নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভিন্ন দৃষ্টি

ভিন্ন দৃষ্টি

ভিন্ন দৃষ্টি

ভিন্ন দৃষ্টি

ভিন্ন দৃষ্টি › বিস্তারিত পোস্টঃ

নারীর সন্মান, নিকাহনামা ও কয়েকটি প্রশ্ন।

২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:০৭

সম্প্রতি কয়েকটি ব্লগে নারীদের সন্মান ও অধিকার সংক্রান্ত বেশ কিছু লেখা পড়লাম। তারা উল্লেখ করেছেন অন্য যে কোন ধর্মের চেয়ে ইসলাম নারীর জন্য সর্বাধিক সন্মান নিশ্চিত করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছেন উন্নত বিশ্ব (সো কলড) আমেরীকা সহ বেশ কিছু দেশে কিছু কাল আগেও নারীরা সম্পত্তির অধিকারী হতে পারতো না, ভোটাধিকার ছিল না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ইসলাম ১৪০০ বছর পূর্বেই নারীদের পারিবারিক সম্পত্তির ভাগীদার হওয়া নিশ্চিত করেছে, দিয়েছে উচ্চ মর্যাদা। এ সংক্রান্ত কিছু উদাহরনও দিয়েছেন তারা। আমি কয়েকটি বিষয় ছাড়া বাকি গুলোতে প্রায় সবার সাথে একমত। তবে এই পোষ্টের উদ্দেশ্য ওই দ্বি-মত গুলোর যুক্তি খন্ডানো নয়, বরং নারীর সন্মাননা প্রশ্নে ইসলামি অনুশাসন নির্ভর একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তির বিষয়ে আমার বিশ্লেষনের (ভুলও হতে পারে) ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ব্লগারদের মতামত গ্রহন।





বিষয়টি বিবাহ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র নিয়ে; যেটি বিবাহিত ৮০% মানুষ (নারী ও পুরূষ) না পড়েই সাক্ষর করেছেন বলে আমার ধারনা (অন্তত আমার পরিচিত মহলে এমন কাউকে পাইনি যিনি পড়েছেন) এবং খুব সম্ভবত প্রায় কেউই কোন দিন পড়ে দেখার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেননি। মুসলিম বিবাহের বিবাহ চুক্তিপত্রটি'র (নিকাহনামা) কয়েকটি পয়েন্ট পড়ে মনে হবে যেন এটি একটি পন্য বা সম্পত্তি লিজিং এর চুক্তি যেখানে বর হলো লিজ গ্রহীতা এবং কনে হলো পন্য বা সম্পত্তি। বিষয়টি পাঠকের বোঝার সুবিধার জন্য নিকাহনামার (যেটি আমার এক পরিচিতের) একটি নমুনা নিচে হুবুহু তুলে দেয়া হল। এর মধ্যে ব্রাকেটে দেয়া অংশগুলো পূরনকৃত তথ্য।





নিকাহনামা:



১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিলিপি।



১। ওয়ার্ড, শহর, ইউনিয়ন, তহসিল এবং জিলা যেখানে বিবাহকার্য নিষ্পন্ন হইয়াছে:_______________________





২। নিজ নিজ বাসস্থান সহ বর ও তাহার পিতার নাম:________________________________________





৩। বরের বয়স:_________________





৪। নিজ নিজ বাসস্থান সহ কন্যা ও তাহার পিতার নাম:__________________________________________





৫। কন্যা কুমারী, বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা নারী কিনা: _________________________





৬। কন্যার বয়স:_________________





৭। কন্যা কতৃক উকিল নিযুক্ত হইলে ঐ উকিলের পিতার নাম ও বাসস্থানের ঠিকানা: ___________________________





৮। পিতার নাম, বাসস্থান ও কন্যার সহিত সম্পর্কের বর্ননাসহ কন্যার উকীল নিয়োগের ব্যাপারে সাক্ষীদের নাম:

