| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চিলেকোঠার চঁড়ুই
আমি প্রিয়।ফেসবুকে একটা আইডি ছিল এ নামেই,কিন্তু হঠাৎ করেই নষ্ট হয়ে যায়।একাউন্টটা অনেক পছন্দের ছিল কারন অনেক বেশি ই লিখতাম ওই ওয়ালে,পাঠকবন্ধুও ছিল প্রায় হাজার সাতেকের মতো। একাউন্টটি নতুন করে খোলার প্রবল ইচ্ছে ছিল,কিন্তু ইচ্ছেটা ফিকে হয়ে যায় যখন দেখি অনেকগুলো আইডি ওনামেই খোলা হয়েছে,আগে একটাও ছিলনা।আর আমার সম্পর্কে কিছুই বলার নেই,আমি জাস্ট সাদাসিদে,বদভ্যাসে মোড়ানো,অলস স্বভাবের ইন্ট্রোভার্ট একটা ছেলে যার স্ফপ্নগুলো দিনদিন কর্পুরের মতো হাতের নাগাল থেকে উড়ে যাচ্ছে বাস্তবতার আকাশে।
নিশ্চুপ প্রণয়.
-চিলেকোঠার চঁড়ুই।
.
আমার স্বপ্নের সাদাকালো ক্যানভাসটা বুঝি
সাদাকালোই থেকে যাবে অসম সময়
অবধি,বোধহয় ওর অস্পর্শনীয় ছোয়ায়
ক্যানভাসটায় আঁকা হবেনা কোন রঙিন আল্পনার
বক্ররেখা।আর হয়তো কেউ আমাকে বলবেনা
আমি সবসময় ফুলহাতা শার্ট কেন পড়ি?নির্ঘুম
গোধুলীবেলায় কারও হাতের উপর হাত ধরে
বসে হাজারও অবাস্তব রঙিন স্বপ্নগুলো সাজানো
হবেনা,কল্পনাগুলো বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে
কল্পনার বৃত্তেই আবদ্ধ থাকবে,আজ নীরার
বিয়ে।ও নিজে দাওয়াত করেছে,নিজের বউটুসের
বিয়েতে নিজেই যাবার চেয়ে আপনাদের আমার
শেষ হয়ে যাওয়া ভালবাসার গল্পটা শোনানোই
শ্রেয়।
সময়টা তখন এরকমই ছিল।কাগজে কলমে বসন্ত না
এলেও বসন্ত যেন চুপিচুপি ছুয়ে দিয়েছিল
প্রকৃতিকে,রঙ লাগতে শুরু করেছিল সবকিছুতে।
পাতাঝড়া গাছগুলোতে সবুজ পাতার দল একে দিতে
শুরু করেছিল স্বগৌরবান্বিত আল্পনা।আমার মাঝেও
তখন দারুন উদ্দীপনার জোয়ার বইছিল।কারন তখন
কলেজ জীবন শেষ করে একটা নতুন অধ্যায়ের
সূচনা লগ্নে দাড়িয়ে ছিলাম। আমাদের সময় ভার্সিটিতে
চান্স পাওয়া খুবই কঠিন ছিল,তার উপর অজপাড়াগা থেকে
আসলে তো কোন কথাই নেই।রীতিমতো
দুঃসাহসিক যুদ্ধে নামতে হতো।তো তখন এইচ এস
সি পরীক্ষার পর ই ঢাকায় চলে আসি,ঢাকায় এক বড় ভাই
ছিল।ওনার নাম ছিল সিফাত।সিফাত ভাইয়া ঢাকা ভার্সিটির
কোন এক হোস্টেলে থাকতো।ওনার রুমমেট
ছিল না,তাই আমি সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেই।ভাইয়া
আমাকে 'উদ্ভাস'কোচিং এ ভর্তি করিয়ে দেয়।
প্রথমদিকে যখন কোচিংয়ে যাই তখন কিছুই বুঝতাম
না।অন্যরা যদি পরীক্ষায় মার্কস পেত ৮০ সেখানে
আমি পেতাম ১০-১২।হয়তো আমিই সবচেয়ে কম
পেতাম,তাই লজ্জা পেতাম।আসলে একজন ছাত্র
তখনই নিজেকে চিনতে পারে যখন ওর চেয়ে
