নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্বপ্‌নের ভাংগা টুকরো

বিষ বৃক্ষ

চির কুমার, প্রতি মুহুর্তেই দেশের জন্য হৃদয় উন্‌মুখ।

বিষ বৃক্ষ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সোনার পাথরবাটিতে কাঁঠালের আমসত্ত্ব

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৩

দেশের রাজনীতি নিয়ে তো লিখবই না।
উঁহু ! একদমই না। তবে দেশে এবার গণতন্ত্রের খোলস খোলা শুরু করেছন অনেকেই।
এটা নিয়ে লিখতে মন চাইছে। যদিও গণতন্ত্র নিজেই এখন দেশে দেশে খোঁড়া ভিক্ষুক !
ন্যুব্জ কুব্জ গণতন্ত্রের রুগ্ন দশা নিয়ে এইতো ক'দিন আগেও খোদ জাতিসঙ্ঘই ছোট্ট বাচ্চার মত হাত পা ছড়িয়ে হায় হায় করে কেঁদেছে।

ক্ষমতায় যাবার নির্বাচন সামনে নিয়ে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালারাও বেশ মুখর এখন। কেউ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আর কেউ বা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর। একজন তো মোটা গলায় দেশের গরীব মেহনতি মানুষের মালিকানাই ফিরিয়ে দিতে চেয়ে নিজের বুক চিতিয়ে আছেন !

ভাবতেই কত ভাল লাগছে বলুন ! সত্যিই ভাবছিলাম খুব। ভাবনার দরজায় আছড়ে পড়ছিল কতগুলো প্রশ্ন।

এদেশে সত্যিই কি গণতন্ত্র ছিল কখনো ? আমি তো দেখিনা আমাদের এই শ্যামলা সুজলা সুফলা মাটিতে গণতন্ত্রের বীজ ফুঁড়ে গণতন্ত্রের চাড়া গাছটি কখনো অংকুরিত হয়েছিল। তাহলে তাকে আবার ফিরিয়েই বা আনবে কী আর ধারাবাহিকতাই বা রাখবে কে? তার চেয়েও বড় কথা এদেশের মানুষের বিচারবুদ্ধি কি কখনো বা এখনই গণতন্ত্র ধারণের উপযুক্ত? আমার এইসব প্রশ্ন শুনে কেউ কেউ হয়তো ওনার মতন করে হুংকার ছাড়তে চাইবেন--'খামোশ' বলে। কিন্তু আমি অসহায় । আমাকে বলতেই হচ্ছে কিছু কথা।

