নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কিছু গল্প

দীপালী

দীপালী › বিস্তারিত পোস্টঃ

পা

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৫১

ঘটনাটি ঘটেছিল ফরিদপুরের একটি মহিলা কলেজের হোস্টেলে। সেদিন তৃণার (ছদ্মনাম) হালকা জ্বর এসেছে। তার রুমমেট ও পাশের রুমগুলোর সবাই গেছে হলের কমনরুমে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখতে। বাংলাদেশের ম্যাচ বলে কথা! অসুস্থতার কারণে তৃণা যেতে পারেনি। সন্ধ্যার পর একসময় তৃণা টয়লেটে গেল। হলের টয়লেটটি তার রুমের পাশেই। প্রয়োজন সেরে সেখান থেকে ফিরে তৃণা বিছানায় শুয়ে পড়ল। হঠাৎ তার কানে ভেসে এলো টয়লেটের কল থেকে পানি পড়ার শব্দ। কিন্তু সে তো কল বন্ধ করে এসেছে! অন্য কেউ হয়তো টয়লেটে গেছে-এই ভেবে তৃণা চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করল। অনেকক্ষণ পরও কল থেকে পানি পড়া বন্ধ হলো না। কল বন্ধ করতে তৃণা আবার গেল টয়লেটে। এবার টয়লেটে ঢুকে ভেন্টিলেটরে চোখ পড়তেই ওর শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে এলো! ভেন্টিলেটরের গর্তের মধ্য দিয়ে দুটো চিকন লম্বা পা ঝুলে আছে টয়লেটের ভেতরের দিকে। পা দুটোর মাংস বিভিন্ন জায়গায় খুবলে তোলা; পুরো পায়ে জেলীর মতো থকথকে রক্ত লেগে আছে! পানির ছিটায় জ্ঞান ফিরলে তৃণা দেখতে পেল, বন্ধুরা তাকে তার রুমে নিয়ে এসেছে। টয়লেটে ভয়ংকর দৃশ্যটা দেখেই সে জ্ঞান হারিয়েছিল। তৃণা সবাইকে ঘটনাটি বলল। ঘটনা শুনে অন্যরাও বেশ ভয় পেয়ে গেল। গল্পগুজব করে অনেক রাতে সবাই যার যার রুমে চলে গেল। সেই রাতে বিছানায় একা ঘুমাতে তৃণার ভীষণ ভয় লাগছিল। তাই সে রুমমেটকে তার বিছানায় শুতে বলল। রুমমেট তৃণার কাছে টয়লেটে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আবার শুনতে চাইল। সব শুনে মেয়েটা নিজের পায়জামা নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত তুলে তৃণাকে দেখিয়ে বলল, ‘দেখ্‌ তো, ভেন্টিলেটর থেকে এই দুইটা পা ঝুলে থাকতে দেখেছিলি কি না?’ পায়ের দিকে তাকিয়েই তৃণা জ্ঞান হারাল। পাদটীকা: অল্প কয়েক দিনেই তৃণার মানসিক ও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাকে আর বাঁচানো যায়নি। মৃত্যুর আগে সে রুমমেটের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আপনজনদের বলে গিয়েছিল। কিন্তু সেই রাতের পর তৃণার রুমমেটের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকি কলেজের নথিপত্রেও সেই রুমমেট সম্পর্কে তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি; যেন কোনো অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে মেয়েটির সব তথ্য উধাও হয়ে গিয়েছে!



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.