(১) _________________

(২)_________________





৯। বর কতৃক উকিল নিযুক্ত হইলে ঐ উকিলের এবং তাহার পিতার নাম ও বাসস্থানের ঠিকানা:___________________





১০। পিতার নাম, বাসস্থান সহ বরের উকীল নিয়োগের ব্যাপারে সাক্ষীদের নাম:

(১) _________________

(২)_________________





১১। বিবাহের সাক্ষীদের নাম, তাহাদের পিতার নাম ও বাসস্থানের ঠিকানা:________________________

(১) _________________________

(২) _________________________





১২। যে তারিখে বিবাহের কথাবার্তা ঠিক হইয়াছিল সে তারিখ: _________________





১৩। দেনমোহরের পরিমান: _____ (৳ ৫,০০,০০১/- (পাঁচ লক্ষ এক টাকা মাত্র)) _________





১৪। দেনমোহরের কি পরিমান মু'য়াজ্জল এবং কি পরিমান মু'অজ্জল: __ (৳ ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ টাকা) বাকী রহিল) ____________





১৫। বিবাহের সময় দেনমোহরের কোন অংশ পরিশোধ করা হইয়াছে কিনা? যদি হইয়া থাকে তবে উহার পরিমান কত: __ (৳ ২,০০,০০১/- (দুই লক্ষ এক টাকা) আদায়) ________





১৬। বিশেষ বিবরন ও পক্ষগনের মধ্যে চুক্তিসূত্রে নির্ণীত মূন্যসহ কোন সম্পত্তি সম্পূর্ন দেনমোহর বা উহার অংশ বিশেষের পরিবর্তে প্রদত্ত হইয়াছে কিনা: ____________________________





১৭। বিশেষ শর্তাদি থাকিলে তাহা: ______ (মাসিক ভদ্রোচিত হারে খোরাকী পাইবে ) __________________





১৮। স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করিয়াছে কিনা? করিয়া থাকিলে কি কি শর্তে: ________________





১৯। স্বামীর তালাক প্রদানের অধিকার কোন প্রকারে খর্ব করা হইয়াছে কিনা: ____________________________





২০। বিবাহের সময় দেনমোহর, খোরপোষ ইত্যাদি সম্পর্কে কোন দলিল করা হইয়াছে কিনা? যদি হইয়া থাকে তবে উহার সংক্ষিপ্ত বিবরন: ______________________________





২১। বরের কোন স্ত্রী বর্তমান আছে কিনা এবং থাকিলে অন্য বিবাহে আবদ্ধ হইবার জন্য বর ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অর্ডিন্যান্স মোতাবেক সালিসী কাউন্সিলের অনুমতি লইয়াছে কিনা:___________________________





২২। অন্য বিবাহে আবদ্ধ হইবার জন্য সালিশী কাউন্সিলের নিকট হইতে বরের নিকট প্রেরিত অনুমতিপত্রের সময় ও তারিখ:___________________________________





২৩। যেই ব্যক্তির দ্বারা বিবাহ পড়ান হইয়াছে তাহার নাম ও তাহার পিতার নাম: ___________________________





২৪। বিবাহ রেজিষ্ট্রি করার তারিখ: ____________________





২৫। পরিশোধিত রেজিষ্ট্রি ফি: _________________





বিবিধ স্বাক্ষর সমুহ



=====



আমার বিশ্লেষন:



চুক্তিপত্রটি বরকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়েছে এবং এতে কনের প্রতি তুলনামূলক অবহেলা বেশ প্রকট। যেমন-





