নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গির্জায় নামাজ : ব্রিটেনে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

২৫ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৪৫





যুক্তরাজ্যে অ্যাবারডিনে মুসলমানদের নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে গির্জা। ওই এলাকার সেন্ট জনস এপিসকোপাল গির্জায় এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় করবেন স্থানীয় মুসলমানরা। পার্শ্ববর্তী মসজিদে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় গির্জার প্রধান যাজক রেভ ইসাক পোবালান তাদের উপাসনালয়ের একাংশ মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রার্থনা করা কোন খারাপ কাজ নয়। আমার কাজ হচ্ছে লোকজনকে প্রার্থনায় উৎসাহ জোগানো। তিনি বলেন, মসজিদটি সব সময় লোকজনে ঠাসা থাকত। অনেক সময় ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির মধ্যেই অনেককে মসজিদের বাইরে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হতো। এটি দেখে আমি মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জন্য গির্জার একাংশ ছেড়ে দেয়ার কথা চিন্তা করি। আমি ঘটনাটি এড়িয়ে যেতে পারিনি। কেননা বাইবেল আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার শিক্ষা দেয়। যাজক পোবালানের এ সিদ্ধান্তে প্রথমদিকে গির্জার অনেকেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। তারা অসম্মতি জানালেও তিনি তাদের যুক্তি দিয়ে বুঝাতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, প্রচণ্ড শীতে মসজিদের বাইরে মুসল্লিরা বরফের মধ্যে নামাজ পড়তেন। এই ধরনের দৃশ্য দেখা সত্যিই খুব কষ্টকর। রাস্তায় অনাবৃত হাত-পা নিয়ে নামাজ পড়তে মুসল্লিদের নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট হতো। এ রকম ঠাণ্ডায় তো আমার পক্ষে রাস্তায় হাঁটাও সম্ভব নয়। এই অবস্থায় পোবালান অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। শুক্রবার যখন মুসলমানরা প্রার্থনা করার জন্য জায়গা পান না তখন গির্জার বিশাল ভবন দুপুরের খাবারের পর প্রায় খালিই থাকে। এ অবস্থায় যাজক পোবালান সৈয়দ শাহ মুস্তফা জামে মসজিদের ইমামকে শুক্রবারের জুমার নামাজ গির্জায় পড়ার প্রস্তাব দেন। এলাকার মুসলমানরাও এ প্রস্তাবে রাজি হন। এতে করে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন যাজক পোবালান। ধর্মীয় সম্প্রীতির এ সেতুবন্ধ নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মসজিদের ইমাম শেখ আহমেদ মেগারবি এটিকে একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্মানজনক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

আশা করি, এরপর দেশের অন্যান্য স্থানে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে আর কোন সমস্যা হবে না। এ ধরনের ঘটনা দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে পৃথিবী বদলে দেয়া সম্ভব বলেও মনে করেন গির্জার আরেক যাজক রেভ ড. রবার্ট গিলিস। সেন্ট জনস গির্জা এবং সৈয়দ শাহ মুস্তফা জামে মসজিদের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কারণে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ২০১০ সালে ক্রিসমাসের প্রাক্কালে দুটি প্রতিষ্ঠানই প্রার্থনার জন্য খুলে দেয়া হয় এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



দৈনিক সিলেট থেকে নেয়া

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.