নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কেয়ার জন্য উৎসর্গীকৃত ব্লগ।

দানবিক রাক্ষস

অন্ধদের রাজ্যতে এক চোখা মানুষটি রাজা এবং আমি সেই রাজা। না ঈশ্বর, না পিশাচ—আমি তৃতীয় বিশ্বাস।

দানবিক রাক্ষস › বিস্তারিত পোস্টঃ

জিউস vs মুসা (আ.)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



গ্রিক পুরাণে (Greek Mythology) কোনো একজন ঈশ্বর ছিল না , বরং অসংখ্য দেবদেবী ছিল। তবে জিউস (Zeus) হলেন গ্রিক পুরাণের প্রধান দেবতা , সমস্ত দেবদেবীর রাজা আকাশ ও বজ্রের অধিপতি এবং অলিম্পাস পর্বতের শাসক।

জিউসের বাবা ছিলেন টাইটান দেবতা Cronus (ক্রোনাস) এবং মা ছিলেন Rhea (রিয়া)।
ক্রোনাস নিজেও তাঁর বাবা ইউরেনাসকে ক্ষমতাচ্যুত করে মহাবিশ্বের শাসক হয়েছিলেন।
একদিন ক্রোনাস একটি ভবিষ্যদ্বাণী জানতে পারেন—তাঁর নিজের সন্তানদের একজন একদিন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করবে, ঠিক যেভাবে তিনি তাঁর বাবাকে করেছিলেন।
এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনে ক্রোনাস আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়া ঠেকাতে ক্রোনাস সিদ্ধান্ত নিলেন, তাঁর যত সন্তান জন্মাবে, সবাইকে তিনি গিলে ফেলবেন।
রিয়া একে একে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিলেন:
• হেস্টিয়া (Hestia)
• ডিমিটার (Demeter)
• হেরা (Hera)
• হেডিস (Hades)
• পসেইডন (Poseidon)
ক্রোনাস জন্মের পরপরই তাঁদের সবাইকে গিলে ফেললেন। কিন্তু তাঁরা অমর দেবতা হওয়ায় তাঁর পেটের ভেতরেই জীবিত রইলেন।
রিয়া সন্তানদের এই পরিণতি আর সহ্য করতে পারছিলেন না।

রিয়া যখন ষষ্ঠ সন্তানের গর্ভধারণ করলেন, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এবার নিজের সন্তানকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করবেন।
তিনি তাঁর বাবা-মা ইউরেনাস ও গাইয়ার পরামর্শ নিলেন।
তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, রিয়া ক্রিট দ্বীপে (Crete) চলে গেলেন এবং সেখানে একটি গোপন স্থানে জিউসের জন্ম দিলেন।
এরপর তিনি একটি বড় পাথরকে শিশুর কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে ক্রোনাসের হাতে তুলে দিলেন।
ক্রোনাস সেটিকে নিজের নবজাতক সন্তান মনে করে সঙ্গে সঙ্গে গিলে ফেললেন।
জিউস ক্রিট দ্বীপের একটি গোপন গুহায় বড় হতে থাকেন, সেখানে আমালথিয়া (Amalthea) নামের একটি ছাগল তাঁকে দুধ পান করাত আর নিম্ফরা তাঁর দেখাশোনা করতেন।
কিউরেটিস (Curetes) নামের যোদ্ধারা গুহার বাইরে ঢাল ও অস্ত্রের প্রচণ্ড শব্দ করতেন, যাতে শিশুর কান্না ক্রোনাসের কানে পৌঁছাতে না পারে।
এভাবেই বাবার অজান্তে বড় হতে থাকলেন ভবিষ্যতের দেবরাজ জিউস।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর জিউস তাঁর বাবার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
মেটিসের (Metis) সহায়তায় তিনি ক্রোনাসকে একটি বিশেষ পানীয় পান করান।
এর ফলে ক্রোনাস তাঁর গিলে ফেলা পাঁচ সন্তানকে বের করে দিতে বাধ্য হন।
মুক্ত হওয়ার পর জিউস তাঁর ভাইবোনদের নিয়ে বাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
এই যুদ্ধ গ্রিক পুরাণে Titanomachy নামে পরিচিত। দশ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে জিউস ও তাঁর মিত্ররা টাইটানদের পরাজিত করেন।
এরপর জিউস, পসেইডন ও হেডিস নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে নেন। জিউস আকাশের, পসেইডন সমুদ্রের এবং হেডিস পাতালের অধিপতি হন।