আন্তর্জাতিক আইন মোটামুটি ভাবে গণতন্ত্র রাখন ধারণের জন্য একটা নূন্যতম যোগ্যতা বা মাপকাঠি বানিয়েছে। যেমন বয়সসীমা কম করে আঠারো হতে হবে একজন মানুষের। কেন আঠারো? কারণ আঠারো না হলে সে যেমন কামাল সাহেবদের ফ্রি অফার, কোন দেশের 'মালিকানা' বইবার মত সামর্থ্য অর্জন করবে না তেমনি সেটার রক্ষণাবেক্ষণও করতে পারবে না। প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি শুধুই শারীরিক বয়স? আঠারো হলেই যে কেউ এই যোগ্যতা অর্জন করে? না মোটেই না, মানসিক ভারসাম্যহীন হলে তো একদমই না।--- মোটামুটি ভাবে এই বয়স পর্যন্ত সময়ে একজন মানুষ যেটুকু সঠিক শিক্ষা পায় একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশে সেটুকুই হিসেবে ধরা হয়েছে। আমাদের দেশে এখনো অধিকাংশ মানুষেরই গণতন্ত্র ধারণ এবং তা রক্ষা করার মত যোগ্যতাই তো তৈরী হয় নি। চটে গেলেন তো ! চটবারই কথা। আঁতে ঘা লাগলে মানুষ দিকবিদিক জ্ঞানও হারায়। তা দিলে চোট লাগলে একটু চটুন অসুবিধা নেই। মনে প্রাণে যার যার ব্যাক্তিগত জীবনেও আমরা কেউ এখনো গণতান্ত্রিক আচরণে অভ্যস্ত নয়। সবাই যার যার জায়গায় এখনো আমরা রাজার মতোই। স্বেচ্ছাচার বা স্বৈরাচারই এখনো আমাদের খুব মজা লাগে। কেন লাগে? কারণ আমিই আমার জায়গায় সুপ্রিম এই ভাবনা এবং এর চর্চা আমাদেরকে আমোদিত করে। তো এদেশের মানুষের মনে মগজে, চিন্তায় চেতনায় এতো এতো করে গণতন্ত্র এলো কী করে? উত্তর সোজা। বাঙালি সবসময় ছোটে যা নেই তার পিছে আর যারে যায় না পাওয়া তারি হাওয়া খুব লাগে তারে। আসলে এই গণতন্ত্র আমাদের কাছে এক লোভনীয় ‘সোনার পাথরবাটি’ ছাড়া আর কিছু নয়। সোনার এই পাথরবাটিতে এখন কামাল সাহেবরা কাঁঠালের আমসত্ত্ব সরবরাহ করছেন যুদ্ধাপরাধীদের দলকে সাথে নিয়ে---

এদেশে এখনো টাকা ফেললে ভোট কিনে ফেলা যায় ভোটারের এমনই বিচার বুদ্ধি আর যে কারণেই ভোটের লড়াইয়ে যারা কুস্তীগির তারা মোটা মোটা টাকার বান্ডেল ফেলেন ভোটারের সামনে। মহামূল্যবান ভোটারেরা তাতেই কুপোকাৎ ! কালো টাকা আর পেশী থাকলেই এই দেশে যে কেউ এখনো নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে এই কথা শুনতে খুব খারাপ লাগলেও এটাই আমাদের চলমান বাস্তবতা আর এই জনগণের সামনেই রাখা হচ্ছে গণতন্ত্রের, ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ! 'হো হো কামাল ! সব কামাল হো গিয়া ভাই!'---- কী কদাকার রাজাকার কী ভিখু পেহ্লাদ সবাই ভোটযুদ্ধ জিতে আসতে পারে্ন আর আপনিও পাঁচ বছরের জন্য দেশের মালিকানা হাসতে হাসতে লিজ দিয়ে আসতে পারেন এইসব ঘুনে পোকাদের হাতে---যারা ভিতর থেকে সব খেয়ে আপনাকে খোকলা করে দেবে আপনার চোখের সামনেই। টেরও পাবেন না দেশের মালিক থেকে কখন আপনি দেশের ফকির হয়ে গেছেন !

এদেশে এখন সবই 'কামাল' হয়ে গেছে। কামাল ভাই তাঁর জোটে মতে কুড়ি পঁচিশজন জামাতি যুদ্ধাপরাধী দলের সদস্য রেখেছেন যারা আমাদের জন্য আগামী সংসদে আইন প্রণয়ন করবার খায়েস রাখেন । এরচেয়েও বড় 'কামাল' এই দেশে আর কী হতে পারে ! ডোবা নালা খাল বিল ঝিলের জল সব একাকার ! থৈ থৈ করছে গণতন্ত্রের বিষ্ঠা !


ভোটের মোটে সাত দিনও নেই বাকি। চারদিকে গণতন্ত্রের ফোয়ারা ফেনিল হয়ে উঠছে মুখে মুখে ! গণতন্ত্রের তেজী তেজী ঘোড়াদের সব জোট জোট করে যোতা হচ্ছে ভোটের গাড়িতে ! এক একটা ১০০ অশ্বশক্তির গাড়ী রে ভাই ! এমনই গতি যেন গনতন্ত্রের ঘোড়ারগাড়ি আকাশেই উড়বে এবার !

