| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
Love at first sight বলে কোন ব্যাপার থাকলে আনিতার তা হয়েছে। কিন্তু এভাবে তো হওয়ার কথা ছিল না। আনিতা মটেও সে রকম মেয়ে নয়। যদিও সে একটা প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রী কিন্তু সে মোটেও অন্যদের মতো নয়। চুপচাপই থাকে। কিন্তু এবার যে তার সব হিসেবের গড়মিল হয়ে গেলো । শেষ পর্যন্ত কিনা একটা শিক্ষকের প্রেমে পড়ল। নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে আনিতার।
ব্যাপারটার শুরু এভাবে, একদিন কাবেরি মেম ক্লাসে এলেন না। তার নাকি অসুখ করেছে। তাই তিনি রাহাত স্যার কে সেই ক্লাসে একটা ক্লাস টেস্ট নেয়ার জন্য পাঠালেন। রাহাত কবির এর আগে কখনো এই ছাত্র-ছাত্রীদের পরাননি। আর তা ছাড়া এই সেমিস্টারেই তিনি জয়েন করছেন বলে ছাত্র-ছাত্রীরাও তাকে সে ভাবে চিনে না।
ক্লাসে মেম আসবে না বলে আনিতা রা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গল্প করছিল। এ সময় আনিতা দেখল একটা ছেলে মাথা ভরা ঝাঁকড়া চুল, চোখে একটা সিলভার ফ্রেমের চশমা পড়া , হাতে কতো গুলো খাতা নিএ ক্লাসে ঢুকল। আনিতার সাথে সাথে বুকের কোথাও একটু বযথার মতো অনুভব হোল। রাহাত কবির খাতা গুলো সবাইকে দিয়ে আর প্রশ্ন টা দিয়ে একটু দুরে দাঁড়িয়ে সবার দিকে লক্ষ্য করছিল। কেউ নকল করছে কি না দেখছে। আর আনিতা পরীক্ষা দেয়া বাদ দিয়ে রাহাতের দিকে একটু একটু করে তাকাচ্ছে।
সবাই মোটামুটি বিরক্ত। কারন আজ ছুটি কাটানো টা মাটি করে দিলেন রাহাত স্যার। আনিতার পাশে বসা তার সব থেকে কাছের বান্ধবী আঁখি আনিতা কে ফিসফিস করে বল্লঃ
- দেখ দেখ আমাদের মজাটা নষ্ট করে কি করে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে দেখ।
আনিতা কিছু না বলে শুধু একবার ঘাড় নাড়াল। তার কেন এরকম লাগছে তার কারন টা বোঝার চেষ্টা করছে সে। কেমন হাত পা ঝিম ঝিম করছে যতবার রাহাতের দিকে তাকাচ্ছে। রাহাতের হাঁটার সময় ঝাঁকুনিতে অল্প অল্প চুলের ঝাঁকি খাওয়া, অস্থির ভাবে হেঁটে হেঁটে সবার দিকে তাকানো। সবকিছুই আনিতা কে ভীষণভাবে আলোড়িত করছে। আঁখি আবার আনিতার দিকে ঝুঁকে এসে ফিস ফিস করে বল্লঃ
- কি রে লিখছিস না ক্যান ? সব ভুলে গেছিস নাকি?
- না না। এই তো লিখছি। তুইও লিখ না। তা নাহলে স্যার দেখে ফেললে আমাদের পরীক্ষাটাই বাতিল করে দিবে।
আনিতা কিছুটা নিজেকে লুকানোর জন্য এত কথা হড়বড় করে বলেফেলে। কিন্তু ইতিমধ্যে রাহাত তাদের দেখে ফেলে। রাহাত আনিতা আর আঁখির সামনে এসে খানিক দাঁড়িয়ে তাদের দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকে। আনিতার মনে হোল রাহাত স্যার হয়তো তার মনের সব কথা বুঝে ফেলল। তাই তাড়াতাড়ি খাতার দিকে তাকিয়ে লিখার অভিনয় করতে থাকে।
পরীক্ষা শেষে রাহাত খাতা গুলো যখন কালেক্ট করে নিচ্ছিল তখন আনিতার বার বার মনে হচ্ছিলো কেন এই পরীক্ষাটা এতো জলদি শেষ হল? আর কি এই স্যার কে দেখতে পাবো । আনিতা নিজেকেই একটা কড়া ধমক লাগাল। সে তো এরকম মেয়ে না। কোন ছেলে দেখে তো কখনই এরকম ফিল সে করেনি। সবাই তাকে আদর্শ মেয়ে হিসেবেই ভাবে। তাহলে কেন আজ রাহাত কে দেখে তার এরকম মনে হচ্ছে?
- কি রে কি ভাবোস?
আনিতা চমকে যায়। দিলু তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মানে দিলু কিছু একটা বলেছে।
- কিছু বললি রে দিলু?
নিজেকে একটু ধাতস্ত করে জিজ্ঞেস করে আনিতা।
- না মানে জিজ্ঞেস করছিলাম তুই কি কিছু ভাবছিস নাকি? এখন তো দেখি সত্যি সত্যি কিছু ভাবছিলি। কিছু হয়েছে কি?
- আরে না রে। কিছু হয়নি। আমি এখন যাই রে।
একথা বলে আনিতা আর এক মুহূর্ত সেখানে না দারিয়ে বের হয়ে আসে। পেছনে একবার ফিরে দেখে দিলু কেমন করে যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে। আনিতা আরও যেন গুটিয়ে যায় নিজের মাঝে।
নিজেকে মনে মনে গালি দেয় আনিতা। কি করে সে এটা করতে পারে। এটা তো কোনোভাবেই ভালবাসা না। সে অনন্য কাউকে ভালবাসে। কারো দিকে তাকানোর কথা তো তার না। সে কেন এই কাজ টা করল সে নিজেও জানে না। নিজেকে একটা ধাপ্পাবাজ মনে হতে থাকে তার। না তামিম কে সে ধোঁকা দিতে পারে না। তামিম কে সে ভালবাসে। সারা জীবন একসাথে থাকার প্রমিস করেছে তারা। কিন্তু পরোমুহূর্তে আবার আনিতার মনে হয় তামিম কে দেখেও তো কোনদিন এ রকম শিহরণ অনুভব করেনি সে।
আনিতা আর কোন ক্লাস না করে বাসার পথে রওনা হল। আজ তার কিছু ভালো লাগছে না। তামিমের সাথে রিক্সা দিয়ে ঘুরতে পারলে ভালো হতো। এটা মোহ হলে তামিমের কাছাকাছি থাকলে তা দূর হয়ে যাবে। আনিতা তার মুঠো ফোনের খোঁজে ব্যাগ হাতড়াতে শুরু করল। আজ তামিমের সাথে দেখা করতেই হবে----
To be continued..
২৫ শে নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৫০
দীপালী বলেছেন: পড়বেন আসাকরি। আপনারা পড়লে আমি উতসাহিত হব।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:১৩
কাগজের নৌকা (রাসেল হোসেন) বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম

আপনার গল্প ভালো লাগলো
আসলে মোহ বলেও একটা টান অথবা ভালবাসা তৈরি হয় মানুষের মনে
কেউ পাত্তা দেয় কেউ দেয়না।
ভালো থাকবেন
সময় পেলে বাকি সব সিরিয়াল পড়ে নিবো
শুভ রাত্রি