| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সূর্যের তাপে উত্তপ্ত বালুকাবেলা। তারপরেও রাহাত বালুর উপর শুয়ে আছে। রাগে কাঁপছে সে। আনিতা তার সাথে এরকম করতে পারলো? তার যদি আগে থেকে বিয়ে ঠিক হয়েই থাকে তাহলে কেন সে তার কাছে ছুটে আসলো? আনিতা কি ইনসিকিউর ফিল করছিল? না তা না। তামিম কে দেখে মনে হচ্ছে বেশ সম্ভ্রান্ত, আর বেশ ভালো একটা পজিশনে জব করে সেটাও বোঝা যাচ্ছে। অন্তত রাহাতের থেকে বেশি ফিনেনশিয়ালি স্টেবল। আর বয়সে যে রাহাতের থেকে খুব ছোট বা খুব বড় তাও না। তার সমবয়সী হবে। রাহাতের হিসাব গরমিল করে দিল আনিতা।
অসম্ভব রাগে রাহাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আগুন জ্বলছে যেন। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে আনিতা চোখ বন্ধ করে আছে আর তামিম আনিতার হাতের কব্জি ধরে তার কাছে আরও কাছে যাচ্ছে। তামিমের নিঃশ্বাসে আনিতার গালের উপর পরে থাকা আদুরে চুলগুলো তিরতির করে কাঁপছে। রাহাত সেই দৃশ সহ্য করতে পারেনি। রাগে তার গা জ্বালা করছিলো। আনিতা যাকে আপাত দৃষ্টিতে একটা ভালো মেয়ে বলে জানতো সেই তাকে ধোঁকা দিল। কোনমতে ড্রেসিং টেবিলটা ধরে নিজেকে সামলেছিল রাহাত। হাত লেগে পারফিউমের বোতলটা উল্টে গেলো। আনিতা তাকে দেখতে পেয়ে তামিম নামের সেই ছেলেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিল। আনিতার জ্বর দেখার নামে এমন করে গালে আর কপালে হাত দিয়ে দেখছিল যে রাহাত আর সহ্য করতে পারেনি। তার আনিতার গায়ে কেউ এ ভাবে স্পর্শ করবে এটা ভাবতেও রাহাতের কষ্ট হয় সেখানে তার সামনেই তামিম এরকম করে আনিতার এতো কাছাকাছি! রাহাত আর ভাবতে পারে না। আনিতার রুম থেকে বেরিয়ে আসে, নিচে নেমে একটা রিক্সা করে ক্ষানিক এলোপাথাড়ি ঘুরে বেড়ায়। পরে সৈকতে যায়।
রাহাত আনিতার সম্পর্কে ভাবার চেষ্টা করছে। আনিতা সেই মেয়ে যার জন্য তার সম্পূর্ণ জীবন আবার এলোমেলো হতে যাচ্ছে। সে নিজের কষ্ট চেপে রাখার চেষ্টা করছেনা। চোখ দিয়ে খানিক পর পর অশ্রুর মোটা ধারা গড়িয়ে পরছে বালুর উপর। এই বালুরাশি যেন পরম মমতায় তার সকল কষ্ট নিজের মাঝে ধারণ করছে। না সে এভাবে আনিতাকে হারাতে পারে না। হারাতে দিবেনা সে আনিতাকে তার জীবন থেকে।
রাগ একটু কমে আসতে থাকলে রাহাত ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে। যদি আনিতা আর তামিমের সম্পর্ক ভালো যেত তবে আনিতা কেন তার কাছে ছুটে এসেছিলো? নিশ্চয় তামিমের থেকে রাহাতের সঙ্গ বেশি প্রিয়। এটা ভেবে একটু যেন স্বস্তি পেল রাহাত। না আনিতাকে সে পরম আদরে পরম ভালবাসায় ভরিয়ে দিবে। তামিমকে এক বারের জন্যেও তাদের মাঝে আসতে দিবেনা রাহাত। আনিতার সাথে তার কথা বলতেই হবে। রাহাত উঠে পরে উত্তপ্ত বালির উপর থেকে। এখন যেন সে উত্তাপটা উপলব্ধি করছে।
হেঁটে সমুদ্রের ঢেউগুলোর দিকে যায়। পা টা ভিজিয়ে নেয় সমুদ্রের লোনা পানিতে। একের পর এক ঢেউ আছড়ে পরছে রাহাতের পায়ে। লুটোপুটি খাচ্ছে আবার ফিরে যাচ্ছে সমুদ্রে। রাহাতের যেন তৃপ্তি হয়না এতে। আবার এক ঢেউ আছড়ে পরেছে রাহাতের পায়ে। এটা বড়। রাহাত কে টেনে সমুদ্রের দিকে নিচ্ছে যেন। রাহাতের মনে হতে থাকে এই সমুদ্র আনিতার মতো। তাকে ভালোবাসার ছোট পরশ দিচ্ছে কিন্তু আবার এই ঢেউগুলোর মতো ধাক্কা দিয়ে দূরে ছুড়ে আবার কাছে টানছে। রাহাত যেমন এই সমুদ্রের টানে যেতে পারছে না ঠিক তেমনি আনিতার টানেও তার কাছে যেতে পারছে না।
চোখে জ্বালা জ্বালা করছে রাহাতের। চোখের কালো ফ্রেমের চশমাটা খুলে ফেলে। উশখ খুসকো চুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু সমুদ্রের কার্বন মেশানো ঠাণ্ডা বাতাস আবারো এলোমেলো করে ফেলে।
বিষণ্ণ রাহাত। ক্লান্ত রাহাত। হেরে যাওয়া রাহাত। যেন কোন নতুন আলোর খোঁজে আনিতার কাছে ছুটে যেতে চায়। কিন্তু কথায় একটা চরাকাঁটা বুকে বিঁধে থাকে। না আনিতা একবারও বলেনি তামিমের কথা রাহাতকে। রাহাত মুষড়ে পরে। ধীর পায়ে, ক্লান্ত শ্রান্ত রাহাত আনিতার টানেই ফিরে যায় হোটেলের কামরায়।
পর্ব ১ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link পর্ব ৯ Click This Link পর্ব ১০ Click This Link পর্ব ১১ Click This Link
©somewhere in net ltd.