ভাল ভাল মাথাগুলোর সাথে প্রতিযোগীতা করে।
প্রথম কয়েকটা পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে চুপসে
যাওয়া ত্রিমাত্রিক কুজ্ঝ্বটিকার মতো লাগছিল,সবকিছুই
ঝাপসা দেখছিলাম।সব আশা ছেড়ে দিয়েছি।তখন
সিফাত ভাই আমাকে একদিন বুঝালেন অনেককিছু।
মানবজীবন অনেক বিচিত্র।স্মৃতির ডায়েরীটাও
বড্ড অদ্ভুৎ,কিছু কিছু অতীত অনেকদিন অবধি
মানুষের চোখের পলকে স্পস্টাতীত হয়ে
ভেসে থাকে।হয়তো সে কারনেই সিফাত
ভাইয়ের সেই দিনের কথাগুলো আজও স্পস্ট
মনে আছে।উনি ওইদিন পড়েছিলেন একটা সাদা
রঙের টিশার্ট,যার মাঝে লাল রঙ দিয়ে
ইংরেজীতে লিখা ছিল,"Ones first love is allways
perfect,untill the second has come."উনি আমাকে
ডেকে সেদিন বলেছিলেন,"হিমেল ,শোন্
তোর সমস্যাটা আমি বুঝতে পারছি।এটা
ন্যাচারাল,এটাকে মেনে নিতে হবে।"আমি ভয়
পেয়ে গিয়েছিলাম,ভাই আমার রেজাল্ট দেখেছে
হয়তো।সব যখন জেনেই গেছে তো আমি
আর কপটতা না করে বলেই দিয়েছিলাম,"ভাই,আমি
তো এদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছিনা"।সিফাত
ভাই চশমাটা খুলে তখন বললেন,"দ্যাখ,হিমেল,তোর
সময়টা আমিও পাড় করেছি।আমিও প্রথমদিকে
কোচিংয়ে কুলোতে পারছিলাম না,কিন্তু হাল ছাড়িনি
কখনোই,দেখবি আস্তে আস্তে কতটা উচুতে
উঠিস।সবসময় একটা কথা মাথায় রাখিস আমি সিফাত যদি পাড়ায়
পাড়ায় ক্রিকেট খেলে ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স
পেতে পারি,তুই কেন পারবি না।তোকে একটা ভাল
কথা বলি,উপদেশ বা রিকুয়েস্ট যাই ভাবিস না
কেন,প্রশ্নগুলো সলভড করবি।এই কয়েকটা দিন
কস্ট কর দেখবি জীবন কি?এই কয়দিন ঢিলামি দিবি
তো জাতীয় তে পড়তে হবে।তখন শত চেস্টা
করেও এগুতে পারবি না।আর যেকোন সমস্যায়
পড়লে আমাকে বলবি।"আমি সুবোধ বালকের
মতো বলেছিলাম,"ঠিকআছে"।
এরপর পড়াশুনায় মাথা একটু বেশি ঘাটাতে থাকি।সবসময়
পড়ি,অচেনা জগৎের রহস্যময় অভিযানে সবকিছুকে
জয় করতে চাওয়ার দৃঢ় মনোবাসনা চেপে ধরেছিল
রূপকথার রাক্ষসীর মতো।সিফাত ভাইয়া আমাকে একটা
অতীব মেধাবী ছাত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে
দেন।ওর নাম রুদ্র,রোদের তাপের মতোই
ঝলসানো মস্তিস্ক।রুদ্রের সাথে বন্ধুত্ব ঘটেছিল
তখন,অনেক গাঢ়,যা এখন নীলাচলের মতোই
অটল।আমাদের কোচিংয়ে আমাদের ক্লাসব্যাচে
মেয়ে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন।একটা
মেয়ে ছিল প্রতিটা দিন কমলা রঙয়ের ড্রেস পড়ে
আসতো।প্রতিটা দিনই কমলা রঙয়ের ম্যাচিঙ।