১৭নং পয়েন্টটি লক্ষ্য করুন: বিশেষ শর্ত- "মাসিক ভদ্রোচিত হারে খোরাকী পাইবে"। সাধারনত কায়িক শ্রমের বিনিময়ে যারা অর্থনৈতীক চুক্তিতে আবদ্ধ হন তাদের ক্ষেত্রে অনুষঙ্গ চুক্তি স্বরুপ খোরাকীর কথা উল্লেখ থাকে। তাহলে কি ধরে নেয়া যায় যে একজন পুরূষ একজন নারীকে বিয়ে করেন তার কিছু বিশেষ সার্ভিসের প্রয়োজন মেটাতে, যেমন- ঘর-দোর ঠিক রাখা, রান্না করা, বংশ বৃদ্ধি করা, শারীরিক চাহিদা পূরন করা ইত্যাদি ইত্যাদি? আর এই সার্ভিস চার্জই হলো 'ভদ্রোচিত হারে খোরাকী'?





১৮নং পয়েন্টে বলা হয়েছে- "স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করিয়াছে কিনা? করিয়া থাকিলে কি কি শর্তে?"- লক্ষ্য করুন 'তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করিয়াছে কিনা'; তার মানে বাই ডিফল্ট স্ত্রীর সে ক্ষমতা থাকে না এবং সেই ক্ষমতা স্ত্রী পাবে কি পাবে না তা নির্ভর করে স্বামীর ইচ্ছার উপর। অর্থাৎ স্বামী চাইলে স্ত্রীর একটা মৌলিক অধিকার (প্রয়োজনে স্বাধীন হবার অধিকার) কেড়ে নিতে পারেন। বিষয়টা কৃতদাস প্রথার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে কি?



অবশ্য ১৯নং পয়েন্টে স্ত্রীকে কিছুটা ক্ষমতার আভাস দেয়া হয়েছে। তিনি স্বামীর তালাক দেয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি কেড়ে নিতে না পারলেও কিছুটা কমিয়ে (খর্ব) দিতে পারেন। হয়তো অর্থ বা সম্পদের লেনদেনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমানই কমিয়ে দিতে পারেন।





১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬নং পয়েন্টগুলো সেলফ এক্সপ্লেনেটরী। প্রথমটা মোট লিজ এমাউন্ট (বা বিক্রয়মূল্য), দ্বিতীয়টা বকেয়ার পরিমান (যদি থাকে), তৃতীয়টা ডাউন পেমেন্ট বা প্রাথমিক পরিশোধিত মূল্য এবং চতুর্থটি এই তিনটি পয়েন্টের এক্সটেনডেড শর্তাদি। অবশ্য বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিচারে এটাকে এভাবেও বলা যেতে পারে যে, এগুলো সবই স্ত্রী'র তালাক পরবর্তী বিপদকালীন সিকিউরিটি ডিপোজিট।





যে যেভাবেই নিন না কেন এই চুক্তির ভাষা ও নির্দেশনা ক্ষেত্র বিশেষে নারীর সন্মানকে খর্ব করে বলেই আমার মনে হয়। ইসলামি আইন বা অনুশাসন মেনেই এই আইনগুলোকে কি (অন্তত ভাষাগুলোকে) এমন ভাবে মডিফাই করা যেতে পারে যাতে করে নারীর সন্মান যথাযোগ্য ভাবে রক্ষা হয়?





আচ্ছা, নারী প্রগতিবাদ আর সম-অধিকার নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কথা বলে যাচ্ছেন তারা কেন এই বিষয়টি লক্ষ্য করছেন না? নাকি চুক্তিটি অর্থনৈতিক ভাবে (পরিমান নগন্য হলেও) তাদের পক্ষে বলে তারা ইচ্ছাকৃত ভাবেই এড়িয়ে যাচ্ছেন? নাকি আমিই ভুল ভাবে দেখছি?

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +১০/-১

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:২৯

কোবরা বলেছেন: ভাল পোষ্ট.........ধন্যবাদ আপনাকে ভিন্ন দৃষ্টি।

২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৩৩

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: এড়িয়ে যাওয়াটা সহজ যে!

