নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দীপক রায় ০০৭

দীপক রায়

দীপক রায় ০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

জুয়ার আসর

১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ৮:৩৭

ঘরের দেয়ালে ঠাকুরের ফটো।

আদিম বিশ্বাসের চিলেকোঠা।

কাঁচা মাটির মেঝে,

খড়কুটোর চাল,

বর্ষা এলেই ঢুঁ মেরে যায় ঘর।

মাটির কলসে কুয়োর জল,

ভাঙ্গা ট্রাংকে কিছু কাপড়-

সযত্নে অতিমূল্যবান সম্বল।

দেয়ালে দেয়ালে ঠাকুরের ফটো।

বাঁশের খাড়াপাতা বিছানা।

ছেলেটা প্রতিরাতে প্রস্রাবে-

ভিজিয়ে দিতো কাঁথা বালিশ।

একপাশে কানাই,

আরেকপাশে লতিকা।

একমুঠো সংসার,

তিন তিনটে মুখ।

পিঠে সন্তান,

আর দুহাতে পেটের খিদে তাড়ায়।

দিনভর অন্যের কাজ করে-

বাড়ির চুলায় আগুন জ্বলে।

ঘরে ফিরে অতিপ্রাচীন দায়ভার।

অনেক রাতে আসে কানাই,

কোন রাতে আসে না।

দিনে খেটে যা রোজগার,

জুয়ার চালে চালে ফুরায়,

শূন্যতে পড়ে কানাই,

চুষে খায় জীবন সংসার,

মেঘকালো লতিকার পাঁজর।

আস্তে আস্তে ভাতের মার শুকায়,

পোড়া পোড়া গন্ধ আসে।

কাজে যেতে পারে না।

কানাই যা পায় তাতে কোনোমতে-

সুধীর ডাক্তারে ঔষুধ

আর কিছু লবণ ভাত হয়।

দুধ না পেয়ে সাত মাসের ছেলেটা-

রাগে ক্ষোভে পৃথিবী ছাড়ে।

কানাই-লতিকা ঠাকুর ঠাকুর করে,

দেয়ালে সব ঠাকুরের ফটো।

জুয়ার আসর ছেড়েছে এখন,

জোর দিয়ে কাজ করে কানাই।

ঘরে বসেই চিকিৎসা,

সদরে যাওয়ার পয়সা নেই।

মনে হয় না বেশী দিন যাবে।

ঠাকুরের কাছে আবদার,

ভালো হলে এটা দেবো,

ওটা দেবো,জীবদান ঠাকুরকে পাঁচবোল দেবো।

লতিকার কপালে সিঁদুর নেই,

কিন্তু ঠাকুরের কপাল ডপডপে লাল।

কেবল লোকসানের জুয়া।

ঘরটা জুড়ে শুধু ঠাকুরের ফটো।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.