মাথার উপর ঝুকেআছে,
দুচোখ যেন কাকে খোঁজে ফিরছিল,
লীনা কইরে মা??
লুবনা নির্বিকার!! নীরবতা যেন বারবার কি বলছিল,হৃদয়চেরা নীরবতা!!সহস্র শতাব্দীর নীরবতা....
রফিক সাহেব বাসায় ফিরে এসেছেন দুই সপ্তাহ হল !!
চোখে একটু ঝাপসা দেখেন বাক শক্তি হারিয়েছেন,
সাড়ে সাতটা বাজে ঘড়ির কাঁটা টিক টিক চলছে চলছে কারো জন্যমহাকালের প্রতীক্ষা! আজও হয়ত চোখের কোনে কিছুটা জল জমেছিল কিন্তু দেখা গেলনা!!
©somewhere in net ltd.