আর ভাষা বদলালেও আইন তো আর বদলে যাচ্ছে না! ১৪০০ বছরের আইন কিনা (নাকি ১৯৭৪ এর বঙ্গদেশী আইন?)!

সমান অধিকার আবার কি! খোরাকী পাচ্ছে না!

৩| ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৩৬

ডক্তর অব ছাকন্দাইটিস বলেছেন: দুজনে সমান হলে একজন আরেকজনরে অধিকার দেয় কেমনে?

১৮। স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করিয়াছে কিনা? করিয়া থাকিলে কি কি শর্তে: ________________

৪| ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৪০

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: পয়েন্ট আউট করে লাভ নেই, সবগুলো পয়েন্টই কমবেশী এরকম @ ডক্তর

৫| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:৫৫

ভিন্ন দৃষ্টি বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে।


প্রশ্নোত্তর, আইনটা ১৯৭৪ এর বাংলাদেশী আইন, তবে সেটার ভিত্তি ১৪০০ বছর পূর্বে সৃষ্ট ইসলামী অনুশাসন।


যোগ্যতা বিচারে যেহেতু নারীরা পিছিয়ে নেই তাই সমান অধিকার দিতে ক্ষতি কোথায়। বাংলাদেশে অনেক পরিবার রয়েছে যেখানে স্ত্রী'র আয়ে বা স্বামী-স্ত্রী'র যৌথ আয়ে সংসার চলে, সেক্ষেত্রে কে কাকে খোরাকী বা খোর-পোষ দিচ্ছে তা সংশয়ের সৃষ্টি করতেই পারে। তাছাড়া তেমন পরিস্থিতিতে বিষয়টা আইন বা চুক্তি ভঙ্গের পর্যায়ে পরছে না?



আইন বিচারের গুরুভার নেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে হয়তো এটাই ঠিক। কিন্তু অন্তত ভাষাগত দিক থেকে কিছু সন্মান প্রদান করতে কোন দোষ দেখিনা।

৬| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:১৩

শিলা বলেছেন: ভালো পোস্ট। ৫।

৭| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:১৮

ডাক্তাড়' বলেছেন: চিলা চাইমুমের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম

৮| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:২৭

ভিন্ন দৃষ্টি বলেছেন: ডাক্তার', বুঝলাম না। কি বিষয়?

৯| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪২

লতিফ হোসাইন বলেছেন: ভাইরে সমস্ত চুক্তি ভঙ্গ করে দিয়ে দিতে চাইলাম জীবনটাই। তা অপরপক্ষ বুদ্ধিমতী বলেই বুঝে গেল যে এই নশ্বর জীবন-টীবন চেয়ে কিছু হবেনা। এখন চুক্তি অনুযায়ী 'খোরাকী' ট্রান্সফারেই সীমিত।

দুইটাই কষ্ট: চেয়ে না পাওয়া আর দিতে গিয়ে নেয়ার মত কাউকে না পাওয়া। দ্বিতীয়টা নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

মনে হয় বলি বাদ দেন বরং এই সব আইন-কানুন নিয়ে মাথা ঘামানো। সময়ের প্রয়োজনে ঐসব আইন কানুন তৈরীও হয় বদলায়ও। যেমন সমাজ সেরকম আইন তারা ডিজার্ভ করে। যেমন নাগরিক তেমনই হয় তার নেতা। অযৌক্তিক আর ইমোশনাল কমেন্ট হইলে মাফ চাই।

১০| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৮

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: শাদী আইন আপাতত বাদ!

১১| ০১ লা আগস্ট, ২০১০ সকাল ৮:৩২

বাংলাপ্রতিদিন বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
অনেক কিছু জানলাম

১২| ০৯ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:১৮

পরান বলেছেন: যোগ্যতা বিচারে যেহেতু নারীরা পিছিয়ে নেই তাই সমান অধিকার দিতে ক্ষতি কোথায়। বাংলাদেশে অনেক পরিবার রয়েছে যেখানে স্ত্রী'র আয়ে বা স্বামী-স্ত্রী'র যৌথ আয়ে সংসার চলে, সেক্ষেত্রে কে কাকে খোরাকী বা খোর-পোষ দিচ্ছে তা সংশয়ের সৃষ্টি করতেই পারে। তাছাড়া তেমন পরিস্থিতিতে বিষয়টা আইন বা চুক্তি ভঙ্গের পর্যায়ে পরছে না?