কোনকালেই মানুষের প্রিয় রঙ বলতে কিছু
থাকেনা।প্রিয় রঙ একটা চলক মাত্র,কখন যে এক রঙ
থেকে অন্য রঙ প্রিয় হয়ে উঠে তা চোখের
পলককেও হার মানায়।ওই মেয়েটার সাথে পরিচয়
হওয়ার আগে আমার কোন প্রিয় রং ছিল না,এরপর
সেই শূন্যতা পূরন করে কমলা রং।এখনও আমার প্রিয়
রঙ কমলাই।প্রত্যেকটা ছেলের ভিতরে থাকে
একটা গভীর বাসনা,বাহিরে যে যাই বলুকনা কেন
একটা সুন্দর মেয়ের দিকে চোখ পড়লে,তার
দিকে তাকিয়ে কিছুটা ইমপ্রেস করার একটা সহজাত
প্রবৃত্তি বিরাজ করে।অবশ্যই ব্যতিক্রম থাকতে
পারে,কিন্তু ব্যতিক্রম কখনো উদাহরন নয়।কিন্তু
বিশ্বাস করুন,একদম মন থেকে খাটি সত্যি কথা
বলছি,আমার সেরকম কোন উদ্দেশ্য ছিলনা,আমি
শুধুই এর দিকে তাকাতাম একটা অদ্ভুৎ ভাললাগা কাজ
করতো বলে,ক্লাসের ফাকে ফাকে ওর দিকে
তাকাতে অনেক বেশী ভাল লাগত।কেন ভাল লাগত
তার কারন ও খুজতে চেস্টা করিনি কখনো।বোধহয়
ওই ভাল লাগার কোন কারন ছিল না।মেয়েটা অনেক
শান্ত ছিল,একদম নিশ্চুপ।যখন নিঃশব্দভাবে স্যারের বথা
শুনতো তখন ওকে যে কতটা নিষ্পাপ মনে হতো
শুধু আমি ই জানি।সৌন্দর্য আর শুচিতার রামধনু যেন ছিল
মেয়েটি।স্বভাবতই মেয়েটার নাম জানার জন্য
ব্যকুল হয়ে পড়েছিলাম,কিন্তু কিছুতেই কিছু বলতে
পারছিলামনা,না মেয়েটিকে না অন্য কাউকে।দিন আর
রাত পালাক্রমে পাড়ি দিতে থাকে।নিজের কোয়ালিটিটা
মাঝারী পর্যায়ে এসে গেছিল তখন।মেয়েটিও
বুঝতে পেরেছিল হয়তো আমি ওর দিকে তাকাই।
মেয়েটিও মাঝে মাঝে তাকাতো।তখন মনের ভিতর
হাজার রকমের চিন্তাভাবনা ঘুরপাক খেত।ভেবেছিলাম
মেয়েটা হয়তো আমাকে পছন্দ করে,তাই
দেখতো।আবার এক ঝটকায় এই চিন্তাধারা দুর করে
ভাবতাম আমি আবার কোথাকার কে যে এত সুন্দর
একটা মেয়ে আমাকে পছন্দ করবে,হয়তো
অনেক আগে থেকেই অন্য কারো সাথে
রিলেশনের বন্ধনে আবদ্ধ।আমার চেহারায়ও
কখনও আভিজাত্যের কোন ছাপ ছিল না,অতিশয় সাদামাটা
গড়নের ড্রেস আপ নিয়ে চলতাম।
একদিন,সম্ভবত দিনটা ছিল রোববার,কোচিংয়ের এক
বড় ভাই আমার মনের উশকো প্রশ্নটার উত্তর
উন্মোচন করেছিলেন।তিনি একটা ইকুয়েশন সলভ
করতে করতে হঠাৎ ওই মেয়েটাকে
বলেছিলেন,"নীরা,এই ইকুয়েশনটা এসে সলভড
করে দাও তো"।তখন মেয়েটির নাম জানতে পারি
ফারহা।নীরা উঠে গিয়ে সত্যি সত্যি সলভ করে
দিয়েছিল প্রবলেমটা।নীরা নামটা যেমন সুন্দর
তেমনি ওর মুখের মিস্টি হাসিটাও সুন্দর।আমার মনে
হয়,সবচেয়ে রাগী আর্মি অফিসারও যদি এই ছোট্ট
হাসিটুকুন দেখে,তারও রাগ কমে যেতে বাধ্য।দিন
কেটে যাচ্ছিলো ভালোই।ওকে রোজ একটা
ছেলে বাইকে করে নামিয়ে দিয়ে যেত,আবার
নিয়ে যেত।আমি মনে করেছিলাম ওর বয়ফ্রেন্ড
হয়তো।
একদিন ওকে হঠাৎ পিছন থেকে বলেই
বসি,"তোমার বয়ফ্রেন্ড অনেক স্মার্ট,তোমার
চয়েস আছে।"নীরাকে আমি প্রথম এই বাক্যটাই
বলেছিলাম।ও সেদিন মনে হয় প্রচন্ড রেগে
গিয়েছিল।সেদিন কোন উত্তর ই দেয়নি আমাকে।
তারপরের দিন ও আমার হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে
দেয়।কাগজটা এখনও আমি যত্ন করে রেখে
দিয়েছি আমার ছোট্ট ট্রাংকটাতে।কাগজটাতে
যেসব কথা লিখা ছিল,এখনও আমার স্পস্ট মনে
আছে,
"ভাইয়া,আপনি কে আমি জানি না বা জানতেও চাইনা।তবে
বোধহয় আপনি কোন ভদ্র ঘরের ছেলে
নয়,আমি এই কথাটা জোড় দিয়ে বলতে পারি কেননা
আপনি মেয়েদের দিকে তাকান,আর আপনি না
জেনেই অন্যজনের সম্পর্কে বাজে কথা
বলেন।আমাকে রোজ আমার ভাইয়া পৌছে দেয়।
আর আমি অতটা নির্লজ্জ্ব কিংবা বেহায়া নই যে
বাবামায়ের কথা না ভেবে অন্যের সাথে প্রেম
করে বেড়াবো।আশা করবো এর পরের বার
থেকে কোন মেয়েকে কিছু কথা বলার আগে
দশবার ভাববেন।"
চিরকুটটা পড়ার আগে নানান চিন্তা ঘুরপাক খেলেও
কয়েকমুহূর্তের জন্য একেবারেই থ হয়ে যাই।
নীস্তব্ধতা যেন নেমে আসে কিছুটা কান্না আর
অবসাদকে সঙ্গে নিয়ে।মেয়েটাকে এমন কি ই বা
বলেছিলাম।প্রথমত কিছুটা অবসন্নতা কাজ করলেও
একটা দৃঢ় রাগ চেপে বসে যে পরদিন
মেয়েটাকে এর প্রাপ্য জবাব দিতে হবে।
এরপরের দিনগুলো কাটে অনেকটা ইচ্ছার
বিরুদ্ধেই।এরপরের দিনটায় একটু একটু ঠান্ডা ছিল।
প্রকৃতিটাও অনেক নীবিড় উচ্ছ্বলতায় গা ভাসিয়েছিল।
অবাধ তারুন্যে যেন সেজেছিল নবপ্রসূতার
পত্রপুটে।কিন্তু পরের দিন দেখলাম কোচিংয়ে
ফারহা আসেনি।ফারহা এরপর থেকে যেন উধাও
হয়ে গেল।বসন্তের নিদারুন ছোয়ায় চারদিকে
যেমন হরেক রঙে রঙে ঔজ্জ্বল্যমান হয়ে
আছে,ঠিক তার উল্টোটাই যেন ঘটছে আমার
সাথে।এত উচ্ছলতা,প্রগলভগতার মাঝেও কেমন
যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে আমার চারদিকটা।এরপর
থেকে নীরা আর ওর কমলা রঙ অন্তর্দৃস্টিতে
দেখলেও বহির্দৃস্টিতে অগোচরই ছিল।
দেখতে দেখতেই ভর্তি পরীক্ষা দরজায় কড়া
নাড়লো।পরীক্ষার আগের দিন রাতের
কথা,ততদিনে সিগারেটে ফু দেয়া শিখে
ফেলেছিলাম।জীবনে কিছু কিছু কাজ যে কখন?কি
কারনে?কিভাবে হয়ে যায় তার যথাযথ উত্তর খুজে
পাওয়া যায় না।ঠিক তখন থেকে মাসদুয়েক আগেও
একটা দৃঢ় সংকল্প ছিল,কখনো সিগারেট স্পর্শ
করবোনা।কিন্তু বড় ভাইদের সাথে থাকতে থাকতে
হয়ে গিয়েছে।তো কিছুক্ষন পড়াশোনার পর
মনের মধ্যে খুচখুচ করছিলো চান্স বোধহয়
পাবোনা।নিজের আত্নবিশ্বাস কমে গিয়ে শূন্যের
কোঠায়।আমি বারান্দায় ছোট্ট চেয়ারটাতে বসে
দেয়ালে হেলান দিয়ে নিকোটিন ঢুকিয়ে সমস্ত
চিন্তা নিকোটিনের সাগরে ডুবিয়ে ফেলতে
চাচ্ছিলাম,তখন সিফাত ভাই একটা প্রশ্ন আর উত্তরের
শীট হাতে ধরিয়ে বললেন,"এইগুলা ভাল করে
পড়ে যা,তাড়াতাড়ি পড়।"আমার মাঝে খানিকটা
অপরাধবোধ কাজ করলেও নিমিষের মধ্যে ভুলে
গিয়েছিলাম সবকিছু।বাস্তবতা বড়ই স্বার্থপর হয়।আমি
তখন সৎ হয়ে বাস্তবতার কাছে হেরে যাওয়ার
সিদ্ধান্ত নেইনি,বরংচ জীবনের প্রকট যুদ্ধে
বাস্তবতার কঠিন জালকে বুড়ো আঙ্গুল
দেখিয়েছিলাম তখন।
একদিন হঠাৎ রাস্তায় কমলা রঙের জামা পড়া একটা
মেয়েকে নীরা মনে করে ডাকছিলাম।মেয়েটা
এসে ধমক দিয়ে বলে উঠে,"রাস্তায় সুন্দর
মেয়ে দেখলেই টিজ করতে ইচ্ছে করে।
যত্তসব ইউজলেজ পিপল".আমি বলেছিলাম,-"না,না
আমি আসলে আপনাকে অন্য একজন
ভেবেছিলাম।"মেয়েটার সাথে কিছুক্ষন কথা
কাটাকাটির পর প্রচন্ড রাগ হয়েছিল সেদিন।নিজেকে
কেমন যেন অপরাধী মনে হতো,ভেবে
নিয়েছিলাম নীরাকে কমপক্ষে একটা সরি বলে
নেয়াটা দরকার।কোচিংয়ের এক বড় ভাইকে
বলেছিলাম,নীরার কথা।উনিও নাকি জানেন না,নীরার
বাসা কোথায়।তবে বলেছিলেন নীরার নাকি খুব
ভাব,ওনার একটা প্রশ্নেরও নাকি উত্তর দেয়নি।
দেখতে দেখতেই ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট
দিলো,অনেক ভাল একটা সিরিয়াল হয়েছে।অবশ্য
যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছিলাম,সেখানে রেজাল্ট
খারাপ করাটাই অস্বাভাবিক।নীরাকে খুজে ফিরি প্রতিটা
মুহুর্তে।মনের মধ্যে কেমন যেন একটা খুচখুচ
করছিলো।মনে হচ্ছিল শুন্যতা জেকে বসছে
ক্রমাগত।যার প্রতি প্রচন্ড রাগ ছিল,সে রাগই আজ
অনুশোচনায় রূপান্তরিত হয়েছে।
আমাদের বিভাগের অরিয়েন্টেশনের দিন আমার
চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল,প্রোগ্রাম শেষ
করে বেরুনোর সময় চোখ পড়ে দুরে দাড়িয়ে
থাকা কমলাপরীর।মেয়েটা এদিকে ঘুরলে বুঝতে
পারি ওটা নীরা।অনেক জোড়ে চিৎকার করে
ডাকি,কিন্তু ও শুনতে পারেনা হয়তো।কিন্তু আমার
চিৎকার শুনে হাসছিলো পাশের সবাই।
পরদিন সকালে ক্লাসে ওকে দেখি।ক্লাস শেষ
করেই ওকে বলি,"সরি,আমি তোমাকে অনেকদিন
থেকে খুজছি।আমি সেদিনের কথাটার জন্য
দুঃখিত।"ও একটা কাগজে ওর নাম্বারটা লিখে আমার
হাতে গুজে দেয়।এরপর বাসায় এসে ওকে
অনেকবার ফোন দেই,ও ফোন রিসিভ করে না।
তারপর ফারহা একটা ম্যাসেজ করে,
-"msg me"
-"kno?kotha bolle ki hoy?"