তো আসুন দেখি কার গণতন্ত্র কতটা কী !

এই যে যারা গণতন্ত্রের কথা বলছেন তারা তাদের ব্যাক্তি এবং পরিবার জীবনে কেউ কখনো গণতান্ত্রিক ? কথা বার্তায়, চিন্তা চেতনায় কাজে কর্মে কেউ কি গণতন্ত্রের 'গ' মানে গরুটাকেও কখনো সম্মান করেছেন? নিজের দলেই কি এঁনাদের কেউ কখনো গণতন্ত্রের চর্চা করেন বা করেছেন?

এই এনাদের সাথে কথা বলতে গেলেই এনারা ধমক মারেন মোটা গলায়। কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে কিম্বা কোন প্রশ্ন করলেও তো তেলে বেগুণ ! তাকে দেখে নেবেন বলে নাম জেনে নেন, চিনে রাখলেন বলে হুমকি ধামকি দিতেও ছাড়েন না। এই এনারা দেবেন গণতন্ত্র তো ! ভাবুন ! যারা তাদের দলেই গণতন্ত্রের কবর দিয়ে রেখেছেন এরা সেই তারাই ! এঁরা দেবেন আপনাকে গণতন্ত্রের এঁড়ে বাছুর ! বটেই তো !

আহ্লাদে আপনি একটা লাফ দিতেই পারেন তিন তলার ছাদ থেক !

তো এহেন গণতন্ত্রের ব্যাপারিতে আজ দেশ ভরে গ্যাছে।
মানুষ কী এখন জানে বা বোঝে যে আম গাছে খেজুরের রস পাওয়া যায় না ! কাঁঠালেরও কোন আমসত্ত্ব হয়না আর সোনারও পাথরবাটি হয় না !

যাহোক ! গণতন্ত্র এখন রাজতন্ত্রেরই মত অচলপ্রায় মাল একটা। আমরা বিশ্বব্যাপী এই রুগ্ন মাল পেতে এখনো মরিয়া। যদিও আমরা উপযুক্তই হইনি আপডেটহীন ‘গণতন্ত্র’ ধারণ করতে।

আমি এখনো মনে করি প্রজাহিতৈষী কোন একনায়ক বাঙ্গালিমহাথির ছাড়া এরকম অতি এবং অর্ধশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য, টাকার কাছে, পেশীর কাছে নতজানু মানুষের জন্য এখনো ভাল কিছু আছে আমাদের সামনে। আমার কথায় গোস্বা করে লাভ নেই ভ্রাতা ও ভগ্নিগণ।গণতন্ত্র পেতে গেলে উপযুক্ত নেতাকে ভোট দেয়া এবং গণতন্ত্র বইবার মত উপযুক্ত জনতা আর নেতা কর্মীও লাগে। যে কাউকে গণতান্ত্রিক ভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেই গণতন্ত্র চলে আসবে না। উপযুক্ত নেতাটিকেও লাগবে। উপযুক্ত জনতাও লাগবে।

আমি আপাতত গণতন্ত্র নয়--বাঙ্গালিকে একজন পরীক্ষিত, মহৎ , জনহিতৈষী একনায়কই খুঁজে দেখতে বলব।

আমি অবশ্যই বাংলাদেশের পক্ষে। আওয়ামীলীগ আমার খুব পছন্দের দল নয়। অনেক সমালোচনাও করি। শত সমালোচনার পরেও আমার মনে হয় আপাতত শেখ হাসিনার কোন বিকল্প এখনও নেই বা তৈরী হয়নি এই দেশে। অতএব এই দেশে এখনো শেখ হাসিনাকে দরকার। ভোট দেবার সময় এই কথাটি আর একবার ভাবুন।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার পোষ্ট টি আমার ভালো লেগেছে।
আমি একমত আপনার সাথে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.