১৩| ১২ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৪২

অদ্ভূত একজন বলেছেন: This Fuckin rule must be changed. At least POint 17 and below.
but i m afraid there is no way 2 change this rulez

১৪| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:১১

কাকপাখি ২ বলেছেন: খোরাকি শব্দটা দৃষ্টি কটু শোনাচ্ছে। ভরন-পোষন লেখা থাকলে মনে হয় আপনি আপত্তি করতেন না।

ইসলামি বিয়েতে মেয়ে দেনমোহর পায়। দেনমোহরের নিয়ম হল, স্ত্রীকে স্পর্শ করার আগে দেনমোহর শোধ করতে হবে। দেনমোহর সরাসরি মেয়ের অধিকার। মেয়ের হাতে দিতে হবে। দেনমোহর মাফ চাওয়া যাবে না, এমনকি মাফ চাওয়ার ভানও করা যাবে না। কেউ যদি টাল বাহানা করে মাফ করায় নেয়, তাহলে সেইটা প্রকৃত মাফ হবে না। কোন রকম ভান বা নাটক ব্যাতিরেকে সম্পূর্ন দেনমোহর মেয়ের হাতে দিয়ে দিতে হবে।

অপারগতা থাকলে মেয়ের অনুমতি সাপেক্ষে আংশিক দেনমোহর আদায় করে বাকিটা পরে কতদিন ধরে কিভাবে শোধ করা হবে তা বলে নিতে হবে, এবং আদায় করতে দেরী করা যাবে না।

ইসলামী শরিয়ত মতে বিয়েতে মেয়ে পক্ষের কোন খরচ নাই। ছেলে পক্ষ শুধু ওলিমার আয়োজন করবে (নাচ গান, পটকাবাজি ইত্যাদি কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)

ইসলামী শরিয়ত মতে মেয়েদের উপরে পরিবারের ভরন পোষনের কোন দায়িত্ব নাই। টাকা কামাই করার জন্য কষ্ট করা ছেলের কাজ।

এমনকি রান্না করাও মেয়েদের দায়িত্ব না।

ইসলাম সম্পর্কে আমাদের বিরূপ মনোভাবের কারন হল, জ্ঞানের অভাব।

১৫| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:১৭

রিজ বলেছেন: কাক পাখী ২ এর সাথে একমত।
আসুন এবার তালাকের অধিকার প্রসংগ। সম্পূর্ন ইসলামি রীতিতে বিয়েতে মেয়েরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়। (কারন, যৌতুক দিতে হয় না, বরং মহরানা রূপে ছেলেদের কিছু টাকা গচ্চা যায়)। এখন যদি সাধারনভাবে মেয়েদের তালাকের পূর্ন স্বাধীনতা থাকে তাহলে তো তারা এক একটা নতুন বিয়ে করবে, মোহরানা পাবে আর তালাক দিবে। বেশ রমরমা বিয়ে ব্যবসা শুরু করবে আর লাভ হিসেবে মোহরানা পাবে।
(তবে, স্বেচ্ছায় তালাক নিলে মহরানার টাকা ফেরত দিতে হবে, এ ধরনের চুক্তি থাকলে উক্ত সমস্যাটা থাকে না)।

১৬| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:২৯

কাকপাখি ২ বলেছেন: ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক মেয়েরা তালাক দিতে পারবে না, কিন্তু ইসলামি বিচারকের অনুমতি সাপেক্ষে নিজের উপরে তালাক নিতে পারবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.