-"ami kotha bolte parina"
-"kno ta?"
-"ami jonmo thekei pari na.allah amk she
khomota dey ni"
-"fun korcho?"
-"na na.fun korbo kno?"
-"bad deo.ami na mon thekei bolchi tmi amr upr
rag kore thkio na.I am sorry"
-"r a na..its ok..tmr naamta jno ki"
-"priyo.tmi uni ashba kalke?"
-"hmm.......
এরকম হাজার কথায় শুরু আমাদের পথচলা।ও কথা
বলতে পারেনা,তাতে কি?সেই বিকেল থেকে রাত
অবধি চললো আমাদের কথা।এরপর থেকেই
রোজ কথা চলতো আমাদের।বলতে গেলে
ঘুমের সময় বাদ দিয়ে প্রতিটা মুহুর্ত দুজনের হাতে
থাকতো মোবাইল।দিন বয়ে যায় ক্রমশ আমি ফিল
করি ও যেন আমার খুব কাছের কেউ।এরপর ওর
সাথে রেস্টুরেন্টে বসা শুরু,তারপর বিকেলটা
পার্কে পার হতো।ওর মায়ের সাথেও একটা
সম্পর্ক তৈরী হয়।ওকে বাড়িতে দিয়ে আসার
দায়িত্বটা উনি আমাকেই দেন।ওর চোখের ভাষাটাও
পড়তে শিখে গেলাম কয়েকদিনে।নানানরকম প্রশ্ন
করতো আমাকে,আমি এইটা কেন করি?হেই সেই
অনেক কিছু?মাঝে মাঝে লিখত অন্যদের মতো
ওরও কথা বলতে ইচ্ছে করে।তবে যাই হোক
আমি ওর সাথে কমিউনিকেশন ছাড়া থাকতে
পারবোনা,এটা সুনিশ্চিৎ ছিল।দুজনদুজনকে হয়তো
ভালবাসতাম কিন্তু কেউ কাউকে কখনো ওসব
কোনকিছু বলিনি।প্রায় সময়ই আমরা নদীর পাড়ে
বসে থাকতাম,ওকে মাঝে মাঝে পাখি গিফ্ট করতাম।
ওর ভীষন পছন্দের।সময়গুলো কত সুন্দর ছিল
তখন,বাস্তবতা যেন হিমশিমভাবে খেলছিল আমাদের
সাথে।
(অনেক কাহিনী লিখার ছিল,সময় নেই)।
দেখতে দেখতেই কেটে গেল তিনটা মাস।কিন্তু
সব স্বপ্নকে ও ধ্বংস করে একটা এসএমএস
করলো ওর বিয়ে কয়েকদিন পর।পুরো পৃথিবীটা
যেন বদলে গেল।নিজেকে অনেক ছোট
লাগছিল তখন।
##
অনেকবার ভাবলাম নীরার বিয়েতে যাবোনা,কিন্তু
হঠাৎ মনে হলো যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন বুনেছি
তার স্বপ্ন সাজানোর মুহুর্তগুলো যদি দুচোখে
ফ্রেমবন্দী না করতে পারি,তাহলে জীবনটাতে
কিছুই নেই।আবার একবার ভাবলাম না না,নিজের
অস্তিত্বকে অন্যের হাতের মুঠোয় না দেখাই
শ্রেয়।দোদুল্যমান অবস্থায় পকেট থেকে বের
করে সিগারেট ধরার প্রচেস্টা চালাচ্ছি,ফোনটা টুট
করে বেজে উঠল।নীরার ম্যাসেজ,"Tmi ki amr
biyete ashbana?ami kintu tahole biye e
korbona...onk dami ekta gift chy kintu..."
