| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রোজ রোজ ফিরে আসি।
আজ কিনবোই-
মাসের প্রথমদিক,নতুন বেতন।
পকেটের গরমে পা দ্রুত চলছে।
শ্রাবণী আর দুটো বাচ্চা।
কীযে খুশি হবে,
যেকরেই হোক কিনতেই হবে আজ।
অনেকদিন পেট পুরে খাইনা।
কী আজব শহর!
কেউ দুহাতে ফুরাতে পারেনা,
কারো হিসাব মিলাতেই
টাকা শেষ।
প্রতিদিন ঝিমুতে ঝিমুতে অফিস,
ঝুলতে ঝুলতে বাসে-
সকালটা না আসলেই ভালো হয়।
বিকেল শেষে,
ক্লান্ত শরীর,ক্লান্ত পায়ে
বাজারের থলি হাতে বাড়ি।
সেই এক কেজি চাল,
এক কেজি আলু,কিছু পটল।
একটানা লোকাল ট্রেন-
ঝাঁঝরা বুকে,পুরোনো মবিলে
ঢুকুর ঢুকুর চলাচল।
একঘেয়ে জীবন
ভেতরে ভেতরে অস্থির,
বুম করে ফাটতে চায়।
কিন্তু পেটে ভাতে মধ্যবিত্ত,
আগে পাঞ্জাবীর পকেটটাই
মনেপড়ে।
তবে যাই হোক,
আজ সাহস করে কিনেই ফেলবো।
এই যে ভাই-
ঐ বড়মাছটা কত?
২৫০টাকা, লন,ভালো হবে।
না ভাই এতো বেশি,হবে না।
তাহলে এগুলো লন-
১০০টাকা কেজি।
হচ্ছে না,আরো কিছু কমের মধ্যে-।
সম্ভব না,অন্যখানে দেখেন।
বার বার হিসেব করে দেখি-
সামনে ঈদ,বাড়িভাড়া,
গ্যাস বিল,বিদ্যুৎ বিল,
বাচ্চাদের স্কুলের বেতন।
তাহলে থাক-
একহালি ডিম,
চারজন মানুষ,
আলুর ডাল,
আর পেট ভর্তি ভাত।
সস্তায় কেনা অপার তৃপ্তি।
একটুভালোতেই বাচ্চাদের
মুখে হাসি।
লাল নীল আলোয় সোনারগাঁয়
চাইনিজ।
সারাঘর জুড়ে-
জীবনের আলাদা একটা স্বাদ।
অপ্রাপ্ত বই সবসময়
ফুটপাতেই থাকে।
অথবা স্টোর রুমে।
শ্রাবণী আবার মাথা রাখে
আমার বুকে।
পেরিয়ে যায় আরেক রাত।
সকাল সাড়ে সাতটা,
বাসের টিকেট হাতে
লাইনে দাঁড়িয়ে আমি।
©somewhere in net ltd.