হযরত মুসা (আঃ)

মুসা (আ.)-এর জন্ম হয়েছিল এমন এক মিশরে, যেখানে ফেরাউন নিজেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মনে করত। এমন কি সে নিজেকে তার জনগণের সর্বোচ্চ প্রভু বলে দাবি করেছিল।

ফেরাউন একটি স্বপ্ন দেখেছিল এবং তার জ্যোতিষীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে বনি ইসরাইলের মধ্যে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যার কারণে ফেরাউনের রাজত্ব ধ্বংস হবে।
তারপর ফেরাউন একটি ভয়াবহ আদেশ দিলেন—ইসরায়েলীয়দের নবজাতক পুত্রসন্তানদের হত্যা করার।

মুসা (আ.)-এর জন্মের পর তাঁর মা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ ফেরাউনের সৈন্যরা তাঁর সন্তানকে হত্যা করতে পারে।
এই সময়, ঈশ্বর মুসা (আ.)-এর মায়ের অন্তরে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
মুসা (আ.)-এর মা শিশুটিকে নদীতে ভাসিয়ে দেন। নদীর স্রোতে ভেসে শিশুটি ফেরাউনের পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়।
ফেরাউনের পরিবার শিশুটিকে তুলে নেয়।
ফেরাউনের স্ত্রী শিশুটিকে দেখে মমতায় আপ্লুত হন। তিনি ফেরাউনকে অনুরোধ করেন যেন শিশুটিকে হত্যা করা না হয়।
তারপর নানা ঘটনার পর , শিশুটি ফেরাউনের পরিবারে বড় হতে থাকে এবং একদিন মুসা (আ.)-এর মাধ্যমে ফেরাউনের পতন হয় ।

***************************************************************************************************************************
এখন প্রশ্ন হল,
দুটি ভিন্ন ধর্মের , দুটি ভিন্ন চরিত্রের জন্মের সময়ের ঘটনার মিল এত কিভাবে ?
দুটি শিশুর জন্মের পর তাদের জীবন নাশের হুমকি ছিল, প্রভাবশালী শাশকের কাছ থেকে !
দুটি শিশুর তাদের মায়ের থেকে দূরে থেকে বড় হয়েছে এবং
দুটি শিশুর সম্বন্ধে যে ভবিষৎবাণী ছিল তা তারা বড় হয়ে সম্পূন করে

দুটি ভিন্ন সভ্যতা, দুটি ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দুটি ভিন্ন চরিত্র। অথচ তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠার গল্পে এত মিল কেন?
জিউসের জন্মের বহু শতাব্দী পর কি মুসা (আ.)- এর কাহিনি রচিত হয়েছিল? নাকি উভয় কাহিনির পেছনে রয়েছে আরও প্রাচীন কোনো গল্প, যা সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সভ্যতায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে?
অথবা ক্ষমতা হারানোর ভয়, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা এবং অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ—এই বিষয়গুলো কি মানুষের কল্পনায় বারবার একই ধরনের গল্পের জন্ম দেয়?
ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে এসে ইতিহাস ও সাহিত্যের দৃষ্টিতে প্রশ্নটি বিবেচনা করলে আমরা কী দেখতে পাই?
এটি কি দুটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কাহিনির আশ্চর্য সাদৃশ্য, নাকি হাজার বছরের পুরোনো কোনো গল্পের বিবর্তন?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.