ম্যাসেজটা পড়ে সিফাত ভাইকে সাথে নিয়ে ওর
দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী ঠিক যায়গামতোই আসি।বিয়েবাড়ি
মানেই ধুমধাম,চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিয়েবাড়িতে অনেক মেয়েই ঘোরাঘুরি
করছ,কিন্তু আমি তাদের দিকে তাকানোর
প্রয়োজন বোধ করছিনা,বোধহয় ততদিনে ওই
জায়গাটা নীরা নিয়ে নিয়েছে। তারপর ওকে একটা
ম্যাসেজ দেই,"ami esechi".এর কিছুক্ষন পর
কনেবেসে নীরা বিয়ের আসনে বসে,ঘোমটা
পড়েছিল।লাল টকটকে শাড়ি।কেন?আজকে কমলা
পড়লে কি হতো?ঘোমটার আড়ালে ও কাঁদছিল
বোধহয়।আমার জন্য কি এ কান্না?না না ও আমার জন্য
কাঁদবে কেন?ও তো অন্য কারো ঘরের বউ
হতে যাচ্ছে।অনেক বেশি খারাপ লাগছিল তখন,দু
চোখ বেয়ে দু এক ফোটা জল বেরুচ্ছিল।
বর আসার পর বউয়ের ঘোমটা তোলার পর,আমি
অবাক হয়ে যাই।এ তো নীরা না,এ অন্য কোন
মেয়ে।তাহলে নীরা কই?এইসবকিছু ভাবনা যখন
তালযোগ পাকাচ্ছিল,তখন আমার চোখ কেউ
আলতো করে চেপে ধরে।হাত সরিয়ে চোখ
তুলতেই দেখি ফারহা দাড়িয়ে।আমি চিৎকার করে
বলি-"নীরা,তুমি....তুমি এখানে।আমি....সত্যি,আরে
তোমার না বিয়ে." আমার এলোমেলো চিৎকার
শুনে আশেপাশের মানুষ হাসা শুরু করলো।এরপর
নীরা আমার পাশে বসলো,আর ম্যাসেজ করলো
একটা,
__"tmi ki vabcho amr bia??...budhdhu ekta"
__"ajob.tmi tow bolla."
__"ami bollei holo,ami bollam r tmi ekbr o atkale
na."
__"atkabo kno?tmr biye hobe eta tow khsr
khbr.tow biyeta kar?"
__"amr cousiner.darun maniyeche na djnk..?"
__ "hmm..happy couple.."
__"amr gift koi?"
__"ante vule gechi.kalke 9tay tsc te dbo."
__"lagbena dite.tmi vul niyei thko"
অনেকক্ষন চলে আমাদের চ্যাটিং।অনুষ্ঠান শেষ
হওয়ার পর বাসায় এসে ভাবি ওকে কি দেয়া যায়?আমি
মনে মনে চিন্তা করি ওকে প্রপোজ করবো
পরদিনই।অনেককিছুর পর একটা চিন্তা মাথায়
খেলে,আস্তে আস্তে ব্লেট দিয়ে হাত খুচে
খুচে রক্ত বের করে একটা কাগজে রক্ত দিয়ে
লিখি,"I love u..Will u b my boutush?"এটাই বোধহয়
অন্য কিছুর থেকে অনেক দামী হবে।
পরদিন সকালে ওকে গিয়েই দিয়ে কাগজটা।।ও কথা
বলতে পারলে হয়তো বলতো আমি কেন আমার
হাত কেটেছি।দেখতে দেখতেই ওর চোখে
পানি আসা শুরু হয়ে গেল।এরপর আমায় জড়িয়ে ধরে
হুহু করে কাঁদতে লাগল।আমিও ওর মাথায় হাত বুলাতে
থাকি আর মনে মনে বলতে থাকি,
"তুমি সারাজীবন এভাবেই থেকো।"
উৎসর্গ:যারা ভালবাসার গল্প ভালবাসে তাদের।
২|
২৭ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১৭
চিলেকোঠার চঁড়ুই বলেছেন: ধন্যবাদ আমার ব্লগ জগৎএ প্রথম মন্তব্যটি করার জন্য।গল্পটা অনেক আগের,কপি করেছি।অনেক শুভকামনা।
৩|
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:৩২
রুদ্র জাহেদ বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল।পুরোটা পড়তে পারিনি।পরে পড়ব
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩০
অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: আপনি কি মোবাইল থেকে লিখেছেন গল্পটা কিংবা পোস্ট করেছেন? পোস্ট শেপ ঠিক নেই।
ফারহা আর নীরা দুই জায়গায় দুই রকম লিখেছেন নাকি ?
বেশি লুতুপুতু গল্প হয়ে গেছে বিশেষ করে ব্লেড দিয়ে হাত কাটা। কাটাকুটি ঠিক না।
ব্লগিং